📘 ফুতুহুশ শাম 📄 আবার যুদ্ধ শুরু

📄 আবার যুদ্ধ শুরু


অতঃপর হযরত খালিদ তাদেরকে বললেন, আমার সিদ্ধান্ত হচ্ছে, এখনই রোমানদের উপর হামলা করা। কারণ, তারা আরো সেনা আগমনের অপেক্ষায় আছে। তখন তাঁবুতে অবস্থানকারী সাহাবীদের খবর দেওয়া হল।

তারা আসার পূর্বে খালিদের নেতৃত্বে ওয়ারদানের মাথা নিয়ে সাহাবীরা রোমান সৈন্যদের কাছে চলে যায়। তাদের নিকটবর্তী হয়ে হযরত খালিদ বললেন, ওহে আল্লাহর শত্রুরা! এটা তোমাদের নেতা ওয়ারদানের মাথা। আমি আল্লাহর রাসূলের সাহাবী খালিদ বিন ওয়ালীদ বলছি। অতঃপর মাথাটি তাদের দিকে নিক্ষেপ করা হয় এবং হযরত খালিদের নেতৃত্বে সকল সাহাবী রোমানদের উপর হামলা করে। এ হামলায় হযরত আবু উবাইদাও ছিলেন। তিনি মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বললেন— “ওহে কুরআনের বাহকেরা! ওহে দ্বীনের রক্ষকেরা! ওহে মুসলমানদের সাহায্যকারীরা! আল্লাহর শত্রুদের উপর হামলা কর"।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 পালাতে লাগে রোম সৈন্য

📄 পালাতে লাগে রোম সৈন্য


ওয়ারদানের মাথা দেখে রোমান সৈন্যরা পালানোর প্রস্তুতি শুরু করে। সাহাবীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদেরকে ধাওয়া করে হত্যা করে তাদের জিনিসপত্র তুলে নেন।

আমর বিন তুফাইল আদদাওসী বলেন, আমরা হযরত আবু উবাইদার সাথে ছিলাম। আমরা রোমান সৈন্যদের ধাওয়া করতে করতে গাযার প্রবেশ দ্বার পর্যন্ত চলে গেলাম। হঠাৎ দেখলাম, আমাদের দিকে কিছু অশ্বারোহী এগিয়ে আসছে। দূর থেকে দেখে আমরা মনে করলাম, রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস তাদেরকে ওয়ারদানের সাহায্যে পাঠিয়েছেন। কিন্তু যখন তারা আমাদের কাছে চলে আসল, তখন দেখলাম, তারা হযরত আবু বকরের পাঠানো সেনা। তখন আমরা তাদেরকে সাথে নিয়ে রোমান সৈন্যদের যাকে পেলাম, হত্যা করলাম এবং জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিলাম।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমানদের ক্ষয়ক্ষতি

📄 রোমানদের ক্ষয়ক্ষতি


আজনাদীনের এ রণাঙ্গনে নব্বই হাজার রোম সৈন্য যুদ্ধ করতে এসেছিল। সে দিনের যুদ্ধে তাদের পঞ্চাশ হাজার নিহত হয়, আর বাকীরা কেউ দেমেস্কে কেউ কাইসারিয়ার দিকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 নজির বিহীন গনীমত লাভ

📄 নজির বিহীন গনীমত লাভ


সেদিনের যুদ্ধে মুসলমানরা যে পরিমাণ গনীমত লাভ করেছে, পূর্বের কোন যুদ্ধে এত গনীমত আর লাভ করেনি। সেদিন তারা স্বর্ণ ও রৌপ্যের অনেক ক্রুশ লাভ করেছিল।

হযরত খালিদ ওয়ারদানের মুকুট ও সকল গনীমত একত্রিত করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বললেন, ইনশাআল্লাহ, যেদিন আমরা দামেস্ক পদানত করব, সেদিন এ গনীমত বন্টন করা হবে।

আজনাদীনে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১৩ হিজরীর জমাদিউল আউয়ালের ষষ্ঠ দিবসে। এর তেইশ দিন পর খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আবু বকর রা. ইন্তিকাল করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px