📄 ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করে দিল দূত
যাওয়ার পথে সে মনে মনে বলল, আল্লাহর কসম! আরবদের আমীর সত্য বলেছেন। আমাদের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম ওয়ারদানই নিহত হবে। অতএব, আমার উচিত হবে, আরব নেতার কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চাওয়া। এ বলে সে কিছু দূর যাওয়ার পর হযরত খালিদের কাছে আবার ফিরে আসে। এসে বলল, আমীর সাহেব! আমার মনে একটা কথা লুকানো আছে। এখন আমি তা আপনার কাছে প্রকাশ করতে চাই। কারণ, আমি জানি এ দেশ আপনাদেরই। কথাটি হচ্ছে, আপনার বিরুদ্ধে ওয়ারদান একটি ষড়যন্ত্র পাকিয়েছে। অতঃপর সে ওয়ারদানের ষড়যন্ত্রের বিবরণ হযরত খালিদের কাছে বিস্তারিত প্রকাশ করে। অতঃপর সে বলল, খুব সতর্ক থাকুন। আমি আমার ও আমার পরিবারের জন্য আপনাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা কামনা করছি।
হযরত খালিদ বললেন, তুমি যদি বিশ্বাস ঘাতকতা না কর, তাহলে তুমি ও তোমার পরিবার আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পাবে। সে বলল, আমার বিশ্বাসঘাতকতার ইচ্ছা থাকলে ওয়ারদানের ষড়যন্ত্রের কথা আপনার কাছে বলতাম না। হযরত খালিদ বললেন, তাদের লোকেরা কোথায় লুকিয়ে থাকবে? দাউদ বলল, তাদের সেনা ক্যাম্পের ডান দিকে একটি মাটি ঘেরা স্থানে।
📄 হযরত খালিদের আনন্দ
অতঃপর দাউদ হযরত খালিদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওয়ারদানের কাছে চলে গেল। গিয়ে ওয়ারদানকে হযরত খালিদের চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলল। এ কথা শুনে ওয়ারদান খুশী হল এবং বলল, আশা করছি ক্রুশ আমাদের বিজয়ী করবে। অতঃপর দশজন বীর সৈন্যকে পদব্রজে চলে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে লুকিয়ে থাকার নির্দেশ দিল এবং তাদের দ্বারা যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথা ছিল, সে ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করল।
অন্যদিকে হযরত খালিদ সহাস্য বদনে আমীনুল উম্মাহ হযরত আবু উবাইদার নিকট এলেন। হযরত খালিদকে আনন্দিত অবস্থায় দেখে তিনি বললেন, ওহে আবু সুলাইমান! আপনার হাসি শুভ হোক। কী খবর? হযরত খালিদ রোম সেনাপ্রধানের ষড়যন্ত্রের ঘটনাটি তাকে খুলে বললেন। হযরত আবু উবাইদা বললেন, আপনি কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন? হযরত খালিদ বললেন, আমি একাই তাদের মোকাবেলায় যেতে ইচ্ছা করছি।
📄 হযরত খালিদের পাল্টা প্রস্তুতি
হযরত আবু উবাইদা বললেন, ওহে আবু সুলাইমান! আপনি সত্যি মহান যোদ্ধা। তবে আল্লাহ আপনাকে নিজেকে ধ্বংসের মুখে পতিত করার নির্দেশ দেননি। আল্লাহ বলেছেন—
وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ
"তোমরা যথা সম্ভব আল্লাহ ও তোমাদের শত্রুদের সন্ত্রস্ত করে রাখার জন্য তীর ও যুদ্ধের ঘোড়া সমূহ প্রস্তুত করে রাখ”। ওয়ারদান আপনাকে মারার জন্য দশজনকে প্রস্তুত করে রেখেছে। অতএব, আপনিও তাদের হত্যা করার জন্য দশজনকে গোপনে প্রস্তুত রাখুন। যখন অভিশপ্ত ওই দশজনকে ডাক দিবে, তখন আপনি আমাদের দশজনকে ডাক দিবেন।
অতঃপর তিনি হযরত রাফে বিন উমাইরা, মুআয বিন জবল, দিরার বিন আয়ূর, সাঈদ বিন যাইদ, কাইস বিন হুবাইরা, মায়সারা বিন মাসরুক ও আদী বিন হাতিমসহ দশজন বীর সাহাবীর নাম উল্লেখ করলেন।
হযরত খালিদ তাদেরকে ডেকে রোমানদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অবহিত করলেন এবং বললেন, আপনারা সেনাক্যাম্পের বাম দিকের মাটি ঘেরা স্থানে গিয়ে লুকিয়ে থাকবেন। কেউ যেন টের না পায়। অতঃপর আমি যখন ডাক দিব, তখন সবাই দৌড়ে এসে প্রত্যেকে শত্রুদের একেকজনকে টার্গেট করে নিবেন। আল্লাহর দুশমন ওয়ারদানকে আমার হাতে ছেড়ে দেবেন। ইনশাআল্লাহ আমি তার জন্য যথেষ্ট।
📄 হযরত দিরারের সূক্ষ্ম কৌশল
তখন হযরত দিরার বললেন, আমীর সাহেব! আমায় ভয় হচ্ছে, আপনাকে হত্যার জন্য হয়তো আরো শত্রু লুকিয়ে থাকবে। আমরা তাদের অন্য কোন ষড়যন্ত্র থেকেও আপনাকে নিরাপদ মনে করছি না। আমার পরামর্শ হচ্ছে, আমরা এখনই শত্রুদের গোপন আস্তানায় চলে যাব। গিয়ে যদি তাদেরকে ঘুমন্ত পাই, তাহলে তাদেরকে হত্যা করবো এবং আমরাই তাদের স্থানে লুকিয়ে থাকবো। অতঃপর ভোরে যখন আপনি আল্লাহর দুশমনের সাথে একাকী মিলিত হবেন, তখন আমরা কোন কথাবার্তা ছাড়াই আপনার কাছে গিয়ে উপস্থিত হব। একথা শুনে হযরত খালিদ বললেন, ইবনে আযূর! তুমি যা বললে, তা যদি করতে সক্ষম হও, তা হলে করতে পার। আর এরা যাদেরকে বাছাই করেছি, তাদেরকে সঙ্গে নাও। আমি তোমাকে তাদের আমীর বানালাম। আল্লাহ তোমার উদ্দেশ্য পূর্ণ করুন— এ কামনাই করছি।