📘 ফুতুহুশ শাম 📄 যুদ্ধের সূচনা ও সাঈদ বিন যাইদের ভাষণ

📄 যুদ্ধের সূচনা ও সাঈদ বিন যাইদের ভাষণ


ইস্তফানের বক্ষে চেপে বসে তাকে উটের ন্যায় যবেহ করে দিলেন। তখন সবাই নিজ নিজ প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে চলেছিল। হযরত দিরার আল্লাহর দুশমনের রক্তাক্ত মাথাটি নিয়ে ঘোড়ায় গিয়ে বসলেন।

এ সময় রোমান সৈন্যরা মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য এগিয়ে আসতে শুরু করে। শত্রুদের আগমন দেখে হযরত সাঈদ বিন যাইদ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বললেন—

يا معشر الناس اذكروا الوقوف بين يدى الله الملك الجبار, وإياكم أن تولوا الأدبار فتستوجبوا دخول النار يا أهل القرآن يا حملة القرآن اصبروا.

"ওহে লোকজন! পরাক্রমশালী সম্রাট আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়াকে ভয় করুন। অতএব, কেউ পালিয়ে যাবেন না। যার ফলে জাহান্নামে প্রবেশ অনিবার্য। ওহে ঈমানদার ও কুরআনের বাহকগণ ধৈর্য ধারণ করুন"।

হযরত সাঈদ বিন যাইদের এ কথায় লোকজনের উৎসাহ আরো বৃদ্ধি পেল। অতঃপর উভয় দল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ আছরের সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শত্রুদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি

📄 শত্রুদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি


এ যুদ্ধে তিন হাজার রোমান সৈন্য ও দশজন গভর্ণর নিহত হয়। নিহত গভর্ণররা হলো, আমীরার গভর্ণর রুমান, নওয়ার গভর্ণর ডোমার, বা'লাবাকের গভর্ণর কাওকাব ও গাযার গভর্ণর লাবী বিন হেনা প্রমুখ।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ওয়ারদানের ভাষণ ও যুদ্ধের পুনঃপ্রস্তুতি

📄 ওয়ারদানের ভাষণ ও যুদ্ধের পুনঃপ্রস্তুতি


যুদ্ধ শেষে উভয় দল নিজ নিজ তাঁবুতে চলে গেল। মুসলমানদের কঠোর ধৈর্য ও লড়াই দেখে ওয়ারদান ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। তাই সে সেনাকর্মকর্তাদের ডেকে বলল—

يا أهل دين النصرانية ما تقولون في هؤلاء العرب؟ فإني أراهم غالبين علينا وقد رأيت أسيافهم قاطعة وخيولهم صابرة وسواعدكم جليدة, وإن القوم أطوع منكم لربكم وما خذلتم إلا بالظلم والجور والغدر, وما مرادى منكم إلا أن تتوبوا إلى ربكم, فإن فعلتم ذلك رجوت لكم النصر من عدوكم, وإن لم تفعلوا ذلك فأذنوا بحرب من المسيح وبهلاك أنفسكم, فإن الله عاقبكم أشد عقوبة إذسلط عليكم أقواما لا نفكر بهم ولا نعدهم, لأن أكثرهم جياع وعبيد وعراة ومساكين. أخرجهم إلينا قحط الحجاز وجوعه وشدة الضرر والبلاء, والآن قد أكلوا من خبز بلادنا وفواكه أرضنا وأكلوا العسل والتين والعنب, وأعظم ذلك سبي نسائكم وأموالكم-

“ওহে খৃষ্টবাদের অনুসারীরা! এ আরবদের সম্পর্কে তোমাদের কী ধারণা? আমি তো তাদেরকে বার বার আমাদের উপর বিজয়ী হতে দেখেছি। আমি তাদের তরবারীগুলোকে আমাদের উপর আঘাত হানতে ও তাদের ঘোড়াগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রে সহনশীল দেখেছি। আর তোমাদের বাহুগুলোকে দেখছি দুর্বল। আর দেখছি তোমাদের চেয়ে শত্রুরা প্রভুর অধিক অনুগত। আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি সাহায্য না আসার কারণ হচ্ছে, তোমাদের অন্যায়, অবিচার ও বিশ্বাসঘাতকতা। তোমাদেরকে এখন আমি যে কথা বলতে চাই, তা হচ্ছে, তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে তওবা কর। যদি তোমরা এটা কর, তাহলে আমি শত্রুদের উপর তোমাদের বিজয়ে আশাবাদী। আর যদি তোমরা তওবা না কর, তাহলে মসীহের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা ও তোমাদের ধ্বংস হওয়ার দুঃসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহ তোমাদেরকে এমন কিছু লোক দ্বারা কঠোর শাস্তি দিয়েছেন, যাদের ব্যাপারে আমাদের কোন দুর্ভাবনা ছিল না। তাদেরকে আমরা উল্লেখযোগ্য মানুষের মধ্যে গণনা করতাম না। কারণ, তাদের অধিকাংশই ক্ষুধার্ত, ক্রীতদাস, নিঃস্ব ও মিসকীন। হিজাযের দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধা ও বালা-মুসিবতের কঠোরতা তাদেরকে আমাদের দেশে নিয়ে এসেছে। এখন তারা আমাদের দেশের রুটি, ফল, মধু, ডুমুর ও আঙ্গুর খাচ্ছে। সবচেয়ে যেটি বেশী দুঃখজনক বিষয়, তা হচ্ছে, তারা আমাদের নারীদের বন্দী করে নিচ্ছে এবং আমাদের ধনসম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছে"।

ওয়ারদানের এ ভাষণ শুনে সৈন্যরা কাঁদল এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করল এবং বলল, আরবরা আমাদের উপর আর বিজয় লাভ করতে পারবে না। আমাদের পরামর্শ হচ্ছে তাদের সাথে বর্শা দ্বারা যুদ্ধ করা।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদকে গুপ্তভাবে হত্যার চেষ্টা

📄 হযরত খালিদকে গুপ্তভাবে হত্যার চেষ্টা


সৈন্যদের পক্ষ থেকে এ কথা শুনে ওয়ারদান সেনা কর্মকর্তাদের ডাক দিয়ে বলল, আপনাদের কী মতামত?

তখন তাদের একজন বলল, ওহে ওয়ারদান! মনে রাখবেন আপনি এমন একদল লোকের সাথে যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছেন, যাদের মোকাবেলা করার শক্তি আপনার নেই। আমি তাদের একজন লোককে আমাদের অনেক সৈন্যদের মাঝে এসে নির্ভীক চিত্তে হামলা করতে দেখেছি। তারা আমাদের সৈন্যদের মাঝে এসে কাউকে হত্যা না করে ফিরে যায় না। তাদের নবী তাদেরকে বলেছেন, তোমাদের যারা নিহত হবে তারা জান্নাতে যাবে আর রোমানদের যারা নিহত হবে, তারা জাহান্নামে যাবে। তাদের নিকট বাঁচা ও মরা উভয়ই মর্যাদার। তাদের নেতাকে কৌশলে হত্যা করা ব্যতীত তাদের উপর আমাদের বিজয় লাভ করার কোন পথ আমি দেখছি না।

ওয়ারদান বলল, কোন্ কৌশল অবলম্বন করে আমরা তাকে হত্যা করতে পারি?

সেনা কর্মকর্তাটি বলল, আমি আপনাকে একটি পরামর্শ দিচ্ছি, সে মতে যদি আপনি কাজ করেন, তাহলে তাদের নেতাকে আপনি কোন ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া ছাড়া হত্যা করতে পারবেন। পরামর্শটা হচ্ছে, আপনি তার সাথে যুদ্ধ করতে যাওয়ার আগে দশজন চতুর ও বীর অশ্বারোহীকে রণাঙ্গনের কাছাকাছি একটি জায়গায় লুকিয়ে রাখবেন। এরপর আপনি রণাঙ্গনে গিয়ে তার সাথে আলোচনায় লিপ্ত হবেন, অতঃপর তার উপর হামলা করবেন এবং লুকিয়ে রাখা দশজনকে ডাক দিবেন। তারা এসে তাকে টুকরো টুকরো করবে। অতঃপর আপনি নিরাপদে আমাদের দিকে ফিরে আসবেন। দেখবেন, তখন আরবরা বিভক্ত হয়ে পড়বে।

ওয়ারদান একথা শুনে খুব খুশী হল। বলল, তুমি সঠিক ও সুন্দর পরামর্শ দিয়েছ। তবে একাজটা রাত্রেই করতে হবে এবং সকাল হওয়ার পূর্বেই যে কোন ভাবে আমাদের একাজ সেরে ফেলতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px