📄 ইসলামের সেনাপতির সাহসী উত্তর
ধর্মগুরুর এসব কথা শোনে হযরত খালিদ বললেন, আপনাদের প্রতি আমাদের দাবী তিনটি। এ তিনটির যে কোন একটি আপনাদের বরণ করে নিতে হবে। প্রথমত: আমাদের দ্বীন গ্রহণ করা, দ্বিতীয়ত: জিযয়া প্রদান করা, তৃতীয়তঃ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। আর আপনি যে বললেন, আপনাদের সৈন্য অগণিত, তাতে আমরা ভয় পাই না। কারণ, আল্লাহ আমাদেরকে তার নবী মুহাম্মদ সা. ও কুরআনের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমাদেরকে অব্যশই বিজয় দান করবেন। আর আপনি যে বললেন, আপনাদের নেতা আমাদের প্রত্যেককে একটি করে দীনার, একটি করে পাগড়ী ও এক জোড়া কাপড় দিবেন, তার উত্তরে বলতে চাই, শীঘ্রই আল্লাহ আমাদেরকে আপনাদের দেশ জয় করার তাওফীক দিবেন এবং এর ফলে আমরা আপনাদের কাপড়, পাগড়ী ও দীনারসহ সব কিছুর অধিকর্তা হব।
হযরত খালিদের এ কথা শোনে ধর্মগুরু বললেন, আমি আমাদের নেতার কাছে গিয়ে আপনাকে উত্তর জানাবো। অতঃপর তিনি ফিরে গিয়ে তার কথার উত্তরে হযরত খালিদ যা বললেন, তা ওয়ারদানকে জানালেন।
📄 ওয়ারদানের কাল্পনিক বিজয়
তখন ওয়ারদান বলল, সে কি মনে করেছে যে, আমাদের পূর্বে তারা যে সব বাহিনীর মোকাবেলা করেছে, আমরা তাদের মত? আমরা যদি এদের সাথে যুদ্ধ করার ব্যাপারে ত্রুটি করি, তাহলে আমাদের প্রতি তাদের লালসা আরো বেড়ে যাবে। এখন আর চিন্তা নেই। সম্রাট বড় বড় বীর সেনাদের তাদের মোকাবেলা করার জন্য পাঠিয়েছেন। এখন তাদেরকে লুটিয়ে দিতে আমাদের প্রয়োজন একটি চক্কর। অতঃপর সে বর্শা ও তীরধারী সৈন্যদের সামনে রেখে যুদ্ধ শুরু করল।
📄 হযরত মুআযের জ্বালাময়ী ভাষণ
এ সময় হযরত মুআজ বিন জাবাল চিৎকার দিয়ে বললেন- يا معشر الناس إن الجنة قد زخرفت لكم والنار قد فتحت لأعدائكم والملائكة عليكم قد أقبلت والحور العين قد تزينت للقائكم فأبشروا بالجنة السرمدية (( إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ )) بارك الله فيكم الحملة.
"ওহে লোকজন! জান্নাত আপনাদের জন্য সজ্জিত করা হয়েছে। জাহান্নাম আপনাদের শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফেরেশতারা আপনাদের দিকে এগিয়ে এসেছে। ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট রমণীরা আপনাদের সাক্ষাতের জন্য সজ্জিত হয়ে আছে। অতএব, চিরস্থায়ী জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন। আপনাদের হামলায় আল্লাহ বরকত নাজিল করুন"।
📄 যুদ্ধের সূচনা ও হযরত দিরারের সাহসিকতা
হযরত খালিদ বললেন, মুআয! আপনি থামুন, লোকজনকে আমি ওসীয়ত করি। এ বলে হযরত খালিদ কাতারগুলো ঠিক করতে লাগলেন এবং বললেন-
اعلموا أن هؤلاء أضعافكم فقاتلوهم إنها ساعة نرزق فيها النصر, وإياكم أن تولوا الأدبار فيراكم الله منهزمنين, از حفوا على بركة الله.
"জেনে রাখুন! শত্রুরা আমাদের দ্বিগুণ। অতএব, তাদের সাথে যুদ্ধ আসর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করুন। কারণ, আসরের সময়ই আমাদের বিজয় লাভ হবে। সাবধান কেউ পালিয়ে যাবেন না, আল্লাহ আপনাদেরকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য শাস্তি দেবেন। আল্লাহর নামে যুদ্ধ শুরু করুন"।
অতঃপর রোম সৈন্যরা মুসলমানদের দিকে এগিয়ে এসে তীরের আঘাতে কিছু লোককে হত্যা করল, কিছু লোককে আহত করল। হযরত খালিদ লোকজনকে হামলা করা থেকে বিরত রাখলেন। তখন দিরার বিন আযূর বললেন, আমরা কেন অপেক্ষা করব? আল্লাহ তাআলার ওয়াদা যে সত্য, তাতো আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়েছে। শত্রুরা এখন নিশ্চিত হবে যে, আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছি। অতএব, আমাদেরকে হামলা করার অনুমতি দিন। হযরত খালিদ বললেন, তা হলে তুমি গিয়ে হামলা কর। তখন হযরত দিরার একথা বলে শত্রুদের দিকে এগিয়ে গেলেন যে, আমার কাছে যুদ্ধের চেয়ে অধিক প্রিয় বিষয় আর কিছুই নেই।
হযরত দিরারের গায়ে তখন পলের ভাই বুট্টোসের কাছ থেকে পাওয়া বর্মটি শোভা পাচ্ছিল। হযরত দিরারের গায়ে বুট্টোস থেকে পাওয়া দুটি চামড়ার জুব্বাও ছিল। অতঃপর তিনি ঘোড়া চালিয়ে শত্রুদের কাছে পৌঁছে গেলেন। তার লেবাস দেখে শত্রুরা তাকে চিনতে পারছিল না। তিনি শত্রুদের কাতারে প্রবেশ করে তাদের উপর বর্শা দ্বারা আঘাত হানছিলেন। শত্রুরা তার প্রতি তীর বৃষ্টি বর্ষণ করছিল। কিন্তু তিনি এতে মোটেও আহত হচ্ছিলেন না। কিছুক্ষণ শত্রুদের উপর অবিরাম হামলা চালিয়ে তিনি তাদের অনেক লোককে হত্যা করলেন। আনান বিন আউফ বলেন, আমি দিরারের হত্যা করা লোকদের সংখ্যা গণনা করছিলাম। তার হত্যা করা পদাতিক ও অশ্বারোহীদের সংখ্যা ত্রিশ। অতঃপর হযরত দিরার মাথা থেকে শিরস্ত্রাণ ও চেহারা থেকে মুখোশ খুলে ফেললেন এবং বললেন-
أنا الموت الأصفر, أنا ضرار بن الأزور, أنا قاتل همدان بن وردان أنا البلاء المسلط عليكم و على من اشرك بالرحمن.
"আমি হলুদ মৃত্যু। আমি দিরার বিন আযূর। তোমাদের নেতা ওয়ারদানের ছেলে হামদানের হত্যাকারী। আমি তোমাদের ও আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্তকারীদের উপর আপতিত বিপদ"। রোম সৈন্যরা তার কথা শোনে তাকে চিনে ফেলল এবং পিছনে সরে গেল। তখন হযরত দিরার তাদের ধাওয়া করলেন। তখন রোম সৈন্যরা তাকে ঘিরে ধরল।