📄 রোমানদের লোভনীয় প্রস্তাব
কিছুক্ষণ পর দেখা গেল রোম সৈন্যদের ভিতর থেকে একজন বৃদ্ধ বের হয়ে আসছে। তার মাথায় ছিল একটি কাল টুপি। মুসলমানদের কাছে এসে তিনি আরবী ভাষায় ডাক দিয়ে বললেন, আপনাদের নেতা কে? তিনি এসে আমার সাথে কথা বলুন। তিনি আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপদ।
তখন হযরত খালিদ তার দিকে এগিয়ে গেলেন। হযরত খালিদকে দেখে তিনি বললেন, আপনি কি আরবদের আমীর? হযরত খালিদ বললেন, তারা তো এরকম মনে করে যে, যতক্ষণ আমি আল্লাহর আনুগত্য করব ও তার রাসূলের সুন্নাতের উপর অটল থাকব। ততক্ষণ আমি তাদের আমীর। তবে যদি আমি এর ব্যতিক্রম করি তখন তাদের উপর আমার অধিকার থাকবে না।
বৃদ্ধ লোকটি বললেন, এ নীতির কারণেই তো আপনারা আমাদের উপর বিজয় লাভ করেছেন। এ বৃদ্ধ রোমীয় খ্রীষ্টানদের ধর্মগুরু ছিলেন। বললেন, আপনি এমন একটি দেশের হৃদপিণ্ডে চলে এসেছেন, যাতে প্রবেশ করতে এ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন সম্রাট বা গভর্ণর সাহস করেননি। পারসিকরা এ দেশে আধিপত্য বিস্তার করতে এসে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছে, তাবাবিআরা এসে নিজেদের ধ্বংস করেছে বটে; কিন্তু তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। হ্যাঁ, আপনি আমাদের উপর বিজয় অর্জন করেছেন বটে; কিন্তু এ বিজয় আপনাদের জন্য স্থায়ী হবে না। আমাদের সেনাপতি আমাকে এ বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন যে, তিনি আপনাদের প্রত্যেককে একটি করে দীনার, এক জোড়া করে কাপড় ও একটি করে পাগড়ী দিবেন। আর আপনাকে একশত দীনার, একশ জোড়া কাপড় ও একশতটি পাগড়ী দিবেন। বিনিময়ে আপনারা আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যাবেন। মনে রাখবেন আমাদের সৈন্য সংখ্যা অগণিত। আরো মনে রাখবেন, এ বিশাল সেনাবাহিনী পূর্বে যে সব সেনাবাহিনীর মোকাবেলা করেছেন, তাদের ন্যায় অদক্ষ নয়। সম্রাট এ বাহিনীতে সৈন্যদের মধ্যকার বীর ও লড়াকুদের বাছাই করে পাঠিয়েছেন।
📄 ইসলামের সেনাপতির সাহসী উত্তর
ধর্মগুরুর এসব কথা শোনে হযরত খালিদ বললেন, আপনাদের প্রতি আমাদের দাবী তিনটি। এ তিনটির যে কোন একটি আপনাদের বরণ করে নিতে হবে। প্রথমত: আমাদের দ্বীন গ্রহণ করা, দ্বিতীয়ত: জিযয়া প্রদান করা, তৃতীয়তঃ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। আর আপনি যে বললেন, আপনাদের সৈন্য অগণিত, তাতে আমরা ভয় পাই না। কারণ, আল্লাহ আমাদেরকে তার নবী মুহাম্মদ সা. ও কুরআনের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমাদেরকে অব্যশই বিজয় দান করবেন। আর আপনি যে বললেন, আপনাদের নেতা আমাদের প্রত্যেককে একটি করে দীনার, একটি করে পাগড়ী ও এক জোড়া কাপড় দিবেন, তার উত্তরে বলতে চাই, শীঘ্রই আল্লাহ আমাদেরকে আপনাদের দেশ জয় করার তাওফীক দিবেন এবং এর ফলে আমরা আপনাদের কাপড়, পাগড়ী ও দীনারসহ সব কিছুর অধিকর্তা হব।
হযরত খালিদের এ কথা শোনে ধর্মগুরু বললেন, আমি আমাদের নেতার কাছে গিয়ে আপনাকে উত্তর জানাবো। অতঃপর তিনি ফিরে গিয়ে তার কথার উত্তরে হযরত খালিদ যা বললেন, তা ওয়ারদানকে জানালেন।
📄 ওয়ারদানের কাল্পনিক বিজয়
তখন ওয়ারদান বলল, সে কি মনে করেছে যে, আমাদের পূর্বে তারা যে সব বাহিনীর মোকাবেলা করেছে, আমরা তাদের মত? আমরা যদি এদের সাথে যুদ্ধ করার ব্যাপারে ত্রুটি করি, তাহলে আমাদের প্রতি তাদের লালসা আরো বেড়ে যাবে। এখন আর চিন্তা নেই। সম্রাট বড় বড় বীর সেনাদের তাদের মোকাবেলা করার জন্য পাঠিয়েছেন। এখন তাদেরকে লুটিয়ে দিতে আমাদের প্রয়োজন একটি চক্কর। অতঃপর সে বর্শা ও তীরধারী সৈন্যদের সামনে রেখে যুদ্ধ শুরু করল।
📄 হযরত মুআযের জ্বালাময়ী ভাষণ
এ সময় হযরত মুআজ বিন জাবাল চিৎকার দিয়ে বললেন- يا معشر الناس إن الجنة قد زخرفت لكم والنار قد فتحت لأعدائكم والملائكة عليكم قد أقبلت والحور العين قد تزينت للقائكم فأبشروا بالجنة السرمدية (( إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ )) بارك الله فيكم الحملة.
"ওহে লোকজন! জান্নাত আপনাদের জন্য সজ্জিত করা হয়েছে। জাহান্নাম আপনাদের শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফেরেশতারা আপনাদের দিকে এগিয়ে এসেছে। ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট রমণীরা আপনাদের সাক্ষাতের জন্য সজ্জিত হয়ে আছে। অতএব, চিরস্থায়ী জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন। আপনাদের হামলায় আল্লাহ বরকত নাজিল করুন"।