📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইসলামের সৈন্যদের প্রতি হযরত খালিদের নসীহত

📄 ইসলামের সৈন্যদের প্রতি হযরত খালিদের নসীহত


অতঃপর হযরত খালিদ সৈন্যদের কাতারের দিকে এসে ঘোড়া নিয়ে তাদের মাঝে ঘোরাঘুরি ও লোকজনকে যুদ্ধের ব্যাপারে উৎসাহিত করলেন। এসময় তিনি দীপ্ত কণ্ঠে বললেন- يا معشر المسلمين! انصروا الله ينصركم, وقاتلوا في سبيل الله واحتسبوا نفوسكم في سبيل الله ولا تحملوا حتى أمركم بالحملة, ولتكن السهام إذا خرجت من أكباد القسي كأنها من قوس واحدة فإذا تلاصقت السهام رشقا كالجراد لم يخل أن يكون منها سهم صائب واصبروا وصابروا ورابطوا واتقوا الله لعلكم تفلحون واعلموا أنكم لم تلقوا بعد هذا عدوا مثله, وإن هذه الفئة جملتهم وأبطالهم وملوكهم, فجردوا السيوف وأوتروا القسى وفوقوا السهام.

"ওহে মুসলমানগণ, আপনারা আল্লাহকে সাহায্য করুন। তিনি আপনাদেরকে সাহায্য করবেন। আর নিজেদেরকে আল্লাহর পথে সওয়াব প্রাপ্ত মনে করুন। আর আমি নির্দেশ না দেওয়ার পূর্বে শত্রুদের উপর হামলা করা থেকে বিরত থাকুন। আর ধনুক থেকে আপনাদের সবার তীরগুলো সব এক সাথে বের হওয়া উচিত। তীরগুলো যখন পঙ্গপালের মত এক সাথে বের হয়ে গিয়ে পড়বে তখন একটিও ব্যর্থ হবে না। তোমরা ধৈর্য ধারণ কর। ধৈর্যের ব্যাপারে একে অপরকে উৎসাহিত কর এবং শত্রুদের জন্য ওৎ পেতে থাক। আর জেনে রাখবে, তোমরা আজকের ন্যায় আর কোন সময় এত বিশাল শত্রু বাহিনীর মুখোমুখি হবে না। এখানে শত্রু বাহিনীর সৈন্য, বীর ও গভর্ণররা উপস্থিত হয়েছে। অতএব তাদের জন্য তরবারী কোশ মুক্ত কর এবং ধনুক হাতে নিয়ে তাদের প্রতি তীর তাক কর"।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শুরু হল যুদ্ধ

📄 শুরু হল যুদ্ধ


অতঃপর হযরত খালিদ হযরত আমর ইবনুল আস, আবদুল্লাহ বিন উমর, কাইস বিন হুবাইরা, রাফে বিন উমাইরা, যুলকিলা আল হিময়ারী, রবীআ বিন আমের ও তাদের সমমানের সাহাবীদের নিয়ে সৈন্যদের মাঝখানে দাঁড়ালেন। ওয়ারদান যখন মুসলিম সৈন্যদেরকে যুদ্ধের জন্য এগিয়ে আসতে দেখল, তখন সে তার সৈন্যদেরকে নিয়ে মুসলমানদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুসলমানরা তাদেরকে হযরত খালিদের নির্দেশ মত তীব্র আঘাত শুরু করে। রোম সৈন্যদের আধিক্যের কারণে চতুর্দিকে মানুষ থৈ থৈ করছিল। শত্রুরা তাদের পতাকা-ক্রুশ নিয়ে যুদ্ধ করছিল আর মুসলমানরা লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও নবী সা.- এর প্রতি দরুদ পড়ে আকাশ বাতাস মুখরিত করছিল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমানদের লোভনীয় প্রস্তাব

📄 রোমানদের লোভনীয় প্রস্তাব


কিছুক্ষণ পর দেখা গেল রোম সৈন্যদের ভিতর থেকে একজন বৃদ্ধ বের হয়ে আসছে। তার মাথায় ছিল একটি কাল টুপি। মুসলমানদের কাছে এসে তিনি আরবী ভাষায় ডাক দিয়ে বললেন, আপনাদের নেতা কে? তিনি এসে আমার সাথে কথা বলুন। তিনি আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপদ।

তখন হযরত খালিদ তার দিকে এগিয়ে গেলেন। হযরত খালিদকে দেখে তিনি বললেন, আপনি কি আরবদের আমীর? হযরত খালিদ বললেন, তারা তো এরকম মনে করে যে, যতক্ষণ আমি আল্লাহর আনুগত্য করব ও তার রাসূলের সুন্নাতের উপর অটল থাকব। ততক্ষণ আমি তাদের আমীর। তবে যদি আমি এর ব্যতিক্রম করি তখন তাদের উপর আমার অধিকার থাকবে না।

বৃদ্ধ লোকটি বললেন, এ নীতির কারণেই তো আপনারা আমাদের উপর বিজয় লাভ করেছেন। এ বৃদ্ধ রোমীয় খ্রীষ্টানদের ধর্মগুরু ছিলেন। বললেন, আপনি এমন একটি দেশের হৃদপিণ্ডে চলে এসেছেন, যাতে প্রবেশ করতে এ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন সম্রাট বা গভর্ণর সাহস করেননি। পারসিকরা এ দেশে আধিপত্য বিস্তার করতে এসে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছে, তাবাবিআরা এসে নিজেদের ধ্বংস করেছে বটে; কিন্তু তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। হ্যাঁ, আপনি আমাদের উপর বিজয় অর্জন করেছেন বটে; কিন্তু এ বিজয় আপনাদের জন্য স্থায়ী হবে না। আমাদের সেনাপতি আমাকে এ বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন যে, তিনি আপনাদের প্রত্যেককে একটি করে দীনার, এক জোড়া করে কাপড় ও একটি করে পাগড়ী দিবেন। আর আপনাকে একশত দীনার, একশ জোড়া কাপড় ও একশতটি পাগড়ী দিবেন। বিনিময়ে আপনারা আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যাবেন। মনে রাখবেন আমাদের সৈন্য সংখ্যা অগণিত। আরো মনে রাখবেন, এ বিশাল সেনাবাহিনী পূর্বে যে সব সেনাবাহিনীর মোকাবেলা করেছেন, তাদের ন্যায় অদক্ষ নয়। সম্রাট এ বাহিনীতে সৈন্যদের মধ্যকার বীর ও লড়াকুদের বাছাই করে পাঠিয়েছেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইসলামের সেনাপতির সাহসী উত্তর

📄 ইসলামের সেনাপতির সাহসী উত্তর


ধর্মগুরুর এসব কথা শোনে হযরত খালিদ বললেন, আপনাদের প্রতি আমাদের দাবী তিনটি। এ তিনটির যে কোন একটি আপনাদের বরণ করে নিতে হবে। প্রথমত: আমাদের দ্বীন গ্রহণ করা, দ্বিতীয়ত: জিযয়া প্রদান করা, তৃতীয়তঃ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। আর আপনি যে বললেন, আপনাদের সৈন্য অগণিত, তাতে আমরা ভয় পাই না। কারণ, আল্লাহ আমাদেরকে তার নবী মুহাম্মদ সা. ও কুরআনের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমাদেরকে অব্যশই বিজয় দান করবেন। আর আপনি যে বললেন, আপনাদের নেতা আমাদের প্রত্যেককে একটি করে দীনার, একটি করে পাগড়ী ও এক জোড়া কাপড় দিবেন, তার উত্তরে বলতে চাই, শীঘ্রই আল্লাহ আমাদেরকে আপনাদের দেশ জয় করার তাওফীক দিবেন এবং এর ফলে আমরা আপনাদের কাপড়, পাগড়ী ও দীনারসহ সব কিছুর অধিকর্তা হব।

হযরত খালিদের এ কথা শোনে ধর্মগুরু বললেন, আমি আমাদের নেতার কাছে গিয়ে আপনাকে উত্তর জানাবো। অতঃপর তিনি ফিরে গিয়ে তার কথার উত্তরে হযরত খালিদ যা বললেন, তা ওয়ারদানকে জানালেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px