📘 ফুতুহুশ শাম 📄 খাওলার সাথে বুট্টোসের বাক্য বিনিময়

📄 খাওলার সাথে বুট্টোসের বাক্য বিনিময়


অতঃপর সে পালানোর প্রস্তুতি নিল। এ সময় তার দৃষ্টি একদল অশ্বারোহীর উপর পড়ল। তারা সৈন্যদের ভিতর থেকে বের হয়েছে। তাদের একজন তার অস্ত্র দ্বারা শরীর আবৃত করে রাখা ও আরেক জন নাঙ্গা শরীরে। তারা তাদের ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দেয়। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল উভয়ে শিকারী সিংহ। তারা হলেন হযরত খালিদ ও হযরত দিরার। হযরত খাওলা তার ভাইকে দেখে বললেন, ভাই! তুমি সামনে অগ্রসর হও। তখন বুট্টোস তাকে ডাক দিয়ে বলল, তুমি তোমার ভাইয়ের দিকে চলে যাও। আমি তোমাকে তাকে দান করে দিলাম। এ বলে সে পালিয়ে যাচ্ছিল। তখন হযরত খাওলা তাকে বিদ্রূপ করে বললেন, এটাতো ভদ্রলোকের কাজ নয়। তুমি আমাকে ভালবাসা ও কাছে পাওয়ার কথা বলেছ। অতঃপর পালিয়ে দূরে চলে যাচ্ছ!

একথা বলে তিনি তার কাছে ছুটে যাচ্ছিলেন। বুট্টোস তার কথা শুনে বলল, তোমার প্রতি আমার যে আসক্তি ছিল, তা দূর হয়ে গেছে। হযরত খাওলা বললেন, আমাকে যে ভাবেই হোক তোমাকে পেতে হবে। অতঃপর তিনি তার দিকে দৌড়ে গেলেন। সাথে সাথে দিরারও তার দিকে দৌড়ে আসেন। বুট্টোস বলল, আমার কাছ থেকে তোমার বোনকে নিয়ে যাও। সে তোমার কাছে বরকতপূর্ণ হবে এবং তাকে আমি তোমাকে হাদিয়া দিলাম। হযরত দিরার বললেন, আমি তোমার হাদিয়া কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করলাম। তবে আমি তোমাকে দান করার মতো বর্শার ফলা ব্যতীত আর কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। অতএব, আমার কাছ থেকে তা সাদরে গ্রহণ কর। অতঃপর তার উপর চড়াও হলেন এবং এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন, "যখন তোমাদের কেউ কোন শুভেচ্ছা প্রাপ্ত হবে, তখন যে শুভেচ্ছা জানিয়েছে তাকে তার চেয়ে আরো ভালভাবে শুভেচ্ছা জানাবে"। অতঃপর তিনি তার উপর আঘাত করলেন। অন্য দিকে হযরত খাওলা এসে বুট্টোসের ঘোড়ার পায়ে আঘাত করেন। তখন ঘোড়া তাকেসহ মাটিতে বসে পড়ে। ফলে আল্লাহর দুশমন মাটিতে পড়ে যায়। সে পড়ার আগেই দিরার গিয়ে তার কোমরে আঘাত করে বসেন। ফলে বর্শা তার কোমর কুঁড়ে বের হয়ে যায়। সাথে সাথে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এ অবস্থা দেখে হযরত খালিদ বললেন, ওহে দিরার! তোমাকে আল্লাহ সম্মানিত করুন। তুমি এমন আঘাত কর, যা ব্যর্থ হয় না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি

📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি


অতঃপর সকল মুসলমান মিলে শত্রুদের উপর বীর বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ যুদ্ধ চলার পর দেখা গেল, রোমদের তিন হাজার সৈন্য খতম। হামেদ বিন আমের আল ইয়ারবুঈ বলেন, আমি সেদিন দিরারকে ত্রিশজন শত্রু খতম করতে দেখেছি। আর খাওলাকে পাঁচজন ও আফরা বিনতে গিফারকে চারজন শত্রু হত্যা করতে দেখেছি। মুসলমানদের হামলার মুখে টিকতে না পেরে বাকী রোমান সৈন্যরা পালিয়ে যায়। আর মুসলমানরা তাদেরকে দামেস্ক পর্যন্ত ধাওয়া করে নিয়ে যায়। দেমেস্কের কেউ আর মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার সাহস করল না। মুসলমানরা ফিরে এসে গনীমত, ঘোড়া, হাতিয়ার ও মাল দ্রব্য কুড়িয়ে নিল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বিজয়ী মুসলিম বাহিনীর প্রত্যাবর্তন

📄 বিজয়ী মুসলিম বাহিনীর প্রত্যাবর্তন


অতঃপর হযরত খালিদ লোকজনকে বললেন, আপনারা আবু উবাইদার দিকে চলে যান। যাতে ওয়ারদান রোম সৈন্যদের নিয়ে তার মোকাবেলার সাহস না করে। তখন কিছু সৈন্য হযরত দিরারের নেতৃত্বে হযরত আবু উবাইদার দিকে চলে গেলেন। তিনি বুট্টোসের মাথা তার বর্শার ফলার মাথায় করে নিয়ে গেলেন। অতঃপর হযরত খালিদসহ সকল মুসলমান মারজ আলসাফারে গিয়ে হযরত আবু উবাইদার সাথে মিলিত হলেন। মুসলমানরা হযরত আবু উবাইদার কাছাকাছি পৌঁছলে তিনি তাকবীর ধ্বনি দেন। সাথে সাথে হযরত খালিদ ও অন্যান্য মুসলমানরাও তাকবীর ধ্বনি দেন। অতঃপর মুসলমানরা পরস্পর সালাম বিনিময় করল। হযরত আবু উবাইদা ও তার সাথে থাকা মুসলমানরা বন্দী মহিলাদের দেখে খুশী হলেন। হযরত খালিদ খাওলা, আফরা ও অন্যান্য মুসলিম মহিলারা রোমানদের সাথে সাহসিকতার সাথে যে লড়াই করেছে, সে ব্যাপারে হযরত আবু উবাইদাকে অবহিত করলেন। ফলে তিনি সিরিয়া বিজয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন। এরপর হযরত খালিদ পলকে ডেকে বললেন, ইসলাম গ্রহণ কর। নতুবা তোমাকে তোমার ভাইয়ের পরিণাম ভোগ করতে হবে। দেখ এটা তার মাথা। হযরত খালিদ একথা বললে দিরার বুট্টোসের মাথাটি পলের সামনে নিক্ষেপ করেন। তখন পল কেঁদে উঠল এবং বলল সে দুনিয়াতে না থাকলে আমার আর বেঁচে থাকার কোন অর্থ হতে পারে না। অতএব আমাকেও তার সাথে মিলিত কর। তখন হযরত খালিদের নির্দেশে মুসাইয়াব বিন ইয়াহইয়া গিয়ে তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন। অতঃপর মুসলমানরা সামনে অগ্রসর হতে থাকে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইসলামের বীর সেনাদের আগমন

📄 বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইসলামের বীর সেনাদের আগমন


অন্যদিকে কাতিবে ওয়াহী হযরত শুরাহবীল বিন হাসানা, ইয়াযীদ বিন আবু সুফ্যান, আমর ইবনুল আস, মুআয বিন জাবাল ও নু'মান বিন মুগীরার নেতৃত্বে ইসলামের বীর সেনানীরা পূর্ণ প্রস্তুতি সহকারে তাদের ভাইদের সাহায্যে আজানদীনের দিকে চলে আসেন। রাসূলুল্লাহ সা.- এর আযাদকৃত গোলাম সাফীনা বলেন, আমি হযরত মুআযের সৈন্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। দেখলাম, অন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত মুসলমানরা যেদিন আজনাদীনে গিয়ে পৌঁছে, সে একই দিনে আমরাও আজনাদীনে এসে পৌঁছি। সময়টা হিজরী ২০ সনের সফর মাস ছিল। মুসলমানরা পরস্পরে সাক্ষাত ও সালাম বিনিময় শুরু করে। আর আমরা রোমান সৈন্যদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তাদের সৈন্য সংখ্যা অগণিত। আমরা তাদের কাছে পৌঁছলে তারা রণসজ্জায় সজ্জিত হয়ে যায়। তারা যুদ্ধের জন্য কাতারবদ্ধ হতে থাকে। তারা তাদের কাতারকে বিস্তৃত করল। প্রত্যেক কাতারে ছিল এক হাজার সৈন্য।

ফন্ট সাইজ
15px
17px