📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বীর দিরারের অস্থিরতা

📄 বীর দিরারের অস্থিরতা


অন্য দিকে যখন দিরার-এর কাছে এ খবর পৌঁছল যে, তার বোন খাওলা বন্দী মহিলাদের মধ্যে রয়েছে। তখন তিনি একে মারাত্মক ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং সাথে সাথে হযরত খালিদের কাছে এ বিষয়টা অবহিত করলেন। হযরত খালিদ তাকে বললেন, তুমি অধৈর্য হয়ো না। আমরা তাদের অনেক লোককে বন্দী করেছি। আর তুমি তো তাদের নেতা পলকে বন্দী করেছ। শীঘ্রই আমাদের বন্দী নারী ও শিশুদের সনাক্ত করা হবে। আর তাদের খোঁজে তো আমাদের দামেস্কে প্রবেশ ছাড়া উপায় নেই। অতঃপর হযরত খালিদ নারী ও শিশুদের ব্যাপারে কোন কিছু হয় কিনা তা দেখার জন্য তাকে লোকদের নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি এক হাজার সৈন্য নিয়ে বন্দী নারী শিশুদের খোঁজে চলে যান। আর বাকী সকল সৈন্যদেরকে হযরত আবু উবাইদার সাথে দিলেন। যাতে ওয়ারদান তার সৈন্যদের নিয়ে এদিকে এলে তার আর কোন ভয় না থাকে। ইতোপূর্বে তিনি রাফে বিন উমাইয়া, মায়সারা বিন মাসরুক আল আবাসীকে পাঠিয়ে দেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বুট্টোসের পছন্দ

📄 বুট্টোসের পছন্দ


হাবীব বিন মুসআব বলেন, পলের ভাই বুট্টোস নারী ও শিশুদের নিয়ে দামেস্কের পথে একটি জায়গায় তার ভাইয়ের অবস্থা জানার জন্য যাত্রা বিরতি করেছিল। অতঃপর তার কাছে বন্দী মহিলা ও শিশুদের নিয়ে আসা হল। দিরারের বোন খাওলা বিনতে আযূর ছাড়া আর কোন মহিলাকে তার পছন্দ হলো না। সে তার সৈন্যদের বলল এ মহিলাটা আমার ও আমি তার। এর প্রতি আর কেউ লোভ করবে না। তারা বলল, ঠিক আছে, সে আপনার ও আপনি তার। অতঃপর যার দৃষ্টি যেটার প্রতি পড়ল সে তা নিয়ে নিল। এভাবে তারা সব গনীমত বন্টন শেষ করে নিল এবং পল ও সৈন্যদের কী অবস্থা দাঁড়ায় তা দেখার অপেক্ষায় রইল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বীরঙ্গনা খাওলার জ্বালাময়ী বক্তব্য

📄 বীরঙ্গনা খাওলার জ্বালাময়ী বক্তব্য


এ মহিলাগুলোর মাঝে হিময়ার ও তুব্বা গোত্রের কিছু মহিলা ছিল। তারা শত্রুদের কথামত ঘোড়ায় চড়ে তাদের সাথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হল। তখন হযরত খাওলা বিনতে আযূর তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন- "ওহে হিময়ার ও তুব্বার গোত্রের মহিলারা! তোমরা কি রোমানদের লালসার শিকার ও তোমাদের ছেলেরা মুশরিকদের গোলাম হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছ? তোমদের সে সাহসিকতা ও ভূমিকা কোথায়, যার উল্লেখ করে আমরা আরবদের মাঝে প্রাণ ফিরিয়ে আনতাম? তোমাদের মাঝেতো সেসব এখন দেখছি না। তোমাদের উপর আপতিত এ বিপদ ও তোমরা রোম কুকুরদের মনোরঞ্জন করার চেয়ে মৃত্যুই আমি তোমাদের জন্য শ্রেয় মনে করি।"

তার এ জ্বালাময়ী বক্তব্য শোনে আফরা বিনতে গিফার আল হিময়ারী বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম! তুমি সত্য বলেছ হে বিনতে আযুর! তুমি যে সাহসিকতা ও বুদ্ধির কথা বলেছ, আমরা তা ভুলিনি। আমাদের অনেক কৃতিত্ব ও বহু বড় বড় ভূমিকা রয়েছে। আল্লাহর কসম! আমরা ঘোড়ায় আরোহণ করে রাত্রে ঐ দিকে যাওয়ার প্রস্তুত হয়েছি বটে, তবে ঐ সময়ে তরবারী দ্বারা ভাল কাজ নেওয়া যায়। আমরা চাচ্ছি শত্রুদের অজান্তে তাদের উপর হামলা করতে। কারণ আমরাতো এখন মালিকের হাতের ছাগলের ন্যায়।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 মহিলাদের দুঃসাহসী আক্রমণ

📄 মহিলাদের দুঃসাহসী আক্রমণ


তখন হযরত খাওলা বললেন, ওহে তাবাবিআ ও আমালিকা বংশের মেয়েরা! তোমরা তাঁবুর খুঁটি ও কাঠগুলো হাতে নাও। আমরা এসব নিকৃষ্ট লোকদের উপর আক্রমণ করব। হয়তো আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় দান করবেন নতুবা আমরা (শহীদ হয়ে) আরবদের লজ্জা নিবারণ করব। তখন আফরা বিনতে গিফার বলল, আমি যা বলেছিলাম তার চেয়ে তোমার প্রস্তাবটি আমার কাছে অধিক প্রিয়। অতঃপর প্রত্যেকেই একটি করে তাঁবুর খুঁটি ও কাঠ হাতে নিল এবং সবাই এক সাথে একটা আওয়াজ তুলল। হযরত খাওলা তার কাঁধে একটা বড় খুঁটি নিল আর তার পিছনে আফরা, উম্মে আবান বিনতে আতবা, সালমা বিনতে যিরা, লুবনা বিনতে হাযেম, মাখরুআ বিনতে আমলুক ও সালমা বিনতে লুমান সহ অন্যান্য মহিলারা চলতে লাগল।

হযরত খাওলা তাদেরকে বললেন, তোমরা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমরা একটি চলন্ত বৃত্তের মত থাক। যদি বিচ্ছিন্ন হও, তাহলে শত্রুরা আমাদেরকে শেষ করে ফেলবে। অতঃপর হযরত খাওলা সবার আগে গিয়ে শত্রুদের উপর হামলা করলেন। সর্বপ্রথম তাদের একজন লোকের উপর আঘাত করলেন। আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এ অবস্থা দেখে রোমানরা এদিক সেদিকে তাকিয়ে বলল, ব্যাপার কি? দেখল তাদের সামনে কিছু মহিলা। তাদের হাতে রয়েছে খুঁটি। তখন একজন সেনাকর্মকর্তা চিৎকার দিয়ে বলল, তোমরা ধ্বংস হবে। তোমরা এটা কী করছ? তখন হযরত আফরা বললেন, এ আমাদের অপারেশন। ওহে কাফিররা! এ খুঁটিগুলো দ্বারা আমরা তোমাদের প্রাণ কেড়ে নেব। তোমাদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া আমাদের জন্য অপরিহার্য।

এ অবস্থায় বুট্টোস বলল, মহিলাদের কাছ থেকে তোমরা সরে যাও। তাদের উপর কেউ তরবারী চালাবে না এবং তাদের কাউকে হত্যা করবে না। তাদেরকে বন্দী করে নাও। আমার পছন্দ করা মহিলাটির সাথে কেউ অন্যায় আচরণ করবে না। তখন সবাই মহিলাদের কাছ থেকে সরে আসল এবং চতুর্দিক থেকে তাদেরকে ঘিরে রাখল। তারা তাদের কাছ থেকে যাওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু সক্ষম হলো না। এ মহিলাদের নিকট কেউ যেতে চাইলে সাথে সাথে তারা তার ঘোড়ার পায়ে আঘাত করত। আঘাতের ফলে যখন লোকটি লুটিয়ে পড়ত তখন তারা খুঁটি নিয়ে তার কাছে গিয়ে তাকে হত্যা করত এবং তার অস্ত্র নিয়ে নিত। এভাবে তারা রোমানদের ত্রিশজন অশ্বারোহীকে হত্যা করল। বুট্টোস এ অবস্থা দেখে প্রচন্ড রেগে গেল এবং সৈন্যদের নিয়ে তাদের দিকে পদব্রজে চলল। মহিলারা ওদেরকে কাছে আসতে দেখে একে অপরকে উৎসাহ দিয়ে বলল, সম্মানিত অবস্থায় মরো, লাঞ্ছিত হয়ে মরো না। বুট্টোস মাথা তুলে মহিলাদের কর্মকান্ডের দিকে তাকিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ল। আর হযরত খাওলাকে সিংহের ন্যায় ঘুরতে দেখল। তিনি বলছেন- আমরা হচ্ছি তুব্বা ও হিময়ার বীরঙ্গনা। শত্রুদের উপর আঘাত হানা আমাদের জন্য কঠিন না। কারণ আমরা যুদ্ধে জ্বলন্ত আগুন। আজকে তোমাদের করতে হবে মহাশাস্তি আস্বাদন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px