📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি
রিফাআ বিন কাইস বলেন, আমি সাহুরার ওই যুদ্ধে ছিলাম এবং আমি হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকরের নেতৃত্বাধীন সৈন্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা চতুর্দিক থেকে ঘুরে ঘুরে শত্রুদের উপর তরবারী চালালাম। শত্রুরা ছয়টি ব্রিগেডে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি ব্রিগেডে এক হাজার করে সৈন্য ছিল। রিফাআ বিন কাইস বলেন, আমরা দামেস্ক বিজয়ের দিন খুব সাহসিকতার সাথে শত্রুদের উপর আক্রমণ করেছিলাম। আগত শত্রুদের একশ'র বেশী প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে পারেনি।
📄 বীর দিরারের অস্থিরতা
অন্য দিকে যখন দিরার-এর কাছে এ খবর পৌঁছল যে, তার বোন খাওলা বন্দী মহিলাদের মধ্যে রয়েছে। তখন তিনি একে মারাত্মক ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং সাথে সাথে হযরত খালিদের কাছে এ বিষয়টা অবহিত করলেন। হযরত খালিদ তাকে বললেন, তুমি অধৈর্য হয়ো না। আমরা তাদের অনেক লোককে বন্দী করেছি। আর তুমি তো তাদের নেতা পলকে বন্দী করেছ। শীঘ্রই আমাদের বন্দী নারী ও শিশুদের সনাক্ত করা হবে। আর তাদের খোঁজে তো আমাদের দামেস্কে প্রবেশ ছাড়া উপায় নেই। অতঃপর হযরত খালিদ নারী ও শিশুদের ব্যাপারে কোন কিছু হয় কিনা তা দেখার জন্য তাকে লোকদের নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি এক হাজার সৈন্য নিয়ে বন্দী নারী শিশুদের খোঁজে চলে যান। আর বাকী সকল সৈন্যদেরকে হযরত আবু উবাইদার সাথে দিলেন। যাতে ওয়ারদান তার সৈন্যদের নিয়ে এদিকে এলে তার আর কোন ভয় না থাকে। ইতোপূর্বে তিনি রাফে বিন উমাইয়া, মায়সারা বিন মাসরুক আল আবাসীকে পাঠিয়ে দেন।
📄 বুট্টোসের পছন্দ
হাবীব বিন মুসআব বলেন, পলের ভাই বুট্টোস নারী ও শিশুদের নিয়ে দামেস্কের পথে একটি জায়গায় তার ভাইয়ের অবস্থা জানার জন্য যাত্রা বিরতি করেছিল। অতঃপর তার কাছে বন্দী মহিলা ও শিশুদের নিয়ে আসা হল। দিরারের বোন খাওলা বিনতে আযূর ছাড়া আর কোন মহিলাকে তার পছন্দ হলো না। সে তার সৈন্যদের বলল এ মহিলাটা আমার ও আমি তার। এর প্রতি আর কেউ লোভ করবে না। তারা বলল, ঠিক আছে, সে আপনার ও আপনি তার। অতঃপর যার দৃষ্টি যেটার প্রতি পড়ল সে তা নিয়ে নিল। এভাবে তারা সব গনীমত বন্টন শেষ করে নিল এবং পল ও সৈন্যদের কী অবস্থা দাঁড়ায় তা দেখার অপেক্ষায় রইল।
📄 বীরঙ্গনা খাওলার জ্বালাময়ী বক্তব্য
এ মহিলাগুলোর মাঝে হিময়ার ও তুব্বা গোত্রের কিছু মহিলা ছিল। তারা শত্রুদের কথামত ঘোড়ায় চড়ে তাদের সাথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হল। তখন হযরত খাওলা বিনতে আযূর তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন- "ওহে হিময়ার ও তুব্বার গোত্রের মহিলারা! তোমরা কি রোমানদের লালসার শিকার ও তোমাদের ছেলেরা মুশরিকদের গোলাম হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছ? তোমদের সে সাহসিকতা ও ভূমিকা কোথায়, যার উল্লেখ করে আমরা আরবদের মাঝে প্রাণ ফিরিয়ে আনতাম? তোমাদের মাঝেতো সেসব এখন দেখছি না। তোমাদের উপর আপতিত এ বিপদ ও তোমরা রোম কুকুরদের মনোরঞ্জন করার চেয়ে মৃত্যুই আমি তোমাদের জন্য শ্রেয় মনে করি।"
তার এ জ্বালাময়ী বক্তব্য শোনে আফরা বিনতে গিফার আল হিময়ারী বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম! তুমি সত্য বলেছ হে বিনতে আযুর! তুমি যে সাহসিকতা ও বুদ্ধির কথা বলেছ, আমরা তা ভুলিনি। আমাদের অনেক কৃতিত্ব ও বহু বড় বড় ভূমিকা রয়েছে। আল্লাহর কসম! আমরা ঘোড়ায় আরোহণ করে রাত্রে ঐ দিকে যাওয়ার প্রস্তুত হয়েছি বটে, তবে ঐ সময়ে তরবারী দ্বারা ভাল কাজ নেওয়া যায়। আমরা চাচ্ছি শত্রুদের অজান্তে তাদের উপর হামলা করতে। কারণ আমরাতো এখন মালিকের হাতের ছাগলের ন্যায়।