📄 পলের দিরার ভীতি
এ সময় হযরত দিরার অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ন্যায় পলের দিকে দৌড়ে যান। অভিশপ্ত পল দিরারকে তার দিকে আসতে দেখে ভয়ে তার অন্তরে কম্পন সৃষ্টি হয়। তাই সে হযরত আবু উবাইদাকে হাঁক দিয়ে বলল, ওহে আরবী! তোমার দ্বীনের দোহাই, দ্রুত এ শয়তানকে আমার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে বল। পল ইতোপূর্বে দিরার সম্পর্কে শুনেছিল। দামেস্কের বাউন্ডারীর উপর থেকে তাকে সে কালুস ও আযাযীরের সৈন্যদেরকে বীর বিক্রমে খতম করতে দেখেছিল। আর বাইতেলাহয়ায় ওয়ারদানের সৈন্যদের কীভাবে নাকানি চুবানি খাইয়েছিলেন সে সম্পর্কেও শুনেছিল। তাই তাকে সে তার দিকে আসতে দেখে চিনে ফেলল। হযরত আবু উবাইদাকে সে যে বলল, 'এ শয়তানকে আমার দিকে আসতে নিষেধ কর'- কথাটি হযরত দিরার শুনেছিলেন। তাই তিনি তাকে বললেন, আমি যদি তোমার খোঁজে ত্রুটি করি, তাহলেই আমি শয়তান। অতঃপর তিনি তার দিকে দৌড়ে গিয়ে তার উপর আঘাত করলেন। ফলে সে তার ঘোড়া ফেলে তার সৈন্যদের দিকে পালিয়ে যায়। হযরত দিরার তাকে ধাওয়া করে বললেন, শয়তান তো তোমাকে খুঁজছে। তুমি তার কাছ থেকে পালিয়ে কোথায় যাচ্ছ? অতঃপর হযরত দিরার তাকে নাগালে পেয়ে তরবারী দ্বারা তার গর্দান উড়িয়ে দিতে চাইলেন। তখন পল বলল, ওহে বেদুঈন! আমাকে মেরো না। কারণ, আমি বেঁচে থাকলে তোমাদের নারী-শিশু ও মাল-সামানা রক্ষা পাবে। হযরত দিরার একথা শোনে তাকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকলেন এবং তাকে বন্দী করে নিয়ে আসলেন। এছাড়া মুসলমানরা রোমানদের বিপুল সংখ্যক সৈন্যকে হত্যা করে।
📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি
রিফাআ বিন কাইস বলেন, আমি সাহুরার ওই যুদ্ধে ছিলাম এবং আমি হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকরের নেতৃত্বাধীন সৈন্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা চতুর্দিক থেকে ঘুরে ঘুরে শত্রুদের উপর তরবারী চালালাম। শত্রুরা ছয়টি ব্রিগেডে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি ব্রিগেডে এক হাজার করে সৈন্য ছিল। রিফাআ বিন কাইস বলেন, আমরা দামেস্ক বিজয়ের দিন খুব সাহসিকতার সাথে শত্রুদের উপর আক্রমণ করেছিলাম। আগত শত্রুদের একশ'র বেশী প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে পারেনি।
📄 বীর দিরারের অস্থিরতা
অন্য দিকে যখন দিরার-এর কাছে এ খবর পৌঁছল যে, তার বোন খাওলা বন্দী মহিলাদের মধ্যে রয়েছে। তখন তিনি একে মারাত্মক ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং সাথে সাথে হযরত খালিদের কাছে এ বিষয়টা অবহিত করলেন। হযরত খালিদ তাকে বললেন, তুমি অধৈর্য হয়ো না। আমরা তাদের অনেক লোককে বন্দী করেছি। আর তুমি তো তাদের নেতা পলকে বন্দী করেছ। শীঘ্রই আমাদের বন্দী নারী ও শিশুদের সনাক্ত করা হবে। আর তাদের খোঁজে তো আমাদের দামেস্কে প্রবেশ ছাড়া উপায় নেই। অতঃপর হযরত খালিদ নারী ও শিশুদের ব্যাপারে কোন কিছু হয় কিনা তা দেখার জন্য তাকে লোকদের নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি এক হাজার সৈন্য নিয়ে বন্দী নারী শিশুদের খোঁজে চলে যান। আর বাকী সকল সৈন্যদেরকে হযরত আবু উবাইদার সাথে দিলেন। যাতে ওয়ারদান তার সৈন্যদের নিয়ে এদিকে এলে তার আর কোন ভয় না থাকে। ইতোপূর্বে তিনি রাফে বিন উমাইয়া, মায়সারা বিন মাসরুক আল আবাসীকে পাঠিয়ে দেন।
📄 বুট্টোসের পছন্দ
হাবীব বিন মুসআব বলেন, পলের ভাই বুট্টোস নারী ও শিশুদের নিয়ে দামেস্কের পথে একটি জায়গায় তার ভাইয়ের অবস্থা জানার জন্য যাত্রা বিরতি করেছিল। অতঃপর তার কাছে বন্দী মহিলা ও শিশুদের নিয়ে আসা হল। দিরারের বোন খাওলা বিনতে আযূর ছাড়া আর কোন মহিলাকে তার পছন্দ হলো না। সে তার সৈন্যদের বলল এ মহিলাটা আমার ও আমি তার। এর প্রতি আর কেউ লোভ করবে না। তারা বলল, ঠিক আছে, সে আপনার ও আপনি তার। অতঃপর যার দৃষ্টি যেটার প্রতি পড়ল সে তা নিয়ে নিল। এভাবে তারা সব গনীমত বন্টন শেষ করে নিল এবং পল ও সৈন্যদের কী অবস্থা দাঁড়ায় তা দেখার অপেক্ষায় রইল।