📄 দুরাবস্থার কবলে মুসলিম বাহিনী
এ সময় মহিলারা আক্ষেপ ও শিশুরা চিৎকার করছিল। পল সৈন্য নিয়ে কাছে আসলে হযরত আবু উবাইদার সাথে থাকা এক হাজার মুসলমান সৈন্য তাদের সাথে যুদ্ধ শুরু করে দেয়। অভিশপ্ত পল হযরত আবু উবাইদাকে হত্যা করতে চাইল। উভয় দল তীব্র যুদ্ধ করছিল। এর ফলে আকাশ বাতাস ধুলোয় ধূসরিত হয়ে গেল। সাহুরার ভূমিতে এ যুদ্ধ চলছিল খুব উৎসাহের মধ্য দিয়ে। হযরত আবু উবাইদা যুদ্ধের এ মহা বিপদে বড় ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছিলেন। সুহাইল বিন সাবাহ বলেন, আমি একটি ইয়ামেনী ঘোড়ার উপর বসে ছিলাম। আমি ঘোড়াটির লাগাম ছেড়ে দিলাম এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করলাম। তখন ঘোড়াটি ঝড়ো হাওয়ার ন্যায় দৌড়াতে শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘোড়াটি হযরত খালিদের বাহিনীর নিকট গিয়ে পৌঁছল। তখন আমি ডাক দিয়ে বললাম, ওহে আমীর সাহেব! মাল-সামান ও নারী-শিশুর উপর বিপদ নেমে এসেছে। হযরত খালিদ বললেন, ওহে ইবনে সাবাহ! তোমার পিছনে কারা এসেছে? আমি বললাম, শত্রুরা এসে হযরত আবু উবাইদা ও নারী শিশুদের একাংশকে নিয়ে গেছে। আর হযরত আবু উবাইদা এমন বিপদে (যুদ্ধে) পড়েছেন যা সামাল দেওয়ার শক্তি তার নেই।
হযরত খালিদ সুহাইল বিন সাবাহের কাছে এ দুঃসংবাদ শোনে বললেন- "ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমি আবু উবাইদাকে বলেছিলাম, আমাকে পিছনে থাকতে দেয়ার জন্য। কিন্তু তিনি আমাকে এটা করতে দেননি-যাতে আল্লাহ তার সিদ্ধান্তকৃত একটি বিষয় সম্পন্ন করেন।" অতঃপর রাফে বিন উমাইরাকে এক হাজার সৈন্য দিয়ে বললেন, তুমি সামনে থেকে এদের নিয়ে দ্রুত চলে যাও। আর হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকরকে দুহাজার সৈন্য দিয়ে বললেন, দ্রুত শত্রুদের দিকে চলে যাও। বাকী সৈন্যদের নিয়ে হযরত খালিদ তার পিছনে চললেন। হযরত আবু উবাইদা তার সাথে থাকা লোকদের নিয়ে অভিশপ্ত পালের সাথে যুদ্ধ করছিলেন। এমন সময় মুসলিম বাহিনীসমূহ তার কাছে গিয়ে পৌঁছে এবং আল্লাহর শত্রুর উপর চতুর্দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন ক্রুশ সমূহ মুখ থুবড়ে পড়ে এবং রোমানরা তাদের পরাজয় অত্যাসন্ন বলে মনে করে।
📄 পলের দিরার ভীতি
এ সময় হযরত দিরার অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ন্যায় পলের দিকে দৌড়ে যান। অভিশপ্ত পল দিরারকে তার দিকে আসতে দেখে ভয়ে তার অন্তরে কম্পন সৃষ্টি হয়। তাই সে হযরত আবু উবাইদাকে হাঁক দিয়ে বলল, ওহে আরবী! তোমার দ্বীনের দোহাই, দ্রুত এ শয়তানকে আমার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে বল। পল ইতোপূর্বে দিরার সম্পর্কে শুনেছিল। দামেস্কের বাউন্ডারীর উপর থেকে তাকে সে কালুস ও আযাযীরের সৈন্যদেরকে বীর বিক্রমে খতম করতে দেখেছিল। আর বাইতেলাহয়ায় ওয়ারদানের সৈন্যদের কীভাবে নাকানি চুবানি খাইয়েছিলেন সে সম্পর্কেও শুনেছিল। তাই তাকে সে তার দিকে আসতে দেখে চিনে ফেলল। হযরত আবু উবাইদাকে সে যে বলল, 'এ শয়তানকে আমার দিকে আসতে নিষেধ কর'- কথাটি হযরত দিরার শুনেছিলেন। তাই তিনি তাকে বললেন, আমি যদি তোমার খোঁজে ত্রুটি করি, তাহলেই আমি শয়তান। অতঃপর তিনি তার দিকে দৌড়ে গিয়ে তার উপর আঘাত করলেন। ফলে সে তার ঘোড়া ফেলে তার সৈন্যদের দিকে পালিয়ে যায়। হযরত দিরার তাকে ধাওয়া করে বললেন, শয়তান তো তোমাকে খুঁজছে। তুমি তার কাছ থেকে পালিয়ে কোথায় যাচ্ছ? অতঃপর হযরত দিরার তাকে নাগালে পেয়ে তরবারী দ্বারা তার গর্দান উড়িয়ে দিতে চাইলেন। তখন পল বলল, ওহে বেদুঈন! আমাকে মেরো না। কারণ, আমি বেঁচে থাকলে তোমাদের নারী-শিশু ও মাল-সামানা রক্ষা পাবে। হযরত দিরার একথা শোনে তাকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকলেন এবং তাকে বন্দী করে নিয়ে আসলেন। এছাড়া মুসলমানরা রোমানদের বিপুল সংখ্যক সৈন্যকে হত্যা করে।
📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি
রিফাআ বিন কাইস বলেন, আমি সাহুরার ওই যুদ্ধে ছিলাম এবং আমি হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকরের নেতৃত্বাধীন সৈন্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা চতুর্দিক থেকে ঘুরে ঘুরে শত্রুদের উপর তরবারী চালালাম। শত্রুরা ছয়টি ব্রিগেডে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি ব্রিগেডে এক হাজার করে সৈন্য ছিল। রিফাআ বিন কাইস বলেন, আমরা দামেস্ক বিজয়ের দিন খুব সাহসিকতার সাথে শত্রুদের উপর আক্রমণ করেছিলাম। আগত শত্রুদের একশ'র বেশী প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে পারেনি।
📄 বীর দিরারের অস্থিরতা
অন্য দিকে যখন দিরার-এর কাছে এ খবর পৌঁছল যে, তার বোন খাওলা বন্দী মহিলাদের মধ্যে রয়েছে। তখন তিনি একে মারাত্মক ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং সাথে সাথে হযরত খালিদের কাছে এ বিষয়টা অবহিত করলেন। হযরত খালিদ তাকে বললেন, তুমি অধৈর্য হয়ো না। আমরা তাদের অনেক লোককে বন্দী করেছি। আর তুমি তো তাদের নেতা পলকে বন্দী করেছ। শীঘ্রই আমাদের বন্দী নারী ও শিশুদের সনাক্ত করা হবে। আর তাদের খোঁজে তো আমাদের দামেস্কে প্রবেশ ছাড়া উপায় নেই। অতঃপর হযরত খালিদ নারী ও শিশুদের ব্যাপারে কোন কিছু হয় কিনা তা দেখার জন্য তাকে লোকদের নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি এক হাজার সৈন্য নিয়ে বন্দী নারী শিশুদের খোঁজে চলে যান। আর বাকী সকল সৈন্যদেরকে হযরত আবু উবাইদার সাথে দিলেন। যাতে ওয়ারদান তার সৈন্যদের নিয়ে এদিকে এলে তার আর কোন ভয় না থাকে। ইতোপূর্বে তিনি রাফে বিন উমাইয়া, মায়সারা বিন মাসরুক আল আবাসীকে পাঠিয়ে দেন।