📄 কথিত বীর পলের দম্ভোক্তি
পল বলল, আমি আরবদের সাথে যুদ্ধে তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে না আসার কারণ হচ্ছে, তোমাদের দুর্বল মানসিকতা। তারা বলল, মসীহ ও ইঞ্জিলের সত্যতার শপথ, আপনি আমাদের নেতৃত্ব দিলে আমরা আপনার সাথে অবশ্যই দৃঢ়পদ থাকব। আমাদের কেউ আপনাকে ফেলে চলে যাবে না। যে পালিয়ে চলে আসবে, আমরা তাকে শাস্তি স্বরূপ হত্যা করার জন্য আপনাকে স্বাধীনতা দিলাম। এ ব্যাপারে আমাদের কেউ আপনার কাছে প্রতিবাদ করবে না। পল যখন তাদের আন্তরিকতা অনুভব করল তখন ঘরে গিয়ে রণ-সাজে সজ্জিত হল। তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, আপনি কোথায় যেতে চাচ্ছেন? বলল, আমি আরবদের সাথে যুদ্ধ করতে যাচ্ছি। দামেস্কবাসী আমাকে তাদের সেনাপতি মনোনীত করেছে। একথা শুনে তার স্ত্রী বলল, যুদ্ধে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, ঘরে বসে থাকুন। কারণ, আমি আপনার ব্যাপারে একটি স্বপ্ন দেখছি। পল বলল, কী দেখলে তুমি? বলল, আমি আপনাকে তীর নিয়ে কিছু পাখি শিকার করতে দেখলাম। পাখিগুলো একটার উপর একটা পড়ে আছে। পরে সেগুলো উড়তে শুরু করলো। উড়ন্ত পাখিগুলো লোকদের ঘাড়ে আঘাত হানতে শুরু করলো। অতঃপর দেখলাম, আপনারা সবাই পালিয়ে চলে আসছেন। আরো দেখলাম পাখিগুলো যাকে আঘাত করছে, সে সাথে সাথে লুটিয়ে পড়ছে। অতঃপর আমি জাগ্রত হয়ে আপনার জন্য ভীত ও অশ্রুসিক্ত হলাম। পল বলল, আমাকেও কি আঘাতে লুটিয়ে পড়তে দেখেছ? বলল হ্যাঁ, একজন বড় অশ্বারোহীর আঘাতে আপনি লুটিয়ে পড়েছেন। এ কথা শুনে পল তার মুখে চড় মেরে দিল এবং বলল, মসীহ তোমাকে ভাল সংবাদ দেননি। তোমার অন্তরেও আরবদের ভীতি ঢুকেছে। ফলে ঘুমেও তুমি তাদের নিয়ে বাজে স্বপ্ন দেখছ। তাদের আমীরকে তোমার খাদেম বানাতে হবে এবং তার সহচরদেরকে ছাগলের ও শুকরের রাখাল বানাতে হবে। তখন এ অভিশপ্তের স্ত্রী তাকে বলল, আপনার যা মন চায় করুন। আমি আপনার কল্যাণ কামনা করে দেখেছি।
📄 মুসলমানদের সন্ধানে দামেস্কবাসী
অভিশপ্ত পল তার স্ত্রীর কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে তার কাছ থেকে বের হয়ে আসল এবং স্বীয় বাহনে আরোহণ করল। দামেস্কের সব লোকও তার সাথে বের হল। দেখা গেল, তাদের সংখ্যা ছয় হাজার এবং সবাই অশ্বারোহী। আর তাদের সাহায্যে নজদা ও হিময়া থেকে এসেছে দশ হাজার পদাতিক বাহিনী। সবাই মুসলমানদের সন্ধানে বের হল।
📄 হযরত আবু উবাইদার উপলব্ধি
আজনাদীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া মুসলমানরা এখনো দামেস্কের সন্নিকটে। হযরত খালিদ পরামর্শ মত সৈন্যদের নিয়ে সামনে ছিলেন। আর হযরত আবু উবাইদা মাল পত্র, গনীমত ও নারী শিশুদের নিয়ে পিছনে ছিলেন। এমন সময় একজন লোক পিছনের দিকে তাকাল। দেখা গেল ধুলো উড়ছে। হযরত আবু উবাইদাকে এ খবর পৌঁছানো হলে তিনি বললেন, শত্রুরা আমাদের টার্গেট করেছে। তার একথা বলতে না বলতে দেখা গেল, স্রোতের মত অশ্বারোহী ধেয়ে আসছে। তাদের সামনে রয়েছে পল। সে যখন হযরত আবু উবাইদাকে দেখল, তখন কিছু অশ্বারোহী নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসল। আর তার ভাই বুট্টোস মাল-পত্র ও নারী শিশুদের দিকে গিয়ে তাদের কয়েকজনকে আটক করল। এরপর সে তাদেরকে নিয়ে দামেস্কের দিকে রওয়ানা হল। কিছু দূরে গিয়ে সে তার ভাইয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য বসে যায়। হযরত আবু উবাইদা রোমানদের এ আকস্মিক অভিযান দেখে বললেন, খালিদের কথাই ঠিক ছিল। তিনি পিছনে থাকতে চাইলেন, কিন্তু আমি থাকতে দিলাম না। এখন এই পল খৃষ্টবাদের ঝান্ডা ও মাথায় ক্রুশ বেঁধে এসে আমাদের টার্গেট করেছে।
📄 দুরাবস্থার কবলে মুসলিম বাহিনী
এ সময় মহিলারা আক্ষেপ ও শিশুরা চিৎকার করছিল। পল সৈন্য নিয়ে কাছে আসলে হযরত আবু উবাইদার সাথে থাকা এক হাজার মুসলমান সৈন্য তাদের সাথে যুদ্ধ শুরু করে দেয়। অভিশপ্ত পল হযরত আবু উবাইদাকে হত্যা করতে চাইল। উভয় দল তীব্র যুদ্ধ করছিল। এর ফলে আকাশ বাতাস ধুলোয় ধূসরিত হয়ে গেল। সাহুরার ভূমিতে এ যুদ্ধ চলছিল খুব উৎসাহের মধ্য দিয়ে। হযরত আবু উবাইদা যুদ্ধের এ মহা বিপদে বড় ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছিলেন। সুহাইল বিন সাবাহ বলেন, আমি একটি ইয়ামেনী ঘোড়ার উপর বসে ছিলাম। আমি ঘোড়াটির লাগাম ছেড়ে দিলাম এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করলাম। তখন ঘোড়াটি ঝড়ো হাওয়ার ন্যায় দৌড়াতে শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘোড়াটি হযরত খালিদের বাহিনীর নিকট গিয়ে পৌঁছল। তখন আমি ডাক দিয়ে বললাম, ওহে আমীর সাহেব! মাল-সামান ও নারী-শিশুর উপর বিপদ নেমে এসেছে। হযরত খালিদ বললেন, ওহে ইবনে সাবাহ! তোমার পিছনে কারা এসেছে? আমি বললাম, শত্রুরা এসে হযরত আবু উবাইদা ও নারী শিশুদের একাংশকে নিয়ে গেছে। আর হযরত আবু উবাইদা এমন বিপদে (যুদ্ধে) পড়েছেন যা সামাল দেওয়ার শক্তি তার নেই।
হযরত খালিদ সুহাইল বিন সাবাহের কাছে এ দুঃসংবাদ শোনে বললেন- "ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমি আবু উবাইদাকে বলেছিলাম, আমাকে পিছনে থাকতে দেয়ার জন্য। কিন্তু তিনি আমাকে এটা করতে দেননি-যাতে আল্লাহ তার সিদ্ধান্তকৃত একটি বিষয় সম্পন্ন করেন।" অতঃপর রাফে বিন উমাইরাকে এক হাজার সৈন্য দিয়ে বললেন, তুমি সামনে থেকে এদের নিয়ে দ্রুত চলে যাও। আর হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকরকে দুহাজার সৈন্য দিয়ে বললেন, দ্রুত শত্রুদের দিকে চলে যাও। বাকী সৈন্যদের নিয়ে হযরত খালিদ তার পিছনে চললেন। হযরত আবু উবাইদা তার সাথে থাকা লোকদের নিয়ে অভিশপ্ত পালের সাথে যুদ্ধ করছিলেন। এমন সময় মুসলিম বাহিনীসমূহ তার কাছে গিয়ে পৌঁছে এবং আল্লাহর শত্রুর উপর চতুর্দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন ক্রুশ সমূহ মুখ থুবড়ে পড়ে এবং রোমানরা তাদের পরাজয় অত্যাসন্ন বলে মনে করে।