📄 দামেস্কবাসীর ষড়যন্ত্র
যখন হযরত খালিদ মুসলমানদের নিয়ে দামেস্ক ছেড়ে চলে গেলেন, তখন দামেস্কের লোকেরা তরবারী নিয়ে বের হয়ে পড়ল। তারা মনে করেছিল আজনাদীনের বিশাল বাহিনীর হাতে মুসলমানরা পরাজিত হবে। তাদের জ্ঞানী লোকজন বলল, যদি তারা বা'লবাকের দিকে রওয়ানা হয়, তাহলে তারা হিমস জয় করতে যাচ্ছে। আর যদি তারা মারজেরাহেতের পথে রওয়ানা হয়, তাহলে সন্দেহ নেই যে, তারা পদানত করা অঞ্চলগুলো ফেলে হিজাযের দিকে পালিয়ে যাচ্ছে। দামেস্কে পল নামে একজন সেনাপতি ছিল। সে রোমানদের কাছে অনেক বড় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্রাটের কাছে গেলে সম্রাট তাকে আপ্যায়ন করাতেন। এ মালউন এত প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ হল, একটি গাছে সে তীর নিক্ষেপ করে। তীরটি তার বাহুর জোরে গাছে পুরোপুরি ঢুকিয়ে দেয়। অতঃপর সে গাছটিতে লিখে দেয় যে, কেউ যদি তার সমকক্ষতার দাবী করে তার উচিত আমার মত তীর নিক্ষেপ করা এবং তা স্বহস্তে গাছের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া। ফলে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে মুসলমানরা দামেস্কে আসার পর থেকে সে একবারও তাদের সাথে যুদ্ধ করতে মাঠে আসেনি। দামেস্কের লোকেরা যখন তার কাছে এসে সমবেত হল তখন সে বলল, তোমাদের সমস্যা কী? তখন তারা বলল, আপনি যদি সম্রাট, মসীহ ও খৃস্টবাদের অনুসারীদের কাছে অমরত্ব লাভ করতে চান, তাহলে মুসলমানদেরকে আমাদের ভূমি থেকে বিতাড়িত করুন। তাদের যারা এখানে এখনও রয়ে গেছে, তাদেরকে গিয়ে উচিত শিক্ষা দিন। আপনি যদি তাদের সাথে যুদ্ধে পেরে উঠতে পারবেন বলে মনে করেন, তাহলে আমরাও তাদের সাথে যুদ্ধ করব।
📄 কথিত বীর পলের দম্ভোক্তি
পল বলল, আমি আরবদের সাথে যুদ্ধে তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে না আসার কারণ হচ্ছে, তোমাদের দুর্বল মানসিকতা। তারা বলল, মসীহ ও ইঞ্জিলের সত্যতার শপথ, আপনি আমাদের নেতৃত্ব দিলে আমরা আপনার সাথে অবশ্যই দৃঢ়পদ থাকব। আমাদের কেউ আপনাকে ফেলে চলে যাবে না। যে পালিয়ে চলে আসবে, আমরা তাকে শাস্তি স্বরূপ হত্যা করার জন্য আপনাকে স্বাধীনতা দিলাম। এ ব্যাপারে আমাদের কেউ আপনার কাছে প্রতিবাদ করবে না। পল যখন তাদের আন্তরিকতা অনুভব করল তখন ঘরে গিয়ে রণ-সাজে সজ্জিত হল। তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, আপনি কোথায় যেতে চাচ্ছেন? বলল, আমি আরবদের সাথে যুদ্ধ করতে যাচ্ছি। দামেস্কবাসী আমাকে তাদের সেনাপতি মনোনীত করেছে। একথা শুনে তার স্ত্রী বলল, যুদ্ধে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, ঘরে বসে থাকুন। কারণ, আমি আপনার ব্যাপারে একটি স্বপ্ন দেখছি। পল বলল, কী দেখলে তুমি? বলল, আমি আপনাকে তীর নিয়ে কিছু পাখি শিকার করতে দেখলাম। পাখিগুলো একটার উপর একটা পড়ে আছে। পরে সেগুলো উড়তে শুরু করলো। উড়ন্ত পাখিগুলো লোকদের ঘাড়ে আঘাত হানতে শুরু করলো। অতঃপর দেখলাম, আপনারা সবাই পালিয়ে চলে আসছেন। আরো দেখলাম পাখিগুলো যাকে আঘাত করছে, সে সাথে সাথে লুটিয়ে পড়ছে। অতঃপর আমি জাগ্রত হয়ে আপনার জন্য ভীত ও অশ্রুসিক্ত হলাম। পল বলল, আমাকেও কি আঘাতে লুটিয়ে পড়তে দেখেছ? বলল হ্যাঁ, একজন বড় অশ্বারোহীর আঘাতে আপনি লুটিয়ে পড়েছেন। এ কথা শুনে পল তার মুখে চড় মেরে দিল এবং বলল, মসীহ তোমাকে ভাল সংবাদ দেননি। তোমার অন্তরেও আরবদের ভীতি ঢুকেছে। ফলে ঘুমেও তুমি তাদের নিয়ে বাজে স্বপ্ন দেখছ। তাদের আমীরকে তোমার খাদেম বানাতে হবে এবং তার সহচরদেরকে ছাগলের ও শুকরের রাখাল বানাতে হবে। তখন এ অভিশপ্তের স্ত্রী তাকে বলল, আপনার যা মন চায় করুন। আমি আপনার কল্যাণ কামনা করে দেখেছি।
📄 মুসলমানদের সন্ধানে দামেস্কবাসী
অভিশপ্ত পল তার স্ত্রীর কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে তার কাছ থেকে বের হয়ে আসল এবং স্বীয় বাহনে আরোহণ করল। দামেস্কের সব লোকও তার সাথে বের হল। দেখা গেল, তাদের সংখ্যা ছয় হাজার এবং সবাই অশ্বারোহী। আর তাদের সাহায্যে নজদা ও হিময়া থেকে এসেছে দশ হাজার পদাতিক বাহিনী। সবাই মুসলমানদের সন্ধানে বের হল।
📄 হযরত আবু উবাইদার উপলব্ধি
আজনাদীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া মুসলমানরা এখনো দামেস্কের সন্নিকটে। হযরত খালিদ পরামর্শ মত সৈন্যদের নিয়ে সামনে ছিলেন। আর হযরত আবু উবাইদা মাল পত্র, গনীমত ও নারী শিশুদের নিয়ে পিছনে ছিলেন। এমন সময় একজন লোক পিছনের দিকে তাকাল। দেখা গেল ধুলো উড়ছে। হযরত আবু উবাইদাকে এ খবর পৌঁছানো হলে তিনি বললেন, শত্রুরা আমাদের টার্গেট করেছে। তার একথা বলতে না বলতে দেখা গেল, স্রোতের মত অশ্বারোহী ধেয়ে আসছে। তাদের সামনে রয়েছে পল। সে যখন হযরত আবু উবাইদাকে দেখল, তখন কিছু অশ্বারোহী নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসল। আর তার ভাই বুট্টোস মাল-পত্র ও নারী শিশুদের দিকে গিয়ে তাদের কয়েকজনকে আটক করল। এরপর সে তাদেরকে নিয়ে দামেস্কের দিকে রওয়ানা হল। কিছু দূরে গিয়ে সে তার ভাইয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য বসে যায়। হযরত আবু উবাইদা রোমানদের এ আকস্মিক অভিযান দেখে বললেন, খালিদের কথাই ঠিক ছিল। তিনি পিছনে থাকতে চাইলেন, কিন্তু আমি থাকতে দিলাম না। এখন এই পল খৃষ্টবাদের ঝান্ডা ও মাথায় ক্রুশ বেঁধে এসে আমাদের টার্গেট করেছে।