📄 রাফে বিন উমাইরার নেতৃত্ব গ্রহণ
তখন রাফে বিন উমাইরা আততাঈ বললেন- "ওহে কুরআনবাহকেরা! তোমরা কোথায় যেতে চাচ্ছ? তোমরা কি জান না, যে শত্রুকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়, সে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়? আর তোমরা কি জান না যে, জান্নাতে এমন কিছু দরজা রয়েছে যা মুজাহিদগন ছাড়া আর কারো জন্য খোলা হবে না? ধৈর্য এবং ধৈর্য ধারণ কর এবং জান্নাত এবং জান্নাতের কথাই স্মরণ কর। হে কুরআনের অনুসারীরা! ক্রুশের পূজারী কাফিরদের উপর হমলা কর। আমি তোমাদের সাথে প্রথম কাতারে আছি। যদি তোমাদের আমীর গ্রেফতার বা নিহত হয়, তো আল্লাহ তো জীবিত আছেন, তিনি তো কখনো মরবেন না। তিনি তোমাদেরকে তার বিনিদ্র চোখ দিয়ে দেখছেন"।
তার এ জ্বালাময়ী বক্তব্য শুনে মুসলমানরা ফিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকল এবং বীর বিক্রমে যুদ্ধ করতে থাকল।
📄 হযরত খালিদের আক্রমণ
অন্যদিকে হযরত খালিদের কাছে এখবর পৌঁছে যায় যে, দিরার রোমানদের হাতে বন্দী হয়েছেন এবং তিনি তাদের অনেক লোককে হত্যা করেছেন। ফলে হযরত খালিদ বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, শত্রুদের সংখ্যা কত? বলা হল, বার হাজার। হযরত খালিদ বললেন, আমি তো মনে করি এ সংখ্যা তেমন বেশি নয়। তারা আমাদের লোকদেরকে ফাঁদে ফেলে দিয়েছে।
অতঃপর তিনি তাদের নেতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। বলা হল, তাদের নেতা হিমসের শাসক ওয়ারদান। দিরার তার ছেলে হামাদানকে হত্যা করেছেন। একথা শুনে হযরত খালেদ বললেন- "আল্লাহ ব্যতীত আমাদের কোন শক্তি ও সামর্থ নেই"।
অতঃপর তিনি হযরত আবু উবাইদার কাছে লোক পাঠিয়ে পরামর্শ চাইলেন। হযরত আবু উবাইদা জবাবে বললেন, যাকে আপনি ভাল মনে করেন তাকে পূর্ব গেইটে রেখে আপনি তাদের কাছে চলে যান। ইনশাআল্লাহ আপনি তাদেরকে ঘিরে ফেলতে পারবেন।
হযরত খালিদের নিকট এ জবাব পৌঁছার পর বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তো সেই লোক নই যে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার ব্যাপারে কৃপণতা করে। অতঃপর তিনি হযরত মায়সারা বিন মাসরুক আল আবাসীকে এক হাজার সৈন্য দিয়ে দামেস্কের পূর্ব গেইটে গিয়ে অবস্থান করার জন্য নির্দেশ দিলেন। আর তাকে বললেন, সাবধান! আপনি কোন অবস্থাতেই এ জায়গা থেকে কোথাও যাবেন না। হযরত মায়সারা বললেন, ঠিক আছে।
অতঃপর হযরত খালিদ তার সাথে বের হওয়া লোকদের বললেন, তীর ,বর্শা ও তরবারী নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। যখন শত্রুদের কাছে গিয়ে পৌঁছব, তখন সবাই এক যোগে তাদের উপর আক্রমণ করব, যাতে হযরত দিরার বেঁচে থাকলে তাকে মুক্ত করা সম্ভব হয়। আল্লাহর কসম! যদি তারা তাকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে ইন্শাআল্লাহ আমরা অবশ্যই তার প্রতিশোধ গ্রহণ করব। আর আল্লাহর কাছে কামনা করছি যেন তিনি তার বন্দী হওয়ার কারণে আমাদেরকে বিমূঢ় হওয়া থেকে রক্ষা করেন। অতঃপর হযরত খালিদ সৈন্যদের সম্মুখে গিয়ে এ কবিতা আবৃত্তি করেন-
আজ যে সত্যবাদীতা প্রদর্শন করেছে, সে সফলকাম হয়েছে। মৃত্যু যদি আগমন করে তাহলে আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। আমি অবশ্যই শত্রুকে বর্শা দ্বারা সিক্ত করাব ও তাদের শিরস্ত্রাণ ও ঢাল ভেঙ্গে চুরমার করবো। হয়তো আগামীতে আমি চিরস্থায়ী জান্নাতে সত্যবাদীর আসন গ্রহণ দেখতে পাবো এবং যারা পূর্বে চলে গেছে তাদের সাথে মিলিত হব।
📄 বীরাঙ্গনা খাওলা বিনতে আযুর
হযরত খালিদ উপরোক্ত কবিতাগুলো আবৃত্তি করছিলেন। এসময় হঠাৎ করে তিনি একজন অশ্বারোহীকে দেখতে পান, যার ঘোড়াটি লম্বা ও তার হাতে রয়েছে একটা লম্বা বর্শা। তার হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছে, তিনি একজন সাহসী ও পারদর্শী যোদ্ধা। তার চেহারা ঢাকা ও তার পরনে রয়েছে একটি কাল কাপড় এবং মাথায় রয়েছে সবুজ পাগড়ী, যা পিছনের দিকে ঝুলানো। তাকে সবার আগে দেখা যাচ্ছে এবং মনে হচ্ছে যেন একটা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। হযরত খালিদ তাকে দেখে বললেন, এ অশ্বারোহী কে জানতে পারতাম? সে অবশ্যই একজন বীর অশ্বারোহী। অতঃপর হযরত খালিদ ও মুসলিম সৈন্যরা তার পেছনে চলতে লাগলেন। আর এ অশ্বারোহী সবার আগে মুশরিকদের মোকাবেলায় যুদ্ধে শরীক হন।
হযরত রাফে' বিন উমাইরা আততাঈ ও তার সাথে থাকা মুসলমানরা মুশরিক রোমানদের সাথে ধৈর্য সহকারে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে তারা দেখতে পেলেন, হযরত খালিদ তার বাহিনী নিয়ে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন। ইতোপূর্বে তারা তার কাছে সাহায্যের জন্য খবর পাঠিয়েছিলেন। তারা আরো দেখতে পেলেন, একটি লোক সবার আগে এসে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত রোমান সৈন্যদের মাঝে ঢুকে পড়ে তাদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অতঃপর তাদের উপর কিছুক্ষণ তরবারী চালানোর পর রক্তাক্ত তরবারী নিয়ে মুসলমানদের দিকে চলে আসে। তার আঘাতে অনেক রোমান সৈন্য আহত ও নিহত হয়। তার এই বীরত্ব প্রদর্শন ছিল আত্মঘাতী তৎপরতার মত। অতঃপর রোমান সৈন্যদের মাঝে আবারো বীর দর্পে ছুটে যায় এবং তাদের উপর বেপরোয়া আঘাত হানতে থাকে। রোমান সৈন্যরা তার এ সাহসিকতা দেখে অস্থির হয়ে পড়ে।
হযরত রাফে' বিন উমাইরা ও তার সাথীরা মনে করলেন, লোকটা হযরত খালিদ এবং তারা বলাবলি করতে আরম্ভ করল যে হযরত খালিদ ছাড়া এ ধরণের আক্রমণ আর কেউ করতে পারে না। এ সময় দেখা গেল, হযরত খালিদ কয়েকজন অশ্বারোহীসহ তাদের সামনে উপস্থিত। তাকে দেখে হযরত রাফে' বিন উমাইরা বললেন, আপনার আগে যে অশ্বারোহী এলেন তিনি কে? তিনি তার প্রাণ হাতে নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করছেন। হযরত খালিদ বললেন, তিনি আমার কাছে আপনাদের চেয়ে বেশি অপরিচিত। তখন হযরত রাফে' বললেন, লোকটা রোম সৈন্যদের সাথে যুদ্ধে ডুবে আছেন এবং ডানদিক ও বামদিক তরবারী চালাচ্ছেন।
অতঃপর হযরত খালিদ মুসলমানদের বললেন, সবাই শত্রুর উপর হামলা করুন এবং যে আল্লাহর দ্বীনের জন্য লড়াই করছে তাকে সাহায্য করুন। তখন সবাই নিজ নিজ অস্ত্র হাতে নিয়ে একে অপরের সাথে মিলে মিলে দাঁড়াল। হযরত খালিদ ছিলেন তাদের সামনে। এ সময় তিনি দেখতে পেলেন, রোমান সৈন্যদের ভিতর থেকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ন্যায় একজন অশ্বারোহী বের হয়ে আসছেন। তার পিছনে রোমান অশ্বারোহীরাও আসছে এবং যখনই কোন রোম অশ্বারোহী তার কাছে এসে পৌঁছছে, সাথে সাথে তার উপর হামলা করে তাকে মাটিতে লুটিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থা দেখে হযরত খালিদ মুসলমানদের নিয়ে রোম সৈন্যদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং ওই অশ্বারোহীও তাদের সাথে মিলে শত্রুদের উপর আক্রমণ চালাতে লাগলেন। অতঃপর যুদ্ধ থেমে গেলে মুসলমানরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তখন হযরত খালিদ ও মুসলমান সৈন্যরা চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তুমি আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ-পণ যুদ্ধ করেছ ও শত্রুদের উপর জয় লাভ করেছ। দয়া করে তোমার মুখোশটা খোল। কিন্তু তিনি তাদের কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে রোমান সৈন্যদের দিকে চলে যান। তখন চতুর্দিক থেকে রোমান সৈন্যরা চিৎকার দিল। তাদের সাথে সাথে মুসলমানরাও চিৎকার দিয়ে উঠল এবং বলল, ওহে বীর পুরুষ! তোমাকে আমীর সাহেব তোমার পরিচয় জিজ্ঞেস করছেন আর তুমি তার দিকে তাকাচ্ছ না যে! তোমার নাম ও পরিচয় বল যাতে তোমার সম্মান আরো বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তিনি কোন উত্তর দেননি।
অতঃপর যখন তিনি হযরত খালিদ থেকে একটু দুরে চলে গেলেন তখন হযরত খালিদ নিজেই তার দিকে গিয়ে তাকে বললেন, কী অবস্থা, তুমি তোমার তৎপরতা দ্বারা লোকজনের অন্তর এমনকি আমার অন্তর পর্যন্ত অস্থির করে তুলেছ, বল তুমি কে? হযরত খালিদ যখন তার পরিচয় জানার জন্য কঠোর হলেন, তখন তিনি তার মুখোশের ভিতর থেকে মেয়েলী কন্ঠে বললেন, ওহে আমীর সাহেব! আমি কেবল লজ্জার কারণেই আপনার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি। কারণ, আপনি একজন মহান আমীর। আর আমি হলাম গৃহিনী পর্দানশীল এক নারী। আর আমার এভাবে এসে যুদ্ধ করার কারণ হচ্ছে, আমার হৃদয় ক্ষোভে ও দুঃখে পুড়ে যাচ্ছে। হযরত খালিদ বললেন তুমি কে? বললেন, আমি মুশরিকদের হাতে বন্দী দিরারের বোন খাওলা বিনতে আযূর। আমি আরব মেয়েদের সাথে অবস্থান করছিলাম। এক লোক এসে বলল, দিরার বন্দী হয়েছে। তখন আমি ঘোড়ায় সওয়ার হলাম এবং যা করার তা করলাম।
হযরত খালিদ বললেন, আমরা তাদের উপর এক যোগে হামলা করব এবং আল্লাহর নিকট আশা করি তোমার ভাই পর্যন্ত পৌঁছে আমরা তাকে মুক্ত করে আনতে পারব। হযরত আমের বিন তুফাইল বলেন, যখন খাওলা ও মুসলমানরা সবাই শত্রুদের উপর হামলা করছিল, তখন আমি হযরত খালিদ এর ডান পাশে ছিলাম। খাওলা তার সামনে থেকে হামলা করছিল, রোম সৈন্যরা তার হামলার ভয়ে অস্থির ছিল এবং তারা বলাবলি করছিল, যদি সকল মুসলিম সৈন্য এ অশ্বারোহীর (খাওলা) ন্যায় হত, তাহলে তাদের মোকাবেলায় অবতীর্ণ হওয়া আমাদের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভবপর ছিল না।
হযরত খালিদ যখন মুসলমানদের নিয়ে রোমানদের উপর হামলা করেন, তখন রোমানরা আর স্থির থাকতে সক্ষম হলো না। ওয়ারদান তাদের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমরা তাদের মোকাবেলায় স্থির থাক। যদি তোমাদেরকে তারা দৃঢ়পদ দেখতে পায় তাহলে তারা পালিয়ে যাবে এবং দামেস্কবাসী বের হয়ে তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য করবে। মুসলমানরা রোমানদের সাথে দৃঢ়পদ থেকে যুদ্ধ করলো এবং হযরত খালিদ কিছু মুসলমানকে নিয়ে তাদের উপর বড় আকারে হামলা করে রোমান সৈন্যদেরকে বিক্ষিপ্ত করে দিলেন। অতঃপর হযরত খালিদ তাদের সেনাপতি ওয়ারদানের দিকে যেতে চাইলেন। দেখলেন, বর্মপরা ও অস্ত্র ধারী কিছু লোক তাকে বেষ্টন করে রেখেছে। তা দেখে হযরত খালিদ মুসলমানদেরকে নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালালেন। উভয় দল চাইল শত্রু সেনাপতিকে হত্যা করার জন্য।
অন্যদিকে হযরত খাওলা তার ভাইয়ের খোঁজে এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছিলেন। দুপুর হয়ে গেল। কিন্তু খাওলা তার ভাইয়ের কোন খোঁজ পেলেন না। দুপুর হলে উভয় দল যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধে মুসলমানরা জয়ী হল ও শত্রুদের বিপুল সংখ্যক সৈন্য হতাহত হল। অতঃপর উভয় দল নিজ নিজ তাবুতে গিয়ে অবস্থান করল। মুসলমানদের বীরত্ব দেখে রোমান সৈন্যদের অন্তর কাঁপছিল। তারা পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করল। কিন্তু সেনাপতি ওয়ারদানের ভয়ে পালানো থেকে বিরত থাকে।
দিরারের শোকে পাগল প্রায় বোন খাওলা
মুসলমানরা তাদের তাঁবুতে গিয়ে অবস্থান করার পর তাদের সামনে হযরত খাওলা এসে উপস্থিত হলেন এবং একজন একজন করে সবার কাছে তার ভাইয়ের অবস্থা জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু কেউ তাকে বলতে সক্ষম হলো না, সে তাকে দেখেছে বা বন্দী হতে দেখেছে অথবা নিহত অবস্থায় দেখেছে। তখন খাওলা তার ভাইয়ের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে জোরে ক্রন্দন করেন এবং বললেন, হে আমার মায়ের পুত্র, আমি জানি না তারা তোমাকে কোন স্থানে নিক্ষেপ করেছে বা কোন বর্শা দিয়ে আঘাত করেছে কিংবা কোন তরবারী দ্বারা হত্যা করেছে? ভাই! তোমার বোন তোমার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছে। আমি যদি তোমাকে দেখতে পেতাম, তাহলে শত্রুর হাত থেকে তোমাকে তুলে নিয়ে আসতাম। আমি জানি না, তোমাকে আর দেখতে পাব কিনা। তুমি তোমার বোনের অন্তরে আগুন জ্বেলে গেছ যা কখনো নিভবে না। জানি না তুমি নবীজি সা. এর সামনে শহীদ হওয়া তোমার পিতার সাথে মিলিত হয়েছ কিনা। অতএব, তোমার সাথে দেখা হওয়া পর্যন্ত আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি সালাম রইল। হযরত খাওলার এসব কথা শুনে মুসলমানরা অঝোরে কাঁদল এবং হযরত খালিদ ও কাঁদলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় হামলা করার ইচ্ছা করলেন।
বন্দী রোমান সৈন্যদের জবানবন্দি
তখন দেখা গেল, রোমানদের একটি দল বের হচ্ছে। তাদের দেখে মুসলমানরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করল। হযরত খালিদ তাদের নিয়ে রোমানদের দিকে অগ্রসর হলেন। যখন তিনি তাদের নিকটবর্তী হলেন, তখন মুসলমানদের নিয়ে তাদেরকে বর্শা ও তরবারী দ্বারা স্বাগতম জানালেন এবং তাদের দিকে পায়ে হেঁটে গিয়ে আক্রমণ করতে চাইলেন। তখন তারা নিরাপত্তা চেয়ে চিৎকার দিল। হযরত খালিদ বললেন, তাদের উপর আর আক্রমণ না করে ধরে নিয়ে আস। তাদেরকে নিয়ে আসা হলে হযরত খালিদ বললেন, তোমাদের পরিচয় কী? তারা বলল, আমরা ওয়ারদানের সৈন্য, আমাদের বাড়ী হিমসে। এখন আমাদের নিকট এ বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সে আপনাদের সাথে যুদ্ধে বিজয় লাভ করতে পারবে না। অতএব, আমাদেরকে নিরাপত্তা দান করুন এবং অন্যান্য লোকদের মতো আমরা আপনাদের সাথে সন্ধি করতে চাই। প্রতিবছর যে পরিমাণ অর্থ আপনারা চাচ্ছেন সে পরিমাণ অর্থ আপনাদের দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। হিমসের সকল লোক আমাদের এ কথার সাথে একমত পোষণ করবে। হযরত খালিদ বললেন, আমি যখন তোমাদের দেশে পৌঁছাবো, তখন যদি তোমরা প্রয়োজন মনে কর, তাহলে ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে সন্ধি হবে। এখন তোমাদের সাথে সন্ধি চুক্তি করার সুযোগ নেই। তোমরা আমাদেরকে যুদ্ধের ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন ধরনের ফয়সালা না আসা পর্যন্ত আমাদের সাথে থাক।
📄 হযরত দিরারের খোঁজ সৈন্য প্রেরণ
হযরত খালিদ তাদেরকে বললেন, আমাদের যে লোক তোমাদের নেতার ছেলেকে হত্যা করেছে, তার ব্যাপারে তোমরা কোন কিছু জান? তারা বলল, উনি মনে হয় সে নাঙ্গা শরীরের লোক। যিনি আমাদের সাথে তীব্র যুদ্ধ করেছেন এবং ছেলেকে হত্যা করে আমাদের নেতাকে ব্যথিত করেছেন। হযরত খালিদ বললেন, তার কথাই জিজ্ঞেস করছি। তারা বলল, ওয়ারদান তাকে একটি খচ্চরের উপর সওয়ার করিয়ে একশত অশ্বারোহী সহকারে হিমসের দিকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যেন হিমসের লোকেরা তাকে সম্রাটের কাছে নিয়ে যায় এবং তার অপরাধের জন্য সম্রাট বিচার করেন।
একথা শোনে হযরত খালিদ খুশী হলেন এবং হযরত রাফে' বিন উমাইরা আততাঈকে ডেকে বললেন, ওহে রাফে! আমার জানা মতে তোমার মত পথ-ঘাট চিনে এরকম লোক আর নেই। তুমিই আমাদেরকে নিয়ে সামাওয়াত থেকে আসার পথে মরুভূমির পথ অতিক্রম করেছ এবং উটদের কে পিপাসার্ত করে সেগুলোকে পানি পান করিয়ে আমাদেরকে রক্ষা করেছিলে আর আমাদেরকে 'আরাকা' পার করিয়েছিলে। আমাদের পূর্বে এ উঁচু মরুভূমি আর কোন বাহিনী অতিক্রম করেনি। তোমার মত কৌশলী আমাদের মাঝে আর কেউ নেই। অতএব, তুমি যাকে পছন্দ কর তাকে নিয়ে যাদের মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দ্রুত রওয়ানা হয়ে যাও। হতে পারে তাদেরকে তুমি পথে পেয়ে যাবে এবং এটা যদি করতে পার তাহলে তা আমাদের জন্য মহা আনন্দের কারণ হবে।
রাফে বললেন, ঠিক আছে। অতঃপর তিনি একশজন দক্ষ অশ্বারোহী বাছাই করে রওয়ানা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। দিরারের খোঁজে রাফে বিন উমাইরার নেতৃত্বে একদল মুসলমান রওয়ানা হওয়ার এ সুসংবাদ খাওলার কাছে পৌঁছলে আনন্দে তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে যায়। তিনি দ্রুত অস্ত্র নিয়ে বাহনে সওয়ার হয়ে হযরত খালিদের নিকট চলে আসলেন। এসে তাকে বললেন, আমি মুহাম্মদ সা.- এর দোহাই দিয়ে আপনার কাছে আবেদন করছি, রাফে'র সাথে আমাকেও পাঠানো হোক। তখন হযরত খালিদ রাফে'কে বললেন, তুমি এর বীরত্বের ব্যাপারে অবগত আছ। অতএব, তোমার সাথে তাকেও নাও। রাফে' বললেন ঠিক আছে।