📄 সেনাপতি ওয়ারদানের পুত্র হামদান নিহত
যুদ্ধ প্রচন্ড রূপ নেয়। ওয়ারদানের পুত্র হামদান গিয়ে হযরত দিরারের উপর তীর নিক্ষেপ করে। তীর হযরত দিরারের ডান বাহুতে বিদ্ধ হয়। তিনি ব্যথা অনুভব করা সত্ত্বেও হামদানকে তার বর্শা দ্বারা আঘাত করেন। বর্শা তার বুকে বিদ্ধ হয়ে পিঠের হাড়ে আঘাত হানে। চেষ্টা করা সত্ত্বেও তা বের করা সম্ভব হলো না।
📄 বন্দী হলেন বীর দিরার
তারা হযরত দিরারের উপর আক্রমণ করে তাকে বন্দী করে ফেলে। সাহাবীরা তার বন্দী হওয়া দেখে তাকে মুক্ত করার জন্য শত্রুদের উপর আরো তীব্রভাবে আঘাত হানতে শুরু করে। কিন্তু তারা তাকে মুক্ত করতে সক্ষম হলো না। ফলে তারা যুদ্ধ না করে চলে যেতে চাইল।
📄 রাফে বিন উমাইরার নেতৃত্ব গ্রহণ
তখন রাফে বিন উমাইরা আততাঈ বললেন- "ওহে কুরআনবাহকেরা! তোমরা কোথায় যেতে চাচ্ছ? তোমরা কি জান না, যে শত্রুকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়, সে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়? আর তোমরা কি জান না যে, জান্নাতে এমন কিছু দরজা রয়েছে যা মুজাহিদগন ছাড়া আর কারো জন্য খোলা হবে না? ধৈর্য এবং ধৈর্য ধারণ কর এবং জান্নাত এবং জান্নাতের কথাই স্মরণ কর। হে কুরআনের অনুসারীরা! ক্রুশের পূজারী কাফিরদের উপর হমলা কর। আমি তোমাদের সাথে প্রথম কাতারে আছি। যদি তোমাদের আমীর গ্রেফতার বা নিহত হয়, তো আল্লাহ তো জীবিত আছেন, তিনি তো কখনো মরবেন না। তিনি তোমাদেরকে তার বিনিদ্র চোখ দিয়ে দেখছেন"।
তার এ জ্বালাময়ী বক্তব্য শুনে মুসলমানরা ফিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকল এবং বীর বিক্রমে যুদ্ধ করতে থাকল।
📄 হযরত খালিদের আক্রমণ
অন্যদিকে হযরত খালিদের কাছে এখবর পৌঁছে যায় যে, দিরার রোমানদের হাতে বন্দী হয়েছেন এবং তিনি তাদের অনেক লোককে হত্যা করেছেন। ফলে হযরত খালিদ বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, শত্রুদের সংখ্যা কত? বলা হল, বার হাজার। হযরত খালিদ বললেন, আমি তো মনে করি এ সংখ্যা তেমন বেশি নয়। তারা আমাদের লোকদেরকে ফাঁদে ফেলে দিয়েছে।
অতঃপর তিনি তাদের নেতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। বলা হল, তাদের নেতা হিমসের শাসক ওয়ারদান। দিরার তার ছেলে হামাদানকে হত্যা করেছেন। একথা শুনে হযরত খালেদ বললেন- "আল্লাহ ব্যতীত আমাদের কোন শক্তি ও সামর্থ নেই"।
অতঃপর তিনি হযরত আবু উবাইদার কাছে লোক পাঠিয়ে পরামর্শ চাইলেন। হযরত আবু উবাইদা জবাবে বললেন, যাকে আপনি ভাল মনে করেন তাকে পূর্ব গেইটে রেখে আপনি তাদের কাছে চলে যান। ইনশাআল্লাহ আপনি তাদেরকে ঘিরে ফেলতে পারবেন।
হযরত খালিদের নিকট এ জবাব পৌঁছার পর বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তো সেই লোক নই যে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার ব্যাপারে কৃপণতা করে। অতঃপর তিনি হযরত মায়সারা বিন মাসরুক আল আবাসীকে এক হাজার সৈন্য দিয়ে দামেস্কের পূর্ব গেইটে গিয়ে অবস্থান করার জন্য নির্দেশ দিলেন। আর তাকে বললেন, সাবধান! আপনি কোন অবস্থাতেই এ জায়গা থেকে কোথাও যাবেন না। হযরত মায়সারা বললেন, ঠিক আছে।
অতঃপর হযরত খালিদ তার সাথে বের হওয়া লোকদের বললেন, তীর ,বর্শা ও তরবারী নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। যখন শত্রুদের কাছে গিয়ে পৌঁছব, তখন সবাই এক যোগে তাদের উপর আক্রমণ করব, যাতে হযরত দিরার বেঁচে থাকলে তাকে মুক্ত করা সম্ভব হয়। আল্লাহর কসম! যদি তারা তাকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে ইন্শাআল্লাহ আমরা অবশ্যই তার প্রতিশোধ গ্রহণ করব। আর আল্লাহর কাছে কামনা করছি যেন তিনি তার বন্দী হওয়ার কারণে আমাদেরকে বিমূঢ় হওয়া থেকে রক্ষা করেন। অতঃপর হযরত খালিদ সৈন্যদের সম্মুখে গিয়ে এ কবিতা আবৃত্তি করেন-
আজ যে সত্যবাদীতা প্রদর্শন করেছে, সে সফলকাম হয়েছে। মৃত্যু যদি আগমন করে তাহলে আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। আমি অবশ্যই শত্রুকে বর্শা দ্বারা সিক্ত করাব ও তাদের শিরস্ত্রাণ ও ঢাল ভেঙ্গে চুরমার করবো। হয়তো আগামীতে আমি চিরস্থায়ী জান্নাতে সত্যবাদীর আসন গ্রহণ দেখতে পাবো এবং যারা পূর্বে চলে গেছে তাদের সাথে মিলিত হব।