📘 ফুতুহুশ শাম 📄 যুদ্ধের সূচনা ও হযরত দিরারের বীরত্ব

📄 যুদ্ধের সূচনা ও হযরত দিরারের বীরত্ব


আমর বিন দারিম বলেন, আমি বাইত লাহয়ার দিন দিরার বিন আযুরের সৈন্যদের একজন ছিলাম। শত্রুরা যখন নিকটবর্তী হল, তখন দিরার তাদের মোকাবেলায় সবার আগে বের হয়ে পড়েন। তাঁর বের হওয়ার সাথে সাথে মুসলমানরাও সবাই তাকবীর ধ্বনি সহকারে তার অনুসরণ করে। তাকবীর ধ্বনিতে মুশরিকরা ভীত হয়ে পড়ে। তারা গিয়ে দ্রুত শত্রুদের উপর হামলা শুরু করে।

হযরত দিরার সবার আগে থেকে যুদ্ধ করছিলেন। তার যুদ্ধের তীব্রতা দেখে শত্রুরা ভীত বিহবল হয়ে পড়ে। ওয়ারদানও যুদ্ধের প্রথম কাতারে ছিল এবং তার মাথায় তাদের ক্রুশ লাগানো ছিল। হযরত দিরার তাকে দেখে যখন বুঝলেন, সে শত্রুদের সেনাপতি, তখন তিনি তার দিকে গিয়ে তার উপর বেপরোয়া হামলা চালালেন। হামলায় তার ক্রুশ মাটিতে পড়ে যায়। ক্রুশ মাটিতে পড়ে গেলে তখন সে মনে করল, পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। তাই সে তা তুলে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করল। কিন্তু সুযোগ পেল না। তবে একদল মুসলমান তা তুলে নেওয়ার জন্য বাহন থেকে নেমে গেল। হযরত দিরার তাদেরকে দেখে বললেন, ওহে মুসলমানরা! ক্রুশের মালিক আমি। তোমরা ওটার লোভ করো না। রোমানদের সাথে যুদ্ধ শেষ হলে সেটা আমি তুলে নিব। তোমরা এখন যুদ্ধ চালিয়ে যাও।

ওয়ারদান একথা শুনল। সে আরবী বুঝত। তাই সে পলায়ন করার ইচ্ছা করল। তখন সেনা কর্মকর্তারা বলল, ওহে নেতা! আপনি কি শয়তানের ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন? দিরার ওয়ারদানের অবস্থা দেখে যখন বুঝতে পারলেন, সে পালিয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি হুংকার ছেড়ে তার দিকে যেতে লাগলেন এবং তার বর্শা সামনের দিকে লম্বা করে রাখলেন। রোম সৈন্যরা তাকে এ অবস্থায় দেখে চিৎকার দিয়ে বললো, সবাই তাকে চতুর্দিক থেকে ঘেরাও করে ফেলো। তখন তিনি এ পংক্তি আবৃত্তি করছিলেন-

মৃত্যু তো একটি অনিবার্য সত্য ব্যাপার। তা থেকে আমার পালিয়ে যাওয়ার কোন স্থান নেই। আর জান্নাতুল ফিরদাউসই হচ্ছে সর্বোত্তম আবাসস্থল। এটা আমার যুদ্ধ। অতএব, হে উপস্থিত লোকজন! তোমরা সাক্ষী থাক যে, আমার এসব কাজ একমাত্র মানুষের প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের জন্য।

এ পংক্তি আবৃত্তি করতে করতে তিনি রোমানদের মাঝে গিয়ে তাদের উপর হামলা শুরু করেন। তার অনুসরণে মুসলমানরাও রোমদের উপর হামলা করে। রোমানরা তাদেরকে ঘিরে ফেলে। হিমসের শাসক ওয়ারদান হযরত দিরারের উপর বর্শা তাক করে এবং রোম সেনা কর্মকর্তারা তাকে ঘিরে ফেলে। হযরত দিরার চতুর্দিক থেকে শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করে চলছেন এবং তিনি যাদের উপর আঘাত করেছেন, তারা প্রায় সকলেই নিহত হচ্ছে। তার আঘাতে শত্রুদের অনেক লোক নিহত হয়। তিনি এসময় কুরআনের এ আয়াত- "আল্লাহ নিশ্চয় তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তার পথে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় শক্তভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে লড়াই করে"-পড়ে পড়ে মুসলমানদেরকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে রোমানরা সকলে মিলে চতুর্দিক থেকে হযরত দিরারের উপর আক্রমণ করা শুরু করে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 সেনাপতি ওয়ারদানের পুত্র হামদান নিহত

📄 সেনাপতি ওয়ারদানের পুত্র হামদান নিহত


যুদ্ধ প্রচন্ড রূপ নেয়। ওয়ারদানের পুত্র হামদান গিয়ে হযরত দিরারের উপর তীর নিক্ষেপ করে। তীর হযরত দিরারের ডান বাহুতে বিদ্ধ হয়। তিনি ব্যথা অনুভব করা সত্ত্বেও হামদানকে তার বর্শা দ্বারা আঘাত করেন। বর্শা তার বুকে বিদ্ধ হয়ে পিঠের হাড়ে আঘাত হানে। চেষ্টা করা সত্ত্বেও তা বের করা সম্ভব হলো না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বন্দী হলেন বীর দিরার

📄 বন্দী হলেন বীর দিরার


তারা হযরত দিরারের উপর আক্রমণ করে তাকে বন্দী করে ফেলে। সাহাবীরা তার বন্দী হওয়া দেখে তাকে মুক্ত করার জন্য শত্রুদের উপর আরো তীব্রভাবে আঘাত হানতে শুরু করে। কিন্তু তারা তাকে মুক্ত করতে সক্ষম হলো না। ফলে তারা যুদ্ধ না করে চলে যেতে চাইল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রাফে বিন উমাইরার নেতৃত্ব গ্রহণ

📄 রাফে বিন উমাইরার নেতৃত্ব গ্রহণ


তখন রাফে বিন উমাইরা আততাঈ বললেন- "ওহে কুরআনবাহকেরা! তোমরা কোথায় যেতে চাচ্ছ? তোমরা কি জান না, যে শত্রুকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়, সে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়? আর তোমরা কি জান না যে, জান্নাতে এমন কিছু দরজা রয়েছে যা মুজাহিদগন ছাড়া আর কারো জন্য খোলা হবে না? ধৈর্য এবং ধৈর্য ধারণ কর এবং জান্নাত এবং জান্নাতের কথাই স্মরণ কর। হে কুরআনের অনুসারীরা! ক্রুশের পূজারী কাফিরদের উপর হমলা কর। আমি তোমাদের সাথে প্রথম কাতারে আছি। যদি তোমাদের আমীর গ্রেফতার বা নিহত হয়, তো আল্লাহ তো জীবিত আছেন, তিনি তো কখনো মরবেন না। তিনি তোমাদেরকে তার বিনিদ্র চোখ দিয়ে দেখছেন"।

তার এ জ্বালাময়ী বক্তব্য শুনে মুসলমানরা ফিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকল এবং বীর বিক্রমে যুদ্ধ করতে থাকল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px