📄 রোমানদের মোকাবেলায় হযরত দিরারকে প্রেরণ
হযরত আবু উবায়দা একথা বলার পর হযরত খালিদ বললেন, ওহে আমীনুল উম্মাহ! আমি তাহলে এমন একজন লোককে পাঠাব, যিনি মৃত্যুকে ভয় করেন না। যুদ্ধের ব্যাপারে তিনি খুব পারদর্শী। তার বাপ ও দাদা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বললেন, ওহে আবু সুলাইমান! তিনি কে? বললেন, তিনি দিরার বিন আযূর বিন তারিক।
হযরত আবু উবায়দা রা. বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি যথার্থ ব্যাক্তি নির্বাচন করেছেন এবং একজন প্রসিদ্ধ ত্যাগী ব্যক্তির কথা বলেছেন। অতএব, তাই করুন।
এ কথা শুনে হযরত খালিদ গিয়ে দিরার বিন আযুরকে তলব করলেন। তিনি এসে সালাম করলেন। হযরত খালিদ তাকে বললেন- "ওহে আযূরের ছেলে! আমি আপনাকে এমন পাঁচ হাজার লোকের আমীর বানাতে চাচ্ছি, যারা আল্লাহর কাছে নিজেদের প্রাণ বিক্রি করে দিয়েছে এবং দুনিয়ার উপর আখিরাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং যে সব লোক আমাদের বিরুদ্ধে অভিযানে এসেছে তাদের দিকে রওয়ানা হতে চাচ্ছে। যদি আপনি তাদেরকে পরাজিত করার সম্ভাবনা দেখেন, তাহলে তাদের সাথে লড়াই করবেন। আর যদি মনে করেন যে, আপনি তাদের মোকাবেলা করার শক্তি রাখেন না, তাহলে আপনার পক্ষ থেকে আমাদের নিকট একজন দূত পাঠাবেন।”
📄 জিহাদপাগল হযরত দিরারের আনন্দ
এ কথা শুনে হযরত দিরার বললেন- "উহ! কি আনন্দ! আল্লাহর কসম হে ইবনে ওয়ালীদ! আমার অন্তরকে অন্য কোন বস্তু এ প্রস্তাবের চেয়ে অধিক আনন্দ দিতে পারেনি। আপনি অনুমতি দিন, আমি একাই তাদের সাথে লড়াই করার জন্য চলে যাই।”
হযরত খালিদ বললেন, আমি জানি যে আপনি দিরার। তবে আপনি একা গিয়ে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। আপনার সাথে যে সব মুসলমান যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে, তাদেরকে সাথে নিয়ে যান।
হযরত দিরার তড়িঘড়ি প্রস্তুত হয়ে গেলেন। হযরত খালিদ বললেন, একটু অপেক্ষা করুন, যাতে সৈন্যরা সবাই আপনার নিকটে এসে উপস্থিত হতে পারে। দিরার বললেন, আমি দেরী করব না। যাকে আল্লাহ জিহাদের জন্য কবুল করবেন, সে আমার কাছে এসে পৌঁছবে। অতঃপর দিরার বাহনে সওয়ার হয়ে দ্রুত চলতে লাগলেন। চলতে চলতে তিনি বাইত লাহয়া নামক স্থানে এসে পৌঁছেন। এ জায়গায় মূর্তি তৈরী করা হত। তিনি সেখানে এসে থামলেন। কিছুক্ষণ পর তার সাথীরা সবাই এসে পৌঁছল।
📄 রোমান সৈন্যদের আগমন ও হযরত দিরারের সাহসী উচ্চারণ
সবাই উপস্থিত হওয়ার পর হযরত দিরার সামনের দিকে তাকালেন। দেখলেন, রোম বাহিনী বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের ন্যায় ধেয়ে আসছে। তারা সবাই বর্ম পরিহিত। সূর্যের আলোতে তাদের যুদ্ধাস্ত্র গুলো ঝলমল করছে। সাহাবীরা তাদেরকে দেখে হযরত দিরারকে বললেন, আল্লাহর কসম! এটা এক বিশাল বাহিনী। তাই এখন আমাদের উচিৎ হবে ফিরে যাওয়া। তাদের কাপুরুষোচিত কথার উত্তরে হযরত দিরার বললেন- "আমি আল্লাহর রাস্তায় আমার তরবারী চালাতে থাকব এবং তার অনুসরণ করব যে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে। আল্লাহ আমাকে পরাজিত হওয়া ও পলায়ন করা থেকে রক্ষা করবেন। কারণ, তিনি বলেছেন, তোমরা পলায়ন করো না। যে সেদিন যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন বা কোন দলের সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া পলায়ন করবে, সে আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হল।”
📄 রাফে বিন উমাইরার ভাষণ
দিরারের কথা শেষ হলে রাফে বিন উমাইরা আততাঈ দাঁড়িয়ে বললেন- "ওহে লোকজন! এ বন্য মোটা গাধাদের কেন ভয় করছেন? আল্লাহ কি আপনাদেরকে অনেক রণাঙ্গনে সাহায্য করেননি? সাহায্য ধৈর্যের উপর নির্ভরশীল। আমাদের বাহিনীতো বড় ছোট অনেক দলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে। অতএব, মুমিন পুরুষদের অনুসরণ করুন এবং আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করুন। জালুতের সাথে যুদ্ধের সময় তালুতের বাহিনী যে কথা বলেছিল, আপনারা সে কথার পুনরাবৃত্তি করুন। তারা বলেছিল, হে আল্লাহ! আমাদেরকে ধৈর্য ধরার শক্তি দিন ও দৃঢ়পদ রাখুন। আর আমাদেরকে কাফিরের দলের উপর বিজয় দান করুন"।
হযরত দিরার তাদের একথা শুনলেন এবং জানতে পারলেন যে তারা দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাতকে ক্রয় করে নিয়েছে। তখন তিনি তার লোকজনকে বাইত লাহয়ায় লুকিয়ে যেতে বললেন এবং নিজে পাজামা পরে খোলা গায়ে ও অস্ত্র ছাড়া একটি আরবী ঘোড়ায় সওয়ার হলেন। হাতে ছিল একটি লাঠি। এ অবস্থায় তিনি তার সাথীদের উপদেশ দিচ্ছিলেন।