📄 দামেস্কবাসীর প্রতিরোধ
হযরত শাদ্দাদ বিন আউস বলেন, হযরত খালিদ কালুস ও আযাযীরকে হত্যা করার পর মুসলমানদের দামেস্কে ঢুকে পড়ার নির্দেশ দেন। তখন আমাদের কিছু লোক পাথর ও তীর নিয়ে তাদের দিকে অগ্রসর হয়। আমাদেরকে দেখে দামেস্কেবাসী দেওয়ালের উপর থেকে আমাদের দিকে তীর ও পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। আমরা তাদেরকে অবরোধ করে রাখলাম। এতে তারা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয় করল। আমরা তাদেরকে বিশ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখলাম।
📄 অবরুদ্ধ দামেস্কবাসীর সাথে যুদ্ধ
বিশদিন পর নাবী বিন মুররা খবর নিয়ে আসল, রোম সৈন্যরা আজনাদীনে উপস্থিত হয়েছে এবং তাদের সংখ্যা বিপুল। তখন হযরত খালিদ জাবিয়া নগরীর দিকে রওয়ানা হলেন। উদ্দেশ্য ছিল, সেখানে অবস্থানরত হযরত আবু উবাইদাকে আজনাদীনে রোমানদের উপস্থিতির খবর দেওয়া এবং তাদের মোকাবেলায় কি করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ করা। তিনি গিয়ে বললেন- "ওহে আমীনুল উম্মাহ আপনার দামেস্ক থেকে আজনাদীনের দিকে চলে যাওয়া ভাল মনে করছি। আমরা সেখানে গিয়ে রোমানদের মোকাবেলা করব। যখন আল্লাহ আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করবেন, তখন আমরা এদের সাথে লড়াই করার জন্য ফিরে আসব।"
হযরত আবু উবাইদা রা. বললেন, এ সিদ্ধান্ত ঠিক নয়। হযরত খালিদ বললেন, কেন? হযরত আবু উবাইদা বললেন, আমরা যখন আজনাদীনের দিকে চলে যাব, তখন দামেস্কের লোকেরা বের হয়ে আমাদের দখলে আনা স্থানগুলো অধিকার করে নেবে।
📄 রোমানদের মোকাবেলায় হযরত দিরারকে প্রেরণ
হযরত আবু উবায়দা একথা বলার পর হযরত খালিদ বললেন, ওহে আমীনুল উম্মাহ! আমি তাহলে এমন একজন লোককে পাঠাব, যিনি মৃত্যুকে ভয় করেন না। যুদ্ধের ব্যাপারে তিনি খুব পারদর্শী। তার বাপ ও দাদা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বললেন, ওহে আবু সুলাইমান! তিনি কে? বললেন, তিনি দিরার বিন আযূর বিন তারিক।
হযরত আবু উবায়দা রা. বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি যথার্থ ব্যাক্তি নির্বাচন করেছেন এবং একজন প্রসিদ্ধ ত্যাগী ব্যক্তির কথা বলেছেন। অতএব, তাই করুন।
এ কথা শুনে হযরত খালিদ গিয়ে দিরার বিন আযুরকে তলব করলেন। তিনি এসে সালাম করলেন। হযরত খালিদ তাকে বললেন- "ওহে আযূরের ছেলে! আমি আপনাকে এমন পাঁচ হাজার লোকের আমীর বানাতে চাচ্ছি, যারা আল্লাহর কাছে নিজেদের প্রাণ বিক্রি করে দিয়েছে এবং দুনিয়ার উপর আখিরাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং যে সব লোক আমাদের বিরুদ্ধে অভিযানে এসেছে তাদের দিকে রওয়ানা হতে চাচ্ছে। যদি আপনি তাদেরকে পরাজিত করার সম্ভাবনা দেখেন, তাহলে তাদের সাথে লড়াই করবেন। আর যদি মনে করেন যে, আপনি তাদের মোকাবেলা করার শক্তি রাখেন না, তাহলে আপনার পক্ষ থেকে আমাদের নিকট একজন দূত পাঠাবেন।”
📄 জিহাদপাগল হযরত দিরারের আনন্দ
এ কথা শুনে হযরত দিরার বললেন- "উহ! কি আনন্দ! আল্লাহর কসম হে ইবনে ওয়ালীদ! আমার অন্তরকে অন্য কোন বস্তু এ প্রস্তাবের চেয়ে অধিক আনন্দ দিতে পারেনি। আপনি অনুমতি দিন, আমি একাই তাদের সাথে লড়াই করার জন্য চলে যাই।”
হযরত খালিদ বললেন, আমি জানি যে আপনি দিরার। তবে আপনি একা গিয়ে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। আপনার সাথে যে সব মুসলমান যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে, তাদেরকে সাথে নিয়ে যান।
হযরত দিরার তড়িঘড়ি প্রস্তুত হয়ে গেলেন। হযরত খালিদ বললেন, একটু অপেক্ষা করুন, যাতে সৈন্যরা সবাই আপনার নিকটে এসে উপস্থিত হতে পারে। দিরার বললেন, আমি দেরী করব না। যাকে আল্লাহ জিহাদের জন্য কবুল করবেন, সে আমার কাছে এসে পৌঁছবে। অতঃপর দিরার বাহনে সওয়ার হয়ে দ্রুত চলতে লাগলেন। চলতে চলতে তিনি বাইত লাহয়া নামক স্থানে এসে পৌঁছেন। এ জায়গায় মূর্তি তৈরী করা হত। তিনি সেখানে এসে থামলেন। কিছুক্ষণ পর তার সাথীরা সবাই এসে পৌঁছল।