📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমদের পারস্পরিক বিরোধ ও লটারীকরণ

📄 রোমদের পারস্পরিক বিরোধ ও লটারীকরণ


তখন আযাযীর কালুসের কাছে গিয়ে বলল, সম্রাট না আপনাকে সেনাপতি বানিয়ে আরবদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য পাঠিয়েছেন! অতএব, গিয়ে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করুন। তখন কালুস বলল, এ ব্যাপারে আপনার দায়িত্ব আমার চেয়ে বেশী। কারণ, আপনি আমার চেয়ে অধিক অগ্রগামী। আর আপনি তো সম্রাটের নির্দেশ ছাড়া দামেস্কে ছেড়ে চলে না যাবার জন্য সংকল্পবদ্ধ। অতএব, আপনি কেন আরবদের সাথে লড়াই করতে যাচ্ছেন না? এদের বাক বিতণ্ডা দেখে সৈন্যরা বলল, তাহলে আপনারা উভয়ে লটারী দিন। লটারীতে যার নাম আসবে সেই প্রথমে আরবদের সেনাপতির সাথে লড়াই করতে যাবে। কালুস বলল, না বরং আমরা সকলেই হামলা করব। এটা আমাদের জন্য বেশী ফলদায়ক হবে। অন্যদিকে কালুস তার এ দুর্বলতার খবর সম্রাটের কাছে পৌছে যাবার ভয় করছিল। যার ফলে সম্রাট তাকে বিতাড়িত বা হত্যা করতে পারে। তাই সে লটারী করাতে রাজী হল। লটারীতে নাম আসল কালুসের। তখন আযাযীর বলল, যান এখন আপনার বীরত্বের প্রকাশ ঘটান।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 সন্ত্রস্ত রোম সেনাপতির কথা

📄 সন্ত্রস্ত রোম সেনাপতির কথা


তখন কালুস তার সৈন্যদের বলল, আমি তোমাদের উপর সাহস করে যাচ্ছি। যখন তোমরা আমাকে পরাজিত হতে দেখবে, তখন আমাকে মুক্ত করে আনবে। তার সৈন্যরা বলল, এটা দুর্বল লোকের কথা। এ রকম লোক সফলকাম হতে পারে না। কালুস বলল, আরবদের সেনাপতি একজন বেদুঈন এবং তার ভাষা ও আমার ভাষা ভিন্ন। তখন জারজিস নামীয় এক লোক বলল, আমি আপনার জন্য তার ভাষা অনুবাদ করে দেব। তখন কালুস লোকটিকে নিয়ে ময়দানে গেল। যাওয়ার সময় কালুস জারজিসকে বলল, লোকটি খুব সাহসী। তাই যখন তুমি আমাকে পরাজিত হতে দেখবে, তখন তার উপর হামলা করবে। আর এতে করে আজকের মত আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। আর আগামীকাল আযাযীর তার সাথে মোকাবেলা করতে গেলে নিহত হবে এবং আমরা তার থেকে নিস্কৃতি পাব অতঃপর আমি তোমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করব। জারজিস বলল, আমি যোদ্ধা নই, তবে আমি তাকে কথা বার্তার মাধ্যমে ভয় দেখাতে পারি। এ কথা বলার পর কালুস আর কিছু বলল না এবং উভয়ে চলতে লাগল। চলতে চলতে তারা যখন হযরত খালিদের নিকটবর্তী হল, তখন তিনি তাদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন। এ সময় হযরত রাফে বিন উমাইরা তাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য যেতে চাইলেন। হযরত খালিদ তাকে ডেকে বললেন, তুমি তোমার জায়গায় থাক। এদের জন্য আমিই যথেষ্ট। কালুস ও জারজিস যখন হযরত খালিদের কাছে এসে পৌঁছল, তখন কালুস জারজিসকে বলল, তুমি তাকে তোমার পরিচয় দেবে ও যা বলতে চাও তা বলবে এবং আমাদের শক্তি সামর্থের কথা বলে তাকে ভয় দেখাবে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমানদের বাকযুদ্ধের আশ্রয় গ্রহণ

📄 রোমানদের বাকযুদ্ধের আশ্রয় গ্রহণ


এরপর জারজিস হযরত খালিদের কাছে এসে বলল, ওহে আমার আরব ভাই! আমি আপনার কাছে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করতে চাই। আমরা ও আপনাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে সে লোকের ন্যায় যার কিছু ছাগল আছে এবং সেগুলোকে তিনি একজন রাখালকে চরাতে দিলেন। রাখাল হিংস্র প্রাণীদের ভয় করত। এদিকে একটি বিরাট হিংস্র প্রাণী এসে প্রতি রাতে একটি করে ছাগল নিয়ে যেত। এক সময় যখন সব ছাগল শেষ হয়ে গেল, তখন হিংস্র প্রাণীটি রাখালের উপর হানা দিল। রাখাল নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হল না। ছাগলের মালিক যখন তার ছাগলের অবস্থা জানলেন, তখন বুঝতে পারলেন তার ছাগল রাখালের কারণেই খোয়া গেছে। তখন তিনি একজন চালাক বালককে তার ছাগল চরানোর জন্য নিয়োগ করলেন এবং ছাগল দিয়ে তাকে চরানোর জন্য পাঠালেন। প্রতি রাত্রে ছাগলের চতুস্পার্শে খুব তুফান বয়ে যেত। এ রকম অবস্থায় বালকটি হঠাৎ দেখতে পেল, হিংস্র প্রাণীটি তার পূর্বের অভ্যাস মত এসে ছাগলের উপর হানা দেয়। তখন বালকটি হিংস্র প্রাণীটির উপর আঘাত হানল এবং তার হাতের কাস্তে দিয়ে আঘাত করে প্রাণীটিকে হত্যা করে ফেলল। এরপর কোন হিংস্র প্রাণী আর ছাগলের কাছে আসেনি। অনুরূপ আপনারা (আরবরা)ও। আমরা আপনাদেরকে তুচ্ছ মনে করতাম। কারণ, আপনাদের মত দুর্বল জনগোষ্ঠী পৃথিবীতে আর ছিল না। আপনারা ভুখা, অসহায় ও দুর্বল ছিলেন এবং ভুট্টা ও যব খাওয়া ও খেজুরের বীচি চোষনে অভ্যস্ত ছিলেন। অতঃপর আপনারা ঐ বাঘের ন্যায় আমাদের দেশে আগমন করলেন এবং যা করার তা করলেন। এখন সম্রাট এমন কিছু সৈন্য পাঠিয়েছেন, যাদের তুলনা হয় না এবং বীরত্বে তাদের কোন জুড়ি নেই। বিশেষ করে আমার পাশে যে লোকটি রয়েছেন, তিনি। অতএব বালক যেমন হিংস্র বাঘের উপর হামলা করে হত্যা করেছেন, ইনিও আপনাকে সে রকম হত্যা করার ভয় করুন। ইনি আমার কাছে আবেদন করেছেন, যাতে আমি এসে আপনার সাথে কথা বলে আপনাকে সতর্ক করি। অতএব, এ বীর আপনার উপর হামলা করার আগে আমাকে বলুন আপনি কী চাচ্ছেন?

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের সাহসী উত্তর

📄 হযরত খালিদের সাহসী উত্তর


হযরত খালিদ তার কথা শুনে বললেন, ওহে আল্লাহর শত্রু! আল্লাহর কসম! আমরা তোমাদেরকে কেবল জাল দিয়ে শিকার করা পাখির মতই মনে করি। আর তুমি আমাদের দেশকে দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার দেশ বলে যে অভিযোগ করেছ, তা ঠিক। তবে আল্লাহ তায়ালা ভুট্টার পরিবর্তে আমাদেরকে গম, ফল-মূল, ঘি ও মধু দান করেছেন। এসব কিছুকে আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাঁর নবীর জবানে আমাদেরকে তা দান করার ওয়াদা করেছেন। আর তুমি যে বললে আমরা তোমাদের কাছে কী চাচ্ছি, তার জবাবে বলতে চাই, আমরা তোমাদের কাছে তিন বিষয়ের যে কোন একটি কামনা করি। তা হচ্ছে, (১) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা বা (২) আমাদেরকে জিযয়া প্রদান করা (৩) নতুবা যুদ্ধ। আর তুমি যে বলেছ এ লোকটি তোমাদের অনেক বড় নেতা ও বীর। ও আমাদের কাছে অনুল্লেখযোগ্য। সে যদি তোমাদের রাজ্যের একটি খুঁটি হয়, তবে আমি ইসলামের খুঁটি এবং তার মহান বীর ও রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px