📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শুরু হল যুদ্ধ

📄 শুরু হল যুদ্ধ


রিফাআ বিন মুসলিম বলেন, হযরত খালিদ যখন দাইয়িরে খালিদে পৌঁছেন, তখন আমি তার সাথে ছিলাম। আমরা ওখানে পৌঁছার পরপরই শত্রুরা আমাদের উপর পঙ্গ পালের ন্যায় ঝাপিয়ে পড়ল। হযরত খালিদ তাদেরকে আমাদের দিকে আসতে দেখে বর্ম পরিধান করে নিলেন এবং মুসলমানদের ডাক দিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন-

"আজকের মত দিন আর আসবে না। এ শত্রুরা তাদের অশ্বপাল নিয়ে আমাদের উপর হামলা করতে আসছে। আপনারা জিহাদের জন্য প্রস্তুত হোন। আল্লাহকে সাহায্য করুন, তাহলে তিনিও আপনাদেরকে সাহায্য করবেন। সে সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত হোন, যারা নিজেদের প্রাণকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন আপনাদের কাছে আবু উবাইদার নেতৃত্বে আপনাদের ভাইয়েরা এসে পৌঁছেছে।”

অতঃপর হযরত খালিদ আগত সৈন্যদের স্বাগতম জানালেন এবং হুংকার ছাড়লেন। তার হুংকার রোম সৈন্যদের ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলল। হযরত শুরাহবীল, আবদুর রহমান বিন আবু বকর ও দিরার বিন আযূর মুশরিক রোমানদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। হযরত দিরার প্রথমে হামলা করে তাদের ডানদিক থেকে পাঁচজন ও বামদিক থেকে পাঁচজন শত্রু হত্যা করলেন। আবার হামলা করে শত্রুদের আরো ছয়জন খতম করলেন। পরে তিনি শত্রুদের তীর বৃষ্টির কারণে ফিরে আসেন। ফিরে আসলে হযরত খালিদ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকর কে বললেন, গিয়ে শত্রুদের উপর হামলা করুন। আল্লাহ আপনার উপর বরকত নাযিল করুন। আবদুর রহমান শত্রুদের উপর হযরত দিরারের মত ঝাপিয়ে পড়লেন এবং বীর বিক্রমে যুদ্ধ করলেন। এরপর হযরত খালিদ গিয়ে শত্রুদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং বর্শা দ্বারা তাদের উপর আঘাত করতে লাগলেন। রোম সৈন্যরা হযরত খালিদের যুদ্ধপটুতা ও সাহস দেখে বিমূঢ় হয়ে গেল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত খালিদের বীরত্ব ও রোমানদের পশ্চাদপসরণ

📄 হযরত খালিদের বীরত্ব ও রোমানদের পশ্চাদপসরণ


হযরত খালিদের দিকে যখন কালুস তাকাল, তখন বুঝতে পারল যে তিনি সেনাপতি। আর দেখল যে, তিনি তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সে হযরত খালিদের ভয়ে পেছনে চলে গেল। হযরত খালিদ যখন দেখলেন কালুস পেছনের দিকে চলে যাচ্ছে, তখন তিনি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন অন্যান্য রোম সৈন্যরা হযরত খালিদের উপর তীর নিক্ষেপ শুরু করল। হযরত খালিদ তাদের সম্মিলিত আক্রমণের কোন পরোয়া না করে একাই যুদ্ধ করে যেতে লাগলেন। বিশজন শত্রু খতম করার পর তিনি ফিরে আসলেন। অতঃপর ঘোড়ায় চড়ে আবার ময়দানে গেলেন এবং কাফের ও মুসলিম উভয় দলের মাঝখানে ঘুরতে লাগলেন ও কাফেরদেরকে তাঁর মোকাবেলায় আসার আহ্বান জানালেন। কিন্তু কেউ তার মোকাবেলা করতে আসেনি। তারা বলল, একে ছাড়া অন্য কাউকে পাঠাও। তখন হযরত খালিদ বললেন, ওহে আমি তো একজন আরব। আমাদের সবাই যুদ্ধে সমান। হযরত খালিদের কথা কাফেরদের কেউ বুঝল না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমদের পারস্পরিক বিরোধ ও লটারীকরণ

📄 রোমদের পারস্পরিক বিরোধ ও লটারীকরণ


তখন আযাযীর কালুসের কাছে গিয়ে বলল, সম্রাট না আপনাকে সেনাপতি বানিয়ে আরবদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য পাঠিয়েছেন! অতএব, গিয়ে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করুন। তখন কালুস বলল, এ ব্যাপারে আপনার দায়িত্ব আমার চেয়ে বেশী। কারণ, আপনি আমার চেয়ে অধিক অগ্রগামী। আর আপনি তো সম্রাটের নির্দেশ ছাড়া দামেস্কে ছেড়ে চলে না যাবার জন্য সংকল্পবদ্ধ। অতএব, আপনি কেন আরবদের সাথে লড়াই করতে যাচ্ছেন না? এদের বাক বিতণ্ডা দেখে সৈন্যরা বলল, তাহলে আপনারা উভয়ে লটারী দিন। লটারীতে যার নাম আসবে সেই প্রথমে আরবদের সেনাপতির সাথে লড়াই করতে যাবে। কালুস বলল, না বরং আমরা সকলেই হামলা করব। এটা আমাদের জন্য বেশী ফলদায়ক হবে। অন্যদিকে কালুস তার এ দুর্বলতার খবর সম্রাটের কাছে পৌছে যাবার ভয় করছিল। যার ফলে সম্রাট তাকে বিতাড়িত বা হত্যা করতে পারে। তাই সে লটারী করাতে রাজী হল। লটারীতে নাম আসল কালুসের। তখন আযাযীর বলল, যান এখন আপনার বীরত্বের প্রকাশ ঘটান।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 সন্ত্রস্ত রোম সেনাপতির কথা

📄 সন্ত্রস্ত রোম সেনাপতির কথা


তখন কালুস তার সৈন্যদের বলল, আমি তোমাদের উপর সাহস করে যাচ্ছি। যখন তোমরা আমাকে পরাজিত হতে দেখবে, তখন আমাকে মুক্ত করে আনবে। তার সৈন্যরা বলল, এটা দুর্বল লোকের কথা। এ রকম লোক সফলকাম হতে পারে না। কালুস বলল, আরবদের সেনাপতি একজন বেদুঈন এবং তার ভাষা ও আমার ভাষা ভিন্ন। তখন জারজিস নামীয় এক লোক বলল, আমি আপনার জন্য তার ভাষা অনুবাদ করে দেব। তখন কালুস লোকটিকে নিয়ে ময়দানে গেল। যাওয়ার সময় কালুস জারজিসকে বলল, লোকটি খুব সাহসী। তাই যখন তুমি আমাকে পরাজিত হতে দেখবে, তখন তার উপর হামলা করবে। আর এতে করে আজকের মত আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। আর আগামীকাল আযাযীর তার সাথে মোকাবেলা করতে গেলে নিহত হবে এবং আমরা তার থেকে নিস্কৃতি পাব অতঃপর আমি তোমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করব। জারজিস বলল, আমি যোদ্ধা নই, তবে আমি তাকে কথা বার্তার মাধ্যমে ভয় দেখাতে পারি। এ কথা বলার পর কালুস আর কিছু বলল না এবং উভয়ে চলতে লাগল। চলতে চলতে তারা যখন হযরত খালিদের নিকটবর্তী হল, তখন তিনি তাদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন। এ সময় হযরত রাফে বিন উমাইরা তাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য যেতে চাইলেন। হযরত খালিদ তাকে ডেকে বললেন, তুমি তোমার জায়গায় থাক। এদের জন্য আমিই যথেষ্ট। কালুস ও জারজিস যখন হযরত খালিদের কাছে এসে পৌঁছল, তখন কালুস জারজিসকে বলল, তুমি তাকে তোমার পরিচয় দেবে ও যা বলতে চাও তা বলবে এবং আমাদের শক্তি সামর্থের কথা বলে তাকে ভয় দেখাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px