📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোম সম্রাটের ব্যর্থ প্রচেষ্টা

📄 রোম সম্রাটের ব্যর্থ প্রচেষ্টা


হযরত খালিদের সিরিয়ার অন্যান্য অঞ্চল বিজয় ও দামেস্কে আগমনের খবর সম্রাট হিরোক্লিয়াসের নিকট পৌঁছে যায়। ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি সেনাকর্মকর্তাদের জমায়েত করলেন এবং বললেন-

"হে রোমান সম্প্রদায়! এ আরবরা আরাকা, তাদাম্মুর, সাখানা ও বসরাকে পদানত করেছে। এর পর তারা রাবওয়ায় গিয়ে তাকেও পদানত করে। আক্ষেপ! সিরিয়ার স্বর্গভূমি দেমেষ্কের জন্য। সম্রাট বললেন, আরবদের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের রাজ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তোমাদের কে প্রস্তুত আছ? যদি কেউ তাদের পরাজিত করতে পার তাহলে আমি তাকে আরবদের দখলকৃত রাজ্যগুলোর কর্তৃত্ব দিয়ে দিব"।

একথা শুনে কালুস বিন হিনা নামীয় এক সেনাপতি বলল, (যে অভিজ্ঞ ঘোড় সওয়ার ও রোম সৈন্যদের মাঝে বীরত্বের জন্য খ্যাত ছিল) মহামান্য সম্রাট! আমিই আপনার রাজ্যকে রক্ষা করব এবং আরবদেরকে পরাজিত করে দেশ ছাড়া করব। সম্রাট তার একথা শুনে তাকে একটি স্বর্ণের ক্রুশ প্রদান করে পাঁচ হাজার অশ্বারোহী সৈন্যের সেনাপতির দায়িত্ব অর্পণ করলেন। আর বললেন "ক্রুশ তোমার সামনে রাখবে। কারণ, ক্রুশ তোমাকে সাহায্য করবে।"

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোম সেনাপতির হিমসে যাত্রা বিরতি

📄 রোম সেনাপতির হিমসে যাত্রা বিরতি


ক্রুশ নিয়ে সেদিনই কালুস ইন্তাকিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে। চলতে চলতে হিমস পর্যন্ত এসে পৌঁছে। সেখানে এসে দেখল, লোকজন অস্ত্র নিয়ে সজ্জিত হয়ে আছে। হিমসবাসীর নিকট যখন কালুসের আগমন সংবাদ পৌঁছল, তখন তার সাথে দেখা করার জন্য সবাই বের হয়ে পড়ে। লোকজনের সাথে সাথে আলেম ও দরবেশগণও তার কাছে গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং তার বিজয়ের জন্য দোয়া করে। কালুস হিমসে একদিন একরাত অবস্থান করে। অতঃপর বা'লবাক শহরের দিকে রওয়ানা হয়। তাকে দেখে সেখানকার মহিলারা মুখ ঢেকে বের হয় এবং বলে, জনাব! আরবরা আরাকা, হাওরান ও বসরা পদানত করেছে। কালুস বলল, আরবরা হাওরান ও বসরা কিভাবে পদানত করল? জবাবে তারা বললো ঐ লোক যিনি ইরাক থেকে আগমন করেছেন, তিনিই আরাকা পদানত করেছেন। কালুস বলল তার নাম কি? মহিলারা বলল, খালিদ বিন ওয়ালীদ। কালুস বলল তার সৈন্য সংখ্যা কত হবে? মহিলারা বলল, দেড় হাজার অশ্বারোহী। কালুস বলল, মসীহের শপথ! অমি তার ঘাড়কে আমার তরবারীর মাথায় রাখব। অতঃপর সে (কালুস) রওয়ানা হল এবং কোথাও যাত্রা বিরতি না করে দেমেস্কে এসে পৌঁছলো।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 দামেস্কে রোম সেনাপতির সাথে গভর্নরের বিরোধ

📄 দামেস্কে রোম সেনাপতির সাথে গভর্নরের বিরোধ


রোম সম্রাটের পক্ষ থেকে দেমেস্কের যে গভর্ণর ছিল, তার নাম আযাযীর। কালুস যখন দেমেস্কে এসে পৌছলো তখন আযাযীর ও তার সৈন্যরা তার পাশে গিয়ে সমবেত হল এবং তাদের সামনে সম্রাটের বাণী পাঠ করা হল। অতঃপর কালুস বলল, আপনারা কি চান আমি আপনাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়ি এবং তাদেরকে আপনাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করি? তারা বলল হ্যাঁ। কালুস বলল, তাহলে আযাযীরকে আপনাদের কাছ থেকে বিতাড়িত করুন, যাতে যুদ্ধের নেতৃত্ব আমি একাই দিতে পারি। তারা বলল যে সময় শত্রু আমাদের দোর গোড়ায় এসে পৌঁছেছে সে সময় কিভাবে আমাদের নেতা আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারে? আযাযীর কালুসের মুখে এ কথা শুনে ক্রুদ্ধ হল। আর তারা এ সিদ্ধান্ত করল যে, তারা সবাই আরবদের সাথে দিনে যুদ্ধ করবে। এর ফলে কালুসের অন্তরে আযাযীরের প্রতি বিদ্বেষ তীব্র হল।

দামেস্কের সৈন্যরা জাবিয়ার দিক দিয়ে প্রতিদিন এক ফারসাখ [তিন মাইল] করে অতিক্রম করছিল। উদ্দেশ্য ছিল হযরত আবু উবাইদার অপেক্ষা করা। অন্যদিকে যে হযরত খালিদ ছানিইয়ার দিক দিয়ে তাদের নিকট পৌছে গেছেন, সে ব্যাপারটি তারা টের পায়নি।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শুরু হল যুদ্ধ

📄 শুরু হল যুদ্ধ


রিফাআ বিন মুসলিম বলেন, হযরত খালিদ যখন দাইয়িরে খালিদে পৌঁছেন, তখন আমি তার সাথে ছিলাম। আমরা ওখানে পৌঁছার পরপরই শত্রুরা আমাদের উপর পঙ্গ পালের ন্যায় ঝাপিয়ে পড়ল। হযরত খালিদ তাদেরকে আমাদের দিকে আসতে দেখে বর্ম পরিধান করে নিলেন এবং মুসলমানদের ডাক দিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন-

"আজকের মত দিন আর আসবে না। এ শত্রুরা তাদের অশ্বপাল নিয়ে আমাদের উপর হামলা করতে আসছে। আপনারা জিহাদের জন্য প্রস্তুত হোন। আল্লাহকে সাহায্য করুন, তাহলে তিনিও আপনাদেরকে সাহায্য করবেন। সে সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত হোন, যারা নিজেদের প্রাণকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন আপনাদের কাছে আবু উবাইদার নেতৃত্বে আপনাদের ভাইয়েরা এসে পৌঁছেছে।”

অতঃপর হযরত খালিদ আগত সৈন্যদের স্বাগতম জানালেন এবং হুংকার ছাড়লেন। তার হুংকার রোম সৈন্যদের ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলল। হযরত শুরাহবীল, আবদুর রহমান বিন আবু বকর ও দিরার বিন আযূর মুশরিক রোমানদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। হযরত দিরার প্রথমে হামলা করে তাদের ডানদিক থেকে পাঁচজন ও বামদিক থেকে পাঁচজন শত্রু হত্যা করলেন। আবার হামলা করে শত্রুদের আরো ছয়জন খতম করলেন। পরে তিনি শত্রুদের তীর বৃষ্টির কারণে ফিরে আসেন। ফিরে আসলে হযরত খালিদ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকর কে বললেন, গিয়ে শত্রুদের উপর হামলা করুন। আল্লাহ আপনার উপর বরকত নাযিল করুন। আবদুর রহমান শত্রুদের উপর হযরত দিরারের মত ঝাপিয়ে পড়লেন এবং বীর বিক্রমে যুদ্ধ করলেন। এরপর হযরত খালিদ গিয়ে শত্রুদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং বর্শা দ্বারা তাদের উপর আঘাত করতে লাগলেন। রোম সৈন্যরা হযরত খালিদের যুদ্ধপটুতা ও সাহস দেখে বিমূঢ় হয়ে গেল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px