📘 ফুতুহুশ শাম 📄 দামেস্কের পথে মুসলিম বাহিনী

📄 দামেস্কের পথে মুসলিম বাহিনী


হযরত খালিদ দামেস্কের দিকে রওয়ানা হয়ে যান। চলতে চলতে তিনি ছানিইয়া নামক একটি জায়গায় গিয়ে পৌঁছেন। গিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ থামলেন এবং পেছনের ঝান্ডাটিকে সেখানে গেঁথে দিলেন। ফলে তাকে "ছানিইয়াতুল ইকার" নামে নামকরণ করা হয়। অতঃপর সেখান থেকে দাইয়ির নামক স্থানে গিয়ে পৌঁছালেন (যা বর্তমানে দাইয়িরে খালিদ নামে পরিচিত)। মুসলমানদের আগমনের খবর পেয়ে দামেস্কের পার্শ্ববর্তী গ্রাম সমূহের লোকজন দামেস্কে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করল। ফলে দামেস্ক অসংখ্য পুরুষের নগরীতে পরিণত হয়। তাদের মধ্যে অশ্বারোহী ছিল মোট বার হাজার। তারা নগরীর দেয়ালগুলোকে ছোট বড় পতাকা ও ক্রুশ দিয়ে সাজিয়েও তুললো। হযরত খালিদ দাইয়িরে বসে হযরত আবু উবাইদার নেতৃত্বে মুসলমানদের আগমনের অপেক্ষা করতে লাগলেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোম সম্রাটের ব্যর্থ প্রচেষ্টা

📄 রোম সম্রাটের ব্যর্থ প্রচেষ্টা


হযরত খালিদের সিরিয়ার অন্যান্য অঞ্চল বিজয় ও দামেস্কে আগমনের খবর সম্রাট হিরোক্লিয়াসের নিকট পৌঁছে যায়। ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি সেনাকর্মকর্তাদের জমায়েত করলেন এবং বললেন-

"হে রোমান সম্প্রদায়! এ আরবরা আরাকা, তাদাম্মুর, সাখানা ও বসরাকে পদানত করেছে। এর পর তারা রাবওয়ায় গিয়ে তাকেও পদানত করে। আক্ষেপ! সিরিয়ার স্বর্গভূমি দেমেষ্কের জন্য। সম্রাট বললেন, আরবদের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের রাজ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তোমাদের কে প্রস্তুত আছ? যদি কেউ তাদের পরাজিত করতে পার তাহলে আমি তাকে আরবদের দখলকৃত রাজ্যগুলোর কর্তৃত্ব দিয়ে দিব"।

একথা শুনে কালুস বিন হিনা নামীয় এক সেনাপতি বলল, (যে অভিজ্ঞ ঘোড় সওয়ার ও রোম সৈন্যদের মাঝে বীরত্বের জন্য খ্যাত ছিল) মহামান্য সম্রাট! আমিই আপনার রাজ্যকে রক্ষা করব এবং আরবদেরকে পরাজিত করে দেশ ছাড়া করব। সম্রাট তার একথা শুনে তাকে একটি স্বর্ণের ক্রুশ প্রদান করে পাঁচ হাজার অশ্বারোহী সৈন্যের সেনাপতির দায়িত্ব অর্পণ করলেন। আর বললেন "ক্রুশ তোমার সামনে রাখবে। কারণ, ক্রুশ তোমাকে সাহায্য করবে।"

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোম সেনাপতির হিমসে যাত্রা বিরতি

📄 রোম সেনাপতির হিমসে যাত্রা বিরতি


ক্রুশ নিয়ে সেদিনই কালুস ইন্তাকিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে। চলতে চলতে হিমস পর্যন্ত এসে পৌঁছে। সেখানে এসে দেখল, লোকজন অস্ত্র নিয়ে সজ্জিত হয়ে আছে। হিমসবাসীর নিকট যখন কালুসের আগমন সংবাদ পৌঁছল, তখন তার সাথে দেখা করার জন্য সবাই বের হয়ে পড়ে। লোকজনের সাথে সাথে আলেম ও দরবেশগণও তার কাছে গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং তার বিজয়ের জন্য দোয়া করে। কালুস হিমসে একদিন একরাত অবস্থান করে। অতঃপর বা'লবাক শহরের দিকে রওয়ানা হয়। তাকে দেখে সেখানকার মহিলারা মুখ ঢেকে বের হয় এবং বলে, জনাব! আরবরা আরাকা, হাওরান ও বসরা পদানত করেছে। কালুস বলল, আরবরা হাওরান ও বসরা কিভাবে পদানত করল? জবাবে তারা বললো ঐ লোক যিনি ইরাক থেকে আগমন করেছেন, তিনিই আরাকা পদানত করেছেন। কালুস বলল তার নাম কি? মহিলারা বলল, খালিদ বিন ওয়ালীদ। কালুস বলল তার সৈন্য সংখ্যা কত হবে? মহিলারা বলল, দেড় হাজার অশ্বারোহী। কালুস বলল, মসীহের শপথ! অমি তার ঘাড়কে আমার তরবারীর মাথায় রাখব। অতঃপর সে (কালুস) রওয়ানা হল এবং কোথাও যাত্রা বিরতি না করে দেমেস্কে এসে পৌঁছলো।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 দামেস্কে রোম সেনাপতির সাথে গভর্নরের বিরোধ

📄 দামেস্কে রোম সেনাপতির সাথে গভর্নরের বিরোধ


রোম সম্রাটের পক্ষ থেকে দেমেস্কের যে গভর্ণর ছিল, তার নাম আযাযীর। কালুস যখন দেমেস্কে এসে পৌছলো তখন আযাযীর ও তার সৈন্যরা তার পাশে গিয়ে সমবেত হল এবং তাদের সামনে সম্রাটের বাণী পাঠ করা হল। অতঃপর কালুস বলল, আপনারা কি চান আমি আপনাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়ি এবং তাদেরকে আপনাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করি? তারা বলল হ্যাঁ। কালুস বলল, তাহলে আযাযীরকে আপনাদের কাছ থেকে বিতাড়িত করুন, যাতে যুদ্ধের নেতৃত্ব আমি একাই দিতে পারি। তারা বলল যে সময় শত্রু আমাদের দোর গোড়ায় এসে পৌঁছেছে সে সময় কিভাবে আমাদের নেতা আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারে? আযাযীর কালুসের মুখে এ কথা শুনে ক্রুদ্ধ হল। আর তারা এ সিদ্ধান্ত করল যে, তারা সবাই আরবদের সাথে দিনে যুদ্ধ করবে। এর ফলে কালুসের অন্তরে আযাযীরের প্রতি বিদ্বেষ তীব্র হল।

দামেস্কের সৈন্যরা জাবিয়ার দিক দিয়ে প্রতিদিন এক ফারসাখ [তিন মাইল] করে অতিক্রম করছিল। উদ্দেশ্য ছিল হযরত আবু উবাইদার অপেক্ষা করা। অন্যদিকে যে হযরত খালিদ ছানিইয়ার দিক দিয়ে তাদের নিকট পৌছে গেছেন, সে ব্যাপারটি তারা টের পায়নি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px