📘 ফুতুহুশ শাম 📄 স্বপ্ন দেখে রুমাস পত্নীর ইসলাম গ্রহণ

📄 স্বপ্ন দেখে রুমাস পত্নীর ইসলাম গ্রহণ


হযরত খালিদ বসরা ত্যাগ করার সময় কিছু লোককে নগরী থেকে রুমাসের মাল সামানা ও বাহন ইত্যাদি নিয়ে আসার জন্য তার সহায়তা করার নির্দেশ দিলেন। তারা যখন রুমাসের প্রাসাদে প্রবেশ করল, তখন দেখতে পেল যে, রুমাসের স্ত্রী রুমাস থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ কামনা করছে। তখন মুসলমানরা বলল, আপনি কী চাচ্ছেন? তিনি বললেন, আমি আপনাদের সেনাপতিকে চাচ্ছি যাতে তিনি আমাদের বিরোধ মীমাংসা করে দেন। তখন তারা তাকে হযরত খালিদের নিকট নিয়ে আসে। হযরত খালিদের কাছে এসে তিনি বললেন, আমি রুমাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আপনার সাহায্য কামনা করছি। হযরত খালিদ বললেন কেন? বললেন, আমি গত রাত্রে ঘুমে এক ব্যক্তিকে দেখতে পাই, যার মত সুন্দর মুখমন্ডলের লোক আমি আর দেখিনি। পূর্ণিমার চাঁদ যেন তার চেহোরায় ঝলমল করছে। তখন আমি তাকে বললাম, আপনি কে জনাব? তিনি বললেন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। অতঃপর তিনি আমাকে ইসলাম গ্রহণ করতে বললেন। ফলে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। অতঃপর তিনি আমাকে কুরআনের দু'টি সূরা শিখিয়ে দেন। দোভাষী হযরত খালেদকে তার স্বপ্ন বৃত্তান্তটা শোনান। হযরত খালিদ বললেন, অবাক করা ব্যাপার তো! অতঃপর দোভাষীকে বললেন, সুরা দু'টি তাকে পড়তে বল। দোভাষী বলার পর তিনি হযরত খালিদকে সূরা ফাতিহা ও সূরা ইখলাস পড়ে শোনালেন। অতঃপর হযরত খালিদের হাতে নতুন ভাবে ইসলামে দীক্ষিত হলেন এবং বলেন, ওহে আমীর সাহেব! হয়তো রুমাস ইসলাম গ্রহণ করবে, নতুবা আমি তাকে ত্যাগ করে মুসলমানদের সাথে চলে যাব। তার কথা শুনে হযরত খালিদ হেসে উঠলেন এবং বললেন, পবিত্র সে সত্তা, যিনি আমাদের সবাইকে সাহায্য করেছেন। অতঃপর দোভাষীকে বললেন, তাকে বল যে, রুমাস তার পুর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। একথা শুনে তিনি খুব আনন্দিত হলেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমানদের জিযয়া প্রদানের স্বীকারোক্তি

📄 রোমানদের জিযয়া প্রদানের স্বীকারোক্তি


অতঃপর হযরত খালিদ বসরাবাসীকে উপস্থিত করে তাদের কাছ থেকে জিযয়া আদায়ের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করলেন এবং একজনকে তাদের উপর শাসক হিসেবে নিয়োগ দিলেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 সু সংবাদ জানিয়ে হযরত খালিদের পত্র

📄 সু সংবাদ জানিয়ে হযরত খালিদের পত্র


অতঃপর হযরত আবু উবাইদার নিকট বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করে একটি পত্র লিখলেন এবং বললেন, ওহে আল্লাহর রাসুলের সাহাবী, আমরা দামেস্কের দিকে রওয়ানা হয়েছি। আপনিও আমাদের সাথে গিয়ে মিলিত হোন। এর পর তাঁরা দামেস্কের যাত্রার সংবাদ জানিয়ে হযরত আবু বকর রা.- এর নিকট একটি পত্র লিখেন। তাতে উল্লেখ করেন, যে দিন আমি আপনার নিকট এ পত্রটি লিখে পাঠাচ্ছি, সে দিনেই আমি দামেস্কের দিকে রওয়ানা হয়েছি। অতঃপর আমাদের বিজয়ের জন্য দোয়া করবেন। আপনি ও আপনার সাথে যারা রয়েছে তাদের প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর উভয় পত্র দুজন সৈনিককে দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 দামেস্কের পথে মুসলিম বাহিনী

📄 দামেস্কের পথে মুসলিম বাহিনী


হযরত খালিদ দামেস্কের দিকে রওয়ানা হয়ে যান। চলতে চলতে তিনি ছানিইয়া নামক একটি জায়গায় গিয়ে পৌঁছেন। গিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ থামলেন এবং পেছনের ঝান্ডাটিকে সেখানে গেঁথে দিলেন। ফলে তাকে "ছানিইয়াতুল ইকার" নামে নামকরণ করা হয়। অতঃপর সেখান থেকে দাইয়ির নামক স্থানে গিয়ে পৌঁছালেন (যা বর্তমানে দাইয়িরে খালিদ নামে পরিচিত)। মুসলমানদের আগমনের খবর পেয়ে দামেস্কের পার্শ্ববর্তী গ্রাম সমূহের লোকজন দামেস্কে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করল। ফলে দামেস্ক অসংখ্য পুরুষের নগরীতে পরিণত হয়। তাদের মধ্যে অশ্বারোহী ছিল মোট বার হাজার। তারা নগরীর দেয়ালগুলোকে ছোট বড় পতাকা ও ক্রুশ দিয়ে সাজিয়েও তুললো। হযরত খালিদ দাইয়িরে বসে হযরত আবু উবাইদার নেতৃত্বে মুসলমানদের আগমনের অপেক্ষা করতে লাগলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px