📄 রোমানদের আত্মসমর্পণ
বসরাবাসী যখন দেখতে পেল তাদের দূর্গের দরজা সমূহ দিয়ে মুসলমানরা তরবারী নিয়ে প্রবেশ করছে, তখন সবাই চিৎকার দিয়ে বলল, আল আমান, আল আমান, নিরাপত্তা, নিরাপত্তা। তখন হযরত খালিদ বললেন, এদের উপর তরবারীর আঘাত বন্ধ কর। সকাল হলে বসরাবাসী হযরত খালিদের কাছে এসে বলল, আমরা যদি আপনার সাথে সন্ধি করতাম তাহলে এ ঘটনা ঘটত না। তবে আমরা আপনাকে যে সত্তা সাহায্য করছেন, তার ওসীলায় আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি আমাদের নগরীর দরজা সমূহ আপনাকে কে খুলে দিয়েছে? হযরত খালিদ বলতে লজ্জাবোধ করলেন। রুমাস দৌড়ে এসে বললেন - “ওহে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের শত্রুরা! দরজা আমি খুলে দিয়েছি। আর আমি তা করেছি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও তোমাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য"। তারা বলল, আপনি আমাদের লোক না? তখন রুমাস বলল - اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْنِي مِنْهُمْ, رَضِيتُ بِالله رَبَّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِالْكَعْبَةِ ..... “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এদের অন্তর্ভুক্ত করো না। আমি আল্লাহকে রব হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে, কাবাকে কিবলা হিসাবে ও কুরআনকে পথ প্রদর্শক হিসাবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই ও মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসুল"।
তার প্রকাশ্য ইসলামের ঘোষণা শুনে হযরত খালিদ খুশি হলেন। বসরাবাসী তার একথা শুনে ক্ষুদ্ধ হল এবং মনে মনে তাকে হত্যা করার সংকল্প করল। রুমাস এটা টের পান। তাই তিনি হযরত খালিদকে বললেন, আমি এদের সাথে থাকতে চাই না। আপনি যেখানে যাবেন, আমি সেখানে চলে যেতে চাই। পরে যখন আপনি সিরিয়া বিজয় করবেন এবং সেখানে আপনাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন আমাকে বসরার শাসন ক্ষমতা ফিরিয়ে দিবেন।
মা'মার বিন সালিম তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রুমাস আমাদের সাথে খুব আন্তরিকতার সাথে যুদ্ধ করেন। অতঃপর যখন আমরা সিরিয়া বিজয় করলাম, তখন হযরত আবু উবাইদা হযরত উমর রা. এর নিকট তাঁর ব্যাপারে পত্র যোগাযোগ করেন। ফলে উমর রা. তাকে বসরার শাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু অল্প দিন পরই তাঁর ইন্তিকাল হয়।
📄 স্বপ্ন দেখে রুমাস পত্নীর ইসলাম গ্রহণ
হযরত খালিদ বসরা ত্যাগ করার সময় কিছু লোককে নগরী থেকে রুমাসের মাল সামানা ও বাহন ইত্যাদি নিয়ে আসার জন্য তার সহায়তা করার নির্দেশ দিলেন। তারা যখন রুমাসের প্রাসাদে প্রবেশ করল, তখন দেখতে পেল যে, রুমাসের স্ত্রী রুমাস থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ কামনা করছে। তখন মুসলমানরা বলল, আপনি কী চাচ্ছেন? তিনি বললেন, আমি আপনাদের সেনাপতিকে চাচ্ছি যাতে তিনি আমাদের বিরোধ মীমাংসা করে দেন। তখন তারা তাকে হযরত খালিদের নিকট নিয়ে আসে। হযরত খালিদের কাছে এসে তিনি বললেন, আমি রুমাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আপনার সাহায্য কামনা করছি। হযরত খালিদ বললেন কেন? বললেন, আমি গত রাত্রে ঘুমে এক ব্যক্তিকে দেখতে পাই, যার মত সুন্দর মুখমন্ডলের লোক আমি আর দেখিনি। পূর্ণিমার চাঁদ যেন তার চেহোরায় ঝলমল করছে। তখন আমি তাকে বললাম, আপনি কে জনাব? তিনি বললেন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। অতঃপর তিনি আমাকে ইসলাম গ্রহণ করতে বললেন। ফলে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। অতঃপর তিনি আমাকে কুরআনের দু'টি সূরা শিখিয়ে দেন। দোভাষী হযরত খালেদকে তার স্বপ্ন বৃত্তান্তটা শোনান। হযরত খালিদ বললেন, অবাক করা ব্যাপার তো! অতঃপর দোভাষীকে বললেন, সুরা দু'টি তাকে পড়তে বল। দোভাষী বলার পর তিনি হযরত খালিদকে সূরা ফাতিহা ও সূরা ইখলাস পড়ে শোনালেন। অতঃপর হযরত খালিদের হাতে নতুন ভাবে ইসলামে দীক্ষিত হলেন এবং বলেন, ওহে আমীর সাহেব! হয়তো রুমাস ইসলাম গ্রহণ করবে, নতুবা আমি তাকে ত্যাগ করে মুসলমানদের সাথে চলে যাব। তার কথা শুনে হযরত খালিদ হেসে উঠলেন এবং বললেন, পবিত্র সে সত্তা, যিনি আমাদের সবাইকে সাহায্য করেছেন। অতঃপর দোভাষীকে বললেন, তাকে বল যে, রুমাস তার পুর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। একথা শুনে তিনি খুব আনন্দিত হলেন।
📄 রোমানদের জিযয়া প্রদানের স্বীকারোক্তি
অতঃপর হযরত খালিদ বসরাবাসীকে উপস্থিত করে তাদের কাছ থেকে জিযয়া আদায়ের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করলেন এবং একজনকে তাদের উপর শাসক হিসেবে নিয়োগ দিলেন।
📄 সু সংবাদ জানিয়ে হযরত খালিদের পত্র
অতঃপর হযরত আবু উবাইদার নিকট বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করে একটি পত্র লিখলেন এবং বললেন, ওহে আল্লাহর রাসুলের সাহাবী, আমরা দামেস্কের দিকে রওয়ানা হয়েছি। আপনিও আমাদের সাথে গিয়ে মিলিত হোন। এর পর তাঁরা দামেস্কের যাত্রার সংবাদ জানিয়ে হযরত আবু বকর রা.- এর নিকট একটি পত্র লিখেন। তাতে উল্লেখ করেন, যে দিন আমি আপনার নিকট এ পত্রটি লিখে পাঠাচ্ছি, সে দিনেই আমি দামেস্কের দিকে রওয়ানা হয়েছি। অতঃপর আমাদের বিজয়ের জন্য দোয়া করবেন। আপনি ও আপনার সাথে যারা রয়েছে তাদের প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর উভয় পত্র দুজন সৈনিককে দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।