📄 কবুল হল দু’আ
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ يَا بَدِيعَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، اللهُمَّ انصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ “হে চিরঞ্জীব! হে অবিনশ্বর সত্তা! হে আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা! হে মহত্ব ও সম্মানিত আল্লাহ! আমাদেরকে কাফিরের উপর সাহায্য করুন"। আবদুল্লাহ বিন আদী বলেন, শুরাহবিল তার দোয়া শেষ করতে না করতেই মহান শক্তিধর আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য চলে আসে। হঠাৎ দেখা গেল, হাওরানের দিক থেকে ইসলামের ঝান্ডা নিয়ে মুসলিম বীরগণ আগমন করছেন। তাদের মধ্য থেকে দু'জন অশ্বারোহী চিৎকার ও হুংকার দিয়ে আমাদের কাছে আগে চলে আসেন। একজন এসে বলেন- يا شرحبيل بن حسنة أبشر النصر لدিন الله، أنا الفارس الصنديد والبطل المجيد أنا خالد بن الوليد. "হে শুরাহবীল বিন হাসানা! আল্লার দ্বীনের জন্য সাহায্যের সুসংবাদ গ্রহণ কর। আমি মজবুত অশারোহী ও উন্নত বীর। আমি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ"। আরেকজন বলছেন, 'আমি আবদুর রহমান বিন আবু বকর আস সিদদীক'। চারদি থেকে মুসলিম বাহিনী রনাঙ্গনে এসে পৌঁছে। পিছনের ঝান্ডা যার হাতে ছিল, তিনি হচ্ছেন রাফে বিন উমাইরা আত-তাঈ। মাসীরা বিন মাসরুক আল আবাসী বলেন, আল্লার কসম! হযরত খালেদের হুংকার শোনে রোমানদের কলরব বন্ধ হয়ে গেল। মুসলমানরা একে অপরের কাছে এসে সালাম বিনিময় করল। শুরাহবীল হাসানা এসে হযরত খালিদকে সালাম করেন। তখন হযরত খলিদ তাকে বললেন, হে শুরাহবীল! তুমি কি জাননা এটা সিরিয়া ও ইরাকের বন্দর, এখানে রোমানদের সেনাপতি ও সৈন্যরা অবস্থান করে! এখানে তুমি মুসলমানদের নিয়ে কোন বুদ্ধিতে আসলে? তিনি বললেন, একমাত্র আবু উবাইদার নির্দেশে।
📄 স্থগিত করা হল যুদ্ধ
তখন হযরত খালিদ বললেন, আবু উবাইদা একজন নিষ্ঠাবান লোক, তবে তাঁর যুদ্ধের কৌশল ও স্থান সম্পর্কে ধারণা কম। অতঃপর তিনি মুসলমানদেরকে রনাঙ্গন থেকে ফিরে আসতে বললেন। তারা ফিরে আসার পর ক্লান্তি দূর করার জন্য সবাই একটু আরাম করল।
📄 আবার যুদ্ধের প্রস্তুতি
এর পরের দিন দেখা গেল, বসরার সৈন্যরা মুসলমানদের উপর হামলা করার জন্য ধেয়ে আসছে। হযরত খালিদ এ অবস্থা দেখে বললেন, আমরা ও আমাদের অশ্ব সমূহের ক্লান্তির খবর জানার পরও যেহেতু রোমানরা আমাদের উপর হামলা করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে, অতএব আর দেরী না করে সবাই নিজ নিজ বাহনে উঠে পড়ুন। আল্লাহ আপনাদের উপর রহমত নাযিল করুন। মুসলমানরা একথা শোনে নিজ নিজ সরঞ্জাম নিয়ে বাহনে উঠে পড়ে। হযরত খালিদ সৈন্যদেরকে বিন্যস্ত করতে গিয়ে রাফে' বিন উমাইরা আত-তাঈকে ডান দিকে এবং দিরার বিন আয়ূরকে বাম দিকে রাখলেন। দিরার একজন যুদ্ধ-প্রিয় যুবক ছিলেন। আর পিছনে রাখলেন আবদুর রহমান বিন আবু বকর। অতঃপর যুদ্ধের জন্য সৈন্যদেরকে দু'ভাগে ভাগ করলেন। এক ভাগের নেতৃত্বে মুসাইয়াব বিন রজীবা আল ফাযারীকে রাখলেন ও আরেক ভাগের নেতৃত্বে মাযউর বিন গানিম আল আশআরীকে রাখলেন এবং তাদেরকে রোমানরা হামলা করতে আসার সাথে সাথে ঘোড়া চালানোর নির্দেশ দিলেন। আর হযরত খালিদ লোকদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে পথনির্দেশ ও অসিয়ত করছিলেন। সবাই তখন রোমানদের উপর হামলা করতে সংঘবদ্ধ।
📄 রোমান নেতার ইসলামের সত্যতা স্বীকার
হঠাৎ দেখা গেল, রোমানদের ব্যুহ ভেদ করে তাদের মধ্য থেকে ইয়াকুত ও স্বর্ণ খচিত ঝলমলে পোশাক পরা খুব মোটা একজন অশ্বারোহী বের হয়ে আসছেন। তিনি যখন উভয় দলের মাঝখান পর্যন্ত আসলেন, তখন তিনি বেদুঈনের মত আরবী ভাষায় ডাক দিলেন, হে আরবের লোকেরা! আপনাদের আমীর ব্যতীত আমার সম্মুখে আর কেউ আসবেন না। আমি বসরাবাসীর নেতা। তখন হযরত খালিদ তার দিকে ক্ষিপ্ত সিংহের মত দৌড়ে গেলেন। তাঁর কাছে হযরত খালিদ পৌঁছলে বললেন, আপনি কি আমীর? হযরত খালিদ বললেন- كذلك يزعمون أنى أميرهم مادمت على طاعة الله ورسوله فإن عصيت الله فلا إمارة لي. "তারা তো এরকমই মনে করে, আমি যতক্ষণ আল্লাহ ও তার রসুলের আনুগত্যের পথে আছি, ততক্ষণ আমি তাদের আমীর। কিন্তু যখন আমি আল্লাহর অবাধ্য হব, তখন তাদের উপর আমার কোন অধিকার নেই"। রোমানদের নেতা বললেন, আমি রোমানদের শাসকবর্গের একজন বুদ্ধিমান লোক। আর সত্য চক্ষুষ্মান মানুষের অগোচরে থাকে না। বিশ্বাস করুন, আমি পূর্ববর্তি আসমানী কিতাব ও ইতিহাস পড়েছি। তাতে আমি পেয়েছি যে, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ নামের একজন কুরাইশীকে প্রেরণ করবেন। হযরত খালিদ বললেন, আল্লাহর কসম! তিনি তো আমাদের নবী। রোমান নেতা বললেন, তার উপর কি কিতাব অবতীর্ন হয়েছে? হযরত খালিদ বললেন, হ্যা! আর তার নাম কুরআন। রোমান নেতা রুমাস বললেন, তোমাদের জন্য কি মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে? হযরত খালিদ বললেন, হ্যা! যারা মদ পান করে, তাদের উপর আমরা শাস্তি প্রয়োগ করি এবং কেউ যদি যিনা করে তাহলে তাকে বেত্রাঘাত করি। যদি যিনাকারী বিবাহিত হয়, তবে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করি। রোমান নেতা বললেন, আপনাদের উপর নামাজ ফরজ করা হয়েছে? হযরত খালিদ বললেন, হ্যা! রাত-দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে। রোমান নেতা বললেন, তোমাদের উপর কি জিহাদ ফরজ করা হয়েছে? হযরত খালিদ বললেন, জিহাদ ফরয করা না হলে আমরা আপনাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসতাম? তখন রোমান নেতা রুমাস বললেন, আল্লার কসম! আমি নিশ্চিত হলাম যে, আপনারা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমি আপনাদেরকে ভালবাসি এবং আপনাদের ব্যাপারে আমার জনগণকে সতর্ক করেছি ও বলেছি যে, আমি আপনাদের ব্যাপারে প্রতিপালককে ভয় করছি। কিন্তু তারা তা শোনেনি। তখন হযরত খালিদ বললেন, তাহলে আপনি বলুন- أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، يكون لك مالنا وعليك ما علينا. "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসুল। তাহলে আমাদের যে অধিকার আপনারও সে অধিকার এবং আমাদের যা করতে হবে, আপনারও তা করতে হবে"।