📄 বন্দী আমেরের মুক্তি কাহিনী
চলার পথে তারা একটি জনবসতির কাছে এসে পৌঁছল। এ এলাকায় ছাগল ও উট। মুসলমানগণ সেদিকে দৌড়ে গেলে দেখতে পেলেন, এক রাখাল মদ পান করছে এবং তার পাশে একজন আরব বন্দী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে মুসলমানগণ চিনে ফেললেন যে, তিনি হযরত খালেদের পাঠানো দূত আমের বিন তুফাইল। তখন হযরত খালিদ দ্রুত তার দিকে চলে আসলেন। তাকে দেখতে পেয়ে হযরত খালিদ মৃদু হাসলেন এবং বললেন, হে ইবনে তুফাইল! তুমি কীভাবে বন্দী হয়েছ? বলল, আমি যখন এ গ্রাম পর্যন্ত এসে পৌঁছি, তখন খুব গরম অনুভব করছিলাম এবং পিপাসার্ত হয়ে পড়লাম। তাই আমি এ রাখালের নিকট আসলাম কিছু দুধ পান করা যায় কিনা দেখার জন্য। এসে দেখলাম সে মদ পান করছে। আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর শত্রু! তুমি কি হারাম হওয়া সত্ত্বেও মদ পান করছো? সে বলল, জনাব আমি মদ পান করছি না। এ হচ্ছে ঠান্ডা ও পরিষ্কার মিষ্টি পানি। বিশ্বাস না হলে নেমে পাত্রের বাকী পানি গুলোতে মুখ দিয়ে দেখুন। যদি মদ হয় তাহলে আপনি যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। তার কথা শোনে আমি বাহন থেকে নেমে হাটু গেড়ে বসলাম। কিন্তু রাখাল হঠাৎ তার পার্শ্বে পড়ে থাকা একটি লাঠি নিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে গেল। আমি উঠে দাঁড়াতে চাইলাম। কিন্তু সে দ্রুত রশি নিয়ে এসে আমাকে শক্ত ভাবে বেধে ফেলল এবং আমাকে বলল, আমি মনে করি, তুমি মুহাম্মদের সহচর। অতএব, আমি তোমাকে আমার মালিক সম্রাটের কাছ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত ছাড়ব না। আমি বললাম, তোমার মালিক কে? বলল কাদ্দাহ বিন ওয়ায়েলা। সেদিন থেকে আমি এ রাখালের হাতে বন্দী। সে যখনই মদ পান করে তখনই আমাকে তার কাছে নিয়ে আসে, যেমন আপনি দেখতে পাচ্ছেন আর মদ খেয়ে যা থেকে যায় তা আমার দিকে ছুড়ে মারে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ আমের বিন তুফাইলের কাছে তার এ দুঃসহ ঘটনা শুনে খুব ক্রুদ্ধ হলেন এবং রাখালের কাছে গিয়ে তার উপর তীব্র ভাবে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অতঃপর মুসলমানগণ তার মাল, ছাগল ও উটসহ ঐ গ্রামে যা ছিল, সব তুলে নিয়ে আসে। আমেরকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করার পর হযরত খালেদ তাকে বললেন, আমার চিঠিটা কোথায় আমের? বলল, এটা আমার পাগড়ির ভিতর। রাখাল পত্রটি দেখেনি। হযরত খালিদ বললেন, ওটা নিয়ে আল্লাহর নামে চলে যাও। আমের চিঠি নিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে যান।
চলার পথে তারা একটি জনবসতির কাছে এসে পৌঁছল। এ এলাকায় ছাগল ও উট। মুসলমানগণ সেদিকে দৌড়ে গেলে দেখতে পেলেন, এক রাখাল মদ পান করছে এবং তার পাশে একজন আরব বন্দী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে মুসলমানগণ চিনে ফেললেন যে, তিনি হযরত খালেদের পাঠানো দূত আমের বিন তুফাইল। তখন হযরত খালিদ দ্রুত তার দিকে চলে আসলেন। তাকে দেখতে পেয়ে হযরত খালিদ মৃদু হাসলেন এবং বললেন, হে ইবনে তুফাইল! তুমি কীভাবে বন্দী হয়েছ? বলল, আমি যখন এ গ্রাম পর্যন্ত এসে পৌঁছি, তখন খুব গরম অনুভব করছিলাম এবং পিপাসার্ত হয়ে পড়লাম। তাই আমি এ রাখালের নিকট আসলাম কিছু দুধ পান করা যায় কিনা দেখার জন্য। এসে দেখলাম সে মদ পান করছে। আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর শত্রু! তুমি কি হারাম হওয়া সত্ত্বেও মদ পান করছো? সে বলল, জনাব আমি মদ পান করছি না। এ হচ্ছে ঠান্ডা ও পরিষ্কার মিষ্টি পানি। বিশ্বাস না হলে নেমে পাত্রের বাকী পানি গুলোতে মুখ দিয়ে দেখুন। যদি মদ হয় তাহলে আপনি যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। তার কথা শোনে আমি বাহন থেকে নেমে হাটু গেড়ে বসলাম। কিন্তু রাখাল হঠাৎ তার পার্শ্বে পড়ে থাকা একটি লাঠি নিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে গেল। আমি উঠে দাঁড়াতে চাইলাম। কিন্তু সে দ্রুত রশি নিয়ে এসে আমাকে শক্ত ভাবে বেধে ফেলল এবং আমাকে বলল, আমি মনে করি, তুমি মুহাম্মদের সহচর। অতএব, আমি তোমাকে আমার মালিক সম্রাটের কাছ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত ছাড়ব না। আমি বললাম, তোমার মালিক কে? বলল কাদ্দাহ বিন ওয়ায়েলা। সেদিন থেকে আমি এ রাখালের হাতে বন্দী। সে যখনই মদ পান করে তখনই আমাকে তার কাছে নিয়ে আসে, যেমন আপনি দেখতে পাচ্ছেন আর মদ খেয়ে যা থেকে যায় তা আমার দিকে ছুড়ে মারে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ আমের বিন তুফাইলের কাছে তার এ দুঃসহ ঘটনা শুনে খুব ক্রুদ্ধ হলেন এবং রাখালের কাছে গিয়ে তার উপর তীব্র ভাবে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অতঃপর মুসলমানগণ তার মাল, ছাগল ও উটসহ ঐ গ্রামে যা ছিল, সব তুলে নিয়ে আসে। আমেরকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করার পর হযরত খালেদ তাকে বললেন, আমার চিঠিটা কোথায় আমের? বলল, এটা আমার পাগড়ির ভিতর। রাখাল পত্রটি দেখেনি। হযরত খালিদ বললেন, ওটা নিয়ে আল্লাহর নামে চলে যাও। আমের চিঠি নিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে যান।
📄 আরাকা এসে এক রোমান দার্শনিকের সাক্ষাত লাভ
হযরত খালিদ রওয়ানা হয়ে আরাকা নামে এলাকায় পৌঁছেন। এটি ইরাক ত্যাগকারীদের প্রথম যাত্রা বিরতির স্থান। এখানে রোমানদের একটি চেক পোষ্ট ছিল। রোমানরা সেখানে কিছু মুসাফিরকে আটক করে রাখে। আর সেখানে রোম সম্রাটের পক্ষ থেকে একজন নেতা অবস্থান করছিল। হযরত খালিদ তাদের উপর হামলা করে তাদের মাল-পত্র তুলে নেন এবং সেখানের বাসিন্দারা তাদের দূর্গে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে। এখানে একজন রোমীয় দার্শনিক বাস করতেন। তিনি প্রাচীন কিতাব ও যুদ্ধের ইতিহাস পড়েছিলেন। মুসলমানগণকে দেখার পর তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং বলেন সময় নিকটবর্তী হয়েছে এবং আমার দ্বীন সত্যরূপে প্রতিভাত হয়েছে। তখন ওই এলাকার লোকজন তাকে বলল, তা কীভাবে হয়? তিনি বললেন, আমার কাছে একটি পুথি আছে। তাতে এদের প্রসঙ্গ আলোচিত হয়েছে। তাদের হাতে যে ঝান্ডা রয়েছে তা বিজয়ী ঝান্ডা। এখন রোমানদের পতন কাল ঘনিয়ে এসেছে। তোমরা দেখ, যদি তাদের ঝান্ডা কাল হয় এবং তাদের আমীর ঘনদাড়ি ওয়ালা, লম্বা, মোটা, উভয় কাধের মাঝখানে বেশ দুরত্ব হয় ও তার মুখে উজ্জল ছাপ থাকে, তাহলে তিনি সিরিয়ার জন্য তাদের সেনাপতি এবং তার হাতেই সিরিয়ার পতন ঘটবে। তখন লোকজন মুসলিম সৈন্যদের প্রতি তাকিয়ে দেখতে পেল যে ঝান্ডা হযরত খালেদের হাতে এবং তার অবয়ব বিদ্বান লোকটি যেরকম বলেছিলেন সেরকম। তখন লোকজন তাদের সেনাপতির কাছে গিয়ে বলল, আপনি জানেন যে, আমাদের এখানের বিদ্বান লোকটি সব সময় সত্য ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাই বলেন। তিনি এমন এমন বলেছেন এবং তিনি যা বলেছেন আমরা স্বচক্ষে তাই দেখেছি। এখন আমরা যা ভাল মনে করি, তা হচ্ছে আরবদের সাথে সন্ধি করে জান ও মাল নিরাপদ রাখা। একথা শোনে সেনাপতি বলল, আমাকে আগামীকাল পর্যন্ত সময় দেন, যাতে আমি এব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। সেনাপতি রাতভর চিন্তাভাবনা করলেন। তিনি ছিলেন একজন সমঝদার, বিচক্ষন ও পরিণামদর্শী লোক। তিনি বললেন, যদি আমি এদের বিরোধীতা করি, তাহলে এরা আমাকে ধরে আরবদের হাতে তুলে দিতে পারে। আর এটা তো বাস্তব যে রোবীস এক বিশাল বাহিনীসহ আরবদের হাতে পরাজয় বরণ করেছে। তার এসব কথা ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠে তিনি জনসাধারণকে ডাকলেন এবং বললেন, আপনারা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বলল, আরবদের সাথে সন্ধি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তখন সেনাপতি বললেন, আমিও আপনাদের সাথে একমত। অতঃপর এলাকার মুরুব্বীগণ হযরত খালেদের কাছে গেলেন এবং তার সাথে সন্ধির ব্যাপারে কথা বললেন। তিনি তাদের সন্ধির আহবানে সাড়া দিলেন এবং যাতে পাশের এলাকা ও কাদমার লোকদের মাঝে মুসলমানদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সে জন্য তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও বিনয়পূর্ণ আচরণ করলেন। হযরত খালিদ সন্ধির আহবানে সাড়া দিলে তাদের শাসক কাওকাব লোকজনকে জমায়েত করে বললেন- بلغني عن هئولاء العرب أنهم فتحوا أركة والسخنة وأن قومنا يتحدثون بعدلهم وحسن سيرتهم وأنهم لا يطلبون الفساد، وهذا حصن مانع لا سبيل لأحد علينا ولكن نخاف على نخلنا وزرعنا ، وما يضرنا أن نصالح العرب، فإن كان قومنا هم الغالبين فسخنا صلحهم، وإن كان العرب ظافرين كنا آمنين. "এ আরবদের সম্পর্কে আমার কাছে এ খবর পৌঁছেছে যে, তারা আরাকা ও সাখানা পদানত করেছে এবং আমাদের লোকেরা তাদের ন্যায়পরায়ণতা ও সৎ চরিত্রের ভূয়সি প্রশংসা করছে। তারা এখানে ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। আমাদের আশ্রয় গ্রহনের জন্য এ অজেয় দূর্গ রয়েছে। কিন্তু আমাদের খেজুর ও ক্ষেতের ব্যাপারেই একমাত্র আশংকা রয়েছে। আরবদের সাথে সন্ধি করাতে আমাদের কোন ক্ষতি নেই। যদি আমাদের লোকেরা তাদের উপর বিজয় লাভ করে, তাহলে আমারা সন্ধি ভঙ্গ করব। আর যদি আরবরা বিজয়ী হয়, তাহলে তো আমরা নিরাপদ থাকবই"। কাওকবের এ কথা শোনে লোকজন খুশী হলেন এবং হযরত খালিদের জন্য আপ্যায়নের আয়োজন শুরু করলেন। হযরত খালিদ তাদের নিকট এসে পৌঁছলে তারা তাকে আপ্যায়ন করেন। আপ্যায়ন গ্রহণ শেষে হযরত খালিদ তিন শত স্বর্নের উকিয়ার বিনিময়ে তাদেরকে একটি সন্ধি পত্র লিখে দিলেন। অতঃপর তিনি হাওরানের দিকে রওয়ানা হলেন। অন্য দিকে হযরত আমের বিন তুফাইল হযরত খালিদের পত্র নিয়ে হযরত আবু উবাইদার কাছে পৌঁছে যান। হযরত আবু উবাইদা পত্র পড়ে মৃদু হাসলেন এবং বললেন, আল্লাহু আকবার। রাসুলের খলীফার কথা শোনলাম ও মেনে নিলাম। অতঃপর তিনি লোকজনকে তার অব্যাহতি ও হযরত খালিদের আমীরত্ব সম্পর্কে অবহিত করলেন।
হযরত খালিদ রওয়ানা হয়ে আরাকা নামে এলাকায় পৌঁছেন। এটি ইরাক ত্যাগকারীদের প্রথম যাত্রা বিরতির স্থান। এখানে রোমানদের একটি চেক পোষ্ট ছিল। রোমানরা সেখানে কিছু মুসাফিরকে আটক করে রাখে। আর সেখানে রোম সম্রাটের পক্ষ থেকে একজন নেতা অবস্থান করছিল। হযরত খালিদ তাদের উপর হামলা করে তাদের মাল-পত্র তুলে নেন এবং সেখানের বাসিন্দারা তাদের দূর্গে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে। এখানে একজন রোমীয় দার্শনিক বাস করতেন। তিনি প্রাচীন কিতাব ও যুদ্ধের ইতিহাস পড়েছিলেন। মুসলমানগণকে দেখার পর তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং বলেন সময় নিকটবর্তী হয়েছে এবং আমার দ্বীন সত্যরূপে প্রতিভাত হয়েছে। তখন ওই এলাকার লোকজন তাকে বলল, তা কীভাবে হয়? তিনি বললেন, আমার কাছে একটি পুথি আছে। তাতে এদের প্রসঙ্গ আলোচিত হয়েছে। তাদের হাতে যে ঝান্ডা রয়েছে তা বিজয়ী ঝান্ডা। এখন রোমানদের পতন কাল ঘনিয়ে এসেছে। তোমরা দেখ, যদি তাদের ঝান্ডা কাল হয় এবং তাদের আমীর ঘনদাড়ি ওয়ালা, লম্বা, মোটা, উভয় কাধের মাঝখানে বেশ দুরত্ব হয় ও তার মুখে উজ্জল ছাপ থাকে, তাহলে তিনি সিরিয়ার জন্য তাদের সেনাপতি এবং তার হাতেই সিরিয়ার পতন ঘটবে। তখন লোকজন মুসলিম সৈন্যদের প্রতি তাকিয়ে দেখতে পেল যে ঝান্ডা হযরত খালেদের হাতে এবং তার অবয়ব বিদ্বান লোকটি যেরকম বলেছিলেন সেরকম। তখন লোকজন তাদের সেনাপতির কাছে গিয়ে বলল, আপনি জানেন যে, আমাদের এখানের বিদ্বান লোকটি সব সময় সত্য ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাই বলেন। তিনি এমন এমন বলেছেন এবং তিনি যা বলেছেন আমরা স্বচক্ষে তাই দেখেছি। এখন আমরা যা ভাল মনে করি, তা হচ্ছে আরবদের সাথে সন্ধি করে জান ও মাল নিরাপদ রাখা। একথা শোনে সেনাপতি বলল, আমাকে আগামীকাল পর্যন্ত সময় দেন, যাতে আমি এব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। সেনাপতি রাতভর চিন্তাভাবনা করলেন। তিনি ছিলেন একজন সমঝদার, বিচক্ষন ও পরিণামদর্শী লোক। তিনি বললেন, যদি আমি এদের বিরোধীতা করি, তাহলে এরা আমাকে ধরে আরবদের হাতে তুলে দিতে পারে। আর এটা তো বাস্তব যে রোবীস এক বিশাল বাহিনীসহ আরবদের হাতে পরাজয় বরণ করেছে। তার এসব কথা ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠে তিনি জনসাধারণকে ডাকলেন এবং বললেন, আপনারা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বলল, আরবদের সাথে সন্ধি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তখন সেনাপতি বললেন, আমিও আপনাদের সাথে একমত। অতঃপর এলাকার মুরুব্বীগণ হযরত খালেদের কাছে গেলেন এবং তার সাথে সন্ধির ব্যাপারে কথা বললেন। তিনি তাদের সন্ধির আহবানে সাড়া দিলেন এবং যাতে পাশের এলাকা ও কাদমার লোকদের মাঝে মুসলমানদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সে জন্য তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও বিনয়পূর্ণ আচরণ করলেন। হযরত খালিদ সন্ধির আহবানে সাড়া দিলে তাদের শাসক কাওকাব লোকজনকে জমায়েত করে বললেন- এ আরবদের সম্পর্কে আমার কাছে এ খবর পৌঁছেছে যে, তারা আরাকা ও সাখানা পদানত করেছে এবং আমাদের লোকেরা তাদের ন্যায়পরায়ণতা ও সৎ চরিত্রের ভূয়সি প্রশংসা করছে। তারা এখানে ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। আমাদের আশ্রয় গ্রহনের জন্য এ অজেয় দূর্গ রয়েছে। কিন্তু আমাদের খেজুর ও ক্ষেতের ব্যাপারেই একমাত্র আশংকা রয়েছে। আরবদের সাথে সন্ধি করাতে আমাদের কোন ক্ষতি নেই। যদি আমাদের লোকেরা তাদের উপর বিজয় লাভ করে, তাহলে আমারা সন্ধি ভঙ্গ করব। আর যদি আরবরা বিজয়ী হয়, তাহলে তো আমরা নিরাপদ থাকবই। কাওকবের এ কথা শোনে লোকজন খুশী হলেন এবং হযরত খালিদের জন্য আপ্যায়নের আয়োজন শুরু করলেন। হযরত খালিদ তাদের নিকট এসে পৌঁছলে তারা তাকে আপ্যায়ন করেন। আপ্যায়ন গ্রহণ শেষে হযরত খালিদ তিন শত স্বর্নের উকিয়ার বিনিময়ে তাদেরকে একটি সন্ধি পত্র লিখে দিলেন। অতঃপর তিনি হাওরানের দিকে রওয়ানা হলেন। অন্য দিকে হযরত আমের বিন তুফাইল হযরত খালিদের পত্র নিয়ে হযরত আবু উবাইদার কাছে পৌঁছে যান। হযরত আবু উবাইদা পত্র পড়ে মৃদু হাসলেন এবং বললেন, আল্লাহু আকবার। রাসুলের খলীফার কথা শোনলাম ও মেনে নিলাম। অতঃপর তিনি লোকজনকে তার অব্যাহতি ও হযরত খালিদের আমীরত্ব সম্পর্কে অবহিত করলেন।
📄 বসরায় আরেক অভিযান
হযরত আবু উবাইদা খাতিবে ওয়াহী শুরাহবীল বিন হাসানাকে চার হাজার সৈন্য দিয়ে বসরার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি সৈন্যদের নিয়ে বসরার উপকন্ঠে এসে পৌঁছেন। বসরার যিনি শাসক ছিলেন, তার নাম ছিল রুমাস। সম্রাট হিরোক্লিয়াসের নিকট তার বিশেষ মর্যাদা ছিল। তিনি পূর্ববর্তী কিতাব ও ইতিহাস সর্ম্পকে ভাল ধারণা রাখতেন। রোমানরা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার সাক্ষাত লাভ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা শোনার জন্য তার নিকট এসে সমবেত হত। তিনি লোকজনের সাথে খুব সম্ভাব বজায় রেখে চলতেন। তার এক হাজার সৈন্য ছিল। আরবরা ইয়ামন ও হিজায থেকে তাদের ব্যাবসায়িক পণ্য দ্রব্য নিয়ে ওখানে আসা যাওয়া করত। বাৎসরিক মেলার সময় বসরার শাসকের জন্য একটি সিংহাসন তৈরী করা হত। তিনি সেখানে এসে বসলে লোকজন এসে তার চর্তুপাশ্বে ঘিরে বসত এবং তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে উপকৃত হত। একদিন তারা মেলার সময় শাসকের কাছে বসে তার কথা শুনছিল। এসময় শুরাহবীল বিন হাসানা ও তার সৈন্যদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এ খবর শুনে দ্রুত ঘোড়ায় সওয়ার হলেন এবং মানুষকে ডাকলেন। মানুষ তার ডাকে সাড়া দিলে তিনি বললেন, কেউ কোন কথা বলবেন না। আমরা আগে তাদের কথা শুনি ও অবস্থা জেনে নিই। অতঃপর তিনি হযরত শুরাহবীল বিন হাসানা ও তার বাহিনীর কাছে যান। তাকে দেখে হযরত শুরাহবীল তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন। যখন তিনি তার কাছে এসে পৌঁছেন, তখন শাসক বললেন, আপনাদের পরিচয় কী? হযরত শুরাহবীল বললেন, আমরা তওরাত ও ইঞ্জিলে উল্লেখিত নিরক্ষর কুরাইশী ও হাশেমী নবী মুহাম্মদের সাহাবী। তখন রুমাস বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে কী আচরণ করেছেন? হযরত শুরাহবীল বললেন, আল্লাহ তাঁকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নিয়েছেন। রুমাস বললেন, তাঁর পরে তার স্থানে কে সমাসীন হয়েছেন? শুরাহবীল বললেন, আতীক বিন আবু কহাফা বিন বকর বিন তাইম বিন মুররা। তখন রুমাস বললেন, আমার ধর্মের শপথ! আমি জানি আপনারা সত্যের উপর এবং আপনারা নিশ্চিত ভাবে সিরিয়া ও ইরাক দখল করে নিবেন। যদি আপনারা ছোট দল হন এবং আমরা বড় দল হই, তাহলে আমি আপনাদের প্রতি করুণা করবো। তবে এখন আপনারা দেশে ফিরে যান। আমরা আপনাদের কিছু করবো না। আর হে আমার ভাই জেনে রাখুন, আবু বকর হচ্ছে আমার সাথী ও বন্ধু। তিনি যদি উপস্থিত থাকতেন, তাহলে তিনি আমার সাথে লড়াই করতেন না। তখন হযরত শুরাহবীল বললেন, আপনি যদি তার ছেলে বা চাচাত ভাইও হতেন তবুও তিনি আপনাকে তাঁর দ্বীন গ্রহণ না করলে ক্ষমা করতেন না। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার নিজের কোন এখতিয়ার নেই। কেননা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট। আর আল্লাহ তাকে আপনাদের সাথে জিহাদ করার জন্য আদেশ করেছেন। আমরা তিনটির কোন একটি না হলে এখান থেকে ফিরে যাব না। হয়ত আপনারা আমাদের দ্বীনে প্রবেশ করবেন নতুবা জিযয়া দিবেন। আর তা না হলে তরবারি। তখন রুমাস বললেন, আমার দ্বীন নিয়ে আমি যা বিশ্বাস করি, তা হচ্ছে আপনাদের সাথে লড়াই করা যাবে না। কারণ, আপনারা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমি চাচ্ছি, রোমানদের কাছে গিয়ে তাদের মতামত জেনে আসতে। তখন শুরাহবীল বললেন, আপনি তাদের কাছে যান এবং আমাদের সাথে ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে যা বলেছেন, তা তাদের নিকটও বলবেন। রুমাস তার লোকদের কাছে ফিরে গিয়ে তাদেরকে একত্রিত করলেন এবং বললেন- يا أهل دين النصرانية وبنى ماء المعمودية ! إن الذى كنتم تعتقدونه في كتبكم من الخروج من بلادكم ودياركم ونهب أموالكم قد قرب، وهذا وقته وزمانه ، ولستم أعظم جيشا من روبيس سار إلى شرذمة من العرب بأرض فلسطين، فقتل وقتل من معه وانهزم الباقون، وقد بلغني أن رجلا منهم قد خرج من أرض السماوة صوب العراق اسمه خالد بن الوليد وقد فتح أركة والسخة وتدمر وحوران، وهو عن قريب يحضر إليكم، والصواب أن تؤدوا الجزية عن يد إليهم وينصرفون عنكم “হে খ্রীষ্টান ধর্মের অনুসারী ও মা'মুদিয়ার পানির ছেলেরা, তোমরা তোমাদের কিতাব সমূহে তোমাদের দেশান্তর, ঘর থেকে বিতাড়ন ও তোমাদের সম্পদ লুণ্ঠনের যে উল্লেখ পেয়েছ, তা এখন নিকটবর্তী এবং তা সংঘটিত হবার সময় এখনই। তোমরা সল্প সংখ্যক আরবদের থেকে ফিলিস্তিন রক্ষা করতে যাওয়া রোবীসের সৈনিকদের চেয়ে অধিক নও। রোবীস তার বাহিনীসহ নিহত হয়েছেন। আর তার বাহিনীর যারা জীবিত ছিল, তারা পরাজিত হয়েছে। আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, খালিদ বিন ওয়ালিদ নামে তাদের একজন লোক সামাওয়াত থেকে ইরাকের দিকে গেছে এবং আরাকা, সাখানা, তাদাম্মুর ও হাওরান জয় করে নিয়েছেন। তিনি শীঘ্রই তোমাদের কাছে এসে উপস্থিত হচ্ছেন। তাই এখন তোমাদের সঠিক কাজ হবে এ আরবদের জিযয়া প্রদান করা। তাহলে তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করবে না"। কিন্তু তার লোকেরা যখন এ কথা শুনলো, তখন তারা ক্রোধে জ্বলে ওঠে হৈ চৈ শুরু করলো এবং তাকে হত্যা করতে উদ্যত হল। তখন রুমাস কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বলল, লোকজন! আমি দ্বীনের প্রতি তোমাদের কতটুকু টান আছে, তা পরীক্ষা করে দেখেছি মাত্র। এখন তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়। আমি তোমাদের আগে থাকব। তখন লোকজন সবাই গিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে লাগলো। যুদ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে তারা বাহনে সওয়ার হয়ে মসুলমানদের উপর হামলার জন্য অগ্রসর হল। শুরাহবীল বিন হাসানা যখন রোমানদের যুদ্ধ প্রস্তুতি দেখতে পেলেন, তখন তার সাথীদের উদ্দেশ্যে বললেন- اعلموا رحمكم الله، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : الجنة تحت ظلال السيوف وأحب ما يقرب إلى الله قطرة دم في سبيل الله أو دمعة جرة في جوف الليل من خشية الله. قال الله تعالى ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوْ اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُمْ مُسْلِمُونَ) "আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন। জেনে রাখুন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, 'জান্নাত তরবারীর ছায়াতলে। আর যেসব বস্তুর মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া যায়, তার মধ্যে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় জিনিস হচ্ছে ঐ রক্তের ফোঁটা, যা আল্লাহর রাস্তায় প্রবাহিত হয়েছে এবং ঐ অশ্রুর ফোঁটা যা মধ্যরাতে আল্লাহর ভয়ে দু'চোখ থেকে ঝরেছে'। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথ ভাবে ভয় কর এবং মুসলমান হওয়া ব্যতীত মৃত্যু বরণ করো না"। অতঃপর তিনি মসুলমানদের নিয়ে শত্রুদের উপর চড়াও হন। আবদুল্লাহ বিন আদী রা. বলেন, শত্রুরা আমাদের নিকট এসে আমদেরকে টার্গেট করল এবং ১২ হাজার সৈন্য নিয়ে আমাদের উপর হামলা শুরু করল। আমরা তাদের মাঝে কালো উটের চামড়ার উপর সাদা দাগের মত ছিলাম। আমরা তাদের সাথে ধৈর্য সহকারে যুদ্ধ করলাম। দুপুর পর্যন্ত যুদ্ধ স্থায়ী হল। শত্রুরা আমাদেরকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল। ঐ সময় আমি শুরাহবীল বিন হাসানাকে আসমানের দিকে হাত তুলে এ দোয়া করতে দেখলাম-
হযরত আবু উবাইদা খাতিবে ওয়াহী শুরাহবীল বিন হাসানাকে চার হাজার সৈন্য দিয়ে বসরার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি সৈন্যদের নিয়ে বসরার উপকন্ঠে এসে পৌঁছেন। বসরার যিনি শাসক ছিলেন, তার নাম ছিল রুমাস। সম্রাট হিরোক্লিয়াসের নিকট তার বিশেষ মর্যাদা ছিল। তিনি পূর্ববর্তী কিতাব ও ইতিহাস সর্ম্পকে ভাল ধারণা রাখতেন। রোমানরা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার সাক্ষাত লাভ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা শোনার জন্য তার নিকট এসে সমবেত হত। তিনি লোকজনের সাথে খুব সম্ভাব বজায় রেখে চলতেন। তার এক হাজার সৈন্য ছিল। আরবরা ইয়ামন ও হিজায থেকে তাদের ব্যাবসায়িক পণ্য দ্রব্য নিয়ে ওখানে আসা যাওয়া করত। বাৎসরিক মেলার সময় বসরার শাসকের জন্য একটি সিংহাসন তৈরী করা হত। তিনি সেখানে এসে বসলে লোকজন এসে তার চর্তুপাশ্বে ঘিরে বসত এবং তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে উপকৃত হত। একদিন তারা মেলার সময় শাসকের কাছে বসে তার কথা শুনছিল। এসময় শুরাহবীল বিন হাসানা ও তার সৈন্যদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এ খবর শুনে দ্রুত ঘোড়ায় সওয়ার হলেন এবং মানুষকে ডাকলেন। মানুষ তার ডাকে সাড়া দিলে তিনি বললেন, কেউ কোন কথা বলবেন না। আমরা আগে তাদের কথা শুনি ও অবস্থা জেনে নিই। অতঃপর তিনি হযরত শুরাহবীল বিন হাসানা ও তার বাহিনীর কাছে যান। তাকে দেখে হযরত শুরাহবীল তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন। যখন তিনি তার কাছে এসে পৌঁছেন, তখন শাসক বললেন, আপনাদের পরিচয় কী? হযরত শুরাহবীল বললেন, আমরা তওরাত ও ইঞ্জিলে উল্লেখিত নিরক্ষর কুরাইশী ও হাশেমী নবী মুহাম্মদের সাহাবী। তখন রুমাস বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে কী আচরণ করেছেন? হযরত শুরাহবীল বললেন, আল্লাহ তাঁকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নিয়েছেন। রুমাস বললেন, তাঁর পরে তার স্থানে কে সমাসীন হয়েছেন? শুরাহবীল বললেন, আতীক বিন আবু কহাফা বিন বকর বিন তাইম বিন মুররা। তখন রুমাস বললেন, আমার ধর্মের শপথ! আমি জানি আপনারা সত্যের উপর এবং আপনারা নিশ্চিত ভাবে সিরিয়া ও ইরাক দখল করে নিবেন। যদি আপনারা ছোট দল হন এবং আমরা বড় দল হই, তাহলে আমি আপনাদের প্রতি করুণা করবো। তবে এখন আপনারা দেশে ফিরে যান। আমরা আপনাদের কিছু করবো না। আর হে আমার ভাই জেনে রাখুন, আবু বকর হচ্ছে আমার সাথী ও বন্ধু। তিনি যদি উপস্থিত থাকতেন, তাহলে তিনি আমার সাথে লড়াই করতেন না। তখন হযরত শুরাহবীল বললেন, আপনি যদি তার ছেলে বা চাচাত ভাইও হতেন তবুও তিনি আপনাকে তাঁর দ্বীন গ্রহণ না করলে ক্ষমা করতেন না। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার নিজের কোন এখতিয়ার নেই। কেননা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট। আর আল্লাহ তাকে আপনাদের সাথে জিহাদ করার জন্য আদেশ করেছেন। আমরা তিনটির কোন একটি না হলে এখান থেকে ফিরে যাব না। হয়ত আপনারা আমাদের দ্বীনে প্রবেশ করবেন নতুবা জিযয়া দিবেন। আর তা না হলে তরবারি। তখন রুমাস বললেন, আমার দ্বীন নিয়ে আমি যা বিশ্বাস করি, তা হচ্ছে আপনাদের সাথে লড়াই করা যাবে না। কারণ, আপনারা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমি চাচ্ছি, রোমানদের কাছে গিয়ে তাদের মতামত জেনে আসতে। তখন শুরাহবীল বললেন, আপনি তাদের কাছে যান এবং আমাদের সাথে ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে যা বলেছেন, তা তাদের নিকটও বলবেন। রুমাস তার লোকদের কাছে ফিরে গিয়ে তাদেরকে একত্রিত করলেন এবং বললেন- “হে খ্রীষ্টান ধর্মের অনুসারী ও মা'মুদিয়ার পানির ছেলেরা, তোমরা তোমাদের কিতাব সমূহে তোমাদের দেশান্তর, ঘর থেকে বিতাড়ন ও তোমাদের সম্পদ লুণ্ঠনের যে উল্লেখ পেয়েছ, তা এখন নিকটবর্তী এবং তা সংঘটিত হবার সময় এখনই। তোমরা সল্প সংখ্যক আরবদের থেকে ফিলিস্তিন রক্ষা করতে যাওয়া রোবীসের সৈনিকদের চেয়ে অধিক নও। রোবীস তার বাহিনীসহ নিহত হয়েছেন। আর তার বাহিনীর যারা জীবিত ছিল, তারা পরাজিত হয়েছে। আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, খালিদ বিন ওয়ালিদ নামে তাদের একজন লোক সামাওয়াত থেকে ইরাকের দিকে গেছে এবং আরাকা, সাখানা, তাদাম্মুর ও হাওরান জয় করে নিয়েছেন। তিনি শীঘ্রই তোমাদের কাছে এসে উপস্থিত হচ্ছেন। তাই এখন তোমাদের সঠিক কাজ হবে এ আরবদের জিযয়া প্রদান করা। তাহলে তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করবে না"। কিন্তু তার লোকেরা যখন এ কথা শুনলো, তখন তারা ক্রোধে জ্বলে ওঠে হৈ চৈ শুরু করলো এবং তাকে হত্যা করতে উদ্যত হল। তখন রুমাস কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বলল, লোকজন! আমি দ্বীনের প্রতি তোমাদের কতটুকু টান আছে, তা পরীক্ষা করে দেখেছি মাত্র। এখন তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়। আমি তোমাদের আগে থাকব। তখন লোকজন সবাই গিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে লাগলো। যুদ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে তারা বাহনে সওয়ার হয়ে মসুলমানদের উপর হামলার জন্য অগ্রসর হল। শুরাহবীল বিন হাসানা যখন রোমানদের যুদ্ধ প্রস্তুতি দেখতে পেলেন, তখন তার সাথীদের উদ্দেশ্যে বললেন- "আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন। জেনে রাখুন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, 'জান্নাত তরবারীর ছায়াতলে। আর যেসব বস্তুর মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া যায়, তার মধ্যে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় জিনিস হচ্ছে ঐ রক্তের ফোঁটা, যা আল্লাহর রাস্তায় প্রবাহিত হয়েছে এবং ঐ অশ্রুর ফোঁটা যা মধ্যরাতে আল্লাহর ভয়ে দু'চোখ থেকে ঝরেছে'। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথ ভাবে ভয় কর এবং মুসলমান হওয়া ব্যতীত মৃত্যু বরণ করো না"। অতঃপর তিনি মসুলমানদের নিয়ে শত্রুদের উপর চড়াও হন। আবদুল্লাহ বিন আদী রা. বলেন, শত্রুরা আমাদের নিকট এসে আমদেরকে টার্গেট করল এবং ১২ হাজার সৈন্য নিয়ে আমাদের উপর হামলা শুরু করল। আমরা তাদের মাঝে কালো উটের চামড়ার উপর সাদা দাগের মত ছিলাম। আমরা তাদের সাথে ধৈর্য সহকারে যুদ্ধ করলাম। দুপুর পর্যন্ত যুদ্ধ স্থায়ী হল। শত্রুরা আমাদেরকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল। ঐ সময় আমি শুরাহবীল বিন হাসানাকে আসমানের দিকে হাত তুলে এ দোয়া করতে দেখলাম-
📄 কবুল হল দু’আ
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ يَا بَدِيعَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، اللهُمَّ انصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ “হে চিরঞ্জীব! হে অবিনশ্বর সত্তা! হে আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা! হে মহত্ব ও সম্মানিত আল্লাহ! আমাদেরকে কাফিরের উপর সাহায্য করুন"। আবদুল্লাহ বিন আদী বলেন, শুরাহবিল তার দোয়া শেষ করতে না করতেই মহান শক্তিধর আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য চলে আসে। হঠাৎ দেখা গেল, হাওরানের দিক থেকে ইসলামের ঝান্ডা নিয়ে মুসলিম বীরগণ আগমন করছেন। তাদের মধ্য থেকে দু'জন অশ্বারোহী চিৎকার ও হুংকার দিয়ে আমাদের কাছে আগে চলে আসেন। একজন এসে বলেন- يا شرحبيل بن حسنة أبشر النصر لدিন الله، أنا الفارس الصنديد والبطل المجيد أنا خالد بن الوليد. "হে শুরাহবীল বিন হাসানা! আল্লার দ্বীনের জন্য সাহায্যের সুসংবাদ গ্রহণ কর। আমি মজবুত অশারোহী ও উন্নত বীর। আমি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ"। আরেকজন বলছেন, 'আমি আবদুর রহমান বিন আবু বকর আস সিদদীক'। চারদি থেকে মুসলিম বাহিনী রনাঙ্গনে এসে পৌঁছে। পিছনের ঝান্ডা যার হাতে ছিল, তিনি হচ্ছেন রাফে বিন উমাইরা আত-তাঈ। মাসীরা বিন মাসরুক আল আবাসী বলেন, আল্লার কসম! হযরত খালেদের হুংকার শোনে রোমানদের কলরব বন্ধ হয়ে গেল। মুসলমানরা একে অপরের কাছে এসে সালাম বিনিময় করল। শুরাহবীল হাসানা এসে হযরত খালিদকে সালাম করেন। তখন হযরত খলিদ তাকে বললেন, হে শুরাহবীল! তুমি কি জাননা এটা সিরিয়া ও ইরাকের বন্দর, এখানে রোমানদের সেনাপতি ও সৈন্যরা অবস্থান করে! এখানে তুমি মুসলমানদের নিয়ে কোন বুদ্ধিতে আসলে? তিনি বললেন, একমাত্র আবু উবাইদার নির্দেশে।