📄 পানির জন্য হাহাকার
হযরত খালিদ ও তার সাথীরা পানির অভাবে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। হযরত খালিদ বললেন, ওহে রাফে! আমরাতো মৃত্যুর কাছাকাছি এসে পৌঁছে গেছি। তুমি কি কোন পানির সন্ধান করতে পার? তখন রাফে'র চক্ষু প্রদর রোগ হয়েছিল। তিনি বললেন, আমীর সাহেব! আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমার চোখের অবস্থা। হ্যাঁ! যখন আপনারা সমতল ভূমিতে অবতরণ করবেন, তখন আমাকে খবর দিবেন। তারা যখন সমতল ভূমিতে এসে পৌঁছল, তখন এ খবর রাফে'কে জানানো হল। তখন তিনি তার চোখ থেকে তার পাগড়ীর প্রান্ত সরালেন এবং তার বাহনে করে ডানে বামে চলতে লাগলেন। বাকী লোকজনও তার পেছনে ছুটে চলছেন।
হযরত খালিদ ও তার সাথীরা পানির অভাবে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। হযরত খালিদ বললেন, ওহে রাফে! আমরাতো মৃত্যুর কাছাকাছি এসে পৌঁছে গেছি। তুমি কি কোন পানির সন্ধান করতে পার? তখন রাফে'র চক্ষু প্রদর রোগ হয়েছিল। তিনি বললেন, আমীর সাহেব! আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমার চোখের অবস্থা। হ্যাঁ! যখন আপনারা সমতল ভূমিতে অবতরণ করবেন, তখন আমাকে খবর দিবেন। তারা যখন সমতল ভূমিতে এসে পৌঁছল, তখন এ খবর রাফে'কে জানানো হল। তখন তিনি তার চোখ থেকে তার পাগড়ীর প্রান্ত সরালেন এবং তার বাহনে করে ডানে বামে চলতে লাগলেন। বাকী লোকজনও তার পেছনে ছুটে চলছেন।
📄 পাওয়া গেল পানি
এক পর্যায়ে তিনি আরাক নামীয় একটি গাছের কাছে পৌঁছলেন এবং আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিলেন। তার সাথে সাথে বাকীরা সবাই শ্লোগান দেয়। অতঃপর বললেন, এখানে খনন করুন। সবাই খনন কাজে লেগে গেলেন। দেখা গেল নিচে সাগরের মত পানি। তখন সকলে ইচ্ছামত পানি পান করলেন এবং পাত্র ভরে রাখলেন এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং আল্লাহ ও রাফের প্রশংসা করলেন। অতঃপর তাদের ঘোড়া ও উটগুলোকে পানি পান করা হল। যে সব মুসলমান ক্লান্তির কারণে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তাদের খোঁজে পানি নিয়ে দৌড়ে গেলেন। গিয়ে তাদেরকে পানি পান করানো হল এবং তাদেরও ক্লান্তি দূর হল। অতঃপর দ্বিতীয় দিন তারা দ্রুত চলতে থাকে এবং আরাকা পৌঁছার জন্য আর একটি মঞ্জিল বাকী থাকে।
এক পর্যায়ে তিনি আরাক নামীয় একটি গাছের কাছে পৌঁছলেন এবং আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিলেন। তার সাথে সাথে বাকীরা সবাই শ্লোগান দেয়। অতঃপর বললেন, এখানে খনন করুন। সবাই খনন কাজে লেগে গেলেন। দেখা গেল নিচে সাগরের মত পানি। তখন সকলে ইচ্ছামত পানি পান করলেন এবং পাত্র ভরে রাখলেন এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং আল্লাহ ও রাফের প্রশংসা করলেন। অতঃপর তাদের ঘোড়া ও উটগুলোকে পানি পান করা হল। যে সব মুসলমান ক্লান্তির কারণে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তাদের খোঁজে পানি নিয়ে দৌড়ে গেলেন। গিয়ে তাদেরকে পানি পান করানো হল এবং তাদেরও ক্লান্তি দূর হল। অতঃপর দ্বিতীয় দিন তারা দ্রুত চলতে থাকে এবং আরাকা পৌঁছার জন্য আর একটি মঞ্জিল বাকী থাকে।
📄 বন্দী আমেরের মুক্তি কাহিনী
চলার পথে তারা একটি জনবসতির কাছে এসে পৌঁছল। এ এলাকায় ছাগল ও উট। মুসলমানগণ সেদিকে দৌড়ে গেলে দেখতে পেলেন, এক রাখাল মদ পান করছে এবং তার পাশে একজন আরব বন্দী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে মুসলমানগণ চিনে ফেললেন যে, তিনি হযরত খালেদের পাঠানো দূত আমের বিন তুফাইল। তখন হযরত খালিদ দ্রুত তার দিকে চলে আসলেন। তাকে দেখতে পেয়ে হযরত খালিদ মৃদু হাসলেন এবং বললেন, হে ইবনে তুফাইল! তুমি কীভাবে বন্দী হয়েছ? বলল, আমি যখন এ গ্রাম পর্যন্ত এসে পৌঁছি, তখন খুব গরম অনুভব করছিলাম এবং পিপাসার্ত হয়ে পড়লাম। তাই আমি এ রাখালের নিকট আসলাম কিছু দুধ পান করা যায় কিনা দেখার জন্য। এসে দেখলাম সে মদ পান করছে। আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর শত্রু! তুমি কি হারাম হওয়া সত্ত্বেও মদ পান করছো? সে বলল, জনাব আমি মদ পান করছি না। এ হচ্ছে ঠান্ডা ও পরিষ্কার মিষ্টি পানি। বিশ্বাস না হলে নেমে পাত্রের বাকী পানি গুলোতে মুখ দিয়ে দেখুন। যদি মদ হয় তাহলে আপনি যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। তার কথা শোনে আমি বাহন থেকে নেমে হাটু গেড়ে বসলাম। কিন্তু রাখাল হঠাৎ তার পার্শ্বে পড়ে থাকা একটি লাঠি নিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে গেল। আমি উঠে দাঁড়াতে চাইলাম। কিন্তু সে দ্রুত রশি নিয়ে এসে আমাকে শক্ত ভাবে বেধে ফেলল এবং আমাকে বলল, আমি মনে করি, তুমি মুহাম্মদের সহচর। অতএব, আমি তোমাকে আমার মালিক সম্রাটের কাছ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত ছাড়ব না। আমি বললাম, তোমার মালিক কে? বলল কাদ্দাহ বিন ওয়ায়েলা। সেদিন থেকে আমি এ রাখালের হাতে বন্দী। সে যখনই মদ পান করে তখনই আমাকে তার কাছে নিয়ে আসে, যেমন আপনি দেখতে পাচ্ছেন আর মদ খেয়ে যা থেকে যায় তা আমার দিকে ছুড়ে মারে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ আমের বিন তুফাইলের কাছে তার এ দুঃসহ ঘটনা শুনে খুব ক্রুদ্ধ হলেন এবং রাখালের কাছে গিয়ে তার উপর তীব্র ভাবে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অতঃপর মুসলমানগণ তার মাল, ছাগল ও উটসহ ঐ গ্রামে যা ছিল, সব তুলে নিয়ে আসে। আমেরকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করার পর হযরত খালেদ তাকে বললেন, আমার চিঠিটা কোথায় আমের? বলল, এটা আমার পাগড়ির ভিতর। রাখাল পত্রটি দেখেনি। হযরত খালিদ বললেন, ওটা নিয়ে আল্লাহর নামে চলে যাও। আমের চিঠি নিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে যান।
চলার পথে তারা একটি জনবসতির কাছে এসে পৌঁছল। এ এলাকায় ছাগল ও উট। মুসলমানগণ সেদিকে দৌড়ে গেলে দেখতে পেলেন, এক রাখাল মদ পান করছে এবং তার পাশে একজন আরব বন্দী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে মুসলমানগণ চিনে ফেললেন যে, তিনি হযরত খালেদের পাঠানো দূত আমের বিন তুফাইল। তখন হযরত খালিদ দ্রুত তার দিকে চলে আসলেন। তাকে দেখতে পেয়ে হযরত খালিদ মৃদু হাসলেন এবং বললেন, হে ইবনে তুফাইল! তুমি কীভাবে বন্দী হয়েছ? বলল, আমি যখন এ গ্রাম পর্যন্ত এসে পৌঁছি, তখন খুব গরম অনুভব করছিলাম এবং পিপাসার্ত হয়ে পড়লাম। তাই আমি এ রাখালের নিকট আসলাম কিছু দুধ পান করা যায় কিনা দেখার জন্য। এসে দেখলাম সে মদ পান করছে। আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর শত্রু! তুমি কি হারাম হওয়া সত্ত্বেও মদ পান করছো? সে বলল, জনাব আমি মদ পান করছি না। এ হচ্ছে ঠান্ডা ও পরিষ্কার মিষ্টি পানি। বিশ্বাস না হলে নেমে পাত্রের বাকী পানি গুলোতে মুখ দিয়ে দেখুন। যদি মদ হয় তাহলে আপনি যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। তার কথা শোনে আমি বাহন থেকে নেমে হাটু গেড়ে বসলাম। কিন্তু রাখাল হঠাৎ তার পার্শ্বে পড়ে থাকা একটি লাঠি নিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে গেল। আমি উঠে দাঁড়াতে চাইলাম। কিন্তু সে দ্রুত রশি নিয়ে এসে আমাকে শক্ত ভাবে বেধে ফেলল এবং আমাকে বলল, আমি মনে করি, তুমি মুহাম্মদের সহচর। অতএব, আমি তোমাকে আমার মালিক সম্রাটের কাছ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত ছাড়ব না। আমি বললাম, তোমার মালিক কে? বলল কাদ্দাহ বিন ওয়ায়েলা। সেদিন থেকে আমি এ রাখালের হাতে বন্দী। সে যখনই মদ পান করে তখনই আমাকে তার কাছে নিয়ে আসে, যেমন আপনি দেখতে পাচ্ছেন আর মদ খেয়ে যা থেকে যায় তা আমার দিকে ছুড়ে মারে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ আমের বিন তুফাইলের কাছে তার এ দুঃসহ ঘটনা শুনে খুব ক্রুদ্ধ হলেন এবং রাখালের কাছে গিয়ে তার উপর তীব্র ভাবে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অতঃপর মুসলমানগণ তার মাল, ছাগল ও উটসহ ঐ গ্রামে যা ছিল, সব তুলে নিয়ে আসে। আমেরকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করার পর হযরত খালেদ তাকে বললেন, আমার চিঠিটা কোথায় আমের? বলল, এটা আমার পাগড়ির ভিতর। রাখাল পত্রটি দেখেনি। হযরত খালিদ বললেন, ওটা নিয়ে আল্লাহর নামে চলে যাও। আমের চিঠি নিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে যান।
📄 আরাকা এসে এক রোমান দার্শনিকের সাক্ষাত লাভ
হযরত খালিদ রওয়ানা হয়ে আরাকা নামে এলাকায় পৌঁছেন। এটি ইরাক ত্যাগকারীদের প্রথম যাত্রা বিরতির স্থান। এখানে রোমানদের একটি চেক পোষ্ট ছিল। রোমানরা সেখানে কিছু মুসাফিরকে আটক করে রাখে। আর সেখানে রোম সম্রাটের পক্ষ থেকে একজন নেতা অবস্থান করছিল। হযরত খালিদ তাদের উপর হামলা করে তাদের মাল-পত্র তুলে নেন এবং সেখানের বাসিন্দারা তাদের দূর্গে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে। এখানে একজন রোমীয় দার্শনিক বাস করতেন। তিনি প্রাচীন কিতাব ও যুদ্ধের ইতিহাস পড়েছিলেন। মুসলমানগণকে দেখার পর তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং বলেন সময় নিকটবর্তী হয়েছে এবং আমার দ্বীন সত্যরূপে প্রতিভাত হয়েছে। তখন ওই এলাকার লোকজন তাকে বলল, তা কীভাবে হয়? তিনি বললেন, আমার কাছে একটি পুথি আছে। তাতে এদের প্রসঙ্গ আলোচিত হয়েছে। তাদের হাতে যে ঝান্ডা রয়েছে তা বিজয়ী ঝান্ডা। এখন রোমানদের পতন কাল ঘনিয়ে এসেছে। তোমরা দেখ, যদি তাদের ঝান্ডা কাল হয় এবং তাদের আমীর ঘনদাড়ি ওয়ালা, লম্বা, মোটা, উভয় কাধের মাঝখানে বেশ দুরত্ব হয় ও তার মুখে উজ্জল ছাপ থাকে, তাহলে তিনি সিরিয়ার জন্য তাদের সেনাপতি এবং তার হাতেই সিরিয়ার পতন ঘটবে। তখন লোকজন মুসলিম সৈন্যদের প্রতি তাকিয়ে দেখতে পেল যে ঝান্ডা হযরত খালেদের হাতে এবং তার অবয়ব বিদ্বান লোকটি যেরকম বলেছিলেন সেরকম। তখন লোকজন তাদের সেনাপতির কাছে গিয়ে বলল, আপনি জানেন যে, আমাদের এখানের বিদ্বান লোকটি সব সময় সত্য ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাই বলেন। তিনি এমন এমন বলেছেন এবং তিনি যা বলেছেন আমরা স্বচক্ষে তাই দেখেছি। এখন আমরা যা ভাল মনে করি, তা হচ্ছে আরবদের সাথে সন্ধি করে জান ও মাল নিরাপদ রাখা। একথা শোনে সেনাপতি বলল, আমাকে আগামীকাল পর্যন্ত সময় দেন, যাতে আমি এব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। সেনাপতি রাতভর চিন্তাভাবনা করলেন। তিনি ছিলেন একজন সমঝদার, বিচক্ষন ও পরিণামদর্শী লোক। তিনি বললেন, যদি আমি এদের বিরোধীতা করি, তাহলে এরা আমাকে ধরে আরবদের হাতে তুলে দিতে পারে। আর এটা তো বাস্তব যে রোবীস এক বিশাল বাহিনীসহ আরবদের হাতে পরাজয় বরণ করেছে। তার এসব কথা ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠে তিনি জনসাধারণকে ডাকলেন এবং বললেন, আপনারা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বলল, আরবদের সাথে সন্ধি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তখন সেনাপতি বললেন, আমিও আপনাদের সাথে একমত। অতঃপর এলাকার মুরুব্বীগণ হযরত খালেদের কাছে গেলেন এবং তার সাথে সন্ধির ব্যাপারে কথা বললেন। তিনি তাদের সন্ধির আহবানে সাড়া দিলেন এবং যাতে পাশের এলাকা ও কাদমার লোকদের মাঝে মুসলমানদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সে জন্য তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও বিনয়পূর্ণ আচরণ করলেন। হযরত খালিদ সন্ধির আহবানে সাড়া দিলে তাদের শাসক কাওকাব লোকজনকে জমায়েত করে বললেন- بلغني عن هئولاء العرب أنهم فتحوا أركة والسخنة وأن قومنا يتحدثون بعدلهم وحسن سيرتهم وأنهم لا يطلبون الفساد، وهذا حصن مانع لا سبيل لأحد علينا ولكن نخاف على نخلنا وزرعنا ، وما يضرنا أن نصالح العرب، فإن كان قومنا هم الغالبين فسخنا صلحهم، وإن كان العرب ظافرين كنا آمنين. "এ আরবদের সম্পর্কে আমার কাছে এ খবর পৌঁছেছে যে, তারা আরাকা ও সাখানা পদানত করেছে এবং আমাদের লোকেরা তাদের ন্যায়পরায়ণতা ও সৎ চরিত্রের ভূয়সি প্রশংসা করছে। তারা এখানে ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। আমাদের আশ্রয় গ্রহনের জন্য এ অজেয় দূর্গ রয়েছে। কিন্তু আমাদের খেজুর ও ক্ষেতের ব্যাপারেই একমাত্র আশংকা রয়েছে। আরবদের সাথে সন্ধি করাতে আমাদের কোন ক্ষতি নেই। যদি আমাদের লোকেরা তাদের উপর বিজয় লাভ করে, তাহলে আমারা সন্ধি ভঙ্গ করব। আর যদি আরবরা বিজয়ী হয়, তাহলে তো আমরা নিরাপদ থাকবই"। কাওকবের এ কথা শোনে লোকজন খুশী হলেন এবং হযরত খালিদের জন্য আপ্যায়নের আয়োজন শুরু করলেন। হযরত খালিদ তাদের নিকট এসে পৌঁছলে তারা তাকে আপ্যায়ন করেন। আপ্যায়ন গ্রহণ শেষে হযরত খালিদ তিন শত স্বর্নের উকিয়ার বিনিময়ে তাদেরকে একটি সন্ধি পত্র লিখে দিলেন। অতঃপর তিনি হাওরানের দিকে রওয়ানা হলেন। অন্য দিকে হযরত আমের বিন তুফাইল হযরত খালিদের পত্র নিয়ে হযরত আবু উবাইদার কাছে পৌঁছে যান। হযরত আবু উবাইদা পত্র পড়ে মৃদু হাসলেন এবং বললেন, আল্লাহু আকবার। রাসুলের খলীফার কথা শোনলাম ও মেনে নিলাম। অতঃপর তিনি লোকজনকে তার অব্যাহতি ও হযরত খালিদের আমীরত্ব সম্পর্কে অবহিত করলেন।
হযরত খালিদ রওয়ানা হয়ে আরাকা নামে এলাকায় পৌঁছেন। এটি ইরাক ত্যাগকারীদের প্রথম যাত্রা বিরতির স্থান। এখানে রোমানদের একটি চেক পোষ্ট ছিল। রোমানরা সেখানে কিছু মুসাফিরকে আটক করে রাখে। আর সেখানে রোম সম্রাটের পক্ষ থেকে একজন নেতা অবস্থান করছিল। হযরত খালিদ তাদের উপর হামলা করে তাদের মাল-পত্র তুলে নেন এবং সেখানের বাসিন্দারা তাদের দূর্গে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে। এখানে একজন রোমীয় দার্শনিক বাস করতেন। তিনি প্রাচীন কিতাব ও যুদ্ধের ইতিহাস পড়েছিলেন। মুসলমানগণকে দেখার পর তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং বলেন সময় নিকটবর্তী হয়েছে এবং আমার দ্বীন সত্যরূপে প্রতিভাত হয়েছে। তখন ওই এলাকার লোকজন তাকে বলল, তা কীভাবে হয়? তিনি বললেন, আমার কাছে একটি পুথি আছে। তাতে এদের প্রসঙ্গ আলোচিত হয়েছে। তাদের হাতে যে ঝান্ডা রয়েছে তা বিজয়ী ঝান্ডা। এখন রোমানদের পতন কাল ঘনিয়ে এসেছে। তোমরা দেখ, যদি তাদের ঝান্ডা কাল হয় এবং তাদের আমীর ঘনদাড়ি ওয়ালা, লম্বা, মোটা, উভয় কাধের মাঝখানে বেশ দুরত্ব হয় ও তার মুখে উজ্জল ছাপ থাকে, তাহলে তিনি সিরিয়ার জন্য তাদের সেনাপতি এবং তার হাতেই সিরিয়ার পতন ঘটবে। তখন লোকজন মুসলিম সৈন্যদের প্রতি তাকিয়ে দেখতে পেল যে ঝান্ডা হযরত খালেদের হাতে এবং তার অবয়ব বিদ্বান লোকটি যেরকম বলেছিলেন সেরকম। তখন লোকজন তাদের সেনাপতির কাছে গিয়ে বলল, আপনি জানেন যে, আমাদের এখানের বিদ্বান লোকটি সব সময় সত্য ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাই বলেন। তিনি এমন এমন বলেছেন এবং তিনি যা বলেছেন আমরা স্বচক্ষে তাই দেখেছি। এখন আমরা যা ভাল মনে করি, তা হচ্ছে আরবদের সাথে সন্ধি করে জান ও মাল নিরাপদ রাখা। একথা শোনে সেনাপতি বলল, আমাকে আগামীকাল পর্যন্ত সময় দেন, যাতে আমি এব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। সেনাপতি রাতভর চিন্তাভাবনা করলেন। তিনি ছিলেন একজন সমঝদার, বিচক্ষন ও পরিণামদর্শী লোক। তিনি বললেন, যদি আমি এদের বিরোধীতা করি, তাহলে এরা আমাকে ধরে আরবদের হাতে তুলে দিতে পারে। আর এটা তো বাস্তব যে রোবীস এক বিশাল বাহিনীসহ আরবদের হাতে পরাজয় বরণ করেছে। তার এসব কথা ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠে তিনি জনসাধারণকে ডাকলেন এবং বললেন, আপনারা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বলল, আরবদের সাথে সন্ধি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তখন সেনাপতি বললেন, আমিও আপনাদের সাথে একমত। অতঃপর এলাকার মুরুব্বীগণ হযরত খালেদের কাছে গেলেন এবং তার সাথে সন্ধির ব্যাপারে কথা বললেন। তিনি তাদের সন্ধির আহবানে সাড়া দিলেন এবং যাতে পাশের এলাকা ও কাদমার লোকদের মাঝে মুসলমানদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সে জন্য তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও বিনয়পূর্ণ আচরণ করলেন। হযরত খালিদ সন্ধির আহবানে সাড়া দিলে তাদের শাসক কাওকাব লোকজনকে জমায়েত করে বললেন- এ আরবদের সম্পর্কে আমার কাছে এ খবর পৌঁছেছে যে, তারা আরাকা ও সাখানা পদানত করেছে এবং আমাদের লোকেরা তাদের ন্যায়পরায়ণতা ও সৎ চরিত্রের ভূয়সি প্রশংসা করছে। তারা এখানে ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। আমাদের আশ্রয় গ্রহনের জন্য এ অজেয় দূর্গ রয়েছে। কিন্তু আমাদের খেজুর ও ক্ষেতের ব্যাপারেই একমাত্র আশংকা রয়েছে। আরবদের সাথে সন্ধি করাতে আমাদের কোন ক্ষতি নেই। যদি আমাদের লোকেরা তাদের উপর বিজয় লাভ করে, তাহলে আমারা সন্ধি ভঙ্গ করব। আর যদি আরবরা বিজয়ী হয়, তাহলে তো আমরা নিরাপদ থাকবই। কাওকবের এ কথা শোনে লোকজন খুশী হলেন এবং হযরত খালিদের জন্য আপ্যায়নের আয়োজন শুরু করলেন। হযরত খালিদ তাদের নিকট এসে পৌঁছলে তারা তাকে আপ্যায়ন করেন। আপ্যায়ন গ্রহণ শেষে হযরত খালিদ তিন শত স্বর্নের উকিয়ার বিনিময়ে তাদেরকে একটি সন্ধি পত্র লিখে দিলেন। অতঃপর তিনি হাওরানের দিকে রওয়ানা হলেন। অন্য দিকে হযরত আমের বিন তুফাইল হযরত খালিদের পত্র নিয়ে হযরত আবু উবাইদার কাছে পৌঁছে যান। হযরত আবু উবাইদা পত্র পড়ে মৃদু হাসলেন এবং বললেন, আল্লাহু আকবার। রাসুলের খলীফার কথা শোনলাম ও মেনে নিলাম। অতঃপর তিনি লোকজনকে তার অব্যাহতি ও হযরত খালিদের আমীরত্ব সম্পর্কে অবহিত করলেন।