📄 দুর্গম পথে মুসলিম বাহিনী
অন্য দিকে হযরত খালিদ যখন যাত্রা পথে সামাওয়াত নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছন, তখন বললেন, হে লোক সকল! তোমরা বেশী করে পানি না নেওয়া ছাড়া এ এলাকায় প্রবেশ করো না। কারণ, ওখানে পানি খুব কম। আমরা হলাম বিশাল বাহিনী। অথচ আমাদের নিকট যে পানি রয়েছে, তা খুব অল্প। তখন হযরত রাফে বিন উমাইরা আততাঈ তাঁকে বললেন, আমীর সাহেব! আমি আপনাকে একটি পরামর্শ দিতে চাচ্ছি। তিনি বলেন, ওহে রাফে! আল্লাহ তোমাকে আমাদের জন্য সঠিক পরামর্শ ও কল্যাণের তওফীক দান করুন। তখন হযরত রাফে ত্রিশটি উট নিয়ে সেগুলোকে সাতদিন পর্যন্ত পিপাসার্ত রাখলেন। অতঃপর সেগুলোকে পানির কাছে নিয়ে যাওয়া হল। তখন তারা পানি পান করা শেষ করল। তাদের নাকে ছিদ্র করে দেয়া হল। এরপর তারা তাদের বাহনে সওয়ার হয়ে চলা আরম্ভ করল। এর পর থেকে তারা যখন কোন জায়গায় গিয়ে আরাম করত, তখন দশটি উট জবাই করে তাদের পেটের পানি গুলো বের করে তাদের পাত্র ভরে রাখত এবং গোশত গুলো আহার করত। এভাবে চলতে চলতে উট সবই শেষ হল এবং পানিও সব শেষ হযে যায়। এরপর পানি ছাড়া তারা দু'টি মনজিল অতিক্রম করে।
অন্য দিকে হযরত খালিদ যখন যাত্রা পথে সামাওয়াত নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছন, তখন বললেন, হে লোক সকল! তোমরা বেশী করে পানি না নেওয়া ছাড়া এ এলাকায় প্রবেশ করো না। কারণ, ওখানে পানি খুব কম। আমরা হলাম বিশাল বাহিনী। অথচ আমাদের নিকট যে পানি রয়েছে, তা খুব অল্প। তখন হযরত রাফে বিন উমাইরা আততাঈ তাঁকে বললেন, আমীর সাহেব! আমি আপনাকে একটি পরামর্শ দিতে চাচ্ছি। তিনি বলেন, ওহে রাফে! আল্লাহ তোমাকে আমাদের জন্য সঠিক পরামর্শ ও কল্যাণের তওফীক দান করুন। তখন হযরত রাফে ত্রিশটি উট নিয়ে সেগুলোকে সাতদিন পর্যন্ত পিপাসার্ত রাখলেন। অতঃপর সেগুলোকে পানির কাছে নিয়ে যাওয়া হল। তখন তারা পানি পান করা শেষ করল। তাদের নাকে ছিদ্র করে দেয়া হল। এরপর তারা তাদের বাহনে সওয়ার হয়ে চলা আরম্ভ করল। এর পর থেকে তারা যখন কোন জায়গায় গিয়ে আরাম করত, তখন দশটি উট জবাই করে তাদের পেটের পানি গুলো বের করে তাদের পাত্র ভরে রাখত এবং গোশত গুলো আহার করত। এভাবে চলতে চলতে উট সবই শেষ হল এবং পানিও সব শেষ হযে যায়। এরপর পানি ছাড়া তারা দু'টি মনজিল অতিক্রম করে।
📄 পানির জন্য হাহাকার
হযরত খালিদ ও তার সাথীরা পানির অভাবে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। হযরত খালিদ বললেন, ওহে রাফে! আমরাতো মৃত্যুর কাছাকাছি এসে পৌঁছে গেছি। তুমি কি কোন পানির সন্ধান করতে পার? তখন রাফে'র চক্ষু প্রদর রোগ হয়েছিল। তিনি বললেন, আমীর সাহেব! আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমার চোখের অবস্থা। হ্যাঁ! যখন আপনারা সমতল ভূমিতে অবতরণ করবেন, তখন আমাকে খবর দিবেন। তারা যখন সমতল ভূমিতে এসে পৌঁছল, তখন এ খবর রাফে'কে জানানো হল। তখন তিনি তার চোখ থেকে তার পাগড়ীর প্রান্ত সরালেন এবং তার বাহনে করে ডানে বামে চলতে লাগলেন। বাকী লোকজনও তার পেছনে ছুটে চলছেন।
হযরত খালিদ ও তার সাথীরা পানির অভাবে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। হযরত খালিদ বললেন, ওহে রাফে! আমরাতো মৃত্যুর কাছাকাছি এসে পৌঁছে গেছি। তুমি কি কোন পানির সন্ধান করতে পার? তখন রাফে'র চক্ষু প্রদর রোগ হয়েছিল। তিনি বললেন, আমীর সাহেব! আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমার চোখের অবস্থা। হ্যাঁ! যখন আপনারা সমতল ভূমিতে অবতরণ করবেন, তখন আমাকে খবর দিবেন। তারা যখন সমতল ভূমিতে এসে পৌঁছল, তখন এ খবর রাফে'কে জানানো হল। তখন তিনি তার চোখ থেকে তার পাগড়ীর প্রান্ত সরালেন এবং তার বাহনে করে ডানে বামে চলতে লাগলেন। বাকী লোকজনও তার পেছনে ছুটে চলছেন।
📄 পাওয়া গেল পানি
এক পর্যায়ে তিনি আরাক নামীয় একটি গাছের কাছে পৌঁছলেন এবং আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিলেন। তার সাথে সাথে বাকীরা সবাই শ্লোগান দেয়। অতঃপর বললেন, এখানে খনন করুন। সবাই খনন কাজে লেগে গেলেন। দেখা গেল নিচে সাগরের মত পানি। তখন সকলে ইচ্ছামত পানি পান করলেন এবং পাত্র ভরে রাখলেন এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং আল্লাহ ও রাফের প্রশংসা করলেন। অতঃপর তাদের ঘোড়া ও উটগুলোকে পানি পান করা হল। যে সব মুসলমান ক্লান্তির কারণে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তাদের খোঁজে পানি নিয়ে দৌড়ে গেলেন। গিয়ে তাদেরকে পানি পান করানো হল এবং তাদেরও ক্লান্তি দূর হল। অতঃপর দ্বিতীয় দিন তারা দ্রুত চলতে থাকে এবং আরাকা পৌঁছার জন্য আর একটি মঞ্জিল বাকী থাকে।
এক পর্যায়ে তিনি আরাক নামীয় একটি গাছের কাছে পৌঁছলেন এবং আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিলেন। তার সাথে সাথে বাকীরা সবাই শ্লোগান দেয়। অতঃপর বললেন, এখানে খনন করুন। সবাই খনন কাজে লেগে গেলেন। দেখা গেল নিচে সাগরের মত পানি। তখন সকলে ইচ্ছামত পানি পান করলেন এবং পাত্র ভরে রাখলেন এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং আল্লাহ ও রাফের প্রশংসা করলেন। অতঃপর তাদের ঘোড়া ও উটগুলোকে পানি পান করা হল। যে সব মুসলমান ক্লান্তির কারণে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তাদের খোঁজে পানি নিয়ে দৌড়ে গেলেন। গিয়ে তাদেরকে পানি পান করানো হল এবং তাদেরও ক্লান্তি দূর হল। অতঃপর দ্বিতীয় দিন তারা দ্রুত চলতে থাকে এবং আরাকা পৌঁছার জন্য আর একটি মঞ্জিল বাকী থাকে।
📄 বন্দী আমেরের মুক্তি কাহিনী
চলার পথে তারা একটি জনবসতির কাছে এসে পৌঁছল। এ এলাকায় ছাগল ও উট। মুসলমানগণ সেদিকে দৌড়ে গেলে দেখতে পেলেন, এক রাখাল মদ পান করছে এবং তার পাশে একজন আরব বন্দী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে মুসলমানগণ চিনে ফেললেন যে, তিনি হযরত খালেদের পাঠানো দূত আমের বিন তুফাইল। তখন হযরত খালিদ দ্রুত তার দিকে চলে আসলেন। তাকে দেখতে পেয়ে হযরত খালিদ মৃদু হাসলেন এবং বললেন, হে ইবনে তুফাইল! তুমি কীভাবে বন্দী হয়েছ? বলল, আমি যখন এ গ্রাম পর্যন্ত এসে পৌঁছি, তখন খুব গরম অনুভব করছিলাম এবং পিপাসার্ত হয়ে পড়লাম। তাই আমি এ রাখালের নিকট আসলাম কিছু দুধ পান করা যায় কিনা দেখার জন্য। এসে দেখলাম সে মদ পান করছে। আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর শত্রু! তুমি কি হারাম হওয়া সত্ত্বেও মদ পান করছো? সে বলল, জনাব আমি মদ পান করছি না। এ হচ্ছে ঠান্ডা ও পরিষ্কার মিষ্টি পানি। বিশ্বাস না হলে নেমে পাত্রের বাকী পানি গুলোতে মুখ দিয়ে দেখুন। যদি মদ হয় তাহলে আপনি যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। তার কথা শোনে আমি বাহন থেকে নেমে হাটু গেড়ে বসলাম। কিন্তু রাখাল হঠাৎ তার পার্শ্বে পড়ে থাকা একটি লাঠি নিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে গেল। আমি উঠে দাঁড়াতে চাইলাম। কিন্তু সে দ্রুত রশি নিয়ে এসে আমাকে শক্ত ভাবে বেধে ফেলল এবং আমাকে বলল, আমি মনে করি, তুমি মুহাম্মদের সহচর। অতএব, আমি তোমাকে আমার মালিক সম্রাটের কাছ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত ছাড়ব না। আমি বললাম, তোমার মালিক কে? বলল কাদ্দাহ বিন ওয়ায়েলা। সেদিন থেকে আমি এ রাখালের হাতে বন্দী। সে যখনই মদ পান করে তখনই আমাকে তার কাছে নিয়ে আসে, যেমন আপনি দেখতে পাচ্ছেন আর মদ খেয়ে যা থেকে যায় তা আমার দিকে ছুড়ে মারে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ আমের বিন তুফাইলের কাছে তার এ দুঃসহ ঘটনা শুনে খুব ক্রুদ্ধ হলেন এবং রাখালের কাছে গিয়ে তার উপর তীব্র ভাবে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অতঃপর মুসলমানগণ তার মাল, ছাগল ও উটসহ ঐ গ্রামে যা ছিল, সব তুলে নিয়ে আসে। আমেরকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করার পর হযরত খালেদ তাকে বললেন, আমার চিঠিটা কোথায় আমের? বলল, এটা আমার পাগড়ির ভিতর। রাখাল পত্রটি দেখেনি। হযরত খালিদ বললেন, ওটা নিয়ে আল্লাহর নামে চলে যাও। আমের চিঠি নিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে যান।
চলার পথে তারা একটি জনবসতির কাছে এসে পৌঁছল। এ এলাকায় ছাগল ও উট। মুসলমানগণ সেদিকে দৌড়ে গেলে দেখতে পেলেন, এক রাখাল মদ পান করছে এবং তার পাশে একজন আরব বন্দী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে মুসলমানগণ চিনে ফেললেন যে, তিনি হযরত খালেদের পাঠানো দূত আমের বিন তুফাইল। তখন হযরত খালিদ দ্রুত তার দিকে চলে আসলেন। তাকে দেখতে পেয়ে হযরত খালিদ মৃদু হাসলেন এবং বললেন, হে ইবনে তুফাইল! তুমি কীভাবে বন্দী হয়েছ? বলল, আমি যখন এ গ্রাম পর্যন্ত এসে পৌঁছি, তখন খুব গরম অনুভব করছিলাম এবং পিপাসার্ত হয়ে পড়লাম। তাই আমি এ রাখালের নিকট আসলাম কিছু দুধ পান করা যায় কিনা দেখার জন্য। এসে দেখলাম সে মদ পান করছে। আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর শত্রু! তুমি কি হারাম হওয়া সত্ত্বেও মদ পান করছো? সে বলল, জনাব আমি মদ পান করছি না। এ হচ্ছে ঠান্ডা ও পরিষ্কার মিষ্টি পানি। বিশ্বাস না হলে নেমে পাত্রের বাকী পানি গুলোতে মুখ দিয়ে দেখুন। যদি মদ হয় তাহলে আপনি যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। তার কথা শোনে আমি বাহন থেকে নেমে হাটু গেড়ে বসলাম। কিন্তু রাখাল হঠাৎ তার পার্শ্বে পড়ে থাকা একটি লাঠি নিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে গেল। আমি উঠে দাঁড়াতে চাইলাম। কিন্তু সে দ্রুত রশি নিয়ে এসে আমাকে শক্ত ভাবে বেধে ফেলল এবং আমাকে বলল, আমি মনে করি, তুমি মুহাম্মদের সহচর। অতএব, আমি তোমাকে আমার মালিক সম্রাটের কাছ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত ছাড়ব না। আমি বললাম, তোমার মালিক কে? বলল কাদ্দাহ বিন ওয়ায়েলা। সেদিন থেকে আমি এ রাখালের হাতে বন্দী। সে যখনই মদ পান করে তখনই আমাকে তার কাছে নিয়ে আসে, যেমন আপনি দেখতে পাচ্ছেন আর মদ খেয়ে যা থেকে যায় তা আমার দিকে ছুড়ে মারে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ আমের বিন তুফাইলের কাছে তার এ দুঃসহ ঘটনা শুনে খুব ক্রুদ্ধ হলেন এবং রাখালের কাছে গিয়ে তার উপর তীব্র ভাবে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অতঃপর মুসলমানগণ তার মাল, ছাগল ও উটসহ ঐ গ্রামে যা ছিল, সব তুলে নিয়ে আসে। আমেরকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করার পর হযরত খালেদ তাকে বললেন, আমার চিঠিটা কোথায় আমের? বলল, এটা আমার পাগড়ির ভিতর। রাখাল পত্রটি দেখেনি। হযরত খালিদ বললেন, ওটা নিয়ে আল্লাহর নামে চলে যাও। আমের চিঠি নিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে যান।