📄 সিরিয়া জয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ
আবু বকর রা. একথা শোনার পর জানতে পারলেন যে হযরত আবু উবাইদা নরম প্রকৃতির এবং রোমানদের সাথে লড়াইয়ের কৌশলের বিষয়ে তিনি অনবহিত। তখন তিনি হযরত আবু উবাইদার নেতৃত্বে গমন করা সৈন্যদের নেতৃত্ব গ্রহণ করে রোমানদের সাথে লড়াই করার জন্য হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদের কাছে পত্র লেখার ইচ্ছা করলেন এবং মুসলমানদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। মুসলমানগণ বললেন, আপনি যা ভাল মনে করেন সেটাই আমাদের রায়। অতঃপর তিনি পত্র লিখলেন-
بسم الله الرحمن الرحيم من عبد الله عتيق ابن أبي قحافة إلى خالد بن الوليد، سلام عليك. أما بعد، فإنى أحمد الله الذى لا إله إلا هو وأصلى على نبيه محمد ، وإني قد وليتك على جيوش المسلمين وأمرتك بقتال الروم وأن تسارع إلى مرضاة الله عز وجل وقتال أعداء الله، وكن ممن يجاهد في الله حق جهاده . ثم كتب ( يا أيها الذين آمنوا هل أدلكم على تجارة تنجيكم من عذاب أليم ( الآية. وقد جعلتك الأمير على أبي عبيدة ومن معه.
পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহর বান্দা আতীক বিন আবু কুহাফার পক্ষ থেকে খালিদ বিন ওয়ালীদের প্রতি। তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর আমি সে মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং তার নবী মুহাম্মদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করছি। আমি তোমাকে মুসলিম বাহিনীর উপর আমীর নিযুক্ত করেছি এবং তোমাকে রোমানদের সাথে যুদ্ধ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দ্রুততা অবলম্বন ও আল্লাহর শত্রুদের সাথে লড়াইয়ের নির্দেশ দিচ্ছি। তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হও যারা আল্লাহর পথে যাথাযথ ভাবে জিহাদে লিপ্ত হয়েছে। অতঃপর এ আয়াত গুলো লিখে দিলেনঃ
"হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদের এমন একটি ব্যবসার সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। আর তা হচ্ছে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে তোমাদের জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করবে। বস্তুত একাজটিই তোমাদের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক যদি তোমরা উপলদ্ধি কর"।
আমি তোমাকে আবু উবাইদা ও তার সাথীদের উপর আমীর নিযুক্ত করছি। পত্রটি নজম বিন মাকদাম আল কিনানীর মাধ্যমে হযরত খালেদের কাছে পাঠানো হয়। নজম ইরাকে পৌঁছে দেখতে পান যে হযরত খালেদ কাদেসিয়া বিজয়ের দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছেন। তাঁর কাছে পত্র হস্তান্তর করা হল। তিনি পত্র পড়ে বললেন,,
السَّمْعُ والطَّاعَةُ لِلَّهِ وَلِخَلِيفَةِ رَسُولِ اللَّهِ "আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলে খলীফার কথা শোনলাম ও মেনে নিলাম"।
অতঃপর তিনি রাত্রেই ডান দিকের পথ দিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। এর পূর্বেই হযরত আবু উবাইদার নিকট একটি পত্র লিখেন। এতে তিনি তার অব্যাহতি ও সসৈন্যে নিজের সিরিয়া গমনের খবর দেন। আর বলেন, আমাকে হযরত আবু বকর মুসলিম বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করেছেন। অতএব আমি এসে না পৌঁছা পর্যন্ত আপনি আপনার জায়গা ছেড়ে কোথাও যাবেন না। ওয়াস সলাম। পত্র হযরত আমের ইবনে তুফাইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। তিনি একজন বীর মুসলমান ছিলেন। পত্র নিয়ে তিনি সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হন।
আবু বকর রা. একথা শোনার পর জানতে পারলেন যে হযরত আবু উবাইদা নরম প্রকৃতির এবং রোমানদের সাথে লড়াইয়ের কৌশলের বিষয়ে তিনি অনবহিত। তখন তিনি হযরত আবু উবাইদার নেতৃত্বে গমন করা সৈন্যদের নেতৃত্ব গ্রহণ করে রোমানদের সাথে লড়াই করার জন্য হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদের কাছে পত্র লেখার ইচ্ছা করলেন এবং মুসলমানদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। মুসলমানগণ বললেন, আপনি যা ভাল মনে করেন সেটাই আমাদের রায়। অতঃপর তিনি পত্র লিখলেন-
পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর বান্দা আতীক বিন আবু কুহাফার পক্ষ থেকে খালিদ বিন ওয়ালীদের প্রতি। তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর আমি সে মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং তার নবী মুহাম্মদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করছি। আমি তোমাকে মুসলিম বাহিনীর উপর আমীর নিযুক্ত করেছি এবং তোমাকে রোমানদের সাথে যুদ্ধ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দ্রুততা অবলম্বন ও আল্লাহর শত্রুদের সাথে লড়াইয়ের নির্দেশ দিচ্ছি। তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হও যারা আল্লাহর পথে যাথাযথ ভাবে জিহাদে লিপ্ত হয়েছে। অতঃপর এ আয়াত গুলো লিখে দিলেনঃ "হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদের এমন একটি ব্যবসার সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। আর তা হচ্ছে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে তোমাদের জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করবে। বস্তুত একাজটিই তোমাদের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক যদি তোমরা উপলদ্ধি কর"। আমি তোমাকে আবু উবাইদা ও তার সাথীদের উপর আমীর নিযুক্ত করছি।
পত্রটি নজম বিন মাকদাম আল কিনানীর মাধ্যমে হযরত খালেদের কাছে পাঠানো হয়। নজম ইরাকে পৌঁছে দেখতে পান যে হযরত খালেদ কাদেসিয়া বিজয়ের দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছেন। তাঁর কাছে পত্র হস্তান্তর করা হল। তিনি পত্র পড়ে বললেন,, السَّمْعُ والطَّاعَةُ لِلَّهِ وَلِخَلِيفَةِ رَسُولِ اللَّهِ "আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলে খলীফার কথা শোনলাম ও মেনে নিলাম"। অতঃপর তিনি রাত্রেই ডান দিকের পথ দিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। এর পূর্বেই হযরত আবু উবাইদার নিকট একটি পত্র লিখেন। এতে তিনি তার অব্যাহতি ও সসৈন্যে নিজের সিরিয়া গমনের খবর দেন। আর বলেন, আমাকে হযরত আবু বকর মুসলিম বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করেছেন। অতএব আমি এসে না পৌঁছা পর্যন্ত আপনি আপনার জায়গা ছেড়ে কোথাও যাবেন না। ওয়াস সলাম। পত্র হযরত আমের ইবনে তুফাইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। তিনি একজন বীর মুসলমান ছিলেন। পত্র নিয়ে তিনি সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হন।
📄 দুর্গম পথে মুসলিম বাহিনী
অন্য দিকে হযরত খালিদ যখন যাত্রা পথে সামাওয়াত নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছন, তখন বললেন, হে লোক সকল! তোমরা বেশী করে পানি না নেওয়া ছাড়া এ এলাকায় প্রবেশ করো না। কারণ, ওখানে পানি খুব কম। আমরা হলাম বিশাল বাহিনী। অথচ আমাদের নিকট যে পানি রয়েছে, তা খুব অল্প। তখন হযরত রাফে বিন উমাইরা আততাঈ তাঁকে বললেন, আমীর সাহেব! আমি আপনাকে একটি পরামর্শ দিতে চাচ্ছি। তিনি বলেন, ওহে রাফে! আল্লাহ তোমাকে আমাদের জন্য সঠিক পরামর্শ ও কল্যাণের তওফীক দান করুন। তখন হযরত রাফে ত্রিশটি উট নিয়ে সেগুলোকে সাতদিন পর্যন্ত পিপাসার্ত রাখলেন। অতঃপর সেগুলোকে পানির কাছে নিয়ে যাওয়া হল। তখন তারা পানি পান করা শেষ করল। তাদের নাকে ছিদ্র করে দেয়া হল। এরপর তারা তাদের বাহনে সওয়ার হয়ে চলা আরম্ভ করল। এর পর থেকে তারা যখন কোন জায়গায় গিয়ে আরাম করত, তখন দশটি উট জবাই করে তাদের পেটের পানি গুলো বের করে তাদের পাত্র ভরে রাখত এবং গোশত গুলো আহার করত। এভাবে চলতে চলতে উট সবই শেষ হল এবং পানিও সব শেষ হযে যায়। এরপর পানি ছাড়া তারা দু'টি মনজিল অতিক্রম করে।
অন্য দিকে হযরত খালিদ যখন যাত্রা পথে সামাওয়াত নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছন, তখন বললেন, হে লোক সকল! তোমরা বেশী করে পানি না নেওয়া ছাড়া এ এলাকায় প্রবেশ করো না। কারণ, ওখানে পানি খুব কম। আমরা হলাম বিশাল বাহিনী। অথচ আমাদের নিকট যে পানি রয়েছে, তা খুব অল্প। তখন হযরত রাফে বিন উমাইরা আততাঈ তাঁকে বললেন, আমীর সাহেব! আমি আপনাকে একটি পরামর্শ দিতে চাচ্ছি। তিনি বলেন, ওহে রাফে! আল্লাহ তোমাকে আমাদের জন্য সঠিক পরামর্শ ও কল্যাণের তওফীক দান করুন। তখন হযরত রাফে ত্রিশটি উট নিয়ে সেগুলোকে সাতদিন পর্যন্ত পিপাসার্ত রাখলেন। অতঃপর সেগুলোকে পানির কাছে নিয়ে যাওয়া হল। তখন তারা পানি পান করা শেষ করল। তাদের নাকে ছিদ্র করে দেয়া হল। এরপর তারা তাদের বাহনে সওয়ার হয়ে চলা আরম্ভ করল। এর পর থেকে তারা যখন কোন জায়গায় গিয়ে আরাম করত, তখন দশটি উট জবাই করে তাদের পেটের পানি গুলো বের করে তাদের পাত্র ভরে রাখত এবং গোশত গুলো আহার করত। এভাবে চলতে চলতে উট সবই শেষ হল এবং পানিও সব শেষ হযে যায়। এরপর পানি ছাড়া তারা দু'টি মনজিল অতিক্রম করে।
📄 পানির জন্য হাহাকার
হযরত খালিদ ও তার সাথীরা পানির অভাবে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। হযরত খালিদ বললেন, ওহে রাফে! আমরাতো মৃত্যুর কাছাকাছি এসে পৌঁছে গেছি। তুমি কি কোন পানির সন্ধান করতে পার? তখন রাফে'র চক্ষু প্রদর রোগ হয়েছিল। তিনি বললেন, আমীর সাহেব! আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমার চোখের অবস্থা। হ্যাঁ! যখন আপনারা সমতল ভূমিতে অবতরণ করবেন, তখন আমাকে খবর দিবেন। তারা যখন সমতল ভূমিতে এসে পৌঁছল, তখন এ খবর রাফে'কে জানানো হল। তখন তিনি তার চোখ থেকে তার পাগড়ীর প্রান্ত সরালেন এবং তার বাহনে করে ডানে বামে চলতে লাগলেন। বাকী লোকজনও তার পেছনে ছুটে চলছেন।
হযরত খালিদ ও তার সাথীরা পানির অভাবে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। হযরত খালিদ বললেন, ওহে রাফে! আমরাতো মৃত্যুর কাছাকাছি এসে পৌঁছে গেছি। তুমি কি কোন পানির সন্ধান করতে পার? তখন রাফে'র চক্ষু প্রদর রোগ হয়েছিল। তিনি বললেন, আমীর সাহেব! আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমার চোখের অবস্থা। হ্যাঁ! যখন আপনারা সমতল ভূমিতে অবতরণ করবেন, তখন আমাকে খবর দিবেন। তারা যখন সমতল ভূমিতে এসে পৌঁছল, তখন এ খবর রাফে'কে জানানো হল। তখন তিনি তার চোখ থেকে তার পাগড়ীর প্রান্ত সরালেন এবং তার বাহনে করে ডানে বামে চলতে লাগলেন। বাকী লোকজনও তার পেছনে ছুটে চলছেন।
📄 পাওয়া গেল পানি
এক পর্যায়ে তিনি আরাক নামীয় একটি গাছের কাছে পৌঁছলেন এবং আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিলেন। তার সাথে সাথে বাকীরা সবাই শ্লোগান দেয়। অতঃপর বললেন, এখানে খনন করুন। সবাই খনন কাজে লেগে গেলেন। দেখা গেল নিচে সাগরের মত পানি। তখন সকলে ইচ্ছামত পানি পান করলেন এবং পাত্র ভরে রাখলেন এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং আল্লাহ ও রাফের প্রশংসা করলেন। অতঃপর তাদের ঘোড়া ও উটগুলোকে পানি পান করা হল। যে সব মুসলমান ক্লান্তির কারণে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তাদের খোঁজে পানি নিয়ে দৌড়ে গেলেন। গিয়ে তাদেরকে পানি পান করানো হল এবং তাদেরও ক্লান্তি দূর হল। অতঃপর দ্বিতীয় দিন তারা দ্রুত চলতে থাকে এবং আরাকা পৌঁছার জন্য আর একটি মঞ্জিল বাকী থাকে।
এক পর্যায়ে তিনি আরাক নামীয় একটি গাছের কাছে পৌঁছলেন এবং আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিলেন। তার সাথে সাথে বাকীরা সবাই শ্লোগান দেয়। অতঃপর বললেন, এখানে খনন করুন। সবাই খনন কাজে লেগে গেলেন। দেখা গেল নিচে সাগরের মত পানি। তখন সকলে ইচ্ছামত পানি পান করলেন এবং পাত্র ভরে রাখলেন এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং আল্লাহ ও রাফের প্রশংসা করলেন। অতঃপর তাদের ঘোড়া ও উটগুলোকে পানি পান করা হল। যে সব মুসলমান ক্লান্তির কারণে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তাদের খোঁজে পানি নিয়ে দৌড়ে গেলেন। গিয়ে তাদেরকে পানি পান করানো হল এবং তাদেরও ক্লান্তি দূর হল। অতঃপর দ্বিতীয় দিন তারা দ্রুত চলতে থাকে এবং আরাকা পৌঁছার জন্য আর একটি মঞ্জিল বাকী থাকে।