📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি

📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি


মুসলমানদের সকলেই মোকাবেলা করতে আসা রোমানদের হত্যা করল। অন্যান্য রোমানরা এ অবস্থা দেখে পালিয়ে গেল। এ যুদ্ধে তিনশত বিশজন অশ্বারোহী রোম সৈন্য নিহত হয়। আর যারা পালিয়ে যায়, তারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র, খচ্চর ও খাদ্যদ্রব্য ফেলে যায়। মুসলমানগণ এসব তুলে নেয়। যেসব কৃষকদের পথ দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হল।

মুসলমানদের সকলেই মোকাবেলা করতে আসা রোমানদের হত্যা করল। অন্যান্য রোমানরা এ অবস্থা দেখে পালিয়ে গেল। এ যুদ্ধে তিনশত বিশজন অশ্বারোহী রোম সৈন্য নিহত হয়। আর যারা পালিয়ে যায়, তারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র, খচ্চর ও খাদ্যদ্রব্য ফেলে যায়। মুসলমানগণ এসব তুলে নেয়। যেসব কৃষকদের পথ দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বিজয়ী হয়ে ফিরলেন হযরত খালিদ

📄 বিজয়ী হয়ে ফিরলেন হযরত খালিদ


হযরত খালিদ গনীমত ও খাদ্রদ্রব্য নিয়ে তাঁর সাথীদেরসহ আমর ইবনুল আস রা.-এর কাছে ফিরে আসেন। হযরত আমর ইবনুল আস তারা সুস্থভাবে ফিরে আসায় খুশী হলেন এবং তাদের কৃতিত্বের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হযরত খালিদ গনীমত ও খাদ্রদ্রব্য নিয়ে তাঁর সাথীদেরসহ আমর ইবনুল আস রা.-এর কাছে ফিরে আসেন। হযরত আমর ইবনুল আস তারা সুস্থভাবে ফিরে আসায় খুশী হলেন এবং তাদের কৃতিত্বের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 মদিনায় বিজয়ের সংবাদ প্রেরণ

📄 মদিনায় বিজয়ের সংবাদ প্রেরণ


অতঃপর তিনি হযরত আবু বকর রা.-এর নিকট একটি পত্র লেখেন। এতে তিনি রোমানদের সাথে যে সব যুদ্ধ হয়েছে তার বিবরণ ও তাতে মুসলমানদের বিজয়ের কথা উল্লেখ করেন। পত্রটি আবু আমের আদদৌসীর মাধ্যমে প্রেরণ করেন। তিনি পত্র নিয়ে মদীনায় পৌঁছেন এবং হযরত আবু বকর রা.-কে পত্রটি হস্তান্তর করেন। আবু বকর রা. যখন মুসলমানদের সম্মুখে পত্রটি পড়েন তখন সবাই আনন্দিত হয় এবং আওয়াজ করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও রাসূলুল্লাহ রা.-এর উপর দরুদ পড়তে থাকে।

অতঃপর আবু বকর রা. হযরত আবু উবাইদা রা.-এর খবর জিজ্ঞেস করেন। আবু আমের বললেন, তিনি সিরিয়ার প্রবেশ পথে রয়েছেন। তবে তিনি প্রবেশের সাহস পাচ্ছেন না। তিনি নাকি শুনেছেন যে, রোম সম্রাটের সৈন্যরা আজনাদীনের চর্তুপার্শ্বে জমায়েত হয়েছে। আর তাদের সৈন্য অগণিত। তাই তিনি শত্রুরা মুসলমানদের ঘিরে হামলা করার ভয় করছেন।

অতঃপর তিনি হযরত আবু বকর রা.-এর নিকট একটি পত্র লেখেন। এতে তিনি রোমানদের সাথে যে সব যুদ্ধ হয়েছে তার বিবরণ ও তাতে মুসলমানদের বিজয়ের কথা উল্লেখ করেন। পত্রটি আবু আমের আদদৌসীর মাধ্যমে প্রেরণ করেন। তিনি পত্র নিয়ে মদীনায় পৌঁছেন এবং হযরত আবু বকর রা.-কে পত্রটি হস্তান্তর করেন। আবু বকর রা. যখন মুসলমানদের সম্মুখে পত্রটি পড়েন তখন সবাই আনন্দিত হয় এবং আওয়াজ করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও রাসূলুল্লাহ রা.-এর উপর দরুদ পড়তে থাকে।

অতঃপর আবু বকর রা. হযরত আবু উবাইদা রা.-এর খবর জিজ্ঞেস করেন। আবু আমের বললেন, তিনি সিরিয়ার প্রবেশ পথে রয়েছেন। তবে তিনি প্রবেশের সাহস পাচ্ছেন না। তিনি নাকি শুনেছেন যে, রোম সম্রাটের সৈন্যরা আজনাদীনের চর্তুপার্শ্বে জমায়েত হয়েছে। আর তারা অগণিত। তাই তিনি শত্রুরা মুসলমানদের ঘিরে হামলা করার ভয় করছেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 সিরিয়া জয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ

📄 সিরিয়া জয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ


আবু বকর রা. একথা শোনার পর জানতে পারলেন যে হযরত আবু উবাইদা নরম প্রকৃতির এবং রোমানদের সাথে লড়াইয়ের কৌশলের বিষয়ে তিনি অনবহিত। তখন তিনি হযরত আবু উবাইদার নেতৃত্বে গমন করা সৈন্যদের নেতৃত্ব গ্রহণ করে রোমানদের সাথে লড়াই করার জন্য হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদের কাছে পত্র লেখার ইচ্ছা করলেন এবং মুসলমানদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। মুসলমানগণ বললেন, আপনি যা ভাল মনে করেন সেটাই আমাদের রায়। অতঃপর তিনি পত্র লিখলেন-

بسم الله الرحمن الرحيم من عبد الله عتيق ابن أبي قحافة إلى خالد بن الوليد، سلام عليك. أما بعد، فإنى أحمد الله الذى لا إله إلا هو وأصلى على نبيه محمد ، وإني قد وليتك على جيوش المسلمين وأمرتك بقتال الروم وأن تسارع إلى مرضاة الله عز وجل وقتال أعداء الله، وكن ممن يجاهد في الله حق جهاده . ثم كتب ( يا أيها الذين آمنوا هل أدلكم على تجارة تنجيكم من عذاب أليم ( الآية. وقد جعلتك الأمير على أبي عبيدة ومن معه.

পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আল্লাহর বান্দা আতীক বিন আবু কুহাফার পক্ষ থেকে খালিদ বিন ওয়ালীদের প্রতি। তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর আমি সে মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং তার নবী মুহাম্মদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করছি। আমি তোমাকে মুসলিম বাহিনীর উপর আমীর নিযুক্ত করেছি এবং তোমাকে রোমানদের সাথে যুদ্ধ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দ্রুততা অবলম্বন ও আল্লাহর শত্রুদের সাথে লড়াইয়ের নির্দেশ দিচ্ছি। তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হও যারা আল্লাহর পথে যাথাযথ ভাবে জিহাদে লিপ্ত হয়েছে। অতঃপর এ আয়াত গুলো লিখে দিলেনঃ

"হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদের এমন একটি ব্যবসার সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। আর তা হচ্ছে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে তোমাদের জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করবে। বস্তুত একাজটিই তোমাদের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক যদি তোমরা উপলদ্ধি কর"।

আমি তোমাকে আবু উবাইদা ও তার সাথীদের উপর আমীর নিযুক্ত করছি। পত্রটি নজম বিন মাকদাম আল কিনানীর মাধ্যমে হযরত খালেদের কাছে পাঠানো হয়। নজম ইরাকে পৌঁছে দেখতে পান যে হযরত খালেদ কাদেসিয়া বিজয়ের দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছেন। তাঁর কাছে পত্র হস্তান্তর করা হল। তিনি পত্র পড়ে বললেন,,

السَّمْعُ والطَّاعَةُ لِلَّهِ وَلِخَلِيفَةِ رَسُولِ اللَّهِ "আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলে খলীফার কথা শোনলাম ও মেনে নিলাম"।

অতঃপর তিনি রাত্রেই ডান দিকের পথ দিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। এর পূর্বেই হযরত আবু উবাইদার নিকট একটি পত্র লিখেন। এতে তিনি তার অব্যাহতি ও সসৈন্যে নিজের সিরিয়া গমনের খবর দেন। আর বলেন, আমাকে হযরত আবু বকর মুসলিম বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করেছেন। অতএব আমি এসে না পৌঁছা পর্যন্ত আপনি আপনার জায়গা ছেড়ে কোথাও যাবেন না। ওয়াস সলাম। পত্র হযরত আমের ইবনে তুফাইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। তিনি একজন বীর মুসলমান ছিলেন। পত্র নিয়ে তিনি সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হন।

আবু বকর রা. একথা শোনার পর জানতে পারলেন যে হযরত আবু উবাইদা নরম প্রকৃতির এবং রোমানদের সাথে লড়াইয়ের কৌশলের বিষয়ে তিনি অনবহিত। তখন তিনি হযরত আবু উবাইদার নেতৃত্বে গমন করা সৈন্যদের নেতৃত্ব গ্রহণ করে রোমানদের সাথে লড়াই করার জন্য হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদের কাছে পত্র লেখার ইচ্ছা করলেন এবং মুসলমানদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। মুসলমানগণ বললেন, আপনি যা ভাল মনে করেন সেটাই আমাদের রায়। অতঃপর তিনি পত্র লিখলেন-

পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর বান্দা আতীক বিন আবু কুহাফার পক্ষ থেকে খালিদ বিন ওয়ালীদের প্রতি। তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর আমি সে মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং তার নবী মুহাম্মদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করছি। আমি তোমাকে মুসলিম বাহিনীর উপর আমীর নিযুক্ত করেছি এবং তোমাকে রোমানদের সাথে যুদ্ধ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দ্রুততা অবলম্বন ও আল্লাহর শত্রুদের সাথে লড়াইয়ের নির্দেশ দিচ্ছি। তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হও যারা আল্লাহর পথে যাথাযথ ভাবে জিহাদে লিপ্ত হয়েছে। অতঃপর এ আয়াত গুলো লিখে দিলেনঃ "হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদের এমন একটি ব্যবসার সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। আর তা হচ্ছে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে তোমাদের জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করবে। বস্তুত একাজটিই তোমাদের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক যদি তোমরা উপলদ্ধি কর"। আমি তোমাকে আবু উবাইদা ও তার সাথীদের উপর আমীর নিযুক্ত করছি।

পত্রটি নজম বিন মাকদাম আল কিনানীর মাধ্যমে হযরত খালেদের কাছে পাঠানো হয়। নজম ইরাকে পৌঁছে দেখতে পান যে হযরত খালেদ কাদেসিয়া বিজয়ের দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছেন। তাঁর কাছে পত্র হস্তান্তর করা হল। তিনি পত্র পড়ে বললেন,, السَّمْعُ والطَّاعَةُ لِلَّهِ وَلِخَلِيفَةِ رَسُولِ اللَّهِ "আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলে খলীফার কথা শোনলাম ও মেনে নিলাম"। অতঃপর তিনি রাত্রেই ডান দিকের পথ দিয়ে সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। এর পূর্বেই হযরত আবু উবাইদার নিকট একটি পত্র লিখেন। এতে তিনি তার অব্যাহতি ও সসৈন্যে নিজের সিরিয়া গমনের খবর দেন। আর বলেন, আমাকে হযরত আবু বকর মুসলিম বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করেছেন। অতএব আমি এসে না পৌঁছা পর্যন্ত আপনি আপনার জায়গা ছেড়ে কোথাও যাবেন না। ওয়াস সলাম। পত্র হযরত আমের ইবনে তুফাইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। তিনি একজন বীর মুসলমান ছিলেন। পত্র নিয়ে তিনি সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px