📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ছেলে হত্যার প্রতিশোধের পথে পিতা

📄 ছেলে হত্যার প্রতিশোধের পথে পিতা


অতঃপর আমর ইবনুল আসকে বললেন, আমি কিছু লোক নিয়ে শত্রুদের খোঁজে যেতে ইচ্ছুক। হয়তো আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করে গনীমত ও আমার ছেলে হত্যার প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হব। তখন আমর বললেন, হে আমার মার ছেলে! যুদ্ধ আপনার সম্মুখেই। যখন রোমানদের দেখতে পাবেন, তখনই তাদের উপর ঝাপিড়ে পড়বেন, কোন করুণা প্রদর্শন করবেন না। তখন খালেদ রা. বললেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাদের দিকে যাব। অতঃপর তিনি পাথেয় নিয়ে একাই বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন। এ অবস্থা দেখে আমর ইবনুল আস হিময়ার গোত্রের তিনশত যুবককে তার সাথে বের হওয়ার জন্য বললেন। তারা পূর্ণ একদিন পথ চলার পর পশুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য একটি উপত্যকায় গিয়ে থামলেন। হঠাৎ হযরত খালেদের দৃষ্টি একটি পাহাড়ের উপর গিয়ে পড়ল। সেখানে কিছু লোক ছিল, যাদের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না এবং সেখানে একটি উচু দূর্গও গোচরীভূত হল। তখন তিনি তাঁর সাথীদের বললেন, আমি ঐ পাহাড়ের চূড়ায় কিছু লোক দেখতে পাচ্ছি, আর আমরা রয়েছি এই উপত্যকায়। অতঃপর বললেন, তোমরা তোমাদের স্থানে থাক। এ বলে তিনি ঘোড়া থেকে নামলেন এবং নিজের তরবারীটাকে পরিধানের কাপড়ের নিচে লুকিয়ে রাখলেন। বললেন, শত্রুরা এখনো আমাদের আগমনের ব্যাপারে কিছুই জানে না। যদি তারা আমাদের প্রতি দৃষ্টি দেয় তাহলে তারা তাদের জায়গায় স্থির থাকবে না। অতএব, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছো যে নিজেকে উৎসর্গ করবে এবং আমি যা করি তাই করবে? তারা সবাই বলল, আমরা সবাই এর জন্য প্রস্তুত রয়েছি। তখন তিনি তাদেরকে নিয়ে চর্তুদিক দিয়ে পাহাড়টিকে ঘিরে ফেললেন। শত্রুরা এখোনো তাদের স্থানে। এ সময় হযরত খালেদ বললেন, এদেরকে ধর। আল্লাহ তোমাদের উপর বরকত বর্ষণ করুন। তখন মুসলমানরা তাদের দিকে দৌড়ে গিয়ে ত্রিশ জনকে হত্যা করল এবং চারজনকে বন্দী করল। হযরত খালিদ তাদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন যে, তারা সিরিয়ার কৃষক। তারা বললেন, আমরা এই স্থানের অধিবাসী এবং এ এলাকার কৃষক। আমাদের দেশে আরবদের অনুপ্রবেশকে আমরা গুরুতর ব্যাপার হিসেবে ধরে নিয়েছি। তাদের আগমনে আমরা মহা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের অনেকেই বিভিন্ন দূর্গ ও কিল্লায় আশ্রয় গ্রহণ করেছে আর আমরা এ পাহাড়কে আকড়ে ধরে আছি। কারণ, এ এলাকায় এর চেয়ে মজবুত পাহাড় আর নেই। আমরা এখানে উঠারপর আপনারা এসে আমাদের উপর হামলা করে বসলেন।

হযরত খালিদ বিন সাঈদ বললেন, রোমান সৈন্যদের ব্যাপারে তোমরা কতটুকু জানতে পেরেছ? বলল, তারা আজনাদীনেই আছে। তাদের এক সেনাপতি আমাদের কাছ থেকে তাদের জন্য ঘোড়া, উট, খচ্চর ও খচ্চর ও গাধায় করে খাদ্য নিয়ে যায়। এ সত্বেও তারা আরব অশ্বারোহীদের ভয়ে ভীত। খালিদ বিন সাঈদ তাদের কথা শোনে বললেন, কা'বার মালিকের কসম! মুসলমানদের গনীমত প্রাপ্তির সময় অত্যাসন্ন। অতঃপর বললেন, اللَّهُمَّ انْصُرْنَا عَلَيْهِمْ “হে আল্লাহ, আমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ে সাহায্য করুন"। তারপর তাদের কাছ জানতে চাইলেন, রোমান সৈন্যরা কোন পথ দিয়ে গেছে? তারা বলল, আপনারা এখন যে পথে আছেন তারা সে পথ দিয়ে গেছে। কারণ, এ পথটা সবচেয়ে প্রশস্ত। আর খাদ্য তারা শহরের চর্তুদিক থেকে তুলে নিয়েছে।

খালিদ তাদের কথা শোনে বললেন, তোমরা মুসলমান হয়ে যাও। তারা বলল, আমরা ক্রুশের ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম চিনি না। আর আমরা হলাম কৃষক। তখন হযরত খালিদ তাদেরকে হত্যা করতে চাইলেন। এসময় তার এক সাথী বললেন, তাদেরকে হত্যা করার কোন প্রয়োজন নেই। তারা আমাদেরকে শত্রুদের পথ দেখিয়ে দেবে। এতে তারা রাজী হয়। অতঃপর তারা মুসলমানদেরকে একটি বিশাল উচভূমির কাছে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রোমান সৈন্যদের দেখা যায়। উচুভূমির চতুস্পার্শে তাদের পশুগুলোকে রাখা হয় এবং সেগুলোর সাথে সাথে দেখা যায় ছয়শত অস্ত্রধারী রোমান সৈন্য। হযরত খালিদ এ অবস্থা দেখে তার সাথীদের উদ্দেশ্যে বললেন- اعلموا أن الله قد وعدكم بالنصر على عدوكم وفرض عليكم الجهاد . وهذا جيশ العدو أمامكم فارغبوا فى ثواب الله تعالى واسمعوا ما قال الله عز وجل : ( إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانَ مَرْصُوصٌ وها أنا أحمل فاحملوا ولا يخرج أحد عن صاحبه. "জেনে রেখো! আল্লাহ তোমাদেরকে শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য করার অঙ্গিকার করেছেন এবং তোমাদের উপর জিহাদ করা ফরজ করেছেন। শত্রুবাহিনী তোমাদের সম্মুখেই। অতএব, আল্লাহর প্রতিদানের প্রতি আগ্রহী হও এবং তাঁর কথার প্রতি লক্ষ্য কর: 'আল্লাহ ঐসব লোকদের ভালবাসেন, যারা তার পথে সারিবদ্ধ হয়ে এমন ভাবে লড়াই করে, যেন তারা একটি সীসাঢালা প্রাচীর'। তো এখন আমি তাদের উপর হামলা করতে যাচ্ছি। অতএব, তোমরা তাদের উপর হামলা করবে এবং কেউ তার সাথীকে ফেলে যাবে না"।

হযরত খালিদ তাদের উপর হামলা করেন। তার সাথে সাথে তার সাথীরাও সবাই হামলা করেন। রোমানরা মুসলমানদের দেখে সামনে আসল। কৃষক যারা ছিল, তারা প্রথমেই পরাজিত হল। অতঃপর অশ্বারোহীরা দিনের অনেক্ষণ পর্যন্ত ধৈর্যের সাথে লড়াই করল। এসময় যুলকিলা আল হিময়ারী তার দেশীদের যুদ্ধের প্রতি উৎসাহ দিয়ে বললেন- يا أهل حمير أبواب الجنة فتحت لكم والحور العين تزخرفت. “হে হিময়ারবাসী! তোমাদের জন্য জান্নাতের দরজা সমূহ উম্মুক্ত করা হয়ছে এবং ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট রমনীরা সজ্জিত হয়েছে”।

এসময় হযরত খালিদ শত্রুদের সেনাপতিকে তার অস্ত্র ও বিশেষ পোশাকে সজ্জিত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিনে ফেললেন। তিনি তার সামনে গিয়ে তাকবীর ধ্বনি দিয়ে তাকে ভীত করে ফেলেন এবং বললেন, ওহে! আমার ছেলে সাঈদের প্রতিশোধ নাও। তিনি একথা বলে তার উপর জোরে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে সে লুটিয়ে পড়ল। মনে হচ্ছিল সে যেন লোহার একটি পিলার। মুসলমানদের সকলেই মোকাবেলা করতে আসা রোমানদের হত্যা করল। অন্যান্য রোমানরা এ অবস্থা দেখে পালিয়ে গেল। এ যুদ্ধে তিনশত বিশজন অশ্বারোহী রোম সৈন্য নিহত হয়। আর যারা পালিয়ে যায়, তারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র, খচ্চর ও খাদ্যদ্রব্য ফেলে যায়। মুসলমানগণ এসব তুলে নেয়। যেসব কৃষকদের পথ দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 নিহত হল শত্রুনেতা

📄 নিহত হল শত্রুনেতা


এসময় হযরত খালিদ শত্রুদের সেনাপতিকে তার অস্ত্র ও বিশেষ পোশাকে সজ্জিত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিনে ফেললেন। তিনি তার সামনে গিয়ে তাকবীর ধ্বনি দিয়ে তাকে ভীত করে ফেলেন এবং বললেন, ওহে! আমার ছেলে সাঈদের প্রতিশোধ নাও। তিনি একথা বলে তার উপর জোরে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে সে লুটিয়ে পড়ল। মনে হচ্ছিল সে যেন লোহার একটি পিলার।

এসময় হযরত খালিদ শত্রুদের সেনাপতিকে তার অস্ত্র ও বিশেষ পোশাকে সজ্জিত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিনে ফেললেন। তিনি তার সামনে গিয়ে তাকবীর ধ্বনি দিয়ে তাকে ভীত করে ফেলেন এবং বললেন, ওহে! আমার ছেলে সাঈদের প্রতিশোধ নাও। তিনি একথা বলে তার উপর জোরে একটি আঘাত করলেন। আঘাতে সে লুটিয়ে পড়ল। মনে হচ্ছিল সে যেন লোহার একটি পিলার।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি

📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি


মুসলমানদের সকলেই মোকাবেলা করতে আসা রোমানদের হত্যা করল। অন্যান্য রোমানরা এ অবস্থা দেখে পালিয়ে গেল। এ যুদ্ধে তিনশত বিশজন অশ্বারোহী রোম সৈন্য নিহত হয়। আর যারা পালিয়ে যায়, তারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র, খচ্চর ও খাদ্যদ্রব্য ফেলে যায়। মুসলমানগণ এসব তুলে নেয়। যেসব কৃষকদের পথ দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হল।

মুসলমানদের সকলেই মোকাবেলা করতে আসা রোমানদের হত্যা করল। অন্যান্য রোমানরা এ অবস্থা দেখে পালিয়ে গেল। এ যুদ্ধে তিনশত বিশজন অশ্বারোহী রোম সৈন্য নিহত হয়। আর যারা পালিয়ে যায়, তারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র, খচ্চর ও খাদ্যদ্রব্য ফেলে যায়। মুসলমানগণ এসব তুলে নেয়। যেসব কৃষকদের পথ দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 বিজয়ী হয়ে ফিরলেন হযরত খালিদ

📄 বিজয়ী হয়ে ফিরলেন হযরত খালিদ


হযরত খালিদ গনীমত ও খাদ্রদ্রব্য নিয়ে তাঁর সাথীদেরসহ আমর ইবনুল আস রা.-এর কাছে ফিরে আসেন। হযরত আমর ইবনুল আস তারা সুস্থভাবে ফিরে আসায় খুশী হলেন এবং তাদের কৃতিত্বের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হযরত খালিদ গনীমত ও খাদ্রদ্রব্য নিয়ে তাঁর সাথীদেরসহ আমর ইবনুল আস রা.-এর কাছে ফিরে আসেন। হযরত আমর ইবনুল আস তারা সুস্থভাবে ফিরে আসায় খুশী হলেন এবং তাদের কৃতিত্বের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px