📄 আসমানী সাহায্য
আবদুল্লাহ বিন উমর রা. বলেন, সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ চলতে থাকে। এ সময় বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু তারপরও যুদ্ধ থামেনি। হঠাৎ আমি আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পেলাম, আসমানে একটি ছিদ্র যা দিয়ে উল্কাপিন্ডের মত কতগুলো অশ্বারোহী সবুজ পতাকা নিয়ে বের হয়ে আসছে। যাদের তরবারী ঝলমল করছে এবং তারা সাহায্যের কথা ঘোষণা করে বলছে, 'হে মুহাম্মদ সা. এর উম্মতরা! সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহ তোমাদের জন্য সাহায্য নিয়ে এসেছেন'। দেখলাম, কিছুক্ষণ পরপরই রোমানরা পরাজিত হয়ে পালিয়ে চলে যাচ্ছে এবং মুসলমানগণ তাদের ঘোড়া নিয়ে ওদের ধাওয়া করে হত্যা করছে। মুসলমানদের ঘোড়া গুলো রোমানদের ঘোড়ার চেয়ে দ্রুতগামী ছিল।
📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি
আবদুল্লাহ বিন উমর রা. বলেন, এ যুদ্ধে আমরা পনের হাজারের চেয়ে বেশী রোমান সৈন্য হত্যা করেছি। রাত পর্যন্ত আমরা তাদের ধাওয়া করেছিলাম। হযরত আমর ইবনুল আস মুসলমানদের বিজয় দেখে অত্যন্ত খুশী হলেন এবং মুসলমানরা শত্রুদের ধাওয়া করতে যাওয়ায় তিনি তাদের খোঁজ খবর নেন।
📄 মুসলমানদের অবস্থা
আমর বিন গিয়াস বলেন, এ সময় আমি হযরত আমর ইবনুল আসকে দেখলাম তার হাতে ঝান্ডা এবং তার বর্শা পাশে পড়ে আছে। তিনি আওয়াজ করে বললেন, 'যারা লোকদের আমার কাছে নিয়ে আসবে, আল্লাহ তার হারানো বস্তু তাকে ফিরিয়ে দিক। এসব চেহারা গুলোর কল্যাণ হোক, যেগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আপনাদের জন্য কি এটাই যথেষ্ট নয়, আল্লাহ আপনাদের শত্রুদের উপর বিজয় দান করেছেন'। তারা বললেন, আমরা গনীমত চাই না আমরা জিহাদ করতেই এসেছি।
📄 শহীদ হলেন যারা
যুদ্ধ শেষে একে অপরের খোঁজ নেয়া ছিল মুসলমানদের কাজ। খোঁজ করে দেখা গেল, তারা একশত ত্রিশজন সাথীকে চির তরে হারিয়ে ফেলেছেন। এ একশত ত্রিশ জন শহীদেরা হলেন- সাইফ বিন উবাদা, নওফল বিন দারিম, উহুব বিন শাদ্দাদ। আর বাকীরা কিছু ইয়ামনের ও কিছু মদীনার পাহাড়ী এলাকার। আমর ইবনুল আস তাদের হারানোর কারণে দুঃখিত হলেন। অতঃপর নিজেকে নিজে বললেন, তাদের প্রতি কল্যাণ অবতীর্ণ হয়েছে। তা সত্ত্বেও হে আমর! তুমি তা কামনা করনি। অতঃপর তিনি আবু বকর রা. এর নির্দেশ মত লোকদের নিয়ে নামায পড়লেন এবং যে নামাযগুলো কাযা হয়ে গিয়েছিল, তার সবটাই পৃথক পৃথক আযান ও ইকামতের সাথে আদায় করা হল। আবদুল্লাহ বিন উমর রা. বলেন, আমর ইবনুল আসের সাথে কম সংখ্যক লোকই নামায পড়লেন। তিনি লোকজন নিয়ে নামায পড়েন। অতঃপর গনীমত একত্রিতকরণ ও শহীদ ভাইদের লাশ তুলে আনার নির্দেশ দেন। তাদের মধ্যে সাঈদ বিন খালেদের লাশও পাওয়া গেল। আমর ইবনুল আস রা. তার প্রতি তাকিয়ে কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, رَحِمَكَ اللَّهُ فَقَدْ نَصَحُتَ لِدِينِ اللَّهِ وَأَدَّيْتَ النَّصِيحَةَ. "আল্লাহ তোমাকে রহম করুন। তুমি আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য ও হিতাকাংখা করেছ।” অতঃপর শহীদদের জানাযা পড়ে তাদের লাশ দাফন করার নির্দেশ দেন এবং আবু উবাইদা রা. এর কাছে একটি পত্র লেখেন।