📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শুরু হল যুদ্ধ

📄 শুরু হল যুদ্ধ


মুলমানদের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম যিনি মোকবেলার জন্য অগ্রসর হন তিনি হলেন সাঈদ বিন খালেদ। তার পিতা আমর ইবনুল আস রা.-এর মায়ের ছেলে ছিলেন। তিনি অগ্রসর হয়ে জোরে ডাক দিয়ে বললেন, ওহে অংশীবাদীরা আস! অতঃপর তিনি ডান পার্শের শত্রুদের উপর হামলা করে তাদের বামপার্শ্বে ঠেলে দিলেন এবং অনেক বীর শত্রুদের হত্যা ও জখম করলেন। অতঃপর শত্রুদের মাঝে ঢুকে পড়লেন এবং তাদের সন্ত্রস্ত করে তুললেন। পরে শত্রুরা একত্রিত হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলল। তার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তিনি নিহত হওয়ায় মুসলমানরা অত্যন্ত দুঃখিত হলেন। সবচেয়ে বেশী যিনি দুঃখিত হলেন তিনি হলেন হযরত আমর ইবনুল আস রা.। তিনি বললেন, হায় সাঈদ! তুমি তো নিজের প্রাণ আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিলে। অতঃপর বললেন, হে যুবকরা! কে যাবে আমার সাথে শত্রুদের উপর হামলা করতে যাতে আমরা যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘুরে তা এবং সাঈদ বিন খালেদের অবস্থার খোঁজ নিতে পারি। একথা বলার সাথে সাথে হযরত যুলকিলা আল হিময়ারী, ইকরামা বিন আবু জাহল, যাহহাক, হারেছ বিন হিশাম, মাআয বিন জাবাল, আবু দরদা ও আবদুল্লাহ উমর রা. দৌড়ে আসেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর বললেন, শত্রুদের উপর হামলা করতে আমর ইবনুল আসের নেতৃত্বে আমরা সত্তর জন গিয়েছিলাম। শত্রুদের দেখলাম, আমরা যে তাদের উপর হামলা করব তার জন্য তাদের মাঝে কোন উৎকণ্ঠার ছাপ নেই। কারণ, তারা ছিল (সৈন্য ও অস্ত্রের আধিক্যের কারণে) একটা লোহার পাহাড়ের মত।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 পালিয়ে গেল শত্রু দল

📄 পালিয়ে গেল শত্রু দল


মুসলমানগণ যখন রোমানদের এ দৃঢ়তা দেখতে পেল, তখন একে অপরকে ডাক দিয়ে বলল, তাদের বাহনের পেটে আঘাত কর। এ ছাড়া তাদের ধ্বংস করার কোন উপায় নেই। তখন মুসলমানগণ তাদের বাহনের পেটে আঘত করা শুরু করে। ফলে শত্রুরা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে মুসলমানদের উপর হামলা করা শুরু করল এবং মসুলমানরাও তাদের উপর হামলা আরম্ভ করল। সাহাবীরা বলেন, আমরা রোম সৈন্যদের মাঝে কাল উটের চামড়ার উপর সাদা রেখার মত ছিলাম। আর ফিলিস্তিনের এ যুদ্ধের দিন আমাদের পরিচিতি ছিল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ও হে আল্লাহ মুহাম্মদ সা.-এর উম্মতকে সাহায্য করুন'-কথাটি। আবু দরদা রা. বলেন, যুদ্ধের প্রচন্ডতার কারণে আমি সঙ্গীত আবৃত্তি করারও সুযোগ পাইনি। যুদ্ধের প্রচন্ডতা এত বেশী ছিল যে, আমরা শত্রুদের হত্যা করছি না নিজেদের ভাইদের হত্যা করছি তা পর্যন্ত আঁচ করতে পারিনি। মুসলমানগণ আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ ভরসা করে দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ করতে লাগল। সকল মুসলিম যোদ্ধা এ দুআ করছিল اللَّهُمَّ انْصُرْنَا عَلَى مَنْ يَتَّخِذُ مَعَكَ شَرِيكًا “হে আল্লাহ আমাদেরকে আপনার সাথে অংশীদার সাব্যস্তকারীদের উপর সাহায্য করুন।”

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 আসমানী সাহায্য

📄 আসমানী সাহায্য


আবদুল্লাহ বিন উমর রা. বলেন, সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ চলতে থাকে। এ সময় বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু তারপরও যুদ্ধ থামেনি। হঠাৎ আমি আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পেলাম, আসমানে একটি ছিদ্র যা দিয়ে উল্কাপিন্ডের মত কতগুলো অশ্বারোহী সবুজ পতাকা নিয়ে বের হয়ে আসছে। যাদের তরবারী ঝলমল করছে এবং তারা সাহায্যের কথা ঘোষণা করে বলছে, 'হে মুহাম্মদ সা. এর উম্মতরা! সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহ তোমাদের জন্য সাহায্য নিয়ে এসেছেন'। দেখলাম, কিছুক্ষণ পরপরই রোমানরা পরাজিত হয়ে পালিয়ে চলে যাচ্ছে এবং মুসলমানগণ তাদের ঘোড়া নিয়ে ওদের ধাওয়া করে হত্যা করছে। মুসলমানদের ঘোড়া গুলো রোমানদের ঘোড়ার চেয়ে দ্রুতগামী ছিল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি

📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি


আবদুল্লাহ বিন উমর রা. বলেন, এ যুদ্ধে আমরা পনের হাজারের চেয়ে বেশী রোমান সৈন্য হত্যা করেছি। রাত পর্যন্ত আমরা তাদের ধাওয়া করেছিলাম। হযরত আমর ইবনুল আস মুসলমানদের বিজয় দেখে অত্যন্ত খুশী হলেন এবং মুসলমানরা শত্রুদের ধাওয়া করতে যাওয়ায় তিনি তাদের খোঁজ খবর নেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px