📘 ফুতুহুশ শাম 📄 হযরত আমর ইবনুল আসের পরামর্শ ও সৈন্যদের প্রতি আহবান

📄 হযরত আমর ইবনুল আসের পরামর্শ ও সৈন্যদের প্রতি আহবান


এ কথা শুনার পর হযরত আমর ইবনুল আস রা. বললেন, আমরা আল্লাহর কাছেই সাহায্য কামনা করি। কারণ, সকল শক্তি ও ক্ষমতা তাঁর হাতেই। অতঃপর সৈন্যদের উদ্দেশ্য করে বললেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنَا وَإِيَّاكُمْ فِي هَذَا الْأَمْرِ بِالسَّوَاءِ فَاسْتَعِينُوا بِاللَّهِ عَلَى الْأَعْدَاءِ وَقَاتِلُوْا عَنْ دِينِكُمْ وَشَرْعِكُمْ فَمَنْ قُتِلَ كَانَ شَهِيدًا وَمَنْ عَاشَ كَانَ سَعِيدًا . فَمَاذَا أَنتُمْ قَائِلُونَ ؟ “হে লোক সকল! জিহাদের ব্যাপারে আমি ও আপনারা সকলেই সমান। আল্লাহর শত্রুদের মোকাবেলায় যুদ্ধ জয়ে তাঁরই নিকট সাহায্য কামনা করুন এবং নিজেদের দ্বীনের বিজয়ের জন্য অন্তর খুলে লড়াই করুন। আমাদের মধ্য থেকে যাঁরা নিহত হবেন, তাঁরা শহীদ হবেন এবং যাঁরা বেঁচে যাবেন, তাঁরা ভাগ্যবান হবেন। এ ব্যাপারে আপনাদের কোন মতামত থাকলে আমাকে জানান”। এ কথা শুনে সাহাবীরা তাঁদের মতামত জানান। একদল বললেন, আমীর সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে 'বারয়া' হয়ে 'বাইদায়' চলে যান। কারণ, শত্রুরা গ্রাম ও দুর্গম এলাকা অতিক্রম করে আমাদের কাছে এসে পৌছাতে পারবে না। তারা যখন জানতে পারবে আমরা বারয়ায় ঢুকে পড়েছি, তখন তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অতঃপর আমরা তাদের উপর হামলা করে তাদেরকে পরাজিত করব ইনশাআল্লাহ। সাহল বিন আমর বললেন, এটা দুর্বল লোকের পরামর্শ। তখন মুহাজিরদের একজন বললেন- لَقَدْ كُنَّا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمْ نُهْزَمُ الْجَمْعَ الْكَثِيْرَ بِالْجَمْعِ الْقَلِيْلِ وَقَدْ وَعَدَكُمُ اللهُ النَّصْرَ وَمَا وَعَدَ الصَّابِرِيْنَ إِلاَّ خَيْرًا وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى: يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِيْنَ يَلُوْنَكُمُ مِنَ الْكُفَّارِ وَلْيَজِدُوا فِيْكُمْ غِلْظَةً “আমরা রাসূলুল্লাহ সা. এর সময় কম লোক নিয়ে অধিক সংখ্যক লোকদের পরাজিত করতাম। আল্লাহ তো আপনাদেরকে সাহায্যের ও যারা ধৈর্য ধারণ করবে তাদের কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের নিকটস্থ কাফেরদের সাথে যুদ্ধ কর ও তাদের সাথে কঠোর আচরণ কর”। সাহল বিন আমর বললেন, আমি কাফেরদের সাথে যুদ্ধ না করে ফিরে যাব না। অতএব, যার মন চায় যুদ্ধ করুক, আর যার মন চায় ফিরে যাক। তবে যে যুদ্ধ না করে ফিরে যাবে, আমি তাকে দেখে নেব। আবদুল্লাহ বিন উমর রা. তার এ কথার সাথে এক মত হলেন এবং মুসলমানগণ তাকে বললেন, ওহে আবুল ফারুক, আপনি উত্তম কাজ করেছেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 সেনাপতি হলেন হযরত আবদুল্লাহ্ বিন উমর

📄 সেনাপতি হলেন হযরত আবদুল্লাহ্ বিন উমর


অতঃপর আমর ইবনুল আস রা. একটি পতাকা তৈরী করিয়ে হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রা. কে দিয়ে তাঁকে তায়েফ ও ছাকিফ গোত্রের এক হাজার লোকের উপর সেনাপতির দায়িত্ব অর্পন করলেন এবং বললেন, আপনারা সামনে অগ্রসর হোন। আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. সামনে অগ্রসর হতে লাগলেন। তারা পরের দিন সকাল পর্যন্ত চললেন। হঠাৎ করে দূর থেকে ধুলো উড়তে দেখা গেল। তখন আবদুল্লাহ বিন উমর রা. বললেন, এ ধুলো শত্রুদের, আমি মনে করি এটা তাদের অগ্রবর্তী দল। অতঃপর তিনি থামলেন। থামার পর তাঁর সহযোদ্ধারা তাঁর সামনে চলে আসলেন। তখন গ্রাম্য কিছু সৈনিক বলল, আমাদেরকে সামনে যেতে দিন, আমরা দেখি এ ধুলো কিসের। তখন আবদুল্লাহ বিন উমর বললেন, কেউ জায়গা থেকে সরবেন না, আমরা এ ধুলো কিসের তা দেখছি। এমন সময় দেখা গেল ধুলো তাদের একেবারে সামনে উড়তে লাগলো। পরে দেখা গেল, এটি দশ হাজার রোম সৈন্যের একটি বাহিনী। রোমদের সেনা প্রধান একজন সেনাপতির নেতৃত্বে তাদের পাঠিয়েছে। তারা মুসলমানদের অবস্থার খোঁজ নিতে এসেছে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 শুরু হল যুদ্ধ

📄 শুরু হল যুদ্ধ


সেনাপতি আবদুল্লাহ বিন উমর রা. তার সাথীদের বললেন, তাদের আর সুযোগ দিয়ো না। কারণ, তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন। আর জেনে রেখো! তরবারীর ছায়াতলে জান্নাত। তখন লোকেরা এমন জোর গলায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলা শুরু করল যে, আকাশ-বাতাস মুখরিত হল। শত্রুদের উপর সর্ব প্রথম যিনি হামলা করলেন, তিনি হচ্ছেন ইকরামা বিন আবু জাহাল। অতঃপর সাহল বিন আমর ও যাহহাক। অতঃপর মুহাজির ও আনসারগণ। উভয় দল সমান তালে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ও একদলের তরবারী আরেক দলের উপর দ্রুত চালিত হচ্ছে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 নিহত হল শত্রুদের সেনাপতি

📄 নিহত হল শত্রুদের সেনাপতি


আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. বলেন, আমি যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় একজন রোমান সেনাপতি দেখা গেল। সে মোটা ও দেখতে নির্বোধের মত মনে হচ্ছিল। সে ডানে বামে দৌড়াদৌড়ি করছিল। আমি মনে মনে বললাম, যদি রোমানদের কোন গুপ্তচর থাকে তাহলে এ হচ্ছে সে গুপ্তচর। কারণ সে যুদ্ধবিমুখ। যখন আমি গিয়ে তার প্রতি বর্শা তাক করলাম, তখন তার ঘোড়াটি ভীত বিহ্বল অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকল। তখন আমি তার নিকটবর্তী হলাম এবং এমন ভাব দেখালাম যে আমি পরাজিত হতে যাচ্ছি। অতঃপর তার উপর আঘাত করে বসলাম। আল্লাহর কসম আমার কাছে মনে হল, যেন আমি কোন পাথরের উপর তরবারী দিয়ে আঘাত করলাম এবং আমার তরবারী ভেঙ্গে গেছে। সাথে সাথে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। অতঃপর তার উপর আবার আঘাত করে তার সাজ সরঞ্জাম নিয়ে নিলাম। রোমানরা যখন তাদের নেতাকে এ অবস্থায় দেখতে পেল, তখন তাদের সবাই ভীত বিহ্বল হয়ে পড়ল। ফলে মুসলমানরা তাদেরকে ইচ্ছামত হত্যা করতে লাগল। এ ক্ষেত্রে হযরত যাহহাক ও হারেছ বিন হিশাম বিশেষ ভাবে প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। তারা যেমন সাহসিকতা ও বীরচিত্তে যুদ্ধ করা উচিত, তেমনভাবেই যুদ্ধ করেছেন। এভাবে কিছুক্ষণ যেতে না যেতে কাফিররা পরাজিত হয়ে পলায়ন করা শুরু করল। অতঃপর মুসলমানগণ সবাই একত্রিত হল এবং গনীমত কুড়িয়ে নিল। তখন সাহাবীরা একে অপরকে বলতে লাগল, আদুল্লাহ বিন উমরকে আল্লাহ কী অবস্থায় রেখেছেন কে জানে। একজন বলল, তার দুনিয়াবিমুখতা ও ইবাদত সম্পর্কে আল্লাহ অবগত আছেন। তখন অন্য কয়েক জন বলল, আমরা তাকে দেখেছিলাম। এ বিজয়ে তার চুল পরিমাণ অবদান আছে কিনা আমরা জানি না। আবদুল্লাহ বিন উমর বলেন, আমি পতাকার পশ্চাতে তাদের কথাগুলো শুনছিলাম। তাই আমি আওয়াজ করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার ও নবী সা. এর উপর দরুদ পড়া শুরু করলাম এবং পতাকা নাড়লাম। মুসলামানগণ যখন পতাকার দিকে তাকাল তখন তারা আমার দিকে দৌড়ে আসল এবং বলল, আপনি কোথায় ছিলেন। তখন আমি বললাম, আমি তাদের নেতার সাথে যুদ্ধ করছিলাম। তখন তারা বলল, আপনি সফলকাম হয়েছেন। আপনার বরকতে আল্লাহ পাক আমাদেরকে এ বিজয় দান করেছেন। তখন আবদুল্লাহ বিন উমর বললেন, সামনের দিকে যাও। অতঃপর তারা শত্রুদের সম্পদ, অস্ত্র, ঘোড়া ও ছয়শত বন্দীকে তার কাছে নিয়ে এলো। এ যুদ্ধে সাতজন মুসলমান শাহাদাত বরণ করেন। মুসলমানগন তাদের কাফন পরিয়ে হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রা. এর কাছে নিয়ে আসলেন। তিনি তাদের জানাযার নামায পড়ালেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px