📄 শত্রু বাহিনীর সংখ্যা
একদিন মুহাজির ও আনসারগণ একত্রিত হয়ে লড়াই সম্পর্কে পরামর্শে বসেন। হঠাৎ আমের বিন আদী রা. এসে উপস্থিত হন। তাঁর অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজন সিরিয়া থাকত। তিনি তাদের কাছে প্রায় সময় আসা যাওয়া করতেন। এ কারণে তাঁর নিকট সিরিয়ার রাস্তা ঘাট পরিচিত ছিল। এসময়ও তিনি সিরিয়া যাচ্ছিলেন। মুসলমানগন তাকে দেখে হযরত আমর ইবনুল আস রা. এর নিকট নিয়ে যান। হযরত আমর ইবনুল আস রা. তার চেহারা বিবর্ণ দেখে জানতে চাইলেন, কি ব্যাপার আমের! আপনি ঘাবড়ে গেছেন কেন? তিনি বললেন, আমার পিছনে রোমান সৈন্যরা পিঁপড়ার মত দল বেধে আসছে। আমর ইবনুল আস রা. বললেন, আপনি মুসলমানদের অন্তরে কাফেরদের ভয় ঢুকিয়ে দিলেন। আমরা আল্লাহর নিকট তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কামনা করছি। বলুন, তাদের সৈন্য সংখ্যা কত বলে অনুভব করলেন। তিনি বললেন আমি একটি উঁচু পাহাড়ে উঠে তাদের সৈন্য সংখ্যা অনুমান করতে চাইলাম। ওয়াদিউল আহমার নামক একটি বড় জায়গা রয়েছে। সে জায়গাটি তাদের তীর বর্শা ও ক্রুশে ভরে গেছে। আমার ধারণা তাদের সৈন্য সংখ্যা এক লাখের কম নয়। আমি তাদের ব্যাপারে এ টুকুই বলতে পারি।
📄 হযরত আমর ইবনুল আসের পরামর্শ ও সৈন্যদের প্রতি আহবান
এ কথা শুনার পর হযরত আমর ইবনুল আস রা. বললেন, আমরা আল্লাহর কাছেই সাহায্য কামনা করি। কারণ, সকল শক্তি ও ক্ষমতা তাঁর হাতেই। অতঃপর সৈন্যদের উদ্দেশ্য করে বললেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنَا وَإِيَّاكُمْ فِي هَذَا الْأَمْرِ بِالسَّوَاءِ فَاسْتَعِينُوا بِاللَّهِ عَلَى الْأَعْدَاءِ وَقَاتِلُوْا عَنْ دِينِكُمْ وَشَرْعِكُمْ فَمَنْ قُتِلَ كَانَ شَهِيدًا وَمَنْ عَاشَ كَانَ سَعِيدًا . فَمَاذَا أَنتُمْ قَائِلُونَ ؟ “হে লোক সকল! জিহাদের ব্যাপারে আমি ও আপনারা সকলেই সমান। আল্লাহর শত্রুদের মোকাবেলায় যুদ্ধ জয়ে তাঁরই নিকট সাহায্য কামনা করুন এবং নিজেদের দ্বীনের বিজয়ের জন্য অন্তর খুলে লড়াই করুন। আমাদের মধ্য থেকে যাঁরা নিহত হবেন, তাঁরা শহীদ হবেন এবং যাঁরা বেঁচে যাবেন, তাঁরা ভাগ্যবান হবেন। এ ব্যাপারে আপনাদের কোন মতামত থাকলে আমাকে জানান”। এ কথা শুনে সাহাবীরা তাঁদের মতামত জানান। একদল বললেন, আমীর সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে 'বারয়া' হয়ে 'বাইদায়' চলে যান। কারণ, শত্রুরা গ্রাম ও দুর্গম এলাকা অতিক্রম করে আমাদের কাছে এসে পৌছাতে পারবে না। তারা যখন জানতে পারবে আমরা বারয়ায় ঢুকে পড়েছি, তখন তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অতঃপর আমরা তাদের উপর হামলা করে তাদেরকে পরাজিত করব ইনশাআল্লাহ। সাহল বিন আমর বললেন, এটা দুর্বল লোকের পরামর্শ। তখন মুহাজিরদের একজন বললেন- لَقَدْ كُنَّا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمْ نُهْزَمُ الْجَمْعَ الْكَثِيْرَ بِالْجَمْعِ الْقَلِيْلِ وَقَدْ وَعَدَكُمُ اللهُ النَّصْرَ وَمَا وَعَدَ الصَّابِرِيْنَ إِلاَّ خَيْرًا وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى: يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِيْنَ يَلُوْنَكُمُ مِنَ الْكُفَّارِ وَلْيَজِدُوا فِيْكُمْ غِلْظَةً “আমরা রাসূলুল্লাহ সা. এর সময় কম লোক নিয়ে অধিক সংখ্যক লোকদের পরাজিত করতাম। আল্লাহ তো আপনাদেরকে সাহায্যের ও যারা ধৈর্য ধারণ করবে তাদের কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের নিকটস্থ কাফেরদের সাথে যুদ্ধ কর ও তাদের সাথে কঠোর আচরণ কর”। সাহল বিন আমর বললেন, আমি কাফেরদের সাথে যুদ্ধ না করে ফিরে যাব না। অতএব, যার মন চায় যুদ্ধ করুক, আর যার মন চায় ফিরে যাক। তবে যে যুদ্ধ না করে ফিরে যাবে, আমি তাকে দেখে নেব। আবদুল্লাহ বিন উমর রা. তার এ কথার সাথে এক মত হলেন এবং মুসলমানগণ তাকে বললেন, ওহে আবুল ফারুক, আপনি উত্তম কাজ করেছেন।
📄 সেনাপতি হলেন হযরত আবদুল্লাহ্ বিন উমর
অতঃপর আমর ইবনুল আস রা. একটি পতাকা তৈরী করিয়ে হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রা. কে দিয়ে তাঁকে তায়েফ ও ছাকিফ গোত্রের এক হাজার লোকের উপর সেনাপতির দায়িত্ব অর্পন করলেন এবং বললেন, আপনারা সামনে অগ্রসর হোন। আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. সামনে অগ্রসর হতে লাগলেন। তারা পরের দিন সকাল পর্যন্ত চললেন। হঠাৎ করে দূর থেকে ধুলো উড়তে দেখা গেল। তখন আবদুল্লাহ বিন উমর রা. বললেন, এ ধুলো শত্রুদের, আমি মনে করি এটা তাদের অগ্রবর্তী দল। অতঃপর তিনি থামলেন। থামার পর তাঁর সহযোদ্ধারা তাঁর সামনে চলে আসলেন। তখন গ্রাম্য কিছু সৈনিক বলল, আমাদেরকে সামনে যেতে দিন, আমরা দেখি এ ধুলো কিসের। তখন আবদুল্লাহ বিন উমর বললেন, কেউ জায়গা থেকে সরবেন না, আমরা এ ধুলো কিসের তা দেখছি। এমন সময় দেখা গেল ধুলো তাদের একেবারে সামনে উড়তে লাগলো। পরে দেখা গেল, এটি দশ হাজার রোম সৈন্যের একটি বাহিনী। রোমদের সেনা প্রধান একজন সেনাপতির নেতৃত্বে তাদের পাঠিয়েছে। তারা মুসলমানদের অবস্থার খোঁজ নিতে এসেছে।
📄 শুরু হল যুদ্ধ
সেনাপতি আবদুল্লাহ বিন উমর রা. তার সাথীদের বললেন, তাদের আর সুযোগ দিয়ো না। কারণ, তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন। আর জেনে রেখো! তরবারীর ছায়াতলে জান্নাত। তখন লোকেরা এমন জোর গলায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলা শুরু করল যে, আকাশ-বাতাস মুখরিত হল। শত্রুদের উপর সর্ব প্রথম যিনি হামলা করলেন, তিনি হচ্ছেন ইকরামা বিন আবু জাহাল। অতঃপর সাহল বিন আমর ও যাহহাক। অতঃপর মুহাজির ও আনসারগণ। উভয় দল সমান তালে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ও একদলের তরবারী আরেক দলের উপর দ্রুত চালিত হচ্ছে।