📘 ফুতুহুশ শাম 📄 পাদ্রীর সাথে রবীআ রা-এর বিতর্ক

📄 পাদ্রীর সাথে রবীআ রা-এর বিতর্ক


অতঃপর জারজীস তার লোকদের বলল, এ বেদুঈনের সাথে বিতর্ক করার জন্য সাকালাবাকে ডেকে নিয়ে আস। সম্রাট হিরোক্লিয়াস তাদের ধর্ম সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন বড় আলেমকে সৈন্যদের সাথে পাঠিয়েছিলেন, যাতে তিনি তাদের ধর্মের পক্ষে মুসলমানদের সাথে বিতর্ক করতে পারেন। তাকে নিয়ে আসা হল। অতঃপর যখন তিনি স্থির হয়ে বসলেন, তখন জারজীস তাকে বলল, মুরুব্বী! আপনি এ লোকের নিকট তার দ্বীন সম্পর্কে প্রশ্ন করুন। তখন ওই আলেম বললেন, হে আমার আরব ভাই! আমরা আমাদের ধর্মগ্রন্থে পেয়েছি, আল্লাহ তাআলা হেজাযের কুরাইশ বংশের হাশেম গোত্র থেকে একজন নবী প্রেরণ করবেন। আর তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শন হবে তাকে আল্লাহ তাআলা আসমানে নিয়ে যাবেন। তো তাঁর জীবনে কি এ ঘটনা ঘটেছে?

রবীআ রা. বললেন, হ্যাঁ, তাঁকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আর আমাদের রব তার মহান কিতাবে একথার আলোচনা করে বলেছেন- سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا "পবিত্র সে সত্তা, যিনি তার বান্দা (মুহাম্মদ সা.)-কে রাত্রে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমন করিয়েছেন, যার চর্তুপার্শ্বকে আমি সমৃদ্ধ করেছি। আর তা এজন্য যে, যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শন প্রত্যক্ষ করাই।"

আলেম আবার বললেন, আমরা আমাদের কিতাবে দেখতে পাই যে, আমাদের রব এ নবী ও তাঁর উম্মতের জন্য এক মাস রোযা রাখা ফরয করবেন। আর ঐ মাসকে বলা হবে রমাদান। রবীআ রা. বললেন জি! আর আমাদের মহান কুরআনে এ ব্যাপারে বলা আছে- شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيْهِ الْقُرْ أَن هَدَى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانَ "রমাদান সে মাস, যে মাসে অবতীর্ণ করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হিদায়াত ও সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ এবং ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী” [বাকারাহ: ১৮৫]।

আলেম বললেন, আমরা আমাদের কিতাবে পেয়েছি যে, তাদের কেউ একটি ভাল কাজ করলে দশটি সওয়াব লেখা হবে। রবীআ রা. বললেন হ্যাঁ! আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشَرَ أَمْثَالِهَا ۖ وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَىٰ إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ "যে কোন ভাল কাজ করবে তার জন্য রয়েছে এর দশগুণ (ভাল কাজের) প্রতিদান। আর যে কোন খারাপ কাজ করবে, তাকে কেবল ঐ পরিমাণই শাস্তি দেয়া হবে। তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না।"

আলেম বললেন, আমরা আমাদের কিতাবে পেয়েছি যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর উম্মতকে তাঁর উপর দরুদ পড়ার নির্দেশ দিবেন। রবীআ রা. বললেন, হ্যাঁ! আল্লাহ তা'আলা তার সম্মানিত কিতাবে বলেছেন- إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا "আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতারা নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দুআ কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর” [আহযাব : ৫৬]।

বর্ণনাকারী বলেন যে, নাসারাদের আলেম হযরত রবীআ রা. এর উত্তরে বিস্মিত হলেন এবং সৈন্যদের বললেন যে, এরাই সত্যের উপর রয়েছে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 নিহত হল আরেক সেনাপতি

📄 নিহত হল আরেক সেনাপতি


তখন দরবারের একজন বলে উঠল যে, এ লোকটিই আপনার ভাইকে হত্যা করেছে। জারজীস এ কথা শোনার পর তার চোখ দিয়ে অশ্রুঝরা আরম্ভ করল এবং প্রচন্ড ভাবে রাগান্বিত হয়ে রবীআ রা.-এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার ইচ্ছা করল। তখন হযরত রবীআ রা. বিদ্যুৎ বেগে তার স্থান থেকে উঠে এসে জারজীসের হাতের তরবারীটা কেড়ে নিয়ে দ্রুত তার উপর আঘাত করলেন। ফলে জারজীস মাটিতে লুটিয়ে পড়ল ও মারা গেল। অতঃপর তিনি তাঁর ঘোড়ার দিকে দৌড়ে এসে তাতে আরোহণ পূর্বক চলে আসতে লাগলেন। এদৃশ্য দেখে রোমান সৈন্যরা তাঁর দিকে দৌড়িয়ে আসল। তখন তিনি তাদের উপরও তরবারী চালালেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 আবার শুরু হল যুদ্ধ

📄 আবার শুরু হল যুদ্ধ


এদিকে হযরত ইয়াযীদ বিন আবু সুফ্যান যখন এ অবস্থা দেখতে পান, তখন তিনি মুসলমানদেরকে বললেন, শত্রুরা রাসূলুল্লাহ সা.-এর সাহাবীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। অতএব, তাদেরকে ধর। তিনি একথা বলার সাথে সাথে মুসলমানরা তাদের উপর বীর বিক্রমে ঝাঁপিড়ে পড়ে এবং উভয় দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়। রোমরা ধৈর্যের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছিল। এমন সময় দেখা গেল যে, মুসলমানদের আরো একটি বাহিনী কাতিবে ওহী হযরত শুরাহবীল বিন হাসানা রা.-এর নেতৃত্বে তাদের দিকে আসছে। মুসলমানগণ যখন তাদের ভাইদেরকে যুদ্ধে আসতে দেখল, তখন তারা রোমানদের উপর আরো তীব্র ভাবে তরবারী চালাতে শুরু করে আর রোমানদের মাথা তাদের ঘাড় থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 প্রাণে রক্ষা পায়নি কোন শত্রু

📄 প্রাণে রক্ষা পায়নি কোন শত্রু


বর্ণনাকারী বলেন যে, উল্লেখিত আট হাজার রোমান সৈন্যের কেউই প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারেনি। কারণ সিরিয়া তাবুক থেকে দূরে থাকায় মুসলমানরা তাদের দ্রুতগামী ঘোড়া নিয়ে তাদেরকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়। অতঃপর মুসলমানরা শত্রুদের সম্পদ ও তাদের তাঁবুগুলো তুলে হযরত শুরাহবীল বিন হাসান রা. ও তাঁর সাথীদের কাছে নিয়ে আসে এবং তাদের সবাইকে সালাম দিয়ে স্বাগতম জানায়। তারা বলল, আমরা এ সকল গনীমত হযরত আবুবকর রা.-এর নিকট পাঠিয়ে দেব। এতে সবাই সম্মতি জানায় এবং অস্ত্র ও যুদ্ধের প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো ছাড়া বাকী সকল সম্পদ হযরত শাদ্দাদ বিন আউসের নেতৃত্বে পাঁচশত অশ্বারোহী দিয়ে খলীফার নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারা যখন এ সম্পদ নিয়ে মদীনার উপকন্ঠে পৌঁছে এবং মুসলমানগণ মুশরিকদের এ সম্পদ গুলো দেখতে পায়, তখন তারা বড় গলায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও রাসূলুল্লাহ সা.- এর উপর দরূদ পড়তে থাকে। হযরত আবুবকর রা. শাদ্দাদ বিন আউস রা. তার সাথীদের নিয়ে মদীনায় এসেছে শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তারা সবাই হযরত আবুবকর রা.-এর নিকট গিয়ে তাঁকে সালাম জানায় এবং মুসলমানদের বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করে। তখন আবুবকর রা. আল্লাহর দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px