📄 শত্রুদের ক্ষয়ক্ষতি
তাবুকের ময়দানের এ যুদ্ধে দুই হাজার দু'শজন শত্রু নিহত হয়। অন্যদিকে মুসলমানদের মধ্য থেকে শাহাদাত বরণ করেন মাত্র একশ বিশজন।
📄 রোমার নেতার ভাষণ ও পুণরায় যুদ্ধ প্রস্তুতি
রোমান সৈন্যদের পলায়নের এ দৃশ্য দেখে নিহত কমান্ডার বাতালীকের ভাই চিৎকার দিয়ে বলে উঠল, তোমরা ধ্বংস হতে যেয়ো না। তোমরা কোন্ মুখ নিয়ে সম্রাটের সঙ্গে দেখা করবে? শত্রুরা আমাদের সাথে নির্মম আচরণ করেছে এবং আমাদের লোকদেরকে গণহারে হত্যা করেছে। আমি আমার ভাইয়ের প্রতিশোধ নিবই। আমি মৃত্যুর পরোয়া করি না।
📄 রোমানদের দূত প্রেরণ
সৈন্যরা তার একথা শোনে একত্রিত হলো এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হল। অতঃপর তারা তাদের ক্যাম্পে অবস্থান প্রহণ করল এবং কাদ্দাহ নামের এক আরব খ্রিস্টানকে মুসলমানদের নিকট এ বার্তা দিয়ে পাঠাল যে, মুসলমানদের পক্ষ থেকে তাদের একজন বুদ্ধিমান নেতাকে পাঠানো হোক, যাতে আমাদের কাছে তারা কী চায়, সে নিয়ে ভাবতে পারি।
📄 শত্রুদের কাছে গমন
কাদ্দাহ তার ঘোড়া নিয়ে মুসলমানদের দিকে অগ্রসর হল। মুসলমানগণ তাকে তাদের দিকে আসতে দেখে আউস গোত্রের কিছু লোক তাকে স্বাগতম জানাল এবং বলল, তুমি কী চাও? সে বলল, রোমানরা উভয়পক্ষের বিরোধ মীমাংসার জন্য আল্লাহর বিধান নিয়ে আলাপ করার জন্য আপনাদের একজন বিচক্ষণ লোককে চাচ্ছেন। খ্রিস্টান দূতের বার্তাটি হযরত রবীআর কাছে পৌঁছানো হলে তিনি বললেন, তাহলে তাদের নিকট আমি যাচ্ছি। হযরত ইয়াযীদ বললেন, আপনার যাওয়াতে আমি আশংকা বোধ করছি। কারণ, গতকাল আপনি তাদের নেতাকে হত্যা করেছেন। তখন রবীআ বললেন-
(( قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ))
“আপনি বলে দিন আমাদের উপর কেবল তাই আপতিত হবে, যা আল্লাহ তা'আলা আমাদের ভাগ্যে লিখে রেখেছেন। তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর মুমিনদের উচিত, তার উপরই ভরসা করা [তাওবাহ: ৫১]। আর আমি আপনাকে ও এখানকার সকল মুসলমানকে আহবান করছি যেন সবাই আমার ব্যাপারে আশংকা মুক্ত থাকে। শত্রুরা যদি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে তাদের উপর অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিড়ে পড়বে।”
একথা বলে তিনি তার ঘোড়ায় আরোহণ করে রোমানদের দিকে চললেন। রোমানদের নিকট এসে তিনি তাদের নেতার তাঁবুর কাছে গেলেন। কাদ্দাহ বলল, সম্রাটের সৈন্যদের সম্মানার্থে আপনি ঘোড়া থেকে নামুন। রবীআ রা. বললেন, আমি সম্মানিত অবস্থায় থেকে লাঞ্চনাকর অবস্থায় ফিরে যেতে পারি না এবং আমি আমার ঘোড়ার লাগাম অন্য কারো হাতে দিতে পারি না। আমি এ রোমানদের নেতার তাঁবুর দরজার কাছে গিয়েই ঘোড়া থেকে অবতরণ করব। আর তা না হলে আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানে ফিরে যাব। তোমরাইতো আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছ। কাদ্দাহ রবীআ রা. এর এ কথা রোমানদের জানাল। তখন রোমানরা একে অপরকে বলল, আরব রবীআ সত্য কথা বলেছে। তাকে যেখানে ইচ্ছা সেখানে নামতে দাও।
তখন রবীআ রা. তাদের নেতার তাঁবুর দরজায় এসে নামলেন ও হাটু গেড়ে বসলেন এবং ঘোড়ার লাগাম ও অস্ত্র নিজের হাতে রাখলেন। জারজীস তাকে বললেন, হে আমার আরব ভাই! আপনাদের চেয়ে দুর্বল কোন জাতি আমাদের জানা মতে ছিল না। আর আপনারা যে আমাদের সাথে যুদ্ধ করবেন তার কল্পনাও আমাদের অন্তরে সৃষ্টি হয়নি। তো আপনারা আমাদের নিকট কী চাচ্ছেন? রবীআ রা. বললেন, আমরা চাচ্ছি, আপনারা আমাদের দ্বীনে প্রবেশ করুন এবং আমরা যা করি তা পালন করুন। আর যদি আপনারা তা করতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে জিয়া প্রদান করবেন। আর যদি তাতেও অসম্মতি জানান, তাহলে তরবারীই আপনাদের ও আমাদের মাঝে ফয়সালা করবে।
জারজীস এ কথা শুনে বলল, তাহলে আপনারা পারসীদের সাথে কেন এ আচরণ করছেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে কেন মিত্র হিসেবে গ্রহণ করেননি? রবীআ রা. বললেন, প্রথমে আপনাদের বিরুদ্ধে লড়তে এসেছি এ জন্য, যেহেতু তাদের চেয়ে আপনারা আমাদের নিকটবর্তী। আর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তার কিতাবে একথার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِنَ الْكُفَّارِ وَلِيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً . “হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে লড়াই কর। আর তারা যেন তোমাদের মাঝে কঠোরতা অনুভব করে। আর জেনে রেখো! আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের সাথেই রয়েছেন” [তাওবাহ: ১২৩]। জারজীস বলল, তাহলে আপনি কি এ মর্মে আমাদের সাথে সন্ধি স্থাপন করতে চান যে, আমরা আপনাদের প্রত্যেককে একটি করে স্বর্ণ মুদ্রা এবং দশ ওয়াসক্ করে খাদ্য শস্য দিব। আর সন্ধি পত্রে লিখবেন যে, আর আপনারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসবেন না এবং আমরাও আপনাদের সাথে যুদ্ধ করতে যাব না। রবীআ রা. বললেন, এটা হতে পারে না। যুদ্ধ, জিয়া প্রদান ও ইসলাম গ্রহণ এ তিনটির কোন একটিই আপনাদের গ্রহণ করতে হবে। জারজীস বলল, আপনাদের দ্বীনে আমাদের প্রবেশ করার কোন অবকাশ নেই। এমনকি সবাই নিহত হলেও এব্যাপারে আমরা অটল থাকতে বদ্ধপরিকর। আর জিয়া প্রদানের চেয়ে আমরা মৃত্যুকে অধিক শ্রেয় মনে করি। আর যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রতি আপনারা আমাদের চেয়ে অধিক উৎসাহপ্রবণ নন। কারণ, আমাদের রয়েছে অনেক সেনাপতি, রাজপুত্র ও যুদ্ধাভিজ্ঞ সৈনিক।