📄 রোমানদের সাথে প্রথম যুদ্ধ
রোম সম্রাট যখন তাদের চেহারা উৎফুল্ল দেখলেন এবং তাদের প্রতি তীক্ষ্ম দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দেখতে পেলেন যে, তারা যুদ্ধ করতে প্রস্তুত, তখন তিনি খুব সাহসী ও লড়াকু দেখে আট হাজার সৈন্য আলাদা করলেন এবং তাদের উপর যুদ্ধাভিজ্ঞ পাঁচ ব্যক্তিকে কমান্ডার মনোনীত করলেন। এরা হচ্ছে (১) বাতালীক (২) তার ভাই জারজীস (৩) সম্রাটের পুলিশ বাহিনী প্রধান (৪) লওকা বিন শামআন (৫) গাযার শাসক সলীব বিন হিনা।
বীরত্ব ও যুদ্ধপটুতায় এরা কিংবদন্তী ছিল। অতঃপর তারা যুদ্ধের পোশাকে সুসজ্জিত হল। আর তাদের লোকেরা আসরের নামায আদায় করে রহমত কামনা করল এবং দুআ করল, "হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যারা সত্যের উপর রয়েছে তাদের তুমি সাহায্য কর"।
তারপর তাদের গায়ে তাদের গির্জা থেকে সুগন্ধি ও 'মা'মূদিয়ার পানি' ماء المعمودية এনে ছিটে দেওয়া হল। অতঃপর তারা সম্রাটকে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে রওয়ানা হল। তাদের অগ্রে ছিল খ্রিষ্টান আরবরা। তারা তাদের গাইড হিসেবে কাজ করছিল।
📄 ইসলামের সেনাপতির রণ কৌশল
ওদিকে ইয়াযীদ বিন আবু সুফয়ান ও রবীআ বিন আমের মুসলমানদের নিয়ে রোমানদের আগমনের তিন দিন পূর্বে তাবুকে গিয়ে পৌঁছেন। চতুর্থ দিন মুসলমানগণ সিরিয়ায় প্রবেশের ইচ্ছা করলে দেখতে পায় যে, রোমানরা তাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মুসলমানরা তাদের দেখে সতর্ক হয়ে যায় এবং রবীআ বিন আমের তাঁর অধীনস্ত এক হাজার সৈন্যকে নিয়ে আত্মগোপন করেন। আর ইয়াযীদ রা তাঁর অধীনস্থ এক হাজার সৈন্যদের দিকে অগ্রসর হয়ে তাদেরকে নসীহত করেন ও আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন-
اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ بِالنَّصْرِ وَأَيَّدَكُمُ بِالْمَلَائِكَةِ وَقَالَ فِي كِتَابِهِ الْعَزِيزِ (( كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ)) وَقَدْ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : (الْجَنَّةُ تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ), وَأَنتُمْ أَوَّلُ جُنْدِ دَخَلَ الشَّامَ وَتَوَجَّهَ لِقِتَالِ بَنِي الْأَصْفَرِ وَإِيَّاكُمْ أَنْ تَطْمَعُوا الْعَدُوُّ فِيكُمْ وَانْصُرُو اللَّهَ يَنْصُرُكُمْ
“জেনে রাখুন আল্লাহ তা'আলা আপনাদেরকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ইতোপূর্বে ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে বলেছেন, আল্লাহর হুকুমে অনেক ছোট বাহিনী অনেক বড় বাহিনীর উপর বিজয়ী হয়েছে। আল্লাহ তো রয়েছেন ধৈর্যশীলদের সাথে”।
আর রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- 'তরবারীর ছায়াতলে রয়েছে জান্নাত'।
আর আপনারাই সর্বপ্রথম মুসলিম বাহিনী, যারা সিরিয়া অভিযানে এসেছেন এবং রোমানদের সাথে লড়াই করার জন্য অগ্রসর হয়েছেন। এখন আপনারা সিরিয়ার সৈন্যের মুখোমুখি। আর সাবধান থাকবেন যেন শত্রুরা আপনাদেরকে তাদের টার্গেট বানানোর সাহস না দেখায়। আপনারা আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য করুন, তাহলে তিনি আপনাদের সাহায্য করবেন"।
হযরত ইয়াযীদ সৈন্যদের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলার সময় দেখা গেল, রোমান সৈন্যরা ধেয়ে আসছে। তারা যখন দেখতে পায় যে, মুসলমানরা সংখ্যায় কম, তখন তারা মুসলমানদের উপর হামলা চালাতে উদ্যত হয় এবং মনে করে যে, এরা ছাড়া মুসলমানদের আর কোন সৈন্য নেই। ফলে তারা একে অপরকে রোমীয় ভাষায় মুসলমানদের উপর আক্রমণ শুরু করার আহ্বান করে এবং বলে, তোমরা তাদেরকে ধর, যারা তোমাদের দেশ ছিনিয়ে নিতে চায় এবং ক্রুশের ওসীলায় তোমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা কর। তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন। অতঃপর তারা আক্রমণ শুরু করে। সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত সাহসিকতা ও বীরচিত্তে তাদের আক্রমণের জবাব দেন। রোমান সৈন্যরা তাদের আধিক্যের গর্ব করল এবং মনে করল যে, তারা যুদ্ধে বিজয়ী হবে।
📄 পালিয়ে গেল কাফির দল
এমন সময় হঠাৎ করে রবীআ বিন আমের রা. তার সৈন্যদের নিয়ে গোপন আস্তানা থেকে জোর গলায় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও নবী সা.-এর ওপর দরুদ পড়তে পড়তে বের হয়ে আসেন এবং রোমানদের উপর বীর বিক্রমে ঝাঁপিড়ে পড়েন। তাদেরকে দেখে রোমানদের মন দুর্বল হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাদের অন্তরে ভীতি ঢেলে দেন। ফলে তারা পিছনে হঠতে শুরু করে।
📄 নিহত হল শত্রু কমান্ডার
হযরত রবীআ বিন আমেরের দৃষ্টি বাতালীকের প্রতি পড়ল। দেখলেন, সে তার সৈন্যদেরকে যুদ্ধের প্রতি উৎসাহিত করছে। হযরত রবীআ বুঝতে পারলেন যে, সে রোমানদের নেতা সেই। তাই তিনি বীরদর্পে তার দিকে ছুটে যান এবং তাকে তীর দ্বারা আঘাত করেন। তীর তার নিতম্ব দিয়ে ঢুকে অপরদিক দিয়ে বের হয়ে যায়। রোমান সৈন্যরা এ দৃশ্য দেখে পলায়ন করা শুরু করে। আর মুহাম্মদ সা.-এর উম্মতরা বিজয়ের পতাকা উড্ডীন করে।