📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইসলামের সৈন্যদের যাত্রা শুরু

📄 ইসলামের সৈন্যদের যাত্রা শুরু


এরপর ইসলামের সৈন্যরা তাদের উদ্দেশ্য পানে রওয়ানা হয়ে যান। আর হযরত আবু বকর রা. তাঁর সাথীদের নিয়ে মদীনার দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। লোকজন অতি দ্রুত বেগে চলতে লাগল। রবীআ রা. বললেন, হে ইয়াযীদ! এ কী অবস্থা! আবু বকর রা. তো আপনাকে সৈন্যদের নিয়ে আস্তে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন, আবু বকর রা. আরো সৈন্য পাঠাবেন তাই আমরা সিরিয়ায় তাদের আগে পৌঁছতে চাই। হতে পারে আমরা তারা আসার পূর্বেই কোন বিজয় অর্জন করব। ফলে আমরা এক সাথে তিনটি সৌভাগ্য অর্জন করব। এক. আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুই. খলীফার সন্তুষ্টি। তিন. গনীমত লাভ। তখন রবীআ বলেন, তাহলে চলুন। আল্লাহই একমাত্র সহায়।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোম সম্রাটের ভীতি

📄 রোম সম্রাটের ভীতি


মুসলমানদের যুদ্ধযাত্রার এ সংবাদ মদীনায় অবস্থানকারী কতিপয় খ্রিস্টানদের মাধ্যমে রোম সম্রাট হিরোক্লিয়াসের নিকট পৌঁছে যায়। তাই তিনি তার মন্ত্রীসভার সদস্যদের ডাকেন এবং বললেন, 'হে রোম সম্প্রদায়! তোমরা ভালভাবে জেনে রেখো যে তোমাদের রাষ্ট্রের পতন ও ধ্বংসের সময় নিকটবর্তী হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের দ্বীনের হুকুম-আহকাম পালন করেছিলে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করেছিলে, নামায ও যাকাত আদায় করেছিলে এবং ইঞ্জিলে বর্ণিত আল্লাহর সীমার মধ্যে দৃঢ়পদ ছিলে, ততক্ষণ তোমরা দুনিয়ার যে শাসকই তোমাদের এবং তোমাদের দেশ সিরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে এসেছিল, তার উপর বিজয় লাভ করেছিলে। তোমাদের স্মরণ আছে যখন পারস্য সম্রাট কিসরা বিন হরমুয তার বাহিনী নিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়তে এসেছিল, তখন তারা পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছিল। তুর্কীরা তোমাদের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করেছিল। কিন্তু তারা পরাজয় বরণ করেছিল। জারামাকা সম্প্রদায়ও তোমাদের বিরুদ্ধে লড়তে এসেছিল কিন্তু তাদেরকে তোমরা পালাতে বাধ্য করেছিলে। এখন তোমরা তোমাদের দ্বীনের বিধানাবলীতে পরিবর্তন ঘটিয়েছ এবং যুলুম করা শুরু করে দিয়েছ। এতে করে তোমরা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছ। যার ফলে তোমাদের বিরুদ্ধে তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটিয়েছেন, যারা বিশ্ব সমাজের উল্লেখযোগ্য কোন সম্প্রদায় ছিল না এবং পৃথিবীতে যাদের চেয়ে দুর্বল কোন সম্প্রদায় ছিল না। তারা যে আমাদের দেশে এসে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, তার কোন কল্পনাও আমাদের অন্তরে সৃষ্টি হয়নি। বস্তুতঃ তাঁদের দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যাভাবই তাদেরকে আমাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং তাদের নবীর খলীফা এ জন্য তাদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছে। তারা আমাদের দেশ কেড়ে নিয়ে যাবে। তারা আমাদেরকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সংকল্প করেছে'।

এছাড়াও সম্রাট গোয়েন্দাদের কাছ থেকে যা শুনেছেন তা তাদের সামনে বর্ণনা করেন। সম্রাটের কথার উত্তরে সকল সভাসদ এক বাক্যে বলে উঠেন যে, আমাদেরকে তাদের মোকাবেলা করার জন্য প্রেরণ করুন। তাদের আকাঙ্খা কোনদিন পূর্ণ হবে না। আমরা তাদেরকে তাদের নবীর শহরে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের কা'বার মুলোৎপাটন করে ছাড়ব এবং তাদের কাউকে জীবিত বাড়ী ফিরতে দেব না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমানদের সাথে প্রথম যুদ্ধ

📄 রোমানদের সাথে প্রথম যুদ্ধ


রোম সম্রাট যখন তাদের চেহারা উৎফুল্ল দেখলেন এবং তাদের প্রতি তীক্ষ্ম দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দেখতে পেলেন যে, তারা যুদ্ধ করতে প্রস্তুত, তখন তিনি খুব সাহসী ও লড়াকু দেখে আট হাজার সৈন্য আলাদা করলেন এবং তাদের উপর যুদ্ধাভিজ্ঞ পাঁচ ব্যক্তিকে কমান্ডার মনোনীত করলেন। এরা হচ্ছে (১) বাতালীক (২) তার ভাই জারজীস (৩) সম্রাটের পুলিশ বাহিনী প্রধান (৪) লওকা বিন শামআন (৫) গাযার শাসক সলীব বিন হিনা।

বীরত্ব ও যুদ্ধপটুতায় এরা কিংবদন্তী ছিল। অতঃপর তারা যুদ্ধের পোশাকে সুসজ্জিত হল। আর তাদের লোকেরা আসরের নামায আদায় করে রহমত কামনা করল এবং দুআ করল, "হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যারা সত্যের উপর রয়েছে তাদের তুমি সাহায্য কর"।

তারপর তাদের গায়ে তাদের গির্জা থেকে সুগন্ধি ও 'মা'মূদিয়ার পানি' ماء المعمودية এনে ছিটে দেওয়া হল। অতঃপর তারা সম্রাটকে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে রওয়ানা হল। তাদের অগ্রে ছিল খ্রিষ্টান আরবরা। তারা তাদের গাইড হিসেবে কাজ করছিল।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইসলামের সেনাপতির রণ কৌশল

📄 ইসলামের সেনাপতির রণ কৌশল


ওদিকে ইয়াযীদ বিন আবু সুফয়ান ও রবীআ বিন আমের মুসলমানদের নিয়ে রোমানদের আগমনের তিন দিন পূর্বে তাবুকে গিয়ে পৌঁছেন। চতুর্থ দিন মুসলমানগণ সিরিয়ায় প্রবেশের ইচ্ছা করলে দেখতে পায় যে, রোমানরা তাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মুসলমানরা তাদের দেখে সতর্ক হয়ে যায় এবং রবীআ বিন আমের তাঁর অধীনস্ত এক হাজার সৈন্যকে নিয়ে আত্মগোপন করেন। আর ইয়াযীদ রা তাঁর অধীনস্থ এক হাজার সৈন্যদের দিকে অগ্রসর হয়ে তাদেরকে নসীহত করেন ও আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন-
اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ بِالنَّصْرِ وَأَيَّدَكُمُ بِالْمَلَائِكَةِ وَقَالَ فِي كِتَابِهِ الْعَزِيزِ (( كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ)) وَقَدْ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : (الْجَنَّةُ تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ), وَأَنتُمْ أَوَّلُ جُنْدِ دَخَلَ الشَّامَ وَتَوَجَّهَ لِقِتَالِ بَنِي الْأَصْفَرِ وَإِيَّاكُمْ أَنْ تَطْمَعُوا الْعَدُوُّ فِيكُمْ وَانْصُرُو اللَّهَ يَنْصُرُكُمْ

“জেনে রাখুন আল্লাহ তা'আলা আপনাদেরকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ইতোপূর্বে ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে বলেছেন, আল্লাহর হুকুমে অনেক ছোট বাহিনী অনেক বড় বাহিনীর উপর বিজয়ী হয়েছে। আল্লাহ তো রয়েছেন ধৈর্যশীলদের সাথে”।

আর রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- 'তরবারীর ছায়াতলে রয়েছে জান্নাত'।

আর আপনারাই সর্বপ্রথম মুসলিম বাহিনী, যারা সিরিয়া অভিযানে এসেছেন এবং রোমানদের সাথে লড়াই করার জন্য অগ্রসর হয়েছেন। এখন আপনারা সিরিয়ার সৈন্যের মুখোমুখি। আর সাবধান থাকবেন যেন শত্রুরা আপনাদেরকে তাদের টার্গেট বানানোর সাহস না দেখায়। আপনারা আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য করুন, তাহলে তিনি আপনাদের সাহায্য করবেন"।

হযরত ইয়াযীদ সৈন্যদের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলার সময় দেখা গেল, রোমান সৈন্যরা ধেয়ে আসছে। তারা যখন দেখতে পায় যে, মুসলমানরা সংখ্যায় কম, তখন তারা মুসলমানদের উপর হামলা চালাতে উদ্যত হয় এবং মনে করে যে, এরা ছাড়া মুসলমানদের আর কোন সৈন্য নেই। ফলে তারা একে অপরকে রোমীয় ভাষায় মুসলমানদের উপর আক্রমণ শুরু করার আহ্বান করে এবং বলে, তোমরা তাদেরকে ধর, যারা তোমাদের দেশ ছিনিয়ে নিতে চায় এবং ক্রুশের ওসীলায় তোমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা কর। তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন। অতঃপর তারা আক্রমণ শুরু করে। সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত সাহসিকতা ও বীরচিত্তে তাদের আক্রমণের জবাব দেন। রোমান সৈন্যরা তাদের আধিক্যের গর্ব করল এবং মনে করল যে, তারা যুদ্ধে বিজয়ী হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px