📘 ফুতুহুশ শাম 📄 পথ নির্দেশ

📄 পথ নির্দেশ


তখন ইয়াযিদ বিন আবু সুফয়ান হযরত আবু বকর রা.-এর কাছে গিয়ে তাদেরকে কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আরয করলেন। আবু বকর রা. বললেন-
إِذَا سِرْتَ فَلَا تَضِيقُ عَلَى أَصْحَابِكَ فِي مَسِيرِكَ وَلَا تَغْضَبْ عَلَى قَوْمِكَ وَأَصْحَابِكَ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ وَاسْتَعْمِلِ الْعَدْلَ وَبَاعِدُ عَنْكَ الظُّلْمَ وَالْجُوْরَ فَإِنَّهُ لَا أَفْلَحَ قَوْمٌ ظَلَمُوا وَلَا نَصَرُوا عَلَى عَدُوِّهِمْ، وَإِذَا لَقِيتُمُ الْقَوْمَ فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالِ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ وَإِذَا نَصَرَتُمْ عَلَى عَدُوِّكُمْ فَلَا تَقْتُلُوا وَلَدًا وَلَا شَيْخًا وَلَا أَمْرَعَةً وَلَا طِفْلاً وَلَا تَقْتُلُوا بَهِيمَةَ الْمَاكُولِ وَلَا تَغْدِرُوا إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلَا تَنْقُضُوا إِذَا صَالَحْتُمْ، وَسَتَمُرُّونَ عَلَى قَوْمٍ فِي الصَّوَامِعِ رُهْبَانًا يَزْعَمُونَ أَنَّهُمْ تَرَهَبُوا فِي اللَّهِ فَدَعَوْهُمْ وَلَا تَهْدِمُوا صَوَامِعَهُمْ . وَسَتَجِدُونَ قَوْمًا آخَرِيْنَ مِنْ حِزْبِ الشَّيْطَانِ وَعَبَدَةِ الصَّلْبَانِ قَدْ حَلَقُوا أَوْسَاطَ رُؤُوسِهِمْ كَأَنَّهَا مَنَاحِيْضُ الْعِظَامِ فَاعْلَوْهُمْ بِسُيُوْفِكُمْ حَتَّى يَرْجُوا إِلَى الْإِسْلَامِ أَوْ يُعْطُوا الْجِজْيَةَ عَنْ يَدوَهُمْ صَاغِرُونَ، وَقَدِ اسْتَوْدَعْتُكُمُ اللَّهُ ، ثُمَّ عَائِقَهُ وَصَافَحْةً وَصَافَحَ رَبِيعَةَ بْنِ عَامِرٍ ، وَقَالَ يَارَبِيْعَةً بَنْ عَامِرٍ أَظْهِرْ شُجَاعَتَكَ عَلَى بَنِي الْأَصْفَرِ بَلَغَكُمُ اللَّهُ أَمَالَكُمْ، وَغَفَرَ لَنَا وَلَكُمْ.

"যখন তুমি কোন পথ দিয়ে যাবে, তখন যাওয়ার পথে তোমার নিজের ও তোমাদের সাথীদের উপর কঠোরতা প্রয়োগ করবে না। স্বীয় সম্প্রদায় ও লোকদের উপর রাগ করবে না। প্রত্যেক বিষয়ে সাথীদের সাথে পরামর্শ করবে। ন্যায়পরায়নতাকে আকড়ে ধরবে। অন্যায়-অবিচার থেকে দূরে থাকবে। অন্যায়-অবিচারী সম্প্রদায় সফলকাম ও শত্রুর উপর বিজয় লাভ করতে পারে না। যখন শত্রুর মুখোমুখি হবে, তখন পিছনে ফিরে যেয়ো না। কারণ, যে ব্যক্তি সে সময় যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন কিংবা অন্য কোন গ্রুপের সাথে একত্রিত হওয়া ছাড়া পিছনে ফিরে যাবে, সে আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হল। আর তার স্থান হবে জাহান্নাম। আর তা কতই না নিকৃষ্ঠ প্রত্যাবর্তনস্থল। আর যখন তোমরা শত্রুর উপর বিজয় লাভ করবে, তখন তাদের কিশোর, বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুদের হত্যা করবে না। তাদের ক্ষেতকে পুড়ে ফেলবে না, ফলবান বৃক্ষ কাটবে না, হালাল পশু ব্যতীত অন্য কোন পশু যবেহ করবে না, শত্রুর সাথে কোন চুক্তি করলে তা থেকে সরে আসবে না, সন্ধি করলে সন্ধির বিপরীত করবে না। আর তোমরা সেখানে এমন কিছু দরবেশদের দেখতে পাবে, যারা তাদের এবাদত খানায় নির্জন বাস করছে এবং মনে করছে যে, তাদের এ নির্জনবাস আল্লাহর জন্য। অতএব, তাদের কোন ক্ষতি করবে না এবং তাদের এবাদত খানা ধ্বংস করবে না। আর তোমরা অবশ্যই এমন কিছু লোকদের দেখতে পাবে, যারা শয়তানের দলের অন্তর্ভুক্ত ও ক্রুশের অনুসারী। তারা মাঝখানে মাথা মুন্ডিয়ে রাখে যেন তা হাড়ের উপরের মোটা গোস্ত। ইসলাম গ্রহণ কিংবা অপদস্ত হয়ে জিযয়া না দিলে তাদের উপর তরবারী নিয়ে চড়াও হবে। এখন আমি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি”।

এ কথা বলে তিনি ইয়াযীদ বিন আবু সুফ্যানের সাথে কোলাকুলি ও মোসাফেহা করলেন। অতঃপর রবীআ বিন আমেরের সাথে মোসাফেহা করলেন এবং বললেন হে রবীআ! আশা করি বনী আসফার (রোমানদের)- এর মোকাবিলায় তুমি তোমার বীরত্ব প্রকাশ করবে। আল্লাহ তোমাদের আশা-আকাঙ্খা পূর্ণ করুন এবং আমাদের ও তোমাদের সকলকে ক্ষমা করুন".

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইসলামের সৈন্যদের যাত্রা শুরু

📄 ইসলামের সৈন্যদের যাত্রা শুরু


এরপর ইসলামের সৈন্যরা তাদের উদ্দেশ্য পানে রওয়ানা হয়ে যান। আর হযরত আবু বকর রা. তাঁর সাথীদের নিয়ে মদীনার দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। লোকজন অতি দ্রুত বেগে চলতে লাগল। রবীআ রা. বললেন, হে ইয়াযীদ! এ কী অবস্থা! আবু বকর রা. তো আপনাকে সৈন্যদের নিয়ে আস্তে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন, আবু বকর রা. আরো সৈন্য পাঠাবেন তাই আমরা সিরিয়ায় তাদের আগে পৌঁছতে চাই। হতে পারে আমরা তারা আসার পূর্বেই কোন বিজয় অর্জন করব। ফলে আমরা এক সাথে তিনটি সৌভাগ্য অর্জন করব। এক. আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুই. খলীফার সন্তুষ্টি। তিন. গনীমত লাভ। তখন রবীআ বলেন, তাহলে চলুন। আল্লাহই একমাত্র সহায়।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোম সম্রাটের ভীতি

📄 রোম সম্রাটের ভীতি


মুসলমানদের যুদ্ধযাত্রার এ সংবাদ মদীনায় অবস্থানকারী কতিপয় খ্রিস্টানদের মাধ্যমে রোম সম্রাট হিরোক্লিয়াসের নিকট পৌঁছে যায়। তাই তিনি তার মন্ত্রীসভার সদস্যদের ডাকেন এবং বললেন, 'হে রোম সম্প্রদায়! তোমরা ভালভাবে জেনে রেখো যে তোমাদের রাষ্ট্রের পতন ও ধ্বংসের সময় নিকটবর্তী হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের দ্বীনের হুকুম-আহকাম পালন করেছিলে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করেছিলে, নামায ও যাকাত আদায় করেছিলে এবং ইঞ্জিলে বর্ণিত আল্লাহর সীমার মধ্যে দৃঢ়পদ ছিলে, ততক্ষণ তোমরা দুনিয়ার যে শাসকই তোমাদের এবং তোমাদের দেশ সিরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে এসেছিল, তার উপর বিজয় লাভ করেছিলে। তোমাদের স্মরণ আছে যখন পারস্য সম্রাট কিসরা বিন হরমুয তার বাহিনী নিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়তে এসেছিল, তখন তারা পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছিল। তুর্কীরা তোমাদের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করেছিল। কিন্তু তারা পরাজয় বরণ করেছিল। জারামাকা সম্প্রদায়ও তোমাদের বিরুদ্ধে লড়তে এসেছিল কিন্তু তাদেরকে তোমরা পালাতে বাধ্য করেছিলে। এখন তোমরা তোমাদের দ্বীনের বিধানাবলীতে পরিবর্তন ঘটিয়েছ এবং যুলুম করা শুরু করে দিয়েছ। এতে করে তোমরা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছ। যার ফলে তোমাদের বিরুদ্ধে তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটিয়েছেন, যারা বিশ্ব সমাজের উল্লেখযোগ্য কোন সম্প্রদায় ছিল না এবং পৃথিবীতে যাদের চেয়ে দুর্বল কোন সম্প্রদায় ছিল না। তারা যে আমাদের দেশে এসে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, তার কোন কল্পনাও আমাদের অন্তরে সৃষ্টি হয়নি। বস্তুতঃ তাঁদের দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যাভাবই তাদেরকে আমাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং তাদের নবীর খলীফা এ জন্য তাদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছে। তারা আমাদের দেশ কেড়ে নিয়ে যাবে। তারা আমাদেরকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সংকল্প করেছে'।

এছাড়াও সম্রাট গোয়েন্দাদের কাছ থেকে যা শুনেছেন তা তাদের সামনে বর্ণনা করেন। সম্রাটের কথার উত্তরে সকল সভাসদ এক বাক্যে বলে উঠেন যে, আমাদেরকে তাদের মোকাবেলা করার জন্য প্রেরণ করুন। তাদের আকাঙ্খা কোনদিন পূর্ণ হবে না। আমরা তাদেরকে তাদের নবীর শহরে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের কা'বার মুলোৎপাটন করে ছাড়ব এবং তাদের কাউকে জীবিত বাড়ী ফিরতে দেব না।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 রোমানদের সাথে প্রথম যুদ্ধ

📄 রোমানদের সাথে প্রথম যুদ্ধ


রোম সম্রাট যখন তাদের চেহারা উৎফুল্ল দেখলেন এবং তাদের প্রতি তীক্ষ্ম দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দেখতে পেলেন যে, তারা যুদ্ধ করতে প্রস্তুত, তখন তিনি খুব সাহসী ও লড়াকু দেখে আট হাজার সৈন্য আলাদা করলেন এবং তাদের উপর যুদ্ধাভিজ্ঞ পাঁচ ব্যক্তিকে কমান্ডার মনোনীত করলেন। এরা হচ্ছে (১) বাতালীক (২) তার ভাই জারজীস (৩) সম্রাটের পুলিশ বাহিনী প্রধান (৪) লওকা বিন শামআন (৫) গাযার শাসক সলীব বিন হিনা।

বীরত্ব ও যুদ্ধপটুতায় এরা কিংবদন্তী ছিল। অতঃপর তারা যুদ্ধের পোশাকে সুসজ্জিত হল। আর তাদের লোকেরা আসরের নামায আদায় করে রহমত কামনা করল এবং দুআ করল, "হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যারা সত্যের উপর রয়েছে তাদের তুমি সাহায্য কর"।

তারপর তাদের গায়ে তাদের গির্জা থেকে সুগন্ধি ও 'মা'মূদিয়ার পানি' ماء المعمودية এনে ছিটে দেওয়া হল। অতঃপর তারা সম্রাটকে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে রওয়ানা হল। তাদের অগ্রে ছিল খ্রিষ্টান আরবরা। তারা তাদের গাইড হিসেবে কাজ করছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px