📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইসলামের সৈন্যদের আধিক্য

📄 ইসলামের সৈন্যদের আধিক্য


আবু বকর রা. একথা শোনার সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালেন এবং অন্যান্য সাহাবী যেমন হযরত উমর ফারুক, হযরত উসমান, হযরত আলী, হযরত সাঈদ বিন যাইদ বিন আমর বিন নুফাইল এবং আউস ও খাযরায গোত্রের লোকদেরকে সাথে নিয়ে মদীনার বাইরে জমায়েত হওয়া মুজাহিদদের নিকট গেলেন। লোকজন তাঁকে দেখে আনন্দে নারায়ে তাকবীর দিয়ে স্বাগতম জানায়। নারায়ে তাকবীরের আওয়াজে পাহাড়-পর্বত মুখরিত হল। হযরত আবু বকর রা. এমন এক স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন যেখানে সবাই তাকে দেখতে পাচ্ছিল। তিনি সৈন্যদের স্রোতের মাঝে দৃষ্টিপাত করে দেখতে পেলেন যে, স্থানটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। তিনি এ দৃশ্য দেখে খুব আনন্দিত হলেন এবং তাঁর মুখ থেকে এ দুআটি বের হল- اللَّهُمَّ أُنْزِلْ عَلَيْهِمُ الصَّبْرَ وَأَيْدِهُمْ وَلَا تَسْلِمُهُمْ إِلَى عَدُوِّهِمْ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ
"হে আল্লাহ এদেরকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করুন, এদেরকে সাহায্য করুন এবং এদেরকে কাফেরের খাঁচায় বন্দী হওয়া থেকে হেফাযত করুন। নিঃসন্দেহে আপনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান"।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইয়াযিদ বিন আবু সুফয়ান ও রবিআ বিন আমেরের নেতৃত্ব

📄 ইয়াযিদ বিন আবু সুফয়ান ও রবিআ বিন আমেরের নেতৃত্ব


দুআর পর তিনি সর্বপ্রথম ইয়াযীদ বিন আবু সুফ্যানকে ডেকে পতাকা দিয়ে এক হাজার সৈন্যের কমান্ডারের দায়িত্ব অর্পন করেন। তারপর হিজাযের প্রসিদ্ধ যোদ্ধা বনী আমের গোত্রের হযরত রবীআ বিন আমের রা.-কে ডাকেন এবং তাঁকেও এক হাজার সৈন্যের উপর কমান্ডারের দায়িত্ব দিয়ে পতাকা অর্পণ করেন। অতঃপর তিনি হযরত ইয়াযীদের কাছে গিয়ে তাকে বললেন, এ উচ্চ বংশের পুরুষ রবীআ বিন আমের। তুমি তার যুদ্ধপটুতা সম্পর্কে জ্ঞাত আছ। আমি তাকে তোমার সাথে পাঠাচ্ছি ও তোমাকে তার আমীর বানিয়েছি। অতঃএব তাকে তোমার বাহিনীর অগ্রে রাখবে এবং তার সাথে পরামর্শ করবে। তার বিরোধিতা করবে না। ইয়াযীদ বললেন, ঠিক আছে। অশ্বারোহী সৈন্যরা দ্রুত অস্ত্র সজ্জিত হতে শুরু করে। ইয়াযীদ বিন আবু সুফ্যান ও রবীআ বিন আমের সওয়ার হয়ে সৈন্যদের নিয়ে আবু বকর রা.- এর দিকে এগিয়ে আসলেন। আবু বকর রা. সৈন্যদের সাথে চলতে লাগলেন। তখন ইয়াযীদ বললেন, ওহে আল্লাহর রাসুলের খলীফা! আপনি যার উপর সন্তুষ্ট, সেই আল্লাহর ক্রোধ থেকে রক্ষা পেতে পারে। আপনি হাঁটলে আমরা ঘোড়ায় সওয়ার হতে পারি না। হয়তো আপনি সওয়ার হোন নতুবা আমরা নেমে যাই। তিনি বললেন, আমিও সওয়ার হব না, তোমরাও নামবে না। তিনি হাঁটতে হাঁটতে 'ছানিয়াতুল বিদা' পর্যন্ত এলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দাঁড়ালেন।

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 পথ নির্দেশ

📄 পথ নির্দেশ


তখন ইয়াযিদ বিন আবু সুফয়ান হযরত আবু বকর রা.-এর কাছে গিয়ে তাদেরকে কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আরয করলেন। আবু বকর রা. বললেন-
إِذَا سِرْتَ فَلَا تَضِيقُ عَلَى أَصْحَابِكَ فِي مَسِيرِكَ وَلَا تَغْضَبْ عَلَى قَوْمِكَ وَأَصْحَابِكَ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ وَاسْتَعْمِلِ الْعَدْلَ وَبَاعِدُ عَنْكَ الظُّلْمَ وَالْجُوْরَ فَإِنَّهُ لَا أَفْلَحَ قَوْمٌ ظَلَمُوا وَلَا نَصَرُوا عَلَى عَدُوِّهِمْ، وَإِذَا لَقِيتُمُ الْقَوْمَ فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالِ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ وَإِذَا نَصَرَتُمْ عَلَى عَدُوِّكُمْ فَلَا تَقْتُلُوا وَلَدًا وَلَا شَيْخًا وَلَا أَمْرَعَةً وَلَا طِفْلاً وَلَا تَقْتُلُوا بَهِيمَةَ الْمَاكُولِ وَلَا تَغْدِرُوا إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلَا تَنْقُضُوا إِذَا صَالَحْتُمْ، وَسَتَمُرُّونَ عَلَى قَوْمٍ فِي الصَّوَامِعِ رُهْبَانًا يَزْعَمُونَ أَنَّهُمْ تَرَهَبُوا فِي اللَّهِ فَدَعَوْهُمْ وَلَا تَهْدِمُوا صَوَامِعَهُمْ . وَسَتَجِدُونَ قَوْمًا آخَرِيْنَ مِنْ حِزْبِ الشَّيْطَانِ وَعَبَدَةِ الصَّلْبَانِ قَدْ حَلَقُوا أَوْسَاطَ رُؤُوسِهِمْ كَأَنَّهَا مَنَاحِيْضُ الْعِظَامِ فَاعْلَوْهُمْ بِسُيُوْفِكُمْ حَتَّى يَرْجُوا إِلَى الْإِسْلَامِ أَوْ يُعْطُوا الْجِজْيَةَ عَنْ يَدوَهُمْ صَاغِرُونَ، وَقَدِ اسْتَوْدَعْتُكُمُ اللَّهُ ، ثُمَّ عَائِقَهُ وَصَافَحْةً وَصَافَحَ رَبِيعَةَ بْنِ عَامِرٍ ، وَقَالَ يَارَبِيْعَةً بَنْ عَامِرٍ أَظْهِرْ شُجَاعَتَكَ عَلَى بَنِي الْأَصْفَرِ بَلَغَكُمُ اللَّهُ أَمَالَكُمْ، وَغَفَرَ لَنَا وَلَكُمْ.

"যখন তুমি কোন পথ দিয়ে যাবে, তখন যাওয়ার পথে তোমার নিজের ও তোমাদের সাথীদের উপর কঠোরতা প্রয়োগ করবে না। স্বীয় সম্প্রদায় ও লোকদের উপর রাগ করবে না। প্রত্যেক বিষয়ে সাথীদের সাথে পরামর্শ করবে। ন্যায়পরায়নতাকে আকড়ে ধরবে। অন্যায়-অবিচার থেকে দূরে থাকবে। অন্যায়-অবিচারী সম্প্রদায় সফলকাম ও শত্রুর উপর বিজয় লাভ করতে পারে না। যখন শত্রুর মুখোমুখি হবে, তখন পিছনে ফিরে যেয়ো না। কারণ, যে ব্যক্তি সে সময় যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন কিংবা অন্য কোন গ্রুপের সাথে একত্রিত হওয়া ছাড়া পিছনে ফিরে যাবে, সে আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হল। আর তার স্থান হবে জাহান্নাম। আর তা কতই না নিকৃষ্ঠ প্রত্যাবর্তনস্থল। আর যখন তোমরা শত্রুর উপর বিজয় লাভ করবে, তখন তাদের কিশোর, বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুদের হত্যা করবে না। তাদের ক্ষেতকে পুড়ে ফেলবে না, ফলবান বৃক্ষ কাটবে না, হালাল পশু ব্যতীত অন্য কোন পশু যবেহ করবে না, শত্রুর সাথে কোন চুক্তি করলে তা থেকে সরে আসবে না, সন্ধি করলে সন্ধির বিপরীত করবে না। আর তোমরা সেখানে এমন কিছু দরবেশদের দেখতে পাবে, যারা তাদের এবাদত খানায় নির্জন বাস করছে এবং মনে করছে যে, তাদের এ নির্জনবাস আল্লাহর জন্য। অতএব, তাদের কোন ক্ষতি করবে না এবং তাদের এবাদত খানা ধ্বংস করবে না। আর তোমরা অবশ্যই এমন কিছু লোকদের দেখতে পাবে, যারা শয়তানের দলের অন্তর্ভুক্ত ও ক্রুশের অনুসারী। তারা মাঝখানে মাথা মুন্ডিয়ে রাখে যেন তা হাড়ের উপরের মোটা গোস্ত। ইসলাম গ্রহণ কিংবা অপদস্ত হয়ে জিযয়া না দিলে তাদের উপর তরবারী নিয়ে চড়াও হবে। এখন আমি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি”।

এ কথা বলে তিনি ইয়াযীদ বিন আবু সুফ্যানের সাথে কোলাকুলি ও মোসাফেহা করলেন। অতঃপর রবীআ বিন আমেরের সাথে মোসাফেহা করলেন এবং বললেন হে রবীআ! আশা করি বনী আসফার (রোমানদের)- এর মোকাবিলায় তুমি তোমার বীরত্ব প্রকাশ করবে। আল্লাহ তোমাদের আশা-আকাঙ্খা পূর্ণ করুন এবং আমাদের ও তোমাদের সকলকে ক্ষমা করুন".

📘 ফুতুহুশ শাম 📄 ইসলামের সৈন্যদের যাত্রা শুরু

📄 ইসলামের সৈন্যদের যাত্রা শুরু


এরপর ইসলামের সৈন্যরা তাদের উদ্দেশ্য পানে রওয়ানা হয়ে যান। আর হযরত আবু বকর রা. তাঁর সাথীদের নিয়ে মদীনার দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। লোকজন অতি দ্রুত বেগে চলতে লাগল। রবীআ রা. বললেন, হে ইয়াযীদ! এ কী অবস্থা! আবু বকর রা. তো আপনাকে সৈন্যদের নিয়ে আস্তে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন, আবু বকর রা. আরো সৈন্য পাঠাবেন তাই আমরা সিরিয়ায় তাদের আগে পৌঁছতে চাই। হতে পারে আমরা তারা আসার পূর্বেই কোন বিজয় অর্জন করব। ফলে আমরা এক সাথে তিনটি সৌভাগ্য অর্জন করব। এক. আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুই. খলীফার সন্তুষ্টি। তিন. গনীমত লাভ। তখন রবীআ বলেন, তাহলে চলুন। আল্লাহই একমাত্র সহায়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px