📄 ইয়ামানের সৈন্য
হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ্ রা. বলেন, কিছুদিন যেতে না যেতেই আনাস বিন মালেক রা. এসে ইয়ামানবাসীদের আগমনের সুসংবাদ শুনান। আর হযরত আবুবকর রা.-এর কাছে গিয়ে বলেন যে, আমি যাকেই আপনার নির্দেশ শুনালাম, সেই সাথে সাথে আল্লাহর আনুগত্য এবং আপনার নির্দেশ মেনে নেয়। ঐ সব লোকেরা যুদ্ধের সাজ-সজ্জা ও প্রস্তুতি সহকারে আপনার খেদমতে উপস্থিত হতে যাচ্ছে। হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! তাদের পূর্বেই আমি আপনার নিকট সুসংবাদ নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। যে সব লোক (আল্লাহর পথে জিহাদ করার লক্ষ্যে) আপনার নির্দেশ মেনে নিয়েছে, তারা খুবই সাহসী, ভাল যোদ্ধা এবং ইয়ামানের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তারা পরিবার-পরিজনসহ রওয়ানা হয়েছেন এবং শীঘ্রই এসে পৌঁছাচ্ছেন। আপনি তাদের সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত থাকুন। তিনি, (আবুবকর রা.) এ কথা শুনে খুব আনন্দ বোধ করলেন। এ দিন তো এভাবেই চলে গেল। দ্বিতীয় দিন সকালেই মুজাহিদদের আগমনের ধুম পড়ে যায়। মদীনাবাসী এ দৃশ্য দেখে হযরত আবুবকর রা.-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করে। তিনি মদীনাবাসী ও অন্যান্য লোকজনকে নিজ নিজ বাহনে সওয়ার হওয়ার নির্দেশ দেন এবং ইসলামের ঝান্ডা নিয়ে তাদের সাথে মুজাহিদদের অভিবাদন জানানোর জন্য অগ্রসর হন। কিছুক্ষণ পর মুজাহিদগণের দলবদ্ধ আগমন শুরু হয়ে যায়। প্রত্যেক গোত্র তখন ঝান্ডা উঁচু করে একে অপরের পিছনে সানন্দে অগ্রসর হচ্ছিল।
আগত সৈন্যদের মধ্যে যে দল দাউদী বর্ম, ভারতীয় তরবারী ও শিরস্ত্রান নিয়ে সবার আগে এসে পৌঁছল, তা হচ্ছে হিময়ার গোত্রের লোকেরা। এ গোত্রের নেতা ছিলেন যুলকিলা আল হিময়ারী রা.। তাঁর মাথায় পাগড়ী ছিল। তিনি আবুবকর রা.-এর নিকট পৌঁছে তাকে সালাম করলেন এবং নিজেদের অবস্থা জানালেন! আর নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করলেন:
"আমি হিময়ার গোত্রের লোক। আর যে লোকদেরকে আপনি আমার সাথে দেখছেন, তারা যুদ্ধের প্রথম সারিতে থাকে। তারা উচ্চ বংশের, সাহসিকতা তাদের স্বভাবজাত বিষয় এবং তারা বীরদের নেতা। এরা যুদ্ধের সময় বড় বড় সশস্ত্র বীরদের তরবারী ভেঙ্গে ফেলে। যুদ্ধ করা আমাদের শখ এবং এতে আমরা মারা ও মরা উভয়ের হিম্মত রাখি। যুলকিলা এ সব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ লোকদের নেতা। আমাদের সৈন্যরা এসে পৌঁছেছে। সিরিয়া আমাদের লক্ষ্যস্থল, আর দেমেস্ক তো আমাদেরই। ওখানকার অধিবাসীদের আমরা ধ্বংস করে ছাড়ব"
📄 হিময়ার গোত্রের বিজয়ের সুসংবাদ
আবু বকর রা. এ কথা শুনে মুচকি হাসলেন এবং হযরত আলীকে বললেন, হে আবুল হাসান! তুমি কি নবী সা.-কে একথা বলতে শোননি?
((إِذَا أَقْبَلَتْ حِمْيَرٌ وَمَعَهَا نِسَاءٌهَا تَحْمِلُ أَوْلَادَهَا فَأَبْشِرُ بِنَصْرِ اللَّهِ عَلَى أَهْلِ الشِّرْكِ أَجْمَعِينَ))
"যখন হিময়ার গোত্রের লোকেরা তাদের স্ত্রী-পুত্রসহ আগমন করবে, তখন সকল মুশরিকদের ওপর মুসলমানদেরকে আল্লাহর সাহায্য করার সুসংবাদ গ্রহণ করো"। হযরত আলী রা. বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। আমিও রাসূলুল্লাহ্ সা.-কে একথা বলতে শুনেছি।
📄 মাযহায গোত্রের সৈন্যবর্গ
হযরত আনাস রা. বলেন, হিময়ার গোত্রের লোকেরা তাদের পরিবার ও অস্ত্রশস্ত্রসহ চলে যায়। তাদের পিছনে মাযহাজ গোত্রের লোকেরা আগমন করে, যারা উন্নত জাতের ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে সুক্ষ্ম তীর সমূহ নিয়ে হযরত কাইস বিন হুবাইরা আল মুরাদী (রা.)-এর নেতৃত্বে এসেছে। এই নেতা যখন হযরত আবুবকর রা.-এর নিকট পৌঁছেন, তখন বললেন, রাসুলুল্লাহ সা. এর উপর দরুদ পড়ুন। আর হযরত আবু বকর রা.-কে সালাম করেন এবং নিজের গোত্রের পরিচয় তুলে ধরেন ও নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করেনঃ
"আমাদের সৈন্যেরা আপনার নিকট খুব দ্রুত উপস্থিত হয়েছে। আমরা মুরাদের মুকুটের অধিকারী। আমরা আপনার নিকট উপস্থিত হয়েছি। আমাদেরকে নির্দেশ দিন, যাতে আমরা আমাদের আনীত তরবারী দ্বারা রোমানদের হত্যা করতে পারি"
📄 তাঈ গোত্রের সৈন্যবর্গ
হযরত আবুবকর রা. তাদের কল্যাণ কামনা করেন। তারা সামনে চলে গেলে তাদের পিছনে তাঈ গোত্রের লোকগণ আগমন করে, যাদের নেতা ছিল হারিস বিন মাসআদ আততাঈ। হারিস যখন হযরত আবুবকর রা.-এর নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি তাঁর সম্মানার্থে ঘোড়া থেকে নেমে হেঁটে চলতে চাইলেন। কিন্তু হযরত আবুবকর রা. তা থেকে নিষেধ করলেন। হারিস কাছে আসলে হযরত আবুবকর রা. তার সাথে সালাম ও মোসাফেহা করেন এবং তার ও তার সৈন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।