📄 যারা সর্বেশ্বরবাদী
উপরন্তু, আল্লাহ তাআলা অন্যান্য আয়াতে জিবরীলকে বিশ্বস্ত ও পবিত্র রূহ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যান্য বর্ণনাসমূহ থেকেও এটি সুস্পষ্ট যে, তিনি এক মহান, জীবন্ত ও বুদ্ধিমান সৃষ্টি; তার স্বাধীন বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে; তিনি কোনো নবির কল্পনা নন। অথচ বিভ্রান্ত দার্শনিকরা তাকে নবিদের কল্পনা বলে অপবাদ দেয়। এদের সাথে আছে আরেকদল বিভ্রান্ত লোক যারা নিজেদেরকে আল্লাহর আউলিয়া বলে দাবি করে এবং নবিদের থেকেও নিজেকে বেশি জ্ঞানী মনে করে!
এসব লোকের বিভ্রান্তির চূড়ান্ত পরিণতি হলো, ঈমানের সকল রোকনকে অস্বীকার করা। আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, নবি-রাসূল এবং বিচার দিবসের ওপর বিশ্বাস রাখা হলো ঈমানের মূল বা রোকন। তাদের বিভ্রান্তিকর অবস্থানের কারণে তারা আল-খালিক (সৃষ্টিকর্তা)-কে অস্বীকার করে। কেননা, তারা সৃষ্টিকে স্রষ্টার অস্তিত্বের সাথে মিশিয়ে ফেলেছে এবং তারা বলে اَلْوُجُوْدُ وَاحِدٌ - অস্তিত্ব কেবল একটি! (বা সবকিছুই স্রষ্টা!) তারা নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এবং একটি জাতির মধ্যে পার্থক্য করে না।
বিদ্যমান প্রতিটি বস্তুই 'অস্তিত্বশীল' হওয়ার ক্ষেত্রে এক ও অভিন্ন। যেমন: সমস্ত মানুষ 'মানব-জাতির' অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এবং সব মানুষ ও পশু 'প্রাণী-জাতির' অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিক দিয়ে এক ও অভিন্ন। কিন্তু এই একতা ও অভিন্নতা কেবলই চিন্তাগত, এর কোনো বাস্তবতা নেই। কারণ একজন মানুষের আচরণ, প্রবৃত্তি ও বৈশিষ্ট্য আর একটি ঘোড়ার আচরণ, প্রবৃত্তি ও বৈশিষ্ট্য এক নয়। এমনিভাবে হুবহু আসমানের অস্তিত্ব আর মানুষের অস্তিত্ব এক নয়। যদিও দুটিই অস্তিত্বশীল। এ কথা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, সৃষ্টার অস্তিত্ব সৃষ্টির অস্তিত্ব থেকে পৃথক ও আলাদা। তাদের দাবি মিথ্যা, ভ্রান্ত ও বাতিল।
ওইসব দার্শনিক এবং ভণ্ড আউলিয়াদের অবস্থা ফিরআউনের মতো, যে সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করেছিল। সে কোনো দৃশ্যমান ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সৃষ্টিকে অস্বীকার করেনি, কিন্তু দাবি করত এগুলো কোনো স্রষ্টা ছাড়াই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সৃষ্টি হয়েছে! এসব দার্শনিক ও ভণ্ড আউলিয়ারা এ বিষয়ে ফিরআউনের সাথে একমত (উভয়েই কার্যত আল্লাহকে অস্বীকার করে)। কিন্তু এরা মনে করে প্রতিটি দৃশ্যমান বস্তুই আল্লাহ! (যেহেতু তাদের কাছে সবকিছুই এক, اَلْوُجُوْدُ وَاحِدٌ (এ কারণে তারা ফিরআউনের চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট; যদিও-বা ফিরআউনের মন্দ কাজ আমাদের কাছে বেশি স্পষ্ট।
এ জন্যেই আলোচ্য বিভ্রান্ত ব্যক্তিরা বলে, মূর্তিপূজারিরা আল্লাহ বাদে অন্য কারও ইবাদাত করে না! (যেহেতু তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস অনুসারে সবকিছুই আল্লাহ, এমনকি মূর্তিও!) এ জন্য তারা বলে, ফিরআউন যখন নিজেকে রব দাবি করে বলেছিল, 'আনা রব্বুকুমুল আ'লা' (أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى)- 'আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় রব'- তখন সে ঠিকই বলেছিল! কারণ তাদের মতে, সে শাসনক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী ছিল। আর আমরা সবাই কোনো না কোনো কিছুর 'রব' অর্থাৎ কোনো কিছুর ওপর কর্তৃত্বশীল। তাদের মতে ফিরআউনের কথার অর্থ হলো: 'তোমাদের ওপর শাসন-কর্তৃত্বের কারণে আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় রব!' তারা আরও বলে, জাদুকররা নাকি ফিরআউনের কথার সত্যতা বুঝতে পেরে বলল,
فَاقْضِ مَا أَنتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا *
'অতএব, তুমি যা ইচ্ছা করতে পারো। তুমি তো শুধু এই পার্থিব জীবনেই যা করার করবে।' [২৫৭]
তারা বলে, 'সুতরাং ফিরআউন নিজেকে সর্বোচ্চ রব দাবি করে সত্যই বলেছে!' দেখুন, কীভাবে ফিরআউনের মতো অভিশপ্ত ব্যক্তিও এদের কাছে সত্যের মহান উৎস! তারা বিচার দিবসের বাস্তবতাও অস্বীকার করেছে। তারা মনে করে জাহান্নামি ব্যক্তিরাও জান্নাতি ব্যক্তিদের মতো বিরাট আরাম-আয়েশ ও আনন্দে থাকবে। এভাবে এই লোকেরা আল্লাহ, বিচার দিবস, ফেরেশতা, কিতাব ও নবি-রাসূলদের ওপর কুফরি করল। অথচ তারা নিজেদেরকে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের মধ্যে সর্বোত্তম মনে করে; এমনকি তারা নিজেদেরকে নবিদের থেকেও শ্রেষ্ঠ মনে করে! তাদের মতে, নবিরা আল্লাহর ব্যাপারে তাদের থেকে কম জ্ঞান রাখে!
টিকাঃ
[২৫৭] সূরা ত্বহা, ২০: ৭২。
উপরন্তু, আল্লাহ তাআলা অন্যান্য আয়াতে জিবরীলকে বিশ্বস্ত ও পবিত্র রূহ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যান্য বর্ণনাসমূহ থেকেও এটি সুস্পষ্ট যে, তিনি এক মহান, জীবন্ত ও বুদ্ধিমান সৃষ্টি; তার স্বাধীন বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে; তিনি কোনো নবির কল্পনা নন। অথচ বিভ্রান্ত দার্শনিকরা তাকে নবিদের কল্পনা বলে অপবাদ দেয়। এদের সাথে আছে আরেকদল বিভ্রান্ত লোক যারা নিজেদেরকে আল্লাহর আউলিয়া বলে দাবি করে এবং নবিদের থেকেও নিজেকে বেশি জ্ঞানী মনে করে!
এসব লোকের বিভ্রান্তির চূড়ান্ত পরিণতি হলো, ঈমানের সকল রোকনকে অস্বীকার করা। আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, নবি-রাসূল এবং বিচার দিবসের ওপর বিশ্বাস রাখা হলো ঈমানের মূল বা রোকন। তাদের বিভ্রান্তিকর অবস্থানের কারণে তারা আল-খালিক (সৃষ্টিকর্তা)-কে অস্বীকার করে। কেননা, তারা সৃষ্টিকে স্রষ্টার অস্তিত্বের সাথে মিশিয়ে ফেলেছে এবং তারা বলে اَلْوُجُوْدُ وَاحِدٌ - অস্তিত্ব কেবল একটি! (বা সবকিছুই স্রষ্টা!) তারা নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এবং একটি জাতির মধ্যে পার্থক্য করে না।
বিদ্যমান প্রতিটি বস্তুই 'অস্তিত্বশীল' হওয়ার ক্ষেত্রে এক ও অভিন্ন। যেমন: সমস্ত মানুষ 'মানব-জাতির' অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এবং সব মানুষ ও পশু 'প্রাণী-জাতির' অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিক দিয়ে এক ও অভিন্ন। কিন্তু এই একতা ও অভিন্নতা কেবলই চিন্তাগত, এর কোনো বাস্তবতা নেই। কারণ একজন মানুষের আচরণ, প্রবৃত্তি ও বৈশিষ্ট্য আর একটি ঘোড়ার আচরণ, প্রবৃত্তি ও বৈশিষ্ট্য এক নয়। এমনিভাবে হুবহু আসমানের অস্তিত্ব আর মানুষের অস্তিত্ব এক নয়। যদিও দুটিই অস্তিত্বশীল। এ কথা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, সৃষ্টার অস্তিত্ব সৃষ্টির অস্তিত্ব থেকে পৃথক ও আলাদা। তাদের দাবি মিথ্যা, ভ্রান্ত ও বাতিল।
ওইসব দার্শনিক এবং ভণ্ড আউলিয়াদের অবস্থা ফিরআউনের মতো, যে সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করেছিল। সে কোনো দৃশ্যমান ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সৃষ্টিকে অস্বীকার করেনি, কিন্তু দাবি করত এগুলো কোনো স্রষ্টা ছাড়াই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সৃষ্টি হয়েছে! এসব দার্শনিক ও ভণ্ড আউলিয়ারা এ বিষয়ে ফিরআউনের সাথে একমত (উভয়েই কার্যত আল্লাহকে অস্বীকার করে)। কিন্তু এরা মনে করে প্রতিটি দৃশ্যমান বস্তুই আল্লাহ! (যেহেতু তাদের কাছে সবকিছুই এক, اَلْوُجُوْدُ وَاحِدٌ (এ কারণে তারা ফিরআউনের চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট; যদিও-বা ফিরআউনের মন্দ কাজ আমাদের কাছে বেশি স্পষ্ট।
এ জন্যেই আলোচ্য বিভ্রান্ত ব্যক্তিরা বলে, মূর্তিপূজারিরা আল্লাহ বাদে অন্য কারও ইবাদাত করে না! (যেহেতু তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস অনুসারে সবকিছুই আল্লাহ, এমনকি মূর্তিও!) এ জন্য তারা বলে, ফিরআউন যখন নিজেকে রব দাবি করে বলেছিল, 'আনা রব্বুকুমুল আ'লা' (أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى)- 'আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় রব'- তখন সে ঠিকই বলেছিল! কারণ তাদের মতে, সে শাসনক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী ছিল। আর আমরা সবাই কোনো না কোনো কিছুর 'রব' অর্থাৎ কোনো কিছুর ওপর কর্তৃত্বশীল। তাদের মতে ফিরআউনের কথার অর্থ হলো: 'তোমাদের ওপর শাসন-কর্তৃত্বের কারণে আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় রব!' তারা আরও বলে, জাদুকররা নাকি ফিরআউনের কথার সত্যতা বুঝতে পেরে বলল,
فَاقْضِ مَا أَنتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا *
'অতএব, তুমি যা ইচ্ছা করতে পারো। তুমি তো শুধু এই পার্থিব জীবনেই যা করার করবে।' [২৫৭]
তারা বলে, 'সুতরাং ফিরআউন নিজেকে সর্বোচ্চ রব দাবি করে সত্যই বলেছে!' দেখুন, কীভাবে ফিরআউনের মতো অভিশপ্ত ব্যক্তিও এদের কাছে সত্যের মহান উৎস! তারা বিচার দিবসের বাস্তবতাও অস্বীকার করেছে। তারা মনে করে জাহান্নামি ব্যক্তিরাও জান্নাতি ব্যক্তিদের মতো বিরাট আরাম-আয়েশ ও আনন্দে থাকবে। এভাবে এই লোকেরা আল্লাহ, বিচার দিবস, ফেরেশতা, কিতাব ও নবি-রাসূলদের ওপর কুফরি করল। অথচ তারা নিজেদেরকে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের মধ্যে সর্বোত্তম মনে করে; এমনকি তারা নিজেদেরকে নবিদের থেকেও শ্রেষ্ঠ মনে করে! তাদের মতে, নবিরা আল্লাহর ব্যাপারে তাদের থেকে কম জ্ঞান রাখে!
টিকাঃ
[২৫৭] সূরা ত্বহা, ২০: ৭২।