📄 অন্তরে ঈমানের নূর থাকলে সঠিক আউলিয়া চেনা যায়
যদি কোনো ব্যক্তি ঈমানের অভ্যন্তরীণ হাকীকাতের ব্যাপারে অভিজ্ঞ হয় এবং এলাহি ঘটনা ও শয়তানি ঘটনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে তবে বুঝতে হবে আল্লাহ তার অন্তরে নূর প্রদান করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ *
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। তিনি নিজে অনুগ্রহের দ্বিগুণ অংশ তোমাদের দেবেন, তোমাদের দেবেন নূর, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।' [২০০]
وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِن جَعَلْنَاهُ نُورًا نَّهْدِى بِهِ مَن نَّشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
'এমনিভাবে আমি আপনার কাছে এক ফেরেশতা প্রেরণ করেছি আমার আদেশক্রমে। আপনি জানতেন না, কিতাব কী এবং ঈমান কী। কিন্তু আমি একে করেছি নূর, যদ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করি। নিশ্চয় আপনি সরল পথ প্রদর্শন করেন।' [২০১]
এখানে মুমিনদের পথ দেখানোর কথা বলা হয়েছে। আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি (ফিরাসাত) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ সে আল্লাহর নূরের মাধ্যমে দেখতে পায়।'[২০২]
বুখারিতে উল্লেখিত হাদীসটি আমরা আগেই বলেছি, যেখানে নবি বলেছেন, (আল্লাহ বলেন), 'আমি আমার বান্দার ওপর যা কিছু ফরয করেছি, তা আদায়ের মাধ্যমে সে আমার যতটুকু নৈকট্য অর্জন করতে পারে অন্য কিছুর মাধ্যমে ততটুকু পারে না। আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদাতের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতেই থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। আর যখন তাকে ভালোবেসে ফেলি তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। যদি সে আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি তাকে আশ্রয় দিই। আমি কোনো কাজে এতটা দ্বিধা করি না, যতটা মুমিন বান্দার প্রাণ হরণে করি। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার কষ্ট অপছন্দ করি।'[২০৩]
যদি আল্লাহর কোনো বান্দা এসব লোকের মাঝে শামিল হয়, তবে সে রহমানের আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়াদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন যেভাবে একজন জহুরী নকল মুদ্রা ও আসল মুদ্রার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে অথবা একজন দক্ষ ঘোড়সوار ভালো ঘোড়াকে মন্দ ঘোড়া থেকে পৃথক করতে পারে অথবা একজন সামরিক বিশেষজ্ঞ ভীরু ও সাহসী যোদ্ধার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। একইভাবে, একজন সত্য নবি ও ভণ্ড নবির মধ্যে পার্থক্য করাও বাধ্যতামূলক। এভাবেই আমরা সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত রাসূল মুহাম্মাদ , মূসা ও ঈসার বিপরীতে মিথ্যাবাদী মূসাইলামা, আসওয়াদ আনাসি, তুলাইহা আসাদি, হারিস দিমাশকি, বাবাহ্ রুমি ও অন্যান্য মিথ্যাবাদী ও ভণ্ডদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। এদের চেনা যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনিভাবে রহমানের আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়াদের মধ্যে পার্থক্য করাও গুরুত্বপূর্ণ।
টিকাঃ
[১৯৯] ইবনুল মুলাক্কিন, আল-বাদরুল মুনীর, ৯/৬৩৩, সনদ বিচ্ছিন্ন。
[২০০] সূরা হাদীদ, ৫৭: ২৮。
[২০১] সূরা শূরা, ৪২: ৫২。
[২০২] তিরমিযি, ৩১২৭, গরীব。
[২০৩] বুখারি, ৬৫০২。