📘 ফুরকান রহমানের আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়া চিহ্নিতকরনের বিবরণ > 📄 ইজতিহাদি ভুলের গুনাহ নেই

📄 ইজতিহাদি ভুলের গুনাহ নেই


আবু হুরায়রা ও আমর ইবনুল আস বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'কোনো বিচারক যখন বিচার-কার্য করে এবং এই বিষয়ে সে চূড়ান্ত পরিশ্রম করে আর এতে যদি তার রায় সঠিক হয় তবে তার জন্য হবে দুইটি সওয়াব। আর যদি সে বিচারে ভুল করে তবে তার জন্য হবে একটি সওয়াব। [১৫০]
লক্ষ করুন! ইজতিহাদি ভুলের জন্য কোনো গুনাহ নেই; বরং তিনি তার চেষ্টার জন্য একটি সওয়াব পাবেন, আর তার অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। অপরদিকে, যিনি ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন তিনি দুইটি পুরস্কার পাবেন এবং উভয়ের মধ্যে তিনিই উত্তম।
যেহেতু আল্লাহর আউলিয়ার পক্ষে ভুল করা সম্ভব সেহেতু তারা যা কিছু বলেন, তার সবকিছু মানা কখনো বাধ্যতামূলক নয়। কেবল একজন নবির সকল কথা মানা ও বিশ্বাস করা বাধ্যতামূলক। উপরন্তু, শারীআতের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হলে আল্লাহর আউলিয়া জন্য বৈধ নয় যে, তিনি তার অন্তরের অনুপ্রেরণার ওপর ভরসা করবেন; বরং রাসূলুল্লাহ -এর আনীত বিষয়ের সাথে সবকিছু যাচাই করে নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে ইলহাম, অন্তর্দৃষ্টি বা অন্তরের অনুপ্রেরণা অনুসরণের কোনো সুযোগ নেই। রাসূলের ওপর নাযিলকৃত বিষয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হলে সেগুলো গ্রহণযোগ্য, অন্যথায় প্রত্যাখ্যাত। আর যদি তিনি নিশ্চিত হতে না পারেন এগুলো রাসূলের সাথে সংগতিপূর্ণ কি না সে ক্ষেত্রে তিনি সেসব বিষয়ে বিশ্বাস করা ও সেগুলো প্রয়োগ করা থেকে অবশ্যই দূরে থাকবেন।
আলোচ্য বিষয়ে লোকেরা তিনভাগে বিভক্ত: দুই দল চরমপন্থী, একদল মধ্যপন্থী। কিছু লোক যখন কাউকে আল্লাহর আউলিয়া বলে বিশ্বাস করে (যেমন: অনেকে বলে, তিনি একজন দরবেশ) তখন তার সবকিছু গ্রহণ করে ও কবুল করে নেয়, আর মনে করে আল্লাহর পক্ষ থেকে এগুলো ওই ওলির অন্তরে ঢেলে দেওয়া হয়েছে। তারা সেই ব্যক্তির সবকিছু মেনে নেয়।
আবার অন্যদিকে ওই ব্যক্তির কোনো কথা বা কাজ শারীআতের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হলে তারা তাকে আল্লাহর ওলি হওয়ার সকল সম্ভাবনাই বাতিল করে দেয়, যদিও তিনি সত্যের সন্ধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা করুন বা মানবীয় ভুল করুন না কেন! উভয় প্রান্তিকতার মধ্যে মধ্যপন্থাই হলো সর্বোত্তম পন্থা। একজন মুসলিম কখনো কাউকে ভুলত্রুটি থেকে সুরক্ষিত মনে করে না এবং যিনি আন্তরিকভাবে সত্যের সন্ধান করেন তার ভুলকে গুনাহ মনে করে না। সুতরাং (নবি-রাসূল ব্যতীত) কারও সকল কথা অনুসরণ করা যাবে না এবং কোনো ব্যক্তি আন্তরিক প্রচেষ্টার পরেও শারীআতের কোনো বিধান নির্ণয়ে ভুল করলে তাকে ফাসিক বা কাফির বলা যাবে না।
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের ওপর যা নাযিল করেছেন, তার সবকিছু অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আর যারা ফিকহের কোনো আলিমের কোনো বিষয়ে একমত হলো বা ভিন্নমত পোষণ করল, সে ক্ষেত্রে অন্যকে নিজের মত মানার জন্য জোর করা যাবে না বা এমনটা বলা যাবে না যে, তারা শারীআতের বিরুদ্ধে চলে গেছে!

টিকাঃ
[১৫০] বুখারি, ৭৩৫২。

📘 ফুরকান রহমানের আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়া চিহ্নিতকরনের বিবরণ > 📄 যারা মুজাহিদ

📄 যারা মুজাহিদ


রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'বিগত উম্মাতদের মাঝে 'মুহাদ্দাস' (তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও সূক্ষ্মদর্শী লোক) আবির্ভূত হতেন। আমার উম্মাতদের মাঝে কেউ মুহাদ্দাস হলে তা 'উমর ইবনুল খাত্তাবই হতেন। [১৫১]
নবি বলেছেন, 'আমার পরে যদি কেউ নবি হতো, তবে সে হতো উমর। [১৫২]
এবং 'আল্লাহ তাআলা হক বা সত্যকে উমরের জবানে ও হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলেন। [১৫৩]
আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, "সাকিনা (প্রশান্তি, নিশ্চিন্ততা) উমরের জবানে কথা বলবে, এটিকে আমরা মোটেও অসম্ভব কিছু মনে করতাম না।" [১৫৪]
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা উমর-এর অন্তরে প্রশান্তি দান করেছিলেন। যা তাঁর কথা-বার্তায়ও প্রকাশ পেত।
শা'বি-এর বর্ণনা অনুসারে এটি আলি-এর উক্তি বলে প্রমাণিত।
আবদুল্লাহ ইবনু উমর প্রায়ই বলতেন, 'আমার পিতা যখন কোনো বিষয়ে কিছু বলতেন, পরবর্তী সময়ে আমি সেটাকে ঠিক তিনি যেভাবে বলেছেন সেভাবেই ঘটতে দেখতাম।' [১৫৫]
কায়স ইবনু মুসলিম বলেছেন, 'আমরা বলাবলি করতাম উমরের জবানে ফেরেশতা কথা বলে।' [১৫৬]
উমর বলতেন, 'আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জবানের কাছে এসো, তারা কি বলে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো, কারণ তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হয়।'
'সত্য প্রকাশিত হয়' বলার মাধ্যমে উমর বুঝিয়েছেন, যারা আল্লাহর অনুগত বান্দা তাদের আল্লাহ সত্যের নির্দেশনা প্রদান করেন। সুতরাং আল্লাহর আউলিয়ারা ইলহাম ও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে সত্যের দিশা লাভ করেন, এটি প্রমাণিত হলো।

টিকাঃ
[১৫১] বুখারি, ৩৬৮৯。
[১৫২] তিরমিযি, ৩৬৮৬, হাসান; আহমাদ, ১৭৪০৫。
[১৫৩] শুআইব আরনাউত, তাখরীজু সিয়ারি আ'লামিন নুবালা, ৩/৪৫৪, সহীহ。
[১৫৪] আহমাদ, ২/১৪৭, সহীহ。
[১৫৫] তিরমিযি, ৩৭৬৫。
[১৫৬] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/৪২。

📘 ফুরকান রহমানের আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়া চিহ্নিতকরনের বিবরণ > 📄 এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠ আউলিয়া যারা

📄 এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠ আউলিয়া যারা


এই উম্মাতে এসব আউলিয়াদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবূ বকর, এরপর উমর ইবনুল খাত্তাব। নবিদের পরে এই উম্মাহর সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবূ বকর ও উমর।
আগেই বলেছি, বিশুদ্ধ হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত, উমর এই উম্মাতের একজন মুহাদ্দাস (তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও সূক্ষ্মদৃষ্টিসম্পন্ন লোক, যাদের অন্তরে আল্লাহ সত্যের দিশা দান করেন) ছিলেন। এই উম্মাহর অন্য যেকোনো মুহাদ্দাস বা ইলহাম ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে সত্যের দিশারি প্রাপ্ত ব্যক্তি থেকে উমর উত্তম। আর তিনি সর্বদাই ফরয ও ওয়াজিব আমল পালন করতেন। নিজের কাজকর্মকে সর্বদাই রাসূলুল্লাহ -এর আনীত আদর্শের সাথে পরিমাপ করতেন।
যখন এগুলো রাসূলের আদর্শের সাথে মিলে যেত, তখন সেটা উমরের উচ্চ মর্যাদা ও তাকওয়ার পরিচায়ক। আমরা জানি, একাধিক ঘটনায় উমর -এর মতামতের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ওহি নাযিল হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য কিছু সময় দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ -এর মতামতের সাথে উমর -এর মতের পার্থক্য হয়েছে। যখনই উমর বিষয়টি বুঝতে পারতেন, নিজের মতামত পরিবর্তন করতেন এবং রাসূলের অনুসরণ করতেন। হুদায়বিয়ার চুক্তির ঘটনায় তিনি নিজের মত পরিবর্তন করেছিলেন। প্রথমে ভেবেছিলেন এখানে মুসলিমদের যুদ্ধ করা উচিত ছিল। এরপর রাসূলের সাথে পরামর্শ করে তিনি মতামত পরিবর্তন করেন। এই হাদীসটি সুপরিচিত, বুখারি ও অন্যান্য হাদীসগ্রন্থে সহজলভ্য।
নবি হিজরতের ষষ্ঠ বর্ষে ওমরাহ করতে বের হলেন। সাথে ছিল চৌদ্দ শ’ মুসলিম। এই মুসলিমরা তার কাছে গাছের তলায় বাইয়াত প্রদান করলেন। এরপর নবি মুশরিকদের সাথে আলোচনার পর চুক্তি করলেন। সে অনুসারে সিদ্ধান্ত হলো, এ বছর তারা ওমরাহ না করেই মদীনায় যাবেন এবং পরবর্তী বছর ওমরাহ করবেন। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু শর্ত ছিল, যা মুসলিমদের কাছে অন্যায় মনে হচ্ছিল। সেটি মেনে নেওয়া মুসলিমদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সেই চুক্তি করলেন। শুরুতে উমর সেই চুক্তিকে কড়াভাবে অপছন্দ করছিলেন।
এমনকি তিনি নবি -কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা কি সত্যের ওপরে নই, আর আমাদের শত্রুরা কি মিথ্যার ওপরে নয়? নবি বললেন, অবশ্যই! এরপর উমর বললেন, আমাদের মৃত ব্যক্তিরা কি জান্নাতে নয় আর তাদের মৃতরা কি জাহান্নামি নয়? নবি বললেন, অবশ্যই! উমর বললেন, তবে কেন আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে এত হীনতা স্বীকার করব? রাসূলুল্লাহ বললেন, 'আমি অবশ্যই রাসূল; অতএব আমি তাঁর (আল্লাহর) অবাধ্য হতে পারি না, তিনিই আমার সাহায্যকারী। আমি বললাম, আপনি কি আমাদের বলেননি যে, আমরা শীঘ্রই বায়তুল্লাহ যাব এবং তাওয়াফ করব। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি কি এ বছরই আসার কথা বলেছি? উমর বললেন, না। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই কা'বা গৃহে যাবে এবং তাওয়াফ করবে।
এরপর আবু বকরের কাছে গিয়ে উমর একই কথা বললেন, যা তিনি নবি -কে বলেছিলেন। আবূ বকর নবি -এর মতো অনুরূপ উত্তর দিলেন, যদিও আবূ বকর উমর এর সাথে নবি -এর পূর্বের কথোপকথন শোনেননি। সুতরাং এই ঘটনায় বোঝা গেল, উমর -এর তুলনায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে আবূ বকরের অধিক সাদৃশ্য ছিল। অতঃপর বিষয়টি বুঝতে পেরে উমর নিজের মতামত ও অবস্থান পরিবর্তন করলেন এবং বললেন, এর জন্য (অর্থাৎ ধৈর্যহীনতার কাফফারা হিসাবে) আমার অনেক নেক আমল রয়েছে।[১৫৭]
অনুরূপভাবে রাসূলের ওফাতের পর প্রথমে উমর তার মৃত্যু অস্বীকার করেছিলেন। এরপর যখন আবূ বকর বললেন, তিনি নিশ্চিতভাবেই মৃত্যুবরণ করেছেন তখন উমর নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন। [১৫৮]
অনুরূপভাবে, আবূ বকর -এর খিলাফাতকালে যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধে উমর বলেছিলেন, হে আবূ বকর, আপনি কীরূপে আরবের লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? আবূ বকর বললেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া পর্যন্ত এবং সালাত কায়িম করা ও যাকাত আদায় করা পর্যন্ত আমি লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহর শপথ! তারা রাসূলুল্লাহ -এর কাছে যা প্রদান করত, তা থেকে একটি বকরির বাচ্চা দান করতেও যদি অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। উমর বললেন, তখন আমি আবূ বকরের অভিমত উপলব্ধি করলাম, আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তর উন্মুক্ত করেছেন। আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর অভিমতই সঠিক।' [১৫৯]
অন্যান্য অনুরূপ ঘটনার সাথে এই ঘটনার মাধ্যমে উমরের তুলনায় আবু বকরের উচ্চমর্যাদা প্রকাশিত হয়। যদিও আমরা জানি উমর একজন মুহাদ্দাস ছিলেন যাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যের দিশা দেয়া হতো। উমর মুহাদ্দাস হলেও আবূ বকর ছিলেন আস-সিদ্দীক (সত্যবাদী, সদা বিশ্বস্ত)। যিনি সিদ্দীক তিনি নবির কাছ থেকে (সত্যের দিশা) গ্রহণ করেন আর আল্লাহ তাআলা তার নবিকে সকল প্রকার কথা ও কর্মের ভুল থেকে হেফাজত করেন। অপরদিকে একজন মুহাদ্দাস তার অন্তরের অনুপ্রেরণা হতে দিশা গ্রহণ করেন। আর এ ক্ষেত্রে তিনি ভুলত্রুটি থেকে সুরক্ষিত নন। এ জন্য একজন মুহাদ্দাস সব সময় নিজেকে রাসূলের আনীত আদর্শের সাথে মিলিয়ে দেখতে বাধ্য, আর নবি-রাসূলগণ ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত।
এ জন্য উমর সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করতেন, আলোচনা করতেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। অনেক ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম উমরের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য করতেন। এ ক্ষেত্রে তারা কুরআন ও সুন্নাহ হতে যুক্তি-তর্ক পেশ করতেন। উমর নিজেও কুরআন ও সুন্নাহ হতে তার অভিমত পেশ করতেন। সেসব পরামর্শ হতে উমর তাদের ভিন্নমত ও আলোচনা গ্রহণ করতেন। তিনি কখনোই এমনটা বলতেন না যে, 'আমি একজন মুহাদ্দাস, মুখাতাব, আমার কাছে ইলহাম আসে, আমার সকল কথা মানতে হবে, বিরোধিতা করা যাবে না!'

টিকাঃ
[১৫৭] বুখারি, ২৭৩১。
[১৫৮] বুখারি, ৩৬৬৭。
[১৫৯] বুখারি, ১৩৯৯; মুসলিম, ২০。

📘 ফুরকান রহমানের আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়া চিহ্নিতকরনের বিবরণ > 📄 কুরআন-সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা কাদের বৈশিষ্ট্য?

📄 কুরআন-সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা কাদের বৈশিষ্ট্য?


কাজেই কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে আল্লাহর ওলি দাবি করে অথবা তার সাথিরা দাবি করে যে তার কাছে ইলহাম আসে বা তিনি 'মুখাতাব', তাই সব বিষয়ে তাকে অনুসরণ করা ও তার সকল কথা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক এবং তার সাথে মতপার্থক্য করা যাবে না বা বিরোধিতা করে প্রশ্ন করা যাবে না, এমনকি এ ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ দলীলের দরকার নেই—তবে এসব ব্যক্তিরা মহাভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার মধ্যে আছে। নিঃসন্দেহে এসব লোক থেকে উমর বহুগুণে উত্তম ছিলেন। তিনি ছিলেন খলীফা ও আমিরুল মুমিনীন; এরপরেও বিভিন্ন বিষয়ে মুসলিমরা তার সাথে মতপার্থক্য করেছেন এবং তার বা অন্যান্য ব্যক্তিদের কথা ও কাজকে কুরআন ও সুন্নাহর মানদণ্ডের সাথে মিলিয়েছেন। কুরআন-সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা আউলিয়াদের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তাদের কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নন।
এই উম্মাতের প্রথম যুগের আলিমগণ সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছেন, রাসূলুল্লাহ ব্যতীত যেকোনো ব্যক্তির মতামত গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা যায়। নবিদের সাথে অন্যান্য নেককার ব্যক্তিদের পার্থক্য ঠিক এখানেই। নবিদের যেসব বিষয়ের খবর দেওয়া হয়েছে তাতে পরিপূর্ণ ঈমান রাখা বাধ্যতামূলক। উপরন্তু তাদের সকল আদেশ মানাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ বিষয়টি আল্লাহর আউলিয়াদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় (যারা নবি নন)।
আউলিয়াদের সকল আদেশ মানা জরুরি নয় কিংবা তাদের জানানো সকল খবর বিশ্বাস করাও জরুরি নয়; বরং তাদের আদেশ-নিষেধ (শারীআতের হুকুম) ও খবরা-খবর (গায়েবের খবর, আল্লাহ ও তাঁর জাত-সিফাতের বর্ণনা ইত্যাদি) অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে। একজন ব্যক্তি আল্লাহর যত বড় ওলিই হোক না কেন, তার যা কিছু কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা মানা বাধ্যতামূলক, যা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হবে তা পরিপূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে।
এমনকি তিনি যদি সত্যের সন্ধানে নিজের সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রচেষ্টা ব্যয় করেন, তবুও সেগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে। সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছালে তিনি দুইটি পুরস্কার পাবেন আর ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও নিজের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য একটি পুরস্কার পাবেন, এ ক্ষেত্রে তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করা হবে। ঐকান্তিক প্রচেষ্টার পরেও যদি ভুলবশত কুরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধে চলে যান, তবে এসব ভুলের জন্য কোনো গুনাহ নেই যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজের সাধ্যমতো তাকওয়া অবলম্বন করবেন। আল্লাহ বলেন,
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ 'অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো...।' [১৬০]

টিকাঃ
[১৬০] সূরা তাগাবুন, ৬৪: ১৬。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00