📘 ফুরকান রহমানের আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়া চিহ্নিতকরনের বিবরণ > 📄 সর্বোত্তম হিদায়াত রাসূলের হিদায়াত

📄 সর্বোত্তম হিদায়াত রাসূলের হিদায়াত


অর্থাৎ চুপ থাকার থেকে ভালো কথা বলা উত্তম এবং মন্দ কথা বলার চেয়ে চুপ থাকা উত্তম। দীর্ঘ সময় ধরে চুপ থাকা একটি বিদআত। যেমন উত্তম খাদ্য ও পানীয় থেকে নিজেকে একেবারে প্রত্যাহার করে নেওয়া যেভাবে নিষিদ্ধ তেমনিভাবে এটিও নিষিদ্ধ। এগুলো সবই নিন্দনীয় বিদআত। এ মর্মে ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত আছে,
রাসূলুল্লাহ মক্কার রোদের মধ্যে দাঁড়ানো এক ব্যক্তিকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, একি! লোকজন বলল যে, আবূ ইসরাঈল সে সিয়াম রাখার, সারাটা দিন রৌদ্রে দাঁড়িয়ে থাকার, ছায়া গ্রহণ না করার এবং কথাবার্তা না বলার মান্নত করেছে। তাই সে এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বললেন, তাকে বলে দাও, 'সে যেন কথা বলে, ছায়া গ্রহণ করে, বসে এবং তার সিয়াম পূর্ণ করে।' [১৪১]
(নোট-রাসূলের কথা থেকে প্রমাণ হয় যে, লোকটির শপথের চারটি অংশের মধ্যে কেবল সিয়াম রাখা আল্লাহর আনুগত্যের অংশ। কেননা, আল্লাহ সিয়ামের নির্দেশনা দিয়েছেন কিন্তু বাকি তিনটি ছিল নিন্দনীয় নব-উদ্ভাবিত বিষয় বা বিদআত। এ জন্য নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকেদের বললেন, ওই লোকটিকে বিরত করতে যদিও সে কসম (নাযার) করেছিল)।
আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেছেন, 'তিন জনের একটি দল রাসূলুল্লাহ -এর ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য রাসূলুল্লাহ -এর বিবিগণের গৃহে আগমন করল। যখন তাঁদের এ সম্পর্কে অবহিত করা হলো, তখন তারা এ ইবাদাতের পরিমাণ যেন কম মনে করল এবং বলল, আমরা রাসূলুল্লাহ এর সমকক্ষ হতে পারি না। কারণ, তার আগে ও পরের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়েছে। এমন সময় তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, আমি সারাজীবন রাতে সালাত আদায় করতে থাকব।
অপর একজন বলল, আমি সারাবছর সিয়াম পালন করতে থাকব এবং কখনো বিরতি দেব না। অপরজন বলল, আমি নারী-বিবর্জিত থাকব, কখনো শাদী করব না। এরপর রাসূলুল্লাহ তাদের নিকট এলেন এবং বললেন, "তোমরা ওই সকল ব্যক্তি, যারা এরূপ কথাবার্তা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাঁর প্রতি আমি বেশি আনুগত্যশীল; অথচ আমি সিয়াম পালন করি, আবার সিয়াম থেকে বিরতও থাকি। সালাত আদায় করি আবার ঘুমাইও এবং বিয়ে-শাদীও করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি বিরাগ ভাব পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়।' [১৪২]
অর্থাৎ যদি কেউ নবি -এর পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথ অনুসরণ করাকে শ্রেষ্ঠ মনে করে, তবে তার সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহ বলেন,
وَمَن يَرْغَبُ عَن مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَن سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ
'ইবরাহীমের মিল্লাত থেকে কে মুখ ফেরায়? কিন্তু সে ব্যক্তি, যে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করে। নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত। [১৪৩]
বরং প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এই বিশ্বাস বাধ্যতামূলক, 'সর্বোত্তম কিতাব আল্লাহর কিতাব আর সর্বোত্তম হিদায়াত মুহাম্মাদ -এর হিদায়াত' - বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ প্রত্যেক জুমার খুতবায় উল্লেখিত কথাটি বলতেন। [১৪৪]

টিকাঃ
[১৪১] ইবনু হিব্বান, ৪৩৮৫, সহীহ。
[১৪২] বুখারি, ৫০৬৩。
[১৪৩] সূরা বাকারাহ, ২: ১৩০。
[১৪৪] মুসলিম, ৮৬৭。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00