📘 ফুরকান রহমানের আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়া চিহ্নিতকরনের বিবরণ > 📄 যারা নৈকট্যপ্রাপ্ত, তারাই অগ্রবর্তী

📄 যারা নৈকট্যপ্রাপ্ত, তারাই অগ্রবর্তী


যেমন, অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
إِنَّ الْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِن كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا ﴿6﴾
'নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফুর-মিশ্রিত পানপাত্র থেকে। এটি এমন এক ঝরনা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে; তারা একে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করবে।' [৭৭]
উক্ত আয়াতে 'আল্লাহর বান্দাগণ' (عِبَادُ اللهِ) শব্দের মাধ্যমে ঠিক সেটাই বোঝানো হয়েছে, যা অন্যত্র 'নৈকট্যপ্রাপ্ত' (المُقَرَّبُوْنَ) বলে বোঝানো হয়েছে। কারণ, ভালো-মন্দ আমল অনুসারে কর্মের উপযুক্ত প্রতিদান দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
'যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব বিপদ দূর করবে আল্লাহ তাআলা তার পরকালের বিপদ হতে কোনো বিপদ দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তকে সহযোগিতা করবে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়জগতেই সহযোগিতা করবেন। আর যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাই-এর দোষত্রুটি গোপন করবে আল্লাহ তাআলা ইহকালে ও পরকালে তার দোষত্রুটি গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার মুসলিম ভাইয়ের সাহায্যে রত থাকে। যে ব্যক্তি ইলমের সন্ধানে পথ সফর করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। আর যখন কোনো একটি দল আল্লাহর কোনো ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব (কুরআন) তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মধ্যে তার আলোচনা করে, তখন নিশ্চিতভাবে তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল হয় এবং রহমত তাদের আচ্ছন্ন করে। আর ফেরেশতাগণ (নিজেদের ডানা মেলে) তাদের ওপর ছায়া বিস্তার করেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর নিকটস্থদের কাছে তাদের আলোচনা করেন। আর যাকে তার আমল পিছিয়ে দেয়, তাকে তার বংশমর্যাদা এগিয়ে নিতে পারে না।' [৭৮]
'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দয়ালুদের ওপর দয়া ও অনুগ্রহ করেন। যারা জমিনে বসবাস করছে তাদের প্রতি তোমরা দয়া করো, তাহলে যিনি আকাশে আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।'[৭৯]
আল্লাহ বলেন, “আমি রহমান, আমি 'রেহেম' (আত্মীয়তার সম্পর্ক) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকেই আমি তার নাম দিয়েছি। কাজেই আত্মীয়তার সম্পর্ক যে বজায় রাখে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি, আর যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি।”[৮০]
কুরআন ও সুন্নাহতে এ ধরনের অনেক উদাহরণ আছে। আগেই বলেছি, আল্লাহর আউলিয়ারা দুই রকমের—নৈকট্যপ্রাপ্ত ও ডান দিকস্থ। রাসূলুল্লাহ আউলিয়াদের ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসে কুদসিতে উভয় দলের আমলের বর্ণনা দিয়েছেন, (আল্লাহ বলেন), “যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সাথে শত্রুতা করে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমি আমার বান্দার ওপর যা কিছু ফরয করেছি, তা আদায়ের মাধ্যমে সে আমার যতটুকু নৈকট্য অর্জন করতে পারে অন্য কিছুর মাধ্যমে ততটুকু পারে না। আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদাতের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতেই থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। আর যখন তাকে ভালোবেসে ফেলি তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। যদি সে আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি তাকে আশ্রয় দিই। আমি কোনো কাজে এতটা দ্বিধা করি না, যতটা মুমিন বান্দার প্রাণ হরণে করি। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার কষ্ট অপছন্দ করি।”[৮১]
নেককার লোকজনই ডান দিকস্থ লোক, যারা ফরয আমলসমূহ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশা করে। তারা আল্লাহর আদেশ পালন করে এবং নিষেধ হতে বেঁচে থাকে। তারা বাধ্যতামূলক আমল পালন করলেও নফল (মুস্তাহাব, মানদূব) আমল জরুরি মনে করেন না। আবার যেভাবে হারাম থেকে দূরে থাকেন, সেভাবে মাকরূহ থেকে দূরে থাকেন না।
আর যারা অগ্রবর্তী ও নৈকট্যপ্রাপ্ত, তারা ফরয আমল পালনের পর আরও অতিরিক্ত নফল আমল পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য তালাশ করেন। তারা ওয়াজিব ও মুস্তাহাব আমল পালন করেন এবং হারাম ও মাকরূহ থেকেও বেঁচে থাকেন। যখন তারা নিজেদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা প্রয়োগ করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করেন, তখন তাদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা পরিপূর্ণ হয়ে যায়! এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, (আল্লাহ বলেন), 'আর আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদাতের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতেই থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। [৮২]
এর মাধ্যমে নিঃশর্ত ভালোবাসা বোঝানো হয়েছে, যেমন আল্লাহ বলেছেন,
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
'আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদাত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদের সরল পথ দেখাও। সে সমস্ত লোকের পথ, যাদের তুমি নিয়ামাত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।' [৮৩]
অর্থাৎ, যাদের ওপর আপনার পরিপূর্ণ ও নিঃশর্ত নিয়ামাত দান করেছেন।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন,
وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَبِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَبِكَ رَفِيقًا *
'আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রাসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নিয়ামাত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবি, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হলো উত্তম। [৮৪]
নৈকট্যপ্রাপ্তরা সাধারণ মুবাহ আমলগুলোর (মুবাহ অর্থ বৈধ। যা পালন করা বাধ্যতামূলক নয়, আবার ছেড়ে দেওয়াও নিষিদ্ধ নয়) মাধ্যমেও আনুগত্য ও নৈকট্য অর্জন করেন। এভাবে তাদের সকল কার্যকলাপ আল্লাহর ইবাদাতে পরিণত হয়। ফলে তারা জান্নাতের বিশুদ্ধ ঝরনার খাঁটি পানীয় পান করবেন, যেভাবে তাদের আমলগুলো খাঁটি ও বিশুদ্ধ ছিল।
অপরদিকে, যারা তাদের প্রচেষ্টায় মধ্যপন্থী, তাদের আমলনামায় এমন কিছু আমল থাকে, যা হারাম নয়; সেগুলো তারা নিজেদের স্বার্থে পালন করেছিলেন। সেসব কাজের জন্য তাদের শাস্তি প্রদান করা হয় না কিংবা পুরস্কৃতও করা হয় না। তারা সরাসরি জান্নাতের ঝরনা থেকে পান করবেন না। যারা নৈকট্যপ্রাপ্ত তাদের পানীয় হতে এই দলের জন্য একটি মিশ্রণ প্রস্তুত রাখা হবে। দুনিয়াতে তাদের আমলগুলো যেভাবে মিশ্রিত ছিল, তেমনিভাবে সেই পানীয়ও মিশ্রিত হবে।

টিকাঃ
[৭৭] সূরা ইনসান, ৭৬: ৫-৬。
[৭৮] মুসলিম, ২৬৯৯。
[৭৯] আবূ দাউদ, ৪৯৪১; তিরমিযি, ১৯২৪, হাসান সহীহ。
[৮০] আবূ দাউদ, ১৬৯৪, সহীহ。
[৮১] বুখারি, ৬৫০২。
[৮২] বুখারি, ৬৫০২。
[৮৩] সূরা ফাতিহা, ১:৫-৭。
[৮৪] সূরা নিসা, ৪: ৬৯。

📘 ফুরকান রহমানের আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়া চিহ্নিতকরনের বিবরণ > 📄 নবিদের মর্যাদার স্তরভেদ

📄 নবিদের মর্যাদার স্তরভেদ


অগ্রবর্তী ও নৈকট্যপ্রাপ্তদের সাথে ডান দিকের বান্দাদের স্তরভেদের মতো নবিদের মর্যাদাতেও স্তরভেদ দেখা যায়; যেমন, কেউ ছিলেন আল্লাহর বান্দা-রাসূল, আবার কেউ ছিলেন বাদশা-নবি। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ ﷺ-কে একজন বান্দা-রাসূল এবং একজন বাদশা-নবি হওয়ার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তিনি বান্দা-রাসূল হওয়াকেই বেছে নিয়েছিলেন। [৮৫]
বাদশা-নবিদের মধ্যে আছেন দাউদ, সুলাইমান ও তাঁদের ন্যায় অন্যান্য নবিগণ। সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর ঘটনা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَّا يَنبَغِي لِأَحَدٍ مِّن بَعْدِي إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ * فَسَخَّرْنَا لَهُ الرِّيحَ تَجْرِى بِأَمْرِهِ رُخَاءً حَيْثُ أَصَابَ وَالشَّيَاطِينَ كُلَّ بَنَّاءٍ وَغَوَّاصٍ وَآخَرِينَ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ هَذَا عَطَاؤُنَا فَامْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسَابٍ
'সুলাইমান বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন, যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি পরম দাতা। তখন আমি বাতাসকে তাঁর অনুগত করে দিলাম, যা তাঁর হুকুমে অবাধে প্রবাহিত হতো, যেখানে সে পৌঁছাতে চাইত। আর সকল শয়তানকে তাঁর অধীন করে দিলাম অর্থাৎ, যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরি। এবং অন্য আরও অনেককে অধীন করে দিলাম, যারা আবদ্ধ থাকত শৃঙ্খলে। এগুলো আমার অনুগ্রহ। অতএব, এগুলো কাউকে দাও অথবা নিজে রেখে দাও—এর কোনো হিসেব দিতে হবে না।'[৮৬]
অর্থাৎ আপনি যাকে ইচ্ছা দান করতে পারেন, যাকে ইচ্ছা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, আপনার কাজের হিসাব নেওয়ার মতো কেউ নেই। এ জন্য বাদশা-নবিরা আল্লাহ তাআলার আদেশ পালন করেন এবং নিষেধকৃত বিষয় পরিহার করেন। এরপর অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের দুনিয়াবি শক্তি ও সম্পদ ব্যবহার করেন। আল্লাহও এতে খুশি থাকেন, ফলে তারা গুনাহমুক্ত থাকেন।
আর যিনি আল্লাহর বান্দা-রাসূল, তিনি আল্লাহর আদেশ ব্যতীত নিজের ইচ্ছা অনুসারে কাউকে কিছু দিতে পারেন না কিংবা কিছু আটকেও রাখতে পারেন না; বরং আল্লাহ যাকে দেওয়ার জন্য আদেশ দেন তিনি কেবল তাকেই প্রদান করেন। যাকে দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন, তাকেই তাতে নিযুক্ত করেন। এভাবে তার সমস্ত কর্মকাণ্ড আল্লাহ তাআলার ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আবূ হুরায়রা বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, ‘... আমি তোমাদের দানও করি না এবং তোমাদের বঞ্চিতও করি না। আমি তো কেবল বণ্টনকারী (কাসিম), যেভাবে আদিষ্ট হই, সেভাবে ব্যয় করি.'[৮৭]
এ কারনেই আল্লাহ তাআলা শারঈ সম্পত্তির মালিকানাকে আল্লাহ এবং রাসূলের বলে বর্ণনা করেছেন,
قُلِ الْأَنفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ
'...বলে দিন, গনীমতের মাল হলো আল্লাহর এবং রাসূলের...।'[৮৮]
مَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ
'আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রাসূলের... '[৮৯]
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُم مِّن شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ
'...যা কিছু তোমরা গনীমত হিসেবে পাবে, তার এক-পঞ্চমাংশ হলো আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য,...।'[৯০]
এ জন্য গনীমতের এসব সম্পত্তির বিষয়ে আলিমদের সুস্পষ্ট মতামত হলো, ইসলামি রাষ্ট্রপ্রধানদের ইজতিহাদ অনুসারে এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পছন্দনীয় পথে ব্যয় করতে হবে। এটি ইমাম মালিক ও অন্যান্য সালাফদের মতামত। এটি ইমাম আহমাদেরও একটি মত। গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ সম্পর্কে ইমাম শাফিয়ি ও ইমাম আহমাদের প্রসিদ্ধ মতামত হলো, একে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করতে হবে।[৯১] তবে আবূ হানীফা -এর মতে, একে তিন ভাগে বিভক্ত করতে হবে।[৯২]
চলমান আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, একজন বান্দা-রাসূলের মর্যাদা বাদশা-নবির থেকে উচ্চ। যেমন-ইবরাহীম, মূসা, ঈসা এবং মুহাম্মাদ-এর মর্যাদা ইউসুফ, দাউদ ও সুলাইমান-এর চেয়ে উচ্চ, যেমন অগ্রবর্তী ও নৈকট্যপ্রাপ্তদের মর্যাদা ডান দিকের নেককার বান্দাদের থেকে উচ্চ। সুতরাং সারকথা হলো, যারা আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ পালন করার পর অন্যান্য আমলগুলো নিজের ইচ্ছানুসারে পালন করে, তারা দ্বিতীয় স্তরভুক্ত। আর যারা সবকিছু আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করে এবং বাধ্যতামূলক আমলগুলো পালনের পর নফল আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের প্রচেষ্টা করে, তারা প্রথম স্তরভুক্ত।

টিকাঃ
[৮৫] ইবনু হিব্বান, ৬৩৬৫; আহমাদ, ৭১৬০, সহীহ。
[৮৬] সূরা সাদ, ৩৮: ৩৫-৩৯。
[৮৭] বুখারি, ৩১১৭。
[৮৮] সূরা আনফাল, ৮: ১。
[৮৯] সূরা হাশর, ৫৯: ৭。
[৯০] সূরা আনফাল, ৮: ৪১。
[৯১] সূরা হাশর, ৫৯: ৭ নং আয়াতের বাকি অংশে পাঁচটি ভাগের উল্লেখ আছে。
[৯২] সারাখসি, আল-মাবসূত, ১০/৮-৯。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00