📄 আলি রা.-কে হত্যার ব্যাপারে তিনজনের ষড়যন্ত্র
খারেজিরা কিছুতেই থেমে ছিল না। যতবার তারা আলি রা.-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, ততবারই তাদের দলের বহু মানুষকে গ্রহণ করতে হয়েছে মৃত্যুর স্বাদ। তবুও তারা থেমে থাকত না। একের পর এক বিদ্রোহ ঘোষণা করতেই থাকত। ইরাকের অবস্থা এমন দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্য দিয়েই চলতে থাকে। অপরদিকে শামের পরিস্থিতি ছিল শান্ত। সেখানকার সবাই ছিল মুআবিয়া রা.-এর প্রতি পূর্ণ অনুগত।
এ সময়ে খারেজিদের তিনজন ব্যক্তি একত্র হয়। প্রথমজনের নাম ছিল আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম কিন্দি। অধিক ইবাদতের কারণে তার চেহারায় দাগ পড়ে গিয়েছিল। এজন্য সে প্রসিদ্ধও ছিল। অপর দুজনের নাম ছিল বারক ইবনে আবদুল্লাহ তামিমি ও আমর ইবনে বকর তামিমি। এখন তাদের কী করা উচিত এ নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে। তারা সালিশ নির্ধারণের বিষয়টি কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। আলি রা., মুআবিয়া রা. ও আমর ইবনুল আস রা.-সহ সালিশ নির্ধারণে সম্মত সকলকেই তারা কাফের সাব্যস্ত করে। নাহরাওয়ানের যুদ্ধ ও পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে তাদের যে-সকল ভাই নিহত হয়েছে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করে।
তারা বলে, তাদের মৃত্যুর পর এখন আমরা বেঁচে থেকে কী করব। তারা বেঁচে থাকতে আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করত না। তারা আরও বলে, যদি আমরা এই পৃথিবী থেকে আমাদের প্রাণকে ক্রয় করে নিয়ে ওই সকল ভ্রান্ত নেতাদের কাছে গিয়ে তাদের হত্যা করতে পারতাম! যদি আমরা এদের হাত থেকে দেশসমূহকে নিষ্কৃতি দিতে পারতাম এবং এদের কাছ থেকে আমাদের ভাই হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারতাম!
তখন আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম বলে ওঠে, আলিকে হত্যা করার জন্য আমিই যথেষ্ট।
বারক বলে, আমি মুআবিয়াকে হত্যার জন্য যথেষ্ট।
আমর ইবনে বকর বলে, আমি আমর ইবনুল আসকে হত্যার জন্য যথেষ্ট।
অতঃপর তারা এ ব্যাপারে শপথ গ্রহণ করে। তাদের কেউই এই শপথ ভঙ্গ করবে না এই মর্মে একমত হয়। অচিরেই তারা তাদের হত্যা করার জন্য অথবা নিজেরা মৃত্যুবরণ করার জন্য রওনা হবে। তারা ঠিক করে রমজান মাসে তাদের হত্যা করা হবে। অল্প কিছু লোক ব্যতীত অন্য সবার কাছে তারা বিষয়টি গোপন রাখে। ওই অল্পসংখ্যক লোকের মধ্য থেকেই কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে তওবা করে নেয় এবং এই ষড়যন্ত্রের কথা বর্ণনা করে।
বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত আছে, কিতাম বিনতে সিজনা নামক এক সুন্দরী নারীর পিতা ও ভাই নাহরাওয়ানের যুদ্ধে নিহত হয়েছিল। আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম যখন কিছু লোকের সঙ্গে আলি রা.-এর হত্যার ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করছিল, তখন কিতাম বিনতে সিজনা তার কাছে আসে। আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম কিতামকে দেখে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে কিতাম ৩ হাজার দিরহাম, একটি গোলাম, একটি বাঁদি ও আলি রা.-কে হত্যা করার শর্ত করে। তখন আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম বলে, আমি তো এ কাজের জন্যই কুফায় এসেছি। কিতাম আবদুর রহমান ইবনে মুলজিমকে এ কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। অতঃপর সে কিতামকে বিয়ে করে। ফলে আলি রা.-কে হত্যা করার ইচ্ছা তার আরও দৃঢ় হয়।
আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম শাবিব ইবনে নাজদা শিজয়ি নামক অপর এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে বলে, দুনিয়া ও আখেরাতের সম্মানের প্রতি আপনার কোনো আগ্রহ আছে কী?
শাবিব বলে, তা কীভাবে?
আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম বলে, আলিকে হত্যা করার মাধ্যমে।
তখন শাবিব বলে, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! কতই-না নিকৃষ্ট কথা বললে তুমি। এটা কীভাবে সম্ভব?
শাবিব আবদুর রহমান ইবনে মুলজিমের এ পরিকল্পনার কারণে তাকে তিরস্কার করে। কারণ, আলি রা. হলেন একজন শক্তিশালী, বাহাদুর ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিভিন্ন যুদ্ধে তার রয়েছে বিশাল অবদান ও অতুলনীয় বীরত্বের দৃষ্টান্ত। এরপর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তিনি হলেন আমিরুল মুমিনিন।
আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম বলে, আমি তার জন্য মসজিদে ওত পেতে থাকব। সে যখন আগামীকাল ফজরের নামাজের জন্য বের হবে আমরা তার ওপর হামলা করে তাকে হত্যা করব। যদি আমরা সফল হই তবে আমরা নিজেরাও বেঁচে যাব এবং আমাদের প্রতিশোধও নেওয়া হবে। আর যদি মরে যাই তবে এর চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে?
শাবিব বলে, তুমি ধ্বংস হও। আলি ছাড়া যদি অন্য কেউ হতো তবে আমার জন্য তা সহজ হতো। ইসলামে তার অগ্রগামীতা ও রাসুল ﷺ-এর নিকটবর্তিতার কথা আমি জানি। তাকে হত্যা করার জন্য আমার মন সায় দেয় না।
আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম বলে, তুমি কি জানো না সে নাহরাওয়ানের যুদ্ধে আমাদের ভাইদের হত্যা করেছে? আমরা তাদের হত্যার বিনিময়েই তাকে হত্যা করব।
এভাবে সে অনুপ্রাণিত করতে থাকলে একপর্যায়ে শাবিব তাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয়।
টিকাঃ
৩৩৪. মুসনাদু আবি ইয়ালা, ৪৮৫; আল-মুজামুল কাবির লিত তবারানি, ৭৩১১
৩৩৫. তারিখুত তবারি, ৫/১৪৪; আল-কামিল ফিত তারিখ, ২/৫৩৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩৬১
৩৩৬. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩৬১
৩৩৭. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩৬২
📄 আলি রা.-এর শাহাদাতবরণ
১৭ রমজান ফজরের সময় আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম আলি রা.-এর অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে। আলি রা. নিজের ঘর থেকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বের হন এবং সবাইকে নামাজের জন্য জাগ্রত করতে থাকেন। তার সঙ্গে কোনো প্রহরী থাকত না। মসজিদের কাছাকাছি যেতেই শাবিব ইবনে নাজদা তাকে সজোরে আঘাত করে। ফলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তবে এই আঘাতে তার মৃত্যু হয়নি। অতঃপর পাষণ্ড আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম এসে বিষমাখা তরবারি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। তার দাড়ির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যায় রক্ত।
এই আঘাতের পর পাষণ্ড আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম বলে ওঠে, আলি, ফয়সালা দেওয়ার অধিকার তোমার নেই, অধিকার রয়েছে একমাত্র আল্লাহর। সে কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করতে থাকে, 'কিছু মানুষ এমন আছে, যারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির বিনিময়ে নিজেকে বিক্রি করে দেয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার প্রতি দয়াশীল।' [সুরা বাকারা : ২০৭]
আলি রা. চিৎকার করে বলতে থাকেন, এই লোকটিকে ধরো। লোকজন এসে আবদুর রহমান ইবনে মুলজিমকে আটকে ফেলে। আর শাবিব পালিয়ে যায়। অতঃপর আলি রা. ফজরের নামাজ পড়ানোর জন্য জাদা ইবনে হুবাইরা রা.-কে এগিয়ে দেন। লোকেরা তাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যায়। আলি রা. বুঝতে পারেন এই তরবারিটি ছিল বিষমাখা ও অচিরেই তিনি ইন্তেকাল করতে যাচ্ছেন। তখন তিনি আবদুর রহমান ইবনে মুলজিমকে ডাকেন। তাকে হাত বাঁধা অবস্থায় উপস্থিত করা হয়। আলি রা. বলেন, আল্লাহর শত্রু, আমি কি তোমার প্রতি সদাচারণ করিনি?
সে বলে, হ্যাঁ।
আলি রা. বলেন, তাহলে তুমি এমনটি কেন করলে?
সে বলে, আমি ৪০ দিন ধরে প্রতি সকালে তরবারিটি ধার দিয়েছি এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি, যেন এর মাধ্যমে তার সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টিজীবকে হত্যা করা হয়।
আলি রা. বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমার মৃত্যু দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা তোমার দোয়া কবুল করে নিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, আমি যদি মারা যাই তবে তাকে হত্যা করো। যদি আমি বেঁচে থাকি তবে তার সঙ্গে কী করা উচিত, তা আমিই ভালো বুঝব।
মৃত্যু ঘনিয়ে এলে আলি রা. বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করতে থাকেন। যেন এটিই হয় তার শেষ কথা। অতঃপর তিনি হাসান রা. ও হুসাইন রা.-কে অসিয়ত করেন। তারা তা লিপিবদ্ধ করে রাখেন—
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
এই হচ্ছে আলি ইবনে আবু তালেবের অসিয়ত। নিশ্চয় সে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই ও তিনি অদ্বিতীয় এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসুল। তিনি তাঁকে সঠিক পথের দিশা ও সত্য ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি অন্য সব ধর্মের ওপর বিজয়ী হতে পারেন; যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। 'বলুন, আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন-মরণ সবই বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহ তাআলারই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই, আমাকে এরই আদেশ করা হয়েছে এবং আমিই প্রথম তাঁর আনুগত্য স্বীকারকারী।' [সুরা আনআম: ১৬২-১৬৩]
হাসান, আমি তোমাকে ও আমার সকল সন্তানকে—যাদের কাছে এই লেখা পৌঁছবে—অসিয়ত করছি যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে এবং মুসলিম অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করবে। সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরবে এবং বিভক্ত হবে না। আমি রাসুল ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে, দুই বিবদমান ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া সাধারণ নামাজ ও রোজা থেকে উত্তম। তোমাদের নিকটাত্মীয়দের প্রতি লক্ষ রাখবে এবং আত্মীয়তা বজায় রাখবে। এতে আল্লাহ তাআলা তোমাদের হিসাবকে সহজ করবেন। এতিমদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। তাদের তোমরা বঞ্চিত করো না এবং তোমাদের উপস্থিতিতে তারা যেন লাঞ্ছিত না হয়। তোমাদের প্রতিবেশীদের ব্যাপারেও আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, এটি তোমাদের নবীর নির্দেশ। তিনি সর্বদা এ নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি আমরা ধারণা করেছি, তিনি প্রতিবেশীদের উত্তরাধিকারী ঘোষণা করে দেবেন।
আমি তোমাদের সতর্ক করছি কুরআনের ব্যাপারে। কুরআনের প্রতি আমলে কেউ যেন তোমাদের চেয়ে অগ্রবর্তী হতে না পারে। সতর্ক করছি নামাজের ব্যাপারে। নামাজ তোমাদের দ্বীনের স্তম্ভ। সতর্ক করছি তোমাদের প্রভুর গৃহের (মসজিদের) ব্যাপারে। তোমরা বেঁচে থাকতে তা যেন খালি না হয়। যদি তাকে ছেড়ে দাও, তাহলে তোমাদের প্রতিও ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। সতর্ক করছি রমজান মাসের ব্যাপারে। নিশ্চয় রমজানের রোজা হচ্ছে জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ।
তোমাদের সতর্ক করছি নিজেদের জানমাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে যাওয়ার ব্যাপারে। সতর্ক করছি জাকাতের ব্যাপারে। নিশ্চয় তা প্রভুর ক্রোধ নিভিয়ে দেয়। সতর্ক করছি তোমাদের নবীর প্রতি দায়িত্ব নিয়ে। তোমাদের সামনে কেউ যেন তা লঙ্ঘন করতে না পারে। সতর্ক করছি রাসুল-এর সাহাবিগণের ব্যাপারে। কারণ, নবীজি সাহাবিগণের ব্যাপারে অসিয়ত করেছেন। সতর্ক করছি অসহায় ও দরিদ্রদের ব্যাপারে। তাদেরকে তোমাদের জীবিকায় শরিক করে নেবে। সতর্ক করছি তোমাদের মালিকানাধীন গোলাম-বাঁদি সম্পর্কে। কারণ, রাসুল-এর শেষ কথা ছিল এই, 'তোমাদেরকে দুর্বল দুই শ্রেণি অর্থাৎ তোমাদের স্ত্রী ও বাঁদিদের প্রতি লক্ষ রাখার অসিয়ত করছি।'
নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেবে। আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করবে না। তারা তোমাদেরকে নিজেদের সংকল্প থেকে দূরে ঠেলে শেষে বিরোধিতা করবে। আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী লোকদের সঙ্গে উত্তম পন্থায় আলোচনা করবে। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা থেকে কখনো বিরত হবে না। এমনটি হলে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মন্দ ব্যক্তিরা ক্ষমতা দখল করে নেবে। অতঃপর তোমরা দোয়া করবে কিন্তু তা কবুল হবে না। তোমরা পরস্পর সম্প্রীতি রক্ষা করবে। একে অন্যের জন্য খরচ করবে। মানুষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, সম্পর্ক ছিন্ন করা ও বিভক্তি থেকে দূরে থাকবে। সৎ কাজ ও খোদাভীরুতায় একে অপরকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কঠিন শান্তিদাতা। আল্লাহ তাআলা তোমাদের মাধ্যমে তোমাদের পরিবার এবং তোমাদের নবীর সম্মান সংরক্ষণ করুন। আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তাআলার হাতে সোপর্দ করছি এবং তোমাদের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ কামনা করছি।
এরপর আলি রা. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করা ব্যতীত অন্য কোনো কথা বলেননি। অতঃপর শেষ মুহূর্তে এসে তিনি তেলাওয়াত করেন,
'যে অণু পরিমাণ নেক আমল করবে তা দেখতে পাবে। আর যে অণু পরিমাণ মন্দ আমল করবে তা-ও দেখতে পাবে।' [সুরা যিলযাল : ৭-৮]
অতঃপর তিনি শহিদ হয়ে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে গমন করেন, যিনি ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০জন সাহাবির একজন। রাসুল -এর জামাতা ও চাচাতো ভাই। দুই পুত্র হাসান রা., হুসাইন রা. ও ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. তাকে গোসল করান। হাসান রা. তার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। এরপর আবদুর রহমান ইবনে মুলজিমকে নিয়ে আসা হয় এবং শরয়ি বিধান অনুযায়ী তাকে হত্যা করা হয়।
টিকাঃ
৩৩৮. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩৬২; তারিখু ইবনি খালদুন, ২/৬৪৬
৩৩৯. আল-মুজামুল কাবির লিত তবারানি, ১৬৭; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩৬৩
৩৪০. তারিখুল খুলাফা, পৃ. ১৩৬
📄 মুআবিয়া রা.-কে হত্যার চেষ্টা
এদিকে মুআবিয়া রা.-এর অপেক্ষায় ওত পেতে থাকা বারক ইবনে আবদুল্লাহ তার ওপর বিষাক্ত তরবারি দিয়ে আঘাত করে। মুআবিয়া রা. সেই আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও তার উরুতে আঘাত লাগে। লোকেরা তাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যায় এবং বারক ইবনে আবদুল্লাহকে আটক করে। এরপর মুআবিয়া রা.-এর চিকিৎসা করা হয়। আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করেন।
টিকাঃ
৩৪১. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/২৬৪
📄 আমর ইবনুল আস রা.-কে হত্যার চেষ্টা
আমর ইবনুল আস রা.-কে হত্যার প্রতিশ্রুতিদাতা আমর ইবনে বকর অপেক্ষা করতে থাকে, তিনি কখন ফজরের নামাজের জন্য বের হন। কিন্তু এদিন আমর ইবনুল আস রা. অসুস্থ ছিলেন। তাই তিনি তার নায়েব খারিজাকে নামাজের দায়িত্ব প্রদান করেন। আমর ইবনে বকর সেই নায়েবকেই আমর ইবনুল আস ভেবে হত্যা করে। লোকেরা তাকে ধরে ফেলে এবং নায়েবকে হত্যা করার শাস্তিস্বরূপ আমর ইবনে বকরকে হত্যা করা হয়। এভাবে আল্লাহ তাআলা আমর ইবনুল আস রা.-কে বাঁচিয়ে দেন। লোকেরা বলতে থাকে, তার ইচ্ছা ছিল আমরকে হত্যা করা। কিন্তু আল্লাহ চেয়েছেন খারিজার মৃত্যু। অতঃপর এই কথাটি একটি প্রবাদে পরিণত হয়। যখন কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করে এবং আল্লাহর ইচ্ছা থাকে ভিন্ন, তখন এই কথাটি বলা হয়।
টিকাঃ
৩৪২. আল-কামিল ফিত তারিখ, ২/৭৪৩; তারিখু ইবনি খালদুন, ২/৬৪৭