📄 আবু মিখনাফের বানোয়াট বর্ণনা
আবু মিখনাফের বর্ণনায় পাওয়া যায়, তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মুআবিয়া ও আলি উভয়কেই অপসারণ করা হবে এবং বিষয়টি লোকদের পরামর্শের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। আবু মুসা আশআরি রা. বলেন, অতএব আমি আলি এবং মুআবিয়াকে অপসারণ করলাম। কোনো কোনো বর্ণনায় আরও মিথ্যা পাওয়া যায়। যেমন, আবু মুসা রা. বলেছেন, আমি তাকে সরিয়ে দিলাম, যেভাবে আমার আঙুল থেকে আংটি সরিয়ে দিই। এরপর আমর ইবনুল আস রা. আসেন। তিনি বলেন, আবু মুসা আশআরি রা. যা বলেছেন তা তো আপনারা শুনেছেন। তিনি তার সাথিকে অপসারণ করেছেন। আমিও তাকে অপসারণ করলাম এবং মুআবিয়াকে বহাল রাখলাম।
এ কথা শুনে আলি রা.-এর বাহিনী থেকে শুরাইহ ইবনে হানি নামক ব্যক্তি আমর ইবনুল আস রা.-এর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। আবু মিখনাফ আরও বর্ণনা করে যে, আলি রা. ও মুআবিয়া রা. একে অপরকে অভিশাপ দিতেন। আবু মিখনাফের এই বর্ণনার পুরোটাই বানোয়াট ও মিথ্যা। ইবনে কাসির রহ. বলেন, এই বর্ণনা সহিহ নয়। (৩১১) শিয়া, ওরিয়েন্টালিস্ট ও তাদের হাতে দীক্ষাপ্রাপ্ত মুসলিমদের গ্রন্থে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, এই লড়াই হয়েছিল রাজত্ব ও শাসনক্ষমতার জন্য, তা কোনোভাবেই ঠিক নয়।
টিকাঃ
৩১১. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩১৫
📄 দুই সালিশের প্রকৃত ঘটনা
অনেক পরামর্শ, আলোচনা ও মতানৈক্যের পর আবু মুসা আশআরি রা. আলি রা.-এর পক্ষকেই সমর্থন করেন। মুআবিয়া রা. ও তার সঙ্গীদের জন্য আলি রা.-এর বাইআত গ্রহণ করা ওয়াজিব বলে মত ব্যক্ত করেন। কিন্তু আমর ইবনুল আস রা. প্রথমে খুনিদের হত্যা অথবা তাদের হাতে সমর্পণ করার দাবি জানান। এ ব্যাপারে অনেক আলোচনা করেও যখন মীমাংসা হলো না, তখন তারা খেলাফতের বিষয়টি ছেড়ে দেন বেশ কিছু বিশিষ্ট সাহাবির ওপর। সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী বছর দুমাতুল জান্দালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পুনরায় বৈঠকের সময় আসা পর্যন্ত আলি এবং মুআবিয়া রা. উভয়েই নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলসমূহ শাসন করবেন। নতুন খলিফা নির্বাচন করার পর সকলকেই তার অনুসরণ করতে হবে। এ কথা স্পষ্ট যে, বাহ্যিকভাবে এই সিদ্ধান্তটি আলি রা.-এর অনুকূলেই ছিল। মুসলিমরা এ বিষয়টি নিয়ে বিভক্ত থাকলেও বিশিষ্ট সাহাবিগণ কর্তৃক নতুন খলিফা নির্বাচনের সিদ্ধান্তে তারা সকলেই সন্তুষ্ট হন। আলি রা.-এর কাছে এই সংবাদ পৌঁছলে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এমনইভাবে মুআবিয়া রা.-ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।