📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 সাহল ইবনে হুনাইফ রা.-এর বক্তব্য

📄 সাহল ইবনে হুনাইফ রা.-এর বক্তব্য


সিফফিনের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। ৭০ হাজার মুসলিমের রক্তের বিনিময়ে যে মর্মান্তিক যুদ্ধের মূল্য চুকাতে হয়েছিল। সে যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর বিশিষ্ট সাহাবি সাহল ইবনে হুনাইফ রা. দেখতে পেলেন, কিছু লোকের মনে এ লড়াই নিয়ে দ্বিধা ও সন্দেহ রয়েছে। তখন সাহল ইবনে হুনাইফ রা. তাদের উদ্দেশে কিছু কথা বলেন। তিনি বলেন, হে লোকসকল, আপনারা দ্বীনের ব্যাপারে নিজেদের মতকে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করুন।

তিনি দেখছিলেন যে, কিছু লোক শরিয়তের বিরোধী মত পোষণ করেও এটিকে সঠিক বলে মনে করছে। তাই তিনি বলেন, আবু জান্দালের দিন (হুদাইবিয়ার সন্ধির দিন) যখন রাসুল ﷺ মক্কার কাফেরদের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করছিলেন, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এই চুক্তির একটি শর্ত ছিল এই যে, কুরাইশ অথবা তার মিত্র গোত্রসমূহ থেকে যারা মুসলিম হয়ে মদিনায় যাবে, মুসলিমরা তাদেরকে তাদের গোত্রে ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু এ শর্তটি ছিল বৈষম্যমূলক। মুসলিমগণ নিজেদের ধর্মের ক্ষেত্রে এ হীনতা কীভাবে মেনে নেবেন, যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেছিলেন। তাদের অনেকেই বিশ্বাস করতেন যে, এই শর্ত মেনে না নেওয়াটাই সঠিক। কিন্তু রাসুল ﷺ ছিলেন এই শর্ত মেনে নেওয়ার ব্যাপারে অটল। নিশ্চয় এটি আল্লাহ তাআলারই নির্দেশ ছিল।

তখন মুশরিকদের মধ্য থেকে আবু জান্দাল নামক এক ব্যক্তি এসে ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে। (২৮২) আবু জান্দাল ছিলেন সুহাইল ইবনে আমরের পুত্র। তখন সুহাইল ইবনে আমর বলেন, এর মাধ্যমেই আমরা চুক্তির অনুসরণ শুরু করতে পারি। আবু জান্দালকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। তখন রাসুল ﷺ আবু জান্দালের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে কাফেরদের কাছে তাকে ফিরিয়ে দেন। তখন আবু জান্দাল রা. বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা আমাকে আমার ধর্মকর্ম নিয়ে বিপদে ফেলবে জেনেও আপনি আমাকে তাদের হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন? (২৮৩)

সকল সাহাবিগণের পক্ষে এ বিষয়টি মেনে নেওয়া ছিল খুবই কঠিন। এমনকি উমর ইবনুল খাত্তাব রা. তার তরবারিটি আবু জান্দাল রা.-এর হাতে তুলে দেন এবং বলেন, আপনিও একজন পুরুষ এবং সে-ও একজন পুরুষ। (২৮৪) এই বলে তিনি আবু জান্দাল রা.-কে নিজের পিতাকে হত্যা করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এতৎসত্ত্বেও ওই সব শর্ত ও আবু জান্দাল রা.-এর এই ঘটনা ছিল মুসলিমদের জন্য এক মহাবিজয়ের উপক্রমণিকা।

তাই সাহল ইবনে হুনাইফ রা. বলেন, হে লোকসকল, আপনারা দ্বীনের ব্যাপারে নিজেদের মতকে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করুন। আবু জান্দালকে ফিরিয়ে দেওয়ার দিন আমি উপস্থিত ছিলাম। আমার যদি ক্ষমতা থাকত, তাহলে রাসুল ﷺ-কে এ কাজ থেকে ফিরিয়ে দিতাম। আল্লাহর শপথ! ইসলাম গ্রহণের পর আমরা যতবার কোনো কারণে যুদ্ধ করেছি ততবারই এর সমাধান খুঁজে পেয়েছি। তবে বর্তমান এ বিষয়ে কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছি না। একদিক রক্ষা করতে গেলে অন্যদিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কীভাবে এর সমাধান করব তা আমাদের জানা নেই। (২৮৫)

রাসুল ﷺ-এর হাদিস থেকে জানা যায়, যা সহিহ মুসলিমে আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে। (২৮৬) আম্মার ইবনে ইয়াসির রা.-কে সিফফিনের যুদ্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এটি কি রাসুল ﷺ-এর কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নাকি আপনাদের নিজস্ব ইজতেহাদ? তিনি বলেন, রাসুল ﷺ আমাদের শুধু এটির কথাই বলে গিয়েছেন। এ বলে তিনি কুরআনের দিকে ইশারা করেছেন। সুতরাং পুরো বিষয়টিই ছিল ইজতেহাদের ওপর নির্ভরশীল।

টিকাঃ
২৮২. আবু জান্দাল রা. এ সন্ধিচুক্তির আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১/১৯২ (শামেলা)-সম্পাদক
২৮৩. আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ১৮৯১০; আস-সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি, ১৮৮৩১
২৮৪. ফাতহুল বারি, ৫/৩৪৯
২৮৫. সহিহ বুখারি, ৪১৮৯; আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ১৫৯৭৪
২৮৬. সহিহ মুসলিম, ২৮৮৬; আস-সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি, ১৬৮৭৮

📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 সালিশ নির্ধারণ ও ফলাফল

📄 সালিশ নির্ধারণ ও ফলাফল


সিফফিনের যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, সারা রাত তুমুল লড়াই চলতে থাকে। বিজয়ের পাল্লা ক্রমেই ঝুঁকতে থাকে আলি রা.-এর বাহিনীর দিকে। এমন সময় আমর ইবনুল আস রা. মুআবিয়া রা.-কে এমন একটি পরামর্শ দেন, যার মাধ্যমে শামের বাহিনীকে সুনিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করা যাবে। আমর ইবনুল আস রা. মুআবিয়া রা.-কে বললেন, আমার পরামর্শ হচ্ছে, আমরা এখন কুরআন উত্তোলন করে তাদেরকে এর দিকে আহ্বান করব। এই পরামর্শে মুআবিয়া রা. খুবই মুগ্ধ হন এবং তার বাহিনীর কিছু লোকদের ডেকে কুরআন উত্তোলনের নির্দেশ দেন। তখন তারা কুরআন উত্তোলন করে বলে, হে ইরাকবাসী, তোমাদের ও আমাদের মধ্যে কুরআনকে ফয়সালাকারী হিসাবে তুলে ধরছি। (২৮৭)

আলি রা.-এর বাহিনী যখন এ কথা শোনে তখন আলি রা.-সহ অধিকাংশ লোকই কুরআনকে ফয়সালাকারী হিসাবে মেনে নিতে সম্মত হন। মুআবিয়া রা.-এর বাহিনী সর্বসম্মতিক্রমে আমর ইবনুল আস রা.-কে এ কাজের জন্য নির্বাচিত করে। রাসুল ﷺ বলেছিলেন, লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেছে, আর আমর ইবনুল আস ঈমান এনেছে। (২৮৮) আরেক সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, আমর ইবনুল আস হচ্ছে কুরাইশের সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত। (২৮৯)

এদিকে আলি রা.-এর বাহিনীতে যখন এ কাজের জন্য আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর ব্যাপারে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন সবাই তা প্রত্যাখ্যান করে। তারা এ কাজের জন্য আবু মুসা আশআরি রা.-কে পাঠানোর দাবি করে। (২৯০) আবু মুসা আশআরি রা. ছিলেন একাধারে একজন ফকিহ, আলেম ও অভিজ্ঞ বিচারক। আবু মুসা আশআরি রা. এবং আমর ইবনুল আস রা. সিফফিনে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অতঃপর প্রাথমিক পর্যায়ে চুক্তিনামায় আলি রা. আমিরুল মুমিনিন শব্দটি মুছে দিয়ে শুধু আলি ইবনে আবু তালেব লিখতে বলেন। আমর ইবনুল আস রা. তার ইজতেহাদের মাধ্যমে নিশ্চিত ছিলেন যে, আলি রা. মুমিনদের আমির নন।

অতঃপর লেখা হয়, আলি ইবনে আবু তালেব এবং মুআবিয়া এই মর্মে চুক্তি করছেন যে, আমরা সকলেই আল্লাহ তাআলার বিধান ও কুরআনের সামনে আত্মসমর্পন করব। উভয় সালিশ কুরআনে যে সমাধান পাবেন সে অনুযায়ীই আমল করবেন। আর যে সমাধান কুরআনে পাবে না, তার জন্য রাসুল ﷺ-এর সুন্নাহর মুখাপেক্ষী হবেন। (২৯৩) তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, এ বছরের রমজান মাসে তারা এ বিষয়ে ফয়সালা করার জন্য বসবেন। উভয় পক্ষ থেকে ১০জন এ মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., হাবিব ইবনে মাসলামা রা., আবদুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা. ও আবুল আওয়ার সুলামি রা. ছিলেন অন্যতম। (২৯৪) আশআস ইবনে কায়স রহ. উভয় পক্ষের সামনে চুক্তিনামা পাঠ করেন। (২৯৫) ইমাম যুহরি রহ. উল্লেখ করেন, নিহত এবং শহিদের সংখ্যা এতই অধিক ছিল যে, এক কবরে ৫০জন করে দাফন করা হয়। (২৯৬) অতঃপর আলি রা. তার বাহিনী নিয়ে কুফার দিকে রওনা হয়ে যান। শামের কিছু লোক তার কাছে বন্দি ছিল। তিনি তাদের মুক্ত করে দেন।

টিকাঃ
২৮৭. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩০২
২৮৮. সুনানুত তিরমিজি, ৩৮৪৪; আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ১৭৪১২
২৮৯. সুনানুত তিরমিজি, ৩৮৪৫; মুসনাদু আবি ইয়ালা, ৬৪৫; আল-মুজামুল কাবির লিত তবারানি, ২০৮; আল-আহাদিসুল মুখতারা লিল মাকদিসি, ৮৪৪
২৯০. তারিখুত তবারি, ৫/৫৭১; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩০৬
২৯৩. আল-কামিল ফিত তারিখ, ২/৬৭১; তারিখু ইবনি খালদুন, ২/৬৩৩
২৯৪. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩০৭
২৯৫. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩০৭
২৯৬. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩০৭

📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 ধর্মীয় বিষয়ে কোনো ব্যক্তিকে সালিশ নির্ধারণ

📄 ধর্মীয় বিষয়ে কোনো ব্যক্তিকে সালিশ নির্ধারণ


আশআস ইবনে কায়স রহ. যখন আলি রা.-এর বাহিনীর কাছে চুক্তিনামা পাঠ করতে যান, তখন তিনি বনু তামিম গোত্রের একদলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। চুক্তিনামা পাঠ করার পর বনু তামিমের শাখাগোত্র রবিয়া থেকে উরওয়া ইবনে জারির নামক এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ায় এবং আশআস ইবনে কায়স রহ.-কে বলে, আপনারা আল্লাহ তাআলার দ্বীনের ক্ষেত্রে মানুষকে ফয়সালাকারী নির্ধারণ করছেন! (২৯৭)

এই লোক মনে করত যে, এ ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার বিধান পুরোপুরি স্পষ্ট ও মুআবিয়া রা.-এর বাহিনীর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক। অতঃপর সে তার তরবারি দিয়ে আশআস ইবনে কায়স রহ.-এর বাহনজন্তুর পেছনে আঘাত করে। এতে আশআস রা. খুবই ক্ষিপ্ত হন। আহনাফ ইবনে কায়স রা. ও অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এসে বিষয়টি মীমাংসা না করলে তখনই আলি রা.-এর বাহিনীর মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হয়ে যেত।

টিকাঃ
২৯৭. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩০৮

📘 ফিতনার ইতিহাস 📄 কথা সত্য মতলব খারাপ

📄 কথা সত্য মতলব খারাপ


আলি রা. কুফায় পৌঁছার পর খারেজিদের স্লোগান ছিল, আমরা আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে মানুষের ফয়সালা মানি না। ফয়সালা দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। তারা ছিল হারুরা নামক এলাকার অধিবাসী। রাসুল ﷺ বলেছিলেন, যখন মুসলিমদের মধ্যে কলহ ও মতভেদ সৃষ্টি হবে তখন একদল লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং এ দুই দলের মধ্যে যারা সত্যের অধিক নিকটবর্তী তারা সেই বিচ্ছিন্ন দলকে হত্যা করবে। (৩০০)

সহিহ বুখারি-তে আবু সাইদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল ﷺ বলেছেন, পূর্বদিক থেকে এমন কিছু লোকের প্রকাশ ঘটবে, যারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালি অতিক্রম করবে না। তাদের চিহ্ন হচ্ছে মাথা মুণ্ডানো। (৩০১) আলি রা. বলেছেন, আমি রাসুল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে অল্পবয়স্ক যুবক ও নির্বোধ। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেমনইভাবে তির শিকার থেকে বেরিয়ে যায়। তোমরা তাদের যেখানেই পাবে সেখানেই হত্যা করবে। (৩০৩)

আলি রা. তাদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য বের হন। তিনি তাদের বলেন, আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে সালিশ পাঠানোর কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, আমি 'আমিরুল মুমিনিন' উপাধি মুছতে সম্মত হয়েছি যেমন রাসুল ﷺ হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় করেছিলেন। (৩০৪) এ কথা শুনেও তাদের মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। আলি রা. তাদের কাছে পাঠান আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য এলেন। ইবনে কাওয়া নামক এক ব্যক্তি তাকে তিরস্কার করে। তখন তাদের মধ্যে কিছু লোক বলল, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমরা তার সঙ্গে কথা বলব। (৩০৫) অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. সেখানে তিন দিন অবস্থান করেন। তিন দিনব্যাপী এই আলোচনার পর ৪ হাজার লোক নিজেদের মত থেকে ফিরে আসেন এবং ইবনে আব্বাস রা.-এর হাতে তওবা করেন। (৩০৬)

বাকি যারা নিজেদের মতের ওপর অটল থাকে, তাদের মধ্যে চারদিক থেকে স্লোগান ওঠে— ফয়সালা দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তাআলার। তখন আলি রা.-এর মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয় একটি ঐতিহাসিক বাক্য। তিনি বলেন, এই কথাটি সত্য, কিন্তু মতলব খারাপ। তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের ওপর আক্রমণ করব না যতক্ষণ আপনারা লড়াই শুরু না করেন। (৩০৭) এরপর তারা কুফা ত্যাগ করে নাহরাওয়ান নামক স্থানে আশ্রয় নেয়। আলি রা. তাদের কাছে দূত পাঠিয়ে বলেন, আপনাদের আর আমাদের মধ্যে এ চুক্তি রইল যে, আপনারা কোনো রক্তপাত করবেন না। (৩০৯)

৩৭ হিজরির রমজান মাসে আলি রা. ৪০০ সৈন্যের এক বাহিনী পাঠান দুমাতুল জান্দালের উদ্দেশে। সঙ্গে ছিলেন আবু মুসা আশআরি রা. ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.। মুআবিয়া রা.-ও ৪০০ সৈন্যের এক বাহিনী পাঠান। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-ও ছিলেন তাদের সঙ্গে। (৩১০)

টিকাঃ
৩০০. সহিহ মুসলিম, ১০৬৪; সুনানু আবি দাউদ, ৪৬৬৭
৩০১. সহিহ বুখারি, ৭৫৬২; আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ১১৬১৪
৩০৩. সহিহ বুখারি, ৩৬১১; সহিহ মুসলিম, ১০৬৬
৩০৪. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ২৯/১৪৩; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩১১
৩০৫. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ২৭/১০৩; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩১১
৩০৬. তারিখুল ইসলাম, ৩/১৭৫। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩১১
৩০৭. তারিখুত তবারি, ৫/৭৪; তারিখু ইবনি খালদুন, ২/৬৩৭
৩০৯. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ২৯/১৪৩; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৩১১
৩১০. তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ২৩/৬৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px